📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 দশম মুহাম্মদ ও সাদ বিন আলী

📄 দশম মুহাম্মদ ও সাদ বিন আলী


দশম মুহাম্মদের শাসনকাল শান্তিপূর্ণ ছিল না । তিনি তাঁহার পিতার ভ্রাতুষ্পুত্র সাদ বিন আলী কর্তৃক ১৪৫৪ খ্রীঃ সিংহাসনচ্যুত হন । গৃহযুদ্ধে দেশ ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয় । কোষাগার শূন্য হইয়া পড়ে । জনপদশূন্য সীমান্ত দুর্গসমূহ অরক্ষিত অবস্থায় খ্রীস্টানদের হস্তগত হয় । সাদ শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেন । কিন্তু ক্যাস্টিলের রাজা চতুর্থ হেনরী ইহাতে অস্বীকৃত হন এবং গ্রানাডা আক্রমণ করেন । রডরিগো পন্সে দ্য লিওন এবং মেদিনা সিদনীয়ার ডিউকের হস্তে ১৪৩২ খ্রীঃ বিখ্যাত দুর্গ আর্কিডোনা ও জিব্রাল্টার পতন ঘটে । ২ হতভাগ্য সাদ হেনরীর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করিয়া বাৎসরিক বার হাজার দিনার কর দিতে রাজী হইয়া শান্তি স্থাপনের চুক্তি সম্পাদন করেন । ১৪৬৫ খ্রীস্টাব্দে তাঁহার মৃত্যু পর্যন্ত শান্তি বহাল থাকে ।

টিকাঃ
২. আমীর আলী, হিস্ট্রি অব দ্যা স্যারাসিনস, পৃঃ ৫৫৫।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 আবুল হাসান আলী

📄 আবুল হাসান আলী


সাদের পুত্র আবুল হাসান (স্পেন: আল বুয়াসেন) 'আলি' উপাধি গ্রহণ করিয়া তাঁহার পিতার স্থলাভিষিক্ত হন । তিনি ছিলেন ধূর্ত ও সাহসী কিন্তু রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বলিতে তাঁহার কিছু ছিল না । তাঁহার পিতা কর্তৃক স্বীকৃত বাৎসরিক কর দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানাইলে খ্রীস্টানগণ গ্রানাডা রাজ্যের ধ্বংস সাধন করে ।

ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত আরাগণের ফার্ডিনান্ড ও ক্যাস্টিলের ইসাবেলার ক্ষমতা লাভের পর খ্রীস্টান আক্রমণ চরম আকার ধারণ করে । ফার্ডিনান্ড ১৪৬৯ খ্রীস্টাব্দে ইসাবেলাকে বিবাহ করিয়া তাঁহার ক্ষমতাকে সুসংহত করেন । ৩ ৪ ৫ উভয়ই ছিলেন চরম মুসলিম বিদ্বেষী । তাঁহারা মুসলমানদিগকে আক্রমণ করার সমস্ত সুযোগ গ্রহণ করেন । ১৪৮২ খ্রীঃ খ্রীস্টানগণ গ্রানাডার দক্ষিণ-পশ্চিমে সিয়েরা দে আল-হামাহ তীরে অবস্থিত আলহামাহ-এর শক্তিশালী দুর্গ দখল করে । খ্রীস্টানগণ মসজিদে অগ্নি সংযোগ করিয়া নারী ও শিশুদিগকে হত্যা করে । আবুল হাসান পর পর দুইবার আলহামাহ দুর্গ পুনর্দখলের প্রচেষ্টা চালাইয়া ব্যর্থ হন ।

টিকাঃ
৩. দ্যা হিস্ট্রি অব স্পেন, প্রথম খণ্ড, লন্ডন, ১৯৫৬, পৃঃ ১৫০, ১৫২।
৪. ক্যাস্ট্রো কর্তৃক উদ্ধৃত, পৃঃ ৪৩।
৫. আমীর আলী, স্যারাসিন্স, পৃঃ ৫৫৫।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 একাদশ মুহাম্মদ

📄 একাদশ মুহাম্মদ


মুহাম্মদ আবু আব্দুল্লাহ (স্পেন: বো আবদিল) তাঁহার মাতার প্ররোচনায় পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হন । শহর রক্ষীদের সাহায্যে তিনি ১৪৮২ খ্রীস্টাব্দে আলহামরা অবরোধ করেন এবং গ্রানাডা তাঁহার অধিকারে আসে । তিনি তাঁহার পিতাকে মালাগায় আশ্রয় লইতে বাধ্য করেন । ১৪৮৩ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসে আল-জাগাল ও তাঁহার সহকারী রেজওয়ান ক্যাস্টিলীয়দের মালাগা আক্রমণ প্রতিহত করেন । এই বৎসর আবু আব্দুল্লাহ খ্রীস্টান শহর লুছেনা আক্রমণ করিয়া পরাজিত ও বন্দী হন । এইরূপে আবুল হাসান গ্রানাডার শূন্য সিংহাসন পুনরায় দখল করেন । কিন্তু পরে তাঁহার সুযোগ্য ভ্রাতা মুহাম্মদ আল জাগালের পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন । আবুল হাসান ইল্লোরা এবং সেখান হইতে আল মুনেকার-এ গমন করেন এবং সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 দ্বাদশ মুহাম্মদ

📄 দ্বাদশ মুহাম্মদ


ফার্ডিনান্ড গ্রানাডাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করিবার জন্য আবু আব্দুল্লাহকে (বোআবদিল) পুতুল হিসাবে ব্যবহার করিয়া বিরাট সৈন্য বাহিনীসহ তাঁহার চাচা আল-জাগালের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। আল-জাগাল তাহার নিজের জন্য একটি শিবির তৈয়ার করেন। ইহা পরবর্তীকালে গ্রানাডার দক্ষিণে শান্তা ফে (পবিত্র বিশ্বাস) শহরে পরিণত হয়। তখন হইতে মুসলমানগণ তাহাদের শেষ সম্বল লইয়া অবরোধ প্রতিহত করে। এই অবরোধ দশ বৎসর স্থায়ী হইয়াছিল। আবু আবব্দুল্লাহ খ্রীস্টানদের চক্রান্ত বুঝিতে না পারিয়া ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলার দাবার ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তিনি পুরাতন গ্রানাডার অংশ আল-বায়েছিন ১৪৮৬ খ্রীস্টাব্দে অধিকার করেন। আল-জাগাল সম্মিলিত ভাবে ক্যাস্টিলীয়দের বাধা প্রদানের প্রস্তাব করেন কিন্তু তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র আবু আব্দুল্লাহ ইহাতে সম্মত হন না। উপরন্তু গ্রানাডা রাজ্যের পতন ঘটানোর জন্য আবু আব্দুল্লাহ ক্যাস্টিলীয়দের ও আরাগোনদের সাহায্য করেন। আবু আবদুল্লাহ তাঁহার চাচার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়া গ্রানাডায় পুনর্বাসিত তাঁহার দক্ষিণ হস্ত দেশ প্রেমিক আফ্রিকার বানু সাররাজকে সমূলে ধ্বংস করেন। গৃহযুদ্ধের সুযোগ গ্রহণ করিয়া ক্যাস্টিলীয়গণ আলোরা, কাসর বনিলা, রোন্ডা ও অন্যান্য শহরগুলি একের পর এক অধিকার করেন। ১৪৮৬ খ্রীস্টাব্দে লোজা এবং পরবর্তী বৎসর আলমেরিয়া ও মালাগা পদানত হয়। শহরসমূহের অধিবাসীদের উপর অত্যাচার করা হইবেনা এই শর্তে শহরগুলি আত্মসমর্পণ করে। ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া মুসলমানদিগকে ক্রীতদাস হিসাবে বিক্রি করে অথবা নগর হইতোদিগকে তাড়াইয়া দেয়। আল-জাগাল ক্যাস্টিলীয়দের বাধাপ্রদান করিয়া ব্যর্থ হন। ফার্ডিনান্ড সমস্ত শক্তি লইয়া বায়েজা আক্রমণ করেন। নিরাশ হইয়া আল-জাগাল রাজধানী রক্ষা করিবার জন্য আফ্রিকায় বসবাসরত তাঁহার স্বজাতীয়দের সাহায্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু তাহাকে হতাশ হইতে হয়। কারণ তাহারাই তখন আফ্রিকার গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। খাদ্য সামগ্রীর অভাবে নগরবাসী শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণ করে। আল-জাগাল ১৪৮৭ খ্রীস্টাব্দে আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হন। তিনি মরক্কোর তিলিমসানে গমন করেন এবং সেখানেই অবশিষ্ট জীবন দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়া অতিবাহিত করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px