📄 আমীর ও খলিফা
পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই অঞ্চলে উমাইয়া সাম্রাজ্য বিভক্ত ছিল। ইহার মধ্যে আল মাগরিবের গুরুত্ব ছিল অধিক এবং ইহার রাজধানী ছিল কায়রোওয়ানে। আমীর অথবা খলিফা নিজের নামে খুতবা পাঠ করিতেন এবং মুদ্রা প্রচলন করিতেন। তাঁহার উপর রাষ্ট্রের পার্থিব ও আধ্যাত্মিক সর্বোচ্চ ক্ষমতা ন্যস্ত হয়। তিনি উত্তরাধিকারী সূত্রে সিংহাসন লাভ করিতেন, কোন কোন সময়ে অভিজাত সম্প্রদায়ও তাঁহাকে সিংহাসনে বসাইতেন। শক্তিশালী আমীর এবং খলিফা সরকারি ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেন। তিনি তাঁহার নিজের ও প্রজাদের অধিকারে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করিতেন না। প্রজাদের কল্যাণার্থে তিনি শুধু কর্মচারীই নিয়োগ করিতেন না, উপন্তু তিনি সেনাবাহিনী পরিদর্শন ও প্রদেশসমূহ ভ্রমণ করিতেন। অবসর মুহূর্তে তিনি কবি, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিকদের সহিত আলোচনায় সময় কাটাইতেন।
📄 সরকারি অফিসসমূহ
কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসসমূহ সেতুর নিকটবর্তী আল কাজারের বাব পাল সুদ্দাতে অবস্থিত ছিল। খলিফার অধীনে সরকারি দফতরসমূহ প্রধানতঃ তিনটি বিভাগে বিভক্ত ছিল। যথা—অর্থবিভাগ, বিচার বিভাগ ও সামরিক বিভাগ। কর্ডোভার উমাইয়া প্রাসাদের চতুর্দিকে এই সমস্ত দফতরের প্রধান কার্যালয় গড়িয়া উঠিয়াছিল। উচ্চ শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ কর্মচারীদের সব বিষয়ে কিছু অভিজ্ঞতা থাকিত ফলে তাহাদিগকে এক বিভাগ হইতে অন্য বিভাগে বদলী করা হইত। ১ অথবা একই সাথে একাধিক দায়িত্ব পালন করিতে দেওয়া হইত। কোন কোন সময় বেসামরিক অফিসার সামরিক ও উচ্চ বিভাগের দায়িত্ব পালন করিতেন।
টিকাঃ
১। ইবনে ইজারী, আল-বেয়ান, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২০৫, ২১১, ২১৩; লেভি প্রভেঙ্কাল, এল, ইস্পানা, পৃঃ ৬২।
📄 মন্ত্রীপদ
স্বাধীন আমীর অথবা খলিফা ছিলেন সরকারের প্রধান। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তাঁহার উজিরগণই দেশের প্রশাসন কার্য পরিচালনা করিতেন। প্রথম আবদুর রহমান উজির ব্যতীত কিছু সংখ্যক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ গ্রহণ করিতেন। ২ অর্থ, বিচার, বৈদেশিক বিষয় ও সামরিক এই চারটি প্রধান বিভাগ ছিল উজির পদে পদোন্নতির জন্য। কোন উজিরের উপর দুইটি বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হইলে তিনি জুল উজারাতাইন নামে পরিচিত হইতেন। ৩ মন্ত্রী পরিষদের প্রধান হিসাবে হাজীব সরকারের সমস্ত ব্যাপারে খলিফার প্রতিনিধিত্ব করিতেন। ৪ ৫ ৬ দুর্বল রাজাদের শাসন আমলে হাজীবই প্রকৃত পক্ষে সম্পূর্ণ শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। ৭ এই পদ এত গুরুত্বপূর্ণ হইয়া ওঠে যে একাদশ শতাব্দীর ক্ষুদ্র রাজাগণ নিজদিগকে হাজীব বলিয়া পরিচয় দিতে গর্ব অনুভব করিত।
টিকাঃ
২। গায়ানগোস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৯১।
৩। ইবনে ইজারী, আল-বেয়ান, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৯৫।
৪। গায়ানগোস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৫০; রিউভেন লেভী, সোশিওলজি অব ইসলাম, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৬।
৫। লেভি প্রডেঙ্কাল, এল, ইস্পানা, পৃঃ ৬৪, ৬৬; ইবনুল আব্বারী, হল্লা, পৃঃ ১৩৭।
৬। লেভি প্রভেঙ্কাল, ঐ, পৃঃ ৬৪।
৭। গায়ানগোস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৯২।
📄 সচিবালয় (খুত্তাহ)
খুত্তাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক যন্ত্র। ইহা সর্বপ্রকারের সরকারি কার্যক্রম দেখাশুনা ও আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করিত। ইহার প্রধান ছিলেন খেদমাতুল খলিফার দায়িত্বে নিযুক্ত প্রধান সচিব। কাতিবুর রাসাইল ও কাতিবুল যাম্মাম—এই দুই বিভাগে সচিবালয় বিভক্ত ছিল। যোগাযোগ দফতরের দায়িত্বে নিযুক্ত কাতিবুর রাসাইল উপদেষ্টা পরিষদের নীতি নির্ধারণী বৈঠকেও যোগদান করিতেন। সাহিব আল-রাসাইল ডাক বিভাগের দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মচারী। জরুরি সংবাদ বাহক হিসাবে পায়রা ব্যবহৃত হইত এবং বিপদ সংকেত হিসাবে পর্বত চূড়ায় অগ্নি প্রজ্বলিত করা হইত।