📄 অষ্টাদশ অধ্যায় : স্পেনে মুসলিম শাসনের পতনের কারণসমূহ
সহজাত দুর্বলতা: জাতীয়তা বোধ ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণা প্রথম যুগের মুসলমানদের দেশ বিজয়ের মূলে বিশেষ অবদান রাখে। ধর্মীয় অনুপ্রেরণা দেশ হইতে দেশান্তরে ধর্ম প্রচারে উদ্বুদ্ধ করে। অপরদিকে জাতীয়তাবোধ দেশ বিজয়ে উৎসাহ যোগায়। সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাথে মুসলমানগণ বিলাসিতা ও সুখে জীবন উপভোগ করিতে অভ্যস্ত হইয়া ওঠে। বিলাসিতা ও উপভোগের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দীতার ফলে রাজনৈতিক দলাদলি মাথা চাড়া দিয়া ওঠে এবং বিরাট সাম্রাজ্যের পতন তরান্বিত করে।
স্পেনের মুসলিম শাসনের স্থায়িত্ব ততদিন পর্যন্তই নিরাপদ ছিল যতদিন দক্ষ প্রশাসন যন্ত্র, রাজানুগত শক্তিশালী পুলিশ ও সেনাবাহিনী এবং নিরপেক্ষ ও যোগ্য শাসক দ্বারা দেশের শাসন কার্য পরিচালিত ছিল।
জন কল্যাণধর্মী সুদক্ষ প্রসাশনযন্ত্র রাজানুগত শক্তিশালী পুলিশ ও সেনাবাহিনী এবং নিরপেক্ষ ও সুযোগ্য শাসক দ্বারা শাসন কার্য পরিচালিত হইলে স্পেন মুসলিম শাসনাধীনে থাকিতে পারিত। গভীরভাবে পর্যালোচনা করিলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে স্পেনে মুসলমানদের অব্যাহত পতন ও সর্বশেষে ধ্বংসের মূলে ছিল সামাজিক রাজনৈতিক ও প্রশাসন কাঠামো৭৩৯-৭৫৭) ও দ্বিতীয় আলফন্সো (৭৯১-৮৪২) সৃষ্টি করিতে সমর্থ হন । কান্টাব্রিয়ার কাউন্ট অথবা স্বাধীন গভর্নরের পুত্র প্রথম আলফন্সো পিলাইওর কন্যা এমিসিন্দাকে বিবাহ করেন এবং দুইটি ক্ষুদ্র রাজ্যকে একত্রিত করিয়া আস্তুরিয়া নামে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন । উমাইয়া গভর্নরদের শাসন আমলে ৭৪০-৪১ খ্রীঃ যখন বার্বারগণ উৎপাত সৃষ্টি করে আরব অবস্থান ডুরো উপত্যকা হাতছাড়া হইয়া যায় এবং নতুন রাষ্ট্র আস্তুরিয়া বিস্তৃতি লাভ করিতে শুরু করে । প্রথম আলফন্সো উত্তরাঞ্চলের পর্বতের অপর পার্শ্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের সুদূর দক্ষিণে সিগোভিয়া ও আভিলা এলাকার ক্ষতি সাধন করে । কিন্তু পূর্বে আস্তুরিয়া ও কান্টাব্রিয়া এবং পশ্চিমে গ্যালেসিয়ার মধ্যবর্তী এলাকা অধিকারে রাখিতে ব্যর্থ হয় । আলফন্সোর শাসন আসলে খ্রীস্টান রাজ্য মুসলিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে এবং তাহার অভিযান কালে প্রথম আলফন্সো হাজার হাজার মুজারাবকে তাহার সীমান্ত পূর্ব স্থানে ফিরাইয়া আনেন । মুসলমান কর্তৃক পরিত্যক্ত আইবেরিয়ান উপদ্বীপের এক চতুর্থাংশ এলাকার কিছু অংশে সেনা চলাচলের জন্য মার্চ (মূল ঘাঁটি) নির্মাণ করেন । যেহেতু আস্তুরিয়ান সাম্রাজ্য মুসলিম মার্চ হইতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত ছিল এবং প্রথম হিশাম ও প্রথম হাকাম অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দমনে ব্যস্ত ছিলেন । এই অবস্থার পরিপূর্ণ সুযোগ লইয়া দ্বিতীয় আলফন্সো পশ্চিমে লিসবন আক্রমণ করিয়া দ্বিতীয় আলফন্সো এবং তাহার চাচা প্রথম বার্মুডো কর্ডোভান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গ্যালেসিয়া ও আস্তুরিয়ায় সেনাবাহিনীকে পরিচালনা করেন । প্রথম দিকে অসুবিধাজনক অবস্থার সম্মুখীন হইলেও শেষ অবধি ৭৯২ খ্রীস্টাব্দে কর্ডোভান সেনাবাহিনীকে চরমভাবে পরাজিত করেন । আস্তুরিয়ান শাসক ফ্রাঙ্কিশ সম্রাট চার্লেমান ও তাহার পুত্র আকিটেনের রাজা লুইসের সহিত দক্ষিণের উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হন । বিদেশী শক্তির সহিত এই সখ্যতায় খ্রীস্টান নেতাগণ সন্তুষ্ট হইলেন না । ইহার মধ্যে তাহারা নিজেদের ধ্বংসের পূর্বাভাস লক্ষ্য করিল, কারণ শক্তিশালী রাজতন্ত্র কখনও অভিজাত সম্প্রদায়কে সহ্য করিতে পারে না । আস্তুরিয়ার উপজাতিগণ এবং গ্যালেসিয়া দীর্ঘদিন সংগ্রামের পর ভিজিগথিক জীবন ব্যবস্থাকে স্বীকার করিয়া লইতে বাধ্য হয় । এবং কান্টাব্রিয়গণ বিরোধিতা অব্যাহত রাখে । অপরদিকে বাস্কগণ তাহাদের আদিম স্বাধীনতা পরিত্যাগ করে ।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবরোর উচ্চ উপত্যকা সারাগোসা মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল । আস্তুরিয়ান, কান্টাব্রিয়ান এবং বাস্কগণ কান্টাব্রিয়ান পর্বতমালার সংকীর্ণ গিরিসংকটের মধ্য দিয়া মুসলীম সীমান্ত অতিক্রম করিয়া এবরোর উচ্চ উপত্যকায় নিজদিগকে পুনর্বাসিত করেন । যেহেতু এলাকাটি খ্রীস্টান সন্ন্যাসী ও খ্রীস্টান সর্দারদের অধীন ছিল তাহারা ইহাকে পুরাতন পদ্ধতির দুর্গের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা করিত । এই এলাকায় উহারা ক্যাস্টাইল নামে পরিচিত ছিল । ৮০০ খ্রীস্টাব্দে প্রথম বারের মত তাহাদের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয় । এই সমস্ত অভিযান ও পুনর্বাসনের কার্য দ্বিতীয় আলফন্সো এবং অপরাপর আন্ডুরিয়ান শাসকদের আদেশে পরিচালিত হয় । কিন্তু অধিকাংশ সময়ই স্থানীয় সর্দারদের দ্বারা এই সমস্ত অভিযান পরিচালিত হইত এবং বিজয় লাভের পর শাসকদের আনুষ্ঠানিক অনুমতি লাভ করিত । ১
দ্বিতীয় আলফন্সো তাহার সাম্রাজ্যকে পুনর্গঠিত করেন এবং রাজধানীকে ওভিয়েডোতে স্থানান্তরিত করেন । এইরূপে গথিক সাম্রাজ্য সুসংগঠিত হয় এবং ওভিয়েডো সমৃদ্ধশালী হইয়া ওঠে । প্রাসাদ, চার্চ এবং সুন্দর ব্যাসিলিকা এবং মুসলমানদের প্রথা অনুকরণে জনগণের জন্য নির্মিত হয় গোসলখানা । দ্বিতীয় আলফন্সোর রাজত্বকাল ৮১০-৮৩০ খ্রীস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে উত্তর-পূর্ব গ্যালেসিয়ায় মহামতি সন্ন্যাসী জেমসের মৃতদেহ ও সমাধি ক্ষেত্র আবিষ্কারের ফলে তিনি খ্রীস্টান জগতে বিশেষ ভাবে পরিচিতি লাভ করেন । ইহা তীর্থস্থানে পরিণত হয় । ইহা স্পেনের অভ্যন্তরে বৈদেশিক প্রভাব ও অনুপ্রবেশকে সাহায্য করে । সেখানে সান্টিয়াগো ডে কম্পোস্টিলা নামে একটি পল্লীর জন্ম হয় । যাহা ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক ও শিল্পসমৃদ্ধ নগরীতে রূপান্তরিত হয় এবং পবিত্রতায় রোমের প্রতিপক্ষ হিসাবে পরিগণিত হয় ।
পরবর্তী দুই শতাব্দী অর্থাৎ কর্ডোভার উমাইয়াদের পতনকাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ওভিয়েডো ও লিওন খ্রীস্টান শাসকদের দ্বারা সামান্যতম উন্নতি সাধিত হয় । ইতিমধ্যে দশম শতব্দীর প্রথম পাদে লিওনকে রাজধানী করিয়া উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে অপর একটি খ্রীস্টান রাজ্যের গোড়াপত্তন হয় ।
এই বৎসরগুলিতে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের উপর উত্তর দিক হইতে বাস্ক ও দক্ষিণ দিক হইত উমাইয়া সেনাবাহিনীর চাপ সৃষ্টি হয় । ইতিহাস খ্যাত তাহাদের নেতা ইনিগো আরিস্টার হস্তে রন্সেসভেলেসের গিরিপথে ফ্রাঙ্কিশ সৈনিকদের পরাজয়ের কয়েক বৎসর পর ৮০০ খ্রীস্টাব্দে পাম্পলোনাতে স্থায়ী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত তাহারা উমাইয়া ও ফ্রাঙ্কদের কবল হইতে কমবেশী অসংবদ্ধ স্বাধীনতা রক্ষা করে । নাভাররের এই নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন সাঞ্চোগর্সিয়া (৯০৫-৯২৫ খ্রীঃ) ফ্রাঙ্কিশ শাসনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে নাভাররে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয় ।
ফ্রাঙ্ক ও মুসলমানদের শত্রুতার সুযোগ লইয়া আরাগোনের অধিবাসীগণ তাহাদের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষা করে এবং সেই সময়েই জাকাতে তথাকথিত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে । অরিওলাস অথবা অরিওল আরাগোনে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেন । এইভাবে আস্তুরিয়ান সাম্রাজ্য ও স্পেনিশ মার্চের মধ্যবর্তী স্থলে নাভাররে, ক্যাস্টাইল ও আরাগোন নামে তিনটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয় । এবং ফ্রাঙ্ক ও নাভারেদের মধ্যে বাফার রাষ্ট্র হিসাবে আতে কতিপয় সহজাত দুর্বলতা।
অনৈক্য ও গোত্রীয় বিদ্বেষ: স্পেনে মুসলিম সম্রাজ্যের ধ্বংসের মূলে বহিঃশত্রু অপেক্ষা অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও বিশৃঙ্খলাই বেশি দায়ী। মুসলমানগণ যে সময়ে স্পেনে পদার্পণ করে সেই সময়ে অনৈক্যের বীজ উপস্থিত ছিল। আরব, (হিমারিটস, ইয়ামানী) কায়সী ও কালবী, সিরীয় (মুজারী), বার্বার (মিকলাসাহ), সানহাজাহ ও জানাতাহ, নব মুসলিম, খ্রীস্টান ও ইহুদী প্রভৃতি জাতীয় ও ধর্মের অনুসারীগণ স্পেনে বসবাস করিতে শুরু করে। আরব ও বার্বারগণ তাহাদের পূর্ব পুরুষের গোত্রীয় প্রতিদ্বন্দ্বীতার মানসিকতা স্পেনের মাটিতেও অতিযত্নে লালন করিয়া চলে। তাহাদের প্রধান শত্রু খ্রীস্টানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিবর্তে তাহারা নিজেদের মধ্যে বিবাদ ও বিরোধে লিপ্ত হয়।
বার্বার সেনাদের সাহায্যে মনসুর স্বেচ্ছাচারমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করিতে উদ্যোগী হইলে জনপ্রিয়তা হারাইয়া ফেলে। স্পেনে উমাইয়া শাসনকালে আমরা দেখিতে পাই গৃহযুদ্ধ গোত্রীয় ও উপদলীয় কোন্দল এবং দেশী বিদেশীর দ্বন্দ্ব। একমাত্র শক্তিশালী শাসকইাদিগকে বসে রাখিতে পারিতেন। উমাইয়া শাসনের শেষ পর্যায়ে বহু প্রদেশ কেন্দ্রের হাতছাড়া হইয়া যায়। প্রদেশগুলি কেন্দ্রীয় সরকার হইতে বিচ্ছিন্ন হইবার পর কর্ডোভার খেলাফতের ধ্বংস স্তূপের উপর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বার্বার, পূর্বাঞ্চলে স্লাভ, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে আরব, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নবমুসলিম ও খ্রীস্টানগণ নিজদিগকে প্রতিষ্ঠিত করে।
উমাইয়াদের পতনের পর ক্ষণস্থায়ী বহু রাজবংশের আবির্ভাব ঘটে। এই সমস্ত ক্ষুদ্র শাসকগণ সামাজিক বিদ্বেষ ও উপজাতীয় কোন্দলের শিকারে পরিণত হয়। সেভিলের মুতামিদ, টলেডোর মামুন একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। স্পেনের আরব নেতাদের বিরুদ্ধে মালাগার ইয়াহিয়া বার্বার নেতাদের এক যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। ইয়াহিয়া বার্বার ঐক্য ফ্রন্টের মাধ্যমে কার্ডোভা ও সেভিলের অস্তিত্বকে বিপন্ন করিয়া তোলেন। এই ঐক্যফ্রন্ট দীর্ঘ স্থায়ী হয় না। বার্বার সর্দারগণ একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে। সেভিলের ইসমাইল কর্তৃক ইয়াহিয়া পরাজিত ও নিহত হন। ইসমাইলও পরবর্তীকালে আলমেরিয়ার স্লাভনেতা জুহায়ের কর্তৃক নিহত হয়। গ্রানাডার বাদিস ও জুহায়েরের মধ্যে ছিল চরম শত্রুতা।
আরব ও বার্বারদের উপদলীয় কোন্দলের সুযোগ লইয়া বিদেশী শক্তিগুলি স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসান না হওয়া পর্যন্ত তাহাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখে।
দুর্বল প্রশাসন: দুর্বল কেন্দ্রীয়-সরকার, চরিত্রবান শাসক, কর্তব্যনিষ্ঠ সরকারি কর্মচারী এবং শক্তিশালী ও সুশৃংখল সেনাবাহিনীর উপর মুসলিম সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব নির্ভরশীল ছিল। উমাইয়া সাম্রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় অপদার্থ শাসকদের আগমনে প্রশাসনযন্ত্রের অবনতি ঘটে এবং কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগতা এমনরাগোন অবস্থান করে । দশম শতাব্দীর শেষ পাদে উত্তর আরাগোনাতে খ্রীস্টান নেতাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধে ও প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নাভারেগণ উহা অধিকার করিয়া নেয় ।
পীরেনীজ পর্যন্ত বিস্তৃত বার্সিলোনা অঞ্চল মুসা অধিকার করেন কিন্তু পরবর্তীকালে দক্ষিণ স্পেনে মুসলমানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সময় এবং কিছুটা ফ্রাঙ্কের চাপে পড়িয়া মুসলমানগণ সেপ্টিমানিয়া হইতে পশ্চাত অপসারণ করে এবং উত্তর-পূর্ব স্পেনে তাহাদের ক্ষমতা হ্রাস করে । ফলে ফ্রাঙ্ক শাসকগণ রাজনৈতিক অধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে তাহাদের রাজ্যের সীমা বর্ধিত করেন এবং ৭৮৫-৮১১ খ্রীস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে ক্যাটালোন অঞ্চল দখল করিয়া ৭৯৮ খ্রীস্টাব্দে তাহাদের নেতৃত্বে এক আধা স্বাধীন কাউন্টরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, ইহাকে গথিক মার্চ (স্পেনিশ মার্চ) বলে । ফ্রাঙ্কিশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই রাজ্যটি পীরেনীজ হইতে এবরো ও পাম্পলোনা হইতে বার্সিলোনা পর্যন্ত ছিল । এবং ৮০১ খ্রীস্টাব্দে ফ্রাঙ্কগণ কর্তৃক অধিকৃত এই রাজ্যটির প্রথম লর্ড ছিল জনৈক সম্ভ্রান্ত ফ্রাঙ্কিশ । স্পেনের মুসলিম এলাকা হইতে লাঞ্ছিত খ্রীস্টানগণ এখানে আসিয়া আশ্রয় গ্রহণ করিত । এবং স্পেনের মুসলিম অধ্যুসিত এলাকায় অভিযান ও ফ্রাঙ্ককে প্রতিরক্ষা করিবার জন্য সেনাদের ফাড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হইত । প্রথম হিশাম ও প্রথম হাকাম উমাইয়াদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় । ৮১৬ খ্রীস্টাব্দে কর্ডোভা ও আইক্সলা চাপেল্লের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয় । এই চুক্তিতে উমাইয়া আমীর প্রথম হাকাম বার্সিলোনা অঞ্চলে ফ্রাঙ্কের স্থায়ী অধিকার স্বীকার করিয়া নেন । এই ক্ষুদ্র রাজ্য কয়েকটি কাউন্টশীপে বিভক্ত হয় যথা—পিলার্স, সোবরার্বে ও রিবাগোরজা প্রত্যেকটি অঞ্চলই একে অপরের হইতে স্বাধীন ছিল কিন্তু ফ্রাঙ্কিশ সাম্রাজ্যের সাথে শিথিল বন্ধন ছিল । ফ্রাঙ্কিশ সাম্রাজ্য মাত্র আশি বৎসর তাহাদিগকে অধিকারে রাখিতে সমর্থ হয় । এই সমস্ত কাউন্টগণ আধিপত্য বিস্তারের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় ফলে বার্সিলোনার কাউন্ট উইফ্রেডো ক্ষমতা দখল করিয়া ৮৭৪ খ্রীস্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন । ক্যাটালান কাউন্টগণও উত্তর অঞ্চলের খ্রীস্টান সর্দারদের ন্যায় মুসলিম স্পেনের দুর্দিনে উহাকে আক্রমণ করিয়া নিজ রাজ্যের সীমা বৃদ্ধি করিতে চেষ্টা করে ।
কি পুলিশ বিভাগের লোকেরা তাহাদের কর্তব্য যথাযথ ভাবে পালন করিতে ব্যর্থ হয়।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও অবনতি ঘটে। শাসকগণ যোগ্য সেনাপতি ও গভর্নরদের পরিবর্তে চাটুকারদের প্রাধান্য প্রদান করেন। রাজপরিবার ও অভিজাত শ্রেণীর বিলাসিতা কোষাগার শূন্য করিয়া দেয়। গ্রানাডা পতনের প্রাক্কালে রাজা ও মন্ত্রীদের মধ্যে অনৈক্য এবং বিশ্বাসঘাতকতা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের জন্য রাজাদের অদূরদর্শিতা ও গোত্রীয় আভিজাত্যবোধই বহুলাংশে দায়ী।
টিকাঃ
১। বারট্রান্ড, দ্যা হিস্ট্রি অব স্পেন, পৃঃ ৬২।
২। ঐ, পৃঃ ১৪৮।
৩। ঐ. পৃঃ ১৪৮।
📄 পরিশিষ্ট-গ : উত্তর-স্পেনে খ্রিষ্টান শাসকদের কালানুক্রমিক তালিকা
৭১১ খ্রীঃ তারিক কর্তৃক রডরিকের পরাজয়বরণ।
৭১৮ খ্রীঃ আস্তুরিয়াসে পিলাওর উত্থান: কোভাডাঙ্গা যুদ্ধের সম্ভাব্য তারিখ।
৭৩৯ খ্রীঃ ১ম আলফন্সো কর্তৃক আস্তুরিয়াস সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।
৭৫৭ খ্রীঃ পুত্র ১ম ফুয়েলা কর্তৃক ১ম আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৭৬৮ খ্রীঃ আওরেলিয়ো সিলো ও মাওরিগাতো কর্তৃক ফুয়েলাকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ। একের পর অন্য কর্তৃক।
৭৮১ খ্রীঃ ১ম বার্মুদো কর্তৃক ২য় আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৭৯৮ খ্রীঃ ফ্রাঙ্কিশ অভিজাত বরেল-এর গথিক মার্চে প্রথম শাসন কর্তৃত্ব লাভ; ক্রমান্বয়ে পীরেনীজ থেকে এবরো এবং পাম্পলোনা থেকে বার্সিলোনা পর্যন্ত সম্প্রসারণ।
৮৪২ খ্রীঃ ২য় আলফন্সোর মৃত্যুবরণ।
৮৬৫ খ্রীঃ ১ম উইফ্রেডো এল ভেল্লোসো-র বার্সেলোনায় স্বাধীনতা ঘোষণা।
৮৬৬ খ্রীঃ ৩য় আলফন্সোর আঙুর লিওন সম্রাজ্যে জাঁকজমকপূর্ণ সিংহাসন আরোহণ।
৮৯৮ খ্রীঃ বার্সিলোনারনবম শতাব্দীর ক্ষমতার লড়াই কেবল মাত্র দুইটি ধর্মের মধ্যকার লড়াই ছিল না । আন্দালুসিয়ায় এই সময় পর্যন্ত ইসলামকে একমাত্র ঐক্যবিষয়ক শক্তি হিসাবে গণ্য করা হয় নাই । উমাইয়াগণ এই নীতি অনুসরণ করিলেও তাহাতে তেমন সুফল পাওয়া যায় নাই । কোন কোন লেখকের মতে, এই অবস্থার মূলে ছিল ফ্রাঙ্কিশ সামন্ত ব্যবস্থার প্রভাব । যাহার দরুন কৃষকগণ জমিদারদের সহিত ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিল । ২
দুর্বল আমীর প্রথম মুহাম্মদ ও আবদুল্লার শাসন আমলে উত্তরের খ্রীস্টান সর্দার ও কাউন্টগণ তুলনামূলক ভাবে সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তার করিতে পারে নাই । কারণ তাহারা শুধু তাহাদের শত্রু মুসলমানদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে লিপ্ত ছিল না বরঞ্চ ক্ষমতা ও সম্পদের লোভে আত্মকলহে লিপ্ত হয় । আস্তুরিয়ান ও গ্যালেসিয়ানদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ ছিল । এবং গ্যালেসিয়ান অভিজাত সম্প্রদায় লিওনীজ সম্রাটের সহিত সর্বদা যুদ্ধে ব্যস্ত ছিল । খ্রীস্টানদের মধ্যে অনৈক্যের ফলে একজন সর্দার অথবা রাজা তাহার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপরের সহিত যোগদান করিত এবং কেহ কেহ কর্ডোভা হইতে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করিত । ফলে তাহাদের নতুন বিজিত এলাকার কিছু অংশ দিতে হইত । এমনকি তাহাদের দখল পর্যন্ত বিক্রি করিয়া দিত ।
ইতিমধ্যে আন্ডুরিয়ান রাজাদেরকে স্মরণ করাইয়া দেওয়া হয় তাহারা ভিজিগথদের উত্তরাধিকারী । এইরূপে তাহারা ভিজিগথিক রাজধানী টলেডো পুনরুদ্ধারের জন্য উচ্চ আশা পোষণ করিতে শুরু করে । ৩ তৃতীয় আলফন্সো (৮৬৬-৯১০ খ্রীঃ) জিমেনা নামে জনৈকা বয়স্ক মহিলাকে বিবাহ করেন । তিনি মুসলিম রাজ্য আক্রমণ করেন এবং তাহার আঙুর-লিওন সাম্রাজ্যকে সাধারণ জমিদারী ধরনের রাজ্যে রূপান্তরিত করেন । কথিত আছে তিনি কম্পোস্টিলার সেন্ট জেমসের আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ করিয়াছিলেন । মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় এ স্বর্গীয় শক্তি তাহার সহিত থাকিত । কিন্তু অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দরুন তিনি সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং শুধু জামোরা শহরকে লইয়া তিনি সন্তুষ্ট থাকেন । তাহার পুত্রগণ তাহাদের বাস্ক মাতা জিমেনার সহিত যোগদান করিয়া তৃতীয় আলফন্সোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে । প্রকৃতপক্ষে আলফন্সোর সাম্রাজ্য লিওন গ্যালেসিয়া ও আস্তুরিয়া রাষ্ট্রে বিভক্ত হইয়া যায় । তাহার প্রথম পুত্র গার্সিয়া লিওন, দ্বিতীয় পুত্র অর্ডোনো গ্যালেসিয়া এবং তৃতীয় পুত্র ক্রুয়েলা আস্তুরিয়াস লাভ করেন ।
তৃতীয় আবদুর রহমান যখন ৯৩৯ খ্রীস্টাব্দে প্রায় একলক্ষ সৈন্যসহ লিওনে অভিযান পরিচালনা করেন সেই সময় লিওন ও আস্তুরিয়ার শাসক দ্বিতীয় রামিরো (৯৩২-৯৫০খ্রীঃ) কর্তৃক উত্তর দিকে অগ্রসরকালে বাধা প্রাপ্ত হন । রাজকীয় বাহিনী সিমানকাসে কয়েকদিনের যুদ্ধের পর পলায়ন করিতে বাধ্য হয় এবং পলায়ন কালে রামিরো কর্তৃক খননকৃত পরিখায় পতিত হইয়া তাহাদের অনেকে প্রাণ হারায় । খ্রীস্টানদিগকে সালামানকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় পুনর্বাসিত করেন এবং ক্যাস্টালিয়ানদের দমনে আত্মোনিয়োগ করেন । তাহার মৃত্যুর পর ৯৫০ খ্রীঃ তৃতীয় আবদুর রহমান উত্তরাঞ্চলে তাহার প্রভাব বৃদ্ধি করেন । গ্যালেসিয়া ব্যতীত সমস্ত খ্রীস্টান সাম্রাজ্য পদানত হয় । তিনি আশ্রিত রাজ্য হিসাবে তাহাদের উপর শাসন পরিচালনা করেন । অভ্যন্তরীণ দিক হইতে তাহারা স্বাধীনতা ভোগ করিত এবং বাৎসরিক কর প্রদান করিত । কিন্তু বাহ্যিক দিক হইতে তাহারা ১১শ শতাব্দীতে উমাইয়া শাসনের পতনকাল পর্যন্ত উমাইয়া খলিফার অধীনে ছিল ।
আক্রমণ প্রতিআক্রমণ চলাকালে খ্রীস্টানগণ সীমান্ত বরাবর তাহাদের প্রতিরক্ষার জন্য বহু দুর্গ নির্মাণ করে । বুরগোসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী জনগণ লিওনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে । লিওনের শাসক তৃতীয় আলফন্সো ক্যাস্টাইলকে বহু কাউন্টে বিভক্ত করিয়া তাহাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করিতে চেষ্টা করেন । কাউন্টগণ রাজার ইচ্ছানুযায়ী নিযুক্ত ও অপসারিত হইত । তাহারা দ্বিতীয় রামিরো (৯৩০-৯৫০) শাসনকালে কাউ কাউন্ট ১ম উইফ্রেডো এল ভেল্লোসো তাহার পুত্র বরেল ২য় উইফ্রেডো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯০৫ খ্রীঃ ১ম সাঞ্চো গার্সেসের ভাসকন (নাভাররে) সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।
৯১০ খ্রীঃ ৩য় আলফন্সোর মৃত্যুবরণ ও তাহার পুত্র ১ম গার্সিয়া কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯১৪ খ্রীঃ বার্সিলোনার কাউন্ট ২য় উইফ্রেডো তাহার ভ্রাতা সুনিয়ের কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ। লিওনের ১ম গার্সিয়ার মৃত্যুবরণ এবং তাহার ভ্রাতা ২য় অর্ডোনো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯২৪ খ্রীঃ লিওনের ২য় অর্ডোনোর মৃত্যুবরণ এবং তাহার ভ্রাতা ২য় ফুয়েলা কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯২৫ খ্রীঃ ২য় ফুয়েলার মৃত্যুবরণ এবং দ্বিতীয় অর্ডোনোর পুত্র ৪র্থ আলফন্সো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯২৬ খ্রীঃ ভাসকন সাম্রাজ্যের ১ম সাঞ্চো গার্সেস তাহার শিশু পুত্র ১ম সানচেজ গার্সিয়া কর্তৃক বিধবা মায়ের কর্তৃত্বাধীনে প্রতিনিধি হিসাবে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ (মৃতঃ ৯৬০)।
সি ৯৩০খ্রীঃ নুনেজ গঞ্জালো-র পুত্র ফারনান গঞ্জালেজের ক্যাস্টাইলে স্বাধীনতা ঘোষণা।
৯৩০ খ্রীঃ লিওনের ৪র্থ আলফন্সোকে তাহার ভ্রাতা ২য় রামিরো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯৫০ খ্রীঃ পুত্র ৩য় অর্ডোনো কর্তৃক ২য় রামিরোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯৫৪ খ্রীঃ বার্সিলোনার কাউন্ট সুনিয়েরকে তাহার পুত্রদ্বয় বরেল (৯৫৪-৯৯২) এবং মিরণ (৯৫৪-৯৬৬) কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯৫৫ খ্রীঃ লিওনের ৩য় অর্ডোনোকে তাহার ভ্রাতা স্থূলকায় ১ম সাঞ্চো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯৫৬ খ্রীঃ ৪র্থ আলফন্সোর পুত্র ৪র্থ অর্ডোনো, স্থূলকায় সাঞ্চোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ৯৬০ খ্রীস্টাব্দে মৃত্যু পর্যন্ত আস্তুরিয়াসের শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
৯৬৫ খ্রীঃ পুত্র ৩য় রামিরো কর্তৃক স্থূলকায় সাঞ্চোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯৭০ খ্রীঃ পুত্র গার্সিয়া ফারনানদেজ কর্তৃক ক্যাস্টিলের কাউন্ট ফারনান গঞ্জালেজকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ। নাভাররের ১ম সানচেজ গার্সিয়াকে আবারকার ২য় গার্সেস সাঞ্চো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯৮৪ খ্রীঃ লিওনের ৩য় রমিরোকে ৩য় অর্ডোনোর পুত্র ২য় বার্মুদো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
৯৯২ খ্রীঃ বার্সিলোনার বরেলকে র্যামন বরেল কর্তৃক উত্তরাধিকার নির্ধারণ (মৃতঃ ১০১৯)।
৯৯৫ খ্রীঃ ২য় সাঞ্চো গার্সেসকে ২য় সানচেজ গার্সিয়া কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ। সাঞ্চো গার্সিয়া কর্তৃক ক্যাস্টিলের গার্সিয়া ফারনানদেজকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ (মৃঃ ১০২১)।
৯৯৯ খ্রীঃ লিওনের ২য় বার্মুদোকে ৫ম আলফন্সো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১০০০ খ্রীঃ নাভাররের ২য় সানচেজ গার্সিয়াকে মহান ৩য় সাঞ্চো গার্সেস কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ (মৃতঃ ১০৩২)।
১০২৮ খ্রীঃ লিওনের ৫ম আলফন্সোর মৃত্যুবরণ।
১০৩৫ খ্রীঃ ১ম ফার্ডিনান্ডের লিওন ও ক্যাস্টাইলের সিংহাসনে আরোহণ। ১৯ রামিরোর আরাগোনের সিংহাসনে আরোহণ।
১০৬৫ খ্রীঃ ১ম ফার্নান্ডোকে লিওনে ৬ষ্ঠ আলফন্সো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১০৯ খ্রীঃ ৬ষ্ঠ আলফন্সোর মৃত্যুবরণ এবং তাহার কন্যা ডোনা ঊররাকা কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১২৬ খ্রীঃ উররাকার মৃত্যুবরণ এবং বারগুন্ডির র্যামন, তাহার প্রথম স্বামীর পুত্র ৭ম আলফন্সো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১৩৩ খ্রীঃ ৭ম আলফন্সোর নাভাররে এবং ক্যাটালোনিয়ায় সম্রাটরূপে মুকুট ধারণ।
১১৩৪ খ্রীঃ আরাগণের ১ম আলফন্সো, উররাকার দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুবরণ এবং তাহার ভ্রাতা ২য় রামিরো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১৩৭ খ্রীঃ বার্সিলোনার কাউন্ট, ৪র্থ র্যামন বেরেঞ্জার সহিত কন্যা ডোনা পেট্রোনিলার বিবাহ হওয়ায় কন্যার পক্ষে ২য় রামিরোর সিংহাসন ত্যাগ।
১১৫৭ খ্রীঃ ক্যাস্টাইলে সাঞ্চো এবং লিওনে ২য় ফার্নান্ডো কর্তৃক লিওনের ৭ম আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১৫৮ খ্রীঃ ক্যাস্টিলে ৮ম আলফন্সো কর্তৃক সাঞ্চোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১৬২ খ্রীঃ আরাগোনের শাসক র্যামন বেরেঞ্জারকে ২য় আলফন্সো নামে পরিচিত পেড্রো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১৮৮ খ্রীঃ লিওনে ৯ম আলফন্সো কর্তৃক ২য় ফার্নান্ডোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১১৯৬ খ্রীঃ ২য় আলফন্সোর মৃত্যুবরণ এবং তাহার পুত্র ২য় পেড্রো কর্তৃক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ যিনি তুলসের নিকটে ১২১৩ খ্রীস্টাব্দে ফ্রেন্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হন।
১২১৩ খ্রীঃ আরাগোনে ১ম জন কর্তৃক ২য় পেড্রোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১২১৪ খ্রীঃ ক্যাস্টিলে তাহার পুত্র ১ম এনরিক কর্তৃক ৮ম আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেন যিনি লিওনে ৯ম আলফন্সোর স্ত্রী তাহার বোন বেরেনগুয়েলার পক্ষে শাসন করিতেন।
১২১৭ খ্রীঃ ৩য় ফার্নান্ডো ক্যাস্টিলে তাহার মাতা বেরেনগুয়েলার উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেন।
১২৩০ খ্রীঃ ৩য় ফার্নান্ডো তাহার পিতা ৯ম আলফন্সোর মৃত্যুর পর লিওন দখল করেন।
১২৫২ খ্রীঃ ১০ম আলফন্সো কর্তৃক লিওনের ৩য় ফার্নান্ডোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১২৭৬ খ্রীঃ ৩য় পিটার কর্তৃক ১ম জেমসকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১২৮৪ খ্রীঃ দুর্ধর্ষ ৪র্থ সাঞ্চো কর্তৃক ১০ম আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১২৮৫ খ্রীঃ ৩য় আলফন্সো কর্তৃক আরাগোনের ৩য় পিটারকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১২৯১ খ্রীঃ ২য় জেমস কর্তৃক আরাগণের ৩য় আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১২৯৬ খ্রীঃ ৪র্থ ফার্নান্ডো কর্তৃক ৪র্থ সাঞ্চোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩০২ খ্রীঃ ১১ দশ আলফন্সো কর্তৃক লিওনের ৪র্থ ফার্নান্ডোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩২৭ খ্রীঃ ৪র্থ আলফন্সো কর্তৃক আরাগোনের ২য় জেমসকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩৩৬ খ্রীঃ ৪র্থ পিটার কর্তৃক আরাগোনের ৪র্থ আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩৫০ খ্রীঃ নিষ্ঠুর পিটার কর্তৃক লিওনের ১১ দশ আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩৬৮ খ্রীঃ তারাসতামারার ২য় হেনরী কর্তৃক নিষ্ঠুর পিটারকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩৭৯ খ্রীঃ ১ম জন কর্তৃক লিওনের ২য় হেনরীকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩৮৭ খ্রীঃ ১ম জন কর্তৃক আরাগোনের ৪র্থ পিটারকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩৯০ খ্রীঃ ৩য় হেনরী কর্তৃক লিওনের ১ম জনকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৩৯৫ খ্রীঃ মার্টিন (মৃতঃ ১৪১০) কর্তৃক আরাগোনের ১ম জনকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৪০৬ খ্রীঃ ক্যাস্টাইলের ২য় জন কর্তৃক লিওনের ৩য় হেনরীকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৪১২ খ্রীঃ এন্টিকুয়েরার ১ম ফার্ডিনান্ডের আরাগোনের সিংহাসনে আরোহণ।
১৪১৬ খ্রীঃ মহানুভব ৫ম আলফন্সো কর্তৃক ১ম ফার্ডিনান্ডকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৪৫৪ খ্রীঃ গুরুত্বপূর্ণ ৪র্থ হেনরী কর্তৃক ক্যাস্টাইলের ২য় জনকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৪৫৮ খ্রীঃ আরাগোনের ভ্রাতা ১ম জন কর্তৃক ৫ম আলফন্সোকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৪৭৪ খ্রীঃ ক্যাস্টাইলে তাহার বোন ইসাবেলা কর্তৃক ৪র্থ হেনরীকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ।
১৪৭৯ খ্রীঃ ক্যাথলিক ৫ম ফার্ডিনান্ড কর্তৃক ১ম জনকে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ। যিনি ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে তাহার ভাতিজী ক্যাথলিক ইসাবেলাকে বিবাহ করিয়াছিলেন।
১৫০৪ খ্রীঃ ইসাবেলার (ফার্ডিনান্ডের রাণী) মৃত্যুবরণ।
১৫১৬ খ্রীঃ ক্যাথলিক ফার্ডিনান্ড মৃত্যুবরণ করেন যিনি ১ম (৫ম) চার্লস কর্তৃক উত্তরাধিকারী হিসাবে নির্ধারিত হন।