📄 ক্রীটে উপনিবেশ স্থাপন
আবু হাফস লাদা ৩২ উপসাগরের নিকটবর্তী নিম্নভূমিতে বুক সমান উঁচু প্রাচীর ও পরিখাতে পরিবেষ্টিত এলাকায় প্রথম শিবির স্থাপন করেন। ৩৩ আলখন্দক শহর প্রতিষ্ঠার পর বিশটি নতুন শহর মুসলমানদের হস্তগত হয় এবং ইহার অধিবাসীগণ আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হয়। ৩৪ ৩৫ আবু হাফস দেশের উন্নতি সাধনে আত্মনিয়োগ করেন। ৩৬ সুশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি দ্বীপটিকে চল্লিশটি অঞ্চলে বিভক্ত করেন। ৩৭ ক্রীট অতিদ্রুত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধশালী হইয়া ওঠে। ৩৮ ৩৮ তিনি তাহার ক্ষমতাকে ক্রমে ক্রমে এমন ভাবে সুসংহত করেন যে, তাহার বংশধরগণ প্রায় একশত পঁয়ত্রিশ বৎসর এই দ্বীপ শাসন করেন।
টিকাঃ
৩২। হোমনেজ, পৃঃ ২২৪; ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ৩৫।
৩৩। ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ৫৬, টীকা-১: দ্যা ইংলিশ হিস্ট্রোরিক্যাল রিভিউ, ২৮তম খণ্ড, ১৯১৩, পৃঃ ৪৩১-৩৪।
৩৪। ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ৬১।
৩৫। হোমনেজ, পৃঃ ২২৫।
৩৬। বাইজেন্স ইটলাস-আরবস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৫৬-৫৭।
৩৭। হোমনেজ, পৃঃ ২২৫।
৩৮। ঐ. পৃঃ ২২৫।
📄 ক্রীটে মুসলিম নৌঘাটি
মধ্য যুগে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে সিরিয়া, আফ্রিকা ও ক্রীটে মুসলমানদের প্রধান তিনটি নৌঘাটি বিদ্যমান ছিল। ৩৯ ৪০ ৪১ ৪২ ৪৩ ৪৪ ৪৪ ভূমধ্যসাগরের নৌবাহিনীর ইতিহাসে ক্রীটদের প্রাধান্য বিস্তারের পশ্চাতে আবু হাফস ও তাহার বংশধরদের অবদান অনস্বীকার্য। ৪৫ ক্রীট দ্বীপ অধিকারের পর আবু হাফস নিজেকে রাজা বলিয়া ঘোষণা করেন। ৪৬ কনস্টান্টিনোপলের সম্রাটের ভৎসর্নাকে উপেক্ষা করিয়া তিনি চল্লিশটি জাহাজ যোগে প্রতিবেশী দ্বীপসমূহে অভিযান পরিচালনা করেন। ৪৭ আরচিপেলের ন্যায় বহু দ্বীপ আফ্রিকান ও ক্রীটদের ৪৭ ৪৮ ৪৯ ৫০ ৫১ ৫২ ৫৩ ৫৪ ৫৫ ৫৬ অভিযানের ভয়ে লোকহীন জনপদে পরিণত হয়। ক্রীটবাসীরা এশিয়া মাইনরের উপকূলেও লুণ্ঠন চালায়। বিশটি গুমারী, সাতটি মালবাহী জাহাজ ও কতিপয় সাটুরা সমন্বয়ে গঠিত ক্রীট নৌবহর এশিয়া মাইনর হইতে নগদ টাকা, বন্দী ব্যক্তি ও প্রচুর লুণ্ঠিত মাল বহন করে।
টিকাঃ
৩৯। ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ৫৫, টীকা-১।
৪০। ঐ পৃঃ ৫৯।
৪১। ঐ, পৃঃ ৫৩; হোমনেজ, পৃঃ ২২৪, টীকা-৩।
৪২। হোমনেজ, পৃঃ ২২৫, রিয়াসত আলী, দ্যা তারিখ-ই সাকলিয়া, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৭৮।
৪৩। গার্সিয়া গমেজ, হিস্ট্রোরিয়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৩৬৭, টীকা-১৫৫।
৪৪। আলবোরনোজ, লা ইস্পানা মুসলমানা, ১ম খণ্ড, আর্জেন্টিনিয়া, ১৯৪৬, পৃঃ ১৩৭।
৪৫। হোমনেজ, পৃঃ ২২৫।
৪৬। ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ৫৭-৮।
৪৭। ঐ, পৃঃ ৫৮, টীকা-২।
৪৮। হোমনেজ, পৃঃ ২২৫।
৪৯। ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ৬০ টীকা-২।
৫০। আলী-মুহাম্মদ ফাহমী, মুসলিম সী পাওয়ার ইন দ্যা ইস্টার্ন মেডিটরিয়ান, লন্ডন, ১৯৫০, পৃঃ ৭২ টীকা-৪, ৫।
৫১। ঐ পৃঃ ৭৩।
৫২। ঐ, পৃঃ ৩১, টীকা-৪।
৫৩। ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ২৫৮।
৫৪। ফাহমী, পৃঃ ৯৫ টীকা-৭।
৫৫। হিট্টি, দ্যা হিস্ট্রি অব দ্যা আরবস, পৃঃ ৪৫১ টীকা-৪।
৫৬। এ হিস্ট্রি অব গ্রীস ফরম দ্যা কনকুয়েস্ট বাই দ্যা রোমানস টু দ্যা প্রেজেন্ট টাইম, অক্সফোর্ড, ১৮৭৭, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৯০ টীকা-২; ভ্যাসিলেভ, পৃঃ ২৫৮।
📄 স্পেনের সহিত বাইজানতীয়দের সম্পর্ক
বাইজান্টীয় সম্রাটদের পূর্বসীমান্তে আব্বাসী আক্রমণ এবং উপকূল দ্বীপসমূহে ক্রীটবাসীদের নিয়মিত অভিযানে অতিষ্ঠ হইয়া বাইজান্টীয় সম্রাট আন্দালুসিয়ার সহিত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ৮৪০খ্রীঃ বাইজান্টীয় সম্রাট থিওফিলাস তাহার সহিত মৈত্রী চুক্তি সম্পাদনের অনুরোধ জানাইয়া কর্ডোভার তৃতীয় আবদুর রহমানের রাজপ্রাসাদে আরবী ভাষায় অভিজ্ঞ জনৈক গ্রীককে প্রেরণ করেন। আমীরের সহানুভূতি আকর্ষণে ব্যর্থ হয়। মৈত্রীচুক্তি সম্পাদনের আবেদনে আমীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ও উপহার উপঢৌকনসহ দুইজন সভাসদকে তাহার নিকট প্রেরণ করেন। ৫৭
টিকাঃ
৫৭। গার্সিয়া গমেজ, পৃঃ ১৬২, ৩৪৬।
📄 স্পেনের সহিত ক্রীটের সম্পর্ক
বাইজান্টীয় পদক্ষেপকে মোকাবিলা করিবার উদ্দেশ্যে ক্রীট প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলির সহিত মৈত্রীচুক্তি সম্পাদন করে। ৫৮ তাহারা সিরিয়া, উত্তর-আফ্রিকা ও স্পেনের মুসলমানদিগকে ক্রীটে বসতি স্থাপন এবং আগলাবিদ শাসকদের সাহায্য করিতে আহ্বান জানান। ক্রীটে বসতি স্থাপনের পর সেখানকার কর্ডোভাবাসী ও স্পেনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়িয়া ওঠে। ৫৯ মারওয়ান বিন আবদুল মালিক বিন আল-ফাখখার ক্রীটে স্থায়ী বসতিস্থাপন করেন এবং দ্বীপের প্রধান বিচারপতির পদ অলংকৃত করেন। সেখানে তাহার বিশজন মূল্যবান ক্রীতদাসী, বহু তলা বিশিষ্ট অট্টালিকা এবং ইতিহাস সম্বন্ধে ঐতিহ্যপূর্ণ লাইব্রেরির অধিকারী ছিলেন।
টিকাঃ
৫৮। ঐ পৃঃ ২২৩।
৫৯। গার্সিয়া গমেজ, পৃঃ ৩৬৭ টীকা-১৫৫।