📄 ১০৭. সফরে দুই ওয়াক্ত নামায একত্রে না পড়া
১০৭. আমাদের দেশে সফরে দুই নামায একত্রে পড়া নিয়ে ঝগড়া হয়। হানাফীরা বলে আরাফা ছাড়া আর কোথাও দুই নামায একত্রে পড়া যাবেনা। অথচ হাদিসে এর বিপরীত দেখা যায়।
রসূলুল্লাহ সা. বিদায় আরাফা ছাড়াও তবুক এবং অন্যান্য সফরে দুই নামায একত্রে পড়েছেন। এ বিষয়ে অনেকগুলো হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
রসূলুল্লাহ সা.-এর রীতি ছিলো, তিনি যদি সূর্য হেলার আগে সফরে বেরোতেন, তাহলে যুহর নামাযকে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন। অতঃপর আসরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়তেন। যদি সূর্য হেলার পর সফরে রওয়ানা করতেন, তাহলে যুহরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়ে রওয়ানা করতেন।
যদি মাগরিবের সময় তাড়াহুড়া করে যাত্রা শুরু করতেন, তাহলে মাগরিবের নামাযকে বিলম্বিত করে ইশার সময় মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়তেন।
রসূলুল্লাহ সা.-এর তবুক সফর সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে: তবুক সফরে কোনো মনযিল থেকে রওয়ানা করার প্রাক্কালে রসূল সা. যদি সূর্য হেলার পরে রওয়ানা করতেন, তবে যুহরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়ে রওয়ানা করতেন। যদি সূর্য হেলার পূর্বে যাত্রা করতেন, তবে যুহরকে বিলম্বিত করে আসরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়তেন। মাগরিব এবং ইশার ক্ষেত্রেও অনুরূপ করতেন।
সহীহ বুখারিতে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সা. সফরে থাকাকালে যুহর ও আসর নামায একত্রে পড়তেন এবং মাগরিব আর ইশাও একত্রে পড়তেন।
বুখারিতে আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে: রসূল সা. সফরে মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়তেন। বুখারিতে আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে: রসূল সা. সূর্য হেলার পূর্বে যাত্রা করলে যুহরকে আসর পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন এবং আসরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়তেন।
📄 ১০৮. বেশি সওয়াবের আশায় কোনো বিশেষ মসজিদে নামায পড়া
১০৮. বেশি সওয়াবের আশায় কোনো বিশেষ মসজিদে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ কি?
লোকেরা এমনটি করে থাকে। কিন্তু এ কাজ বৈধ নয়। উপরের প্রশ্নটির জবাবে যে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিই এর প্রমাণ।
মূলত ঐ তিনটি মসজিদ ছাড়া আর কোনো মসজিদের কোনো বিশেষত্ব নেই।
📄 ১০৯. সুন্নত নামায সব সময় মসজিদে পড়া
১০৯. ঘরে না পড়ে সব সুন্নত নামায মসজিদে পড়া।
📄 ১১০. ইচ্ছাকৃত নামাযের জামাত ত্যাগ করা
১১০. ইচ্ছাকৃত পুরুষদের ফরয নামাযের জামাত ত্যাগ করা।