📄 ১০৪. পুরুষ এবং মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি আলাদা করা
১০৪. আমাদের দেশে পুরুষ এবং মহিলারা কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে নামায পড়ে। পুরুষ এবং মহিলাদের নামায পদ্ধতিতে পার্থক্য করা কি বৈধ?
রসূলুল্লাহ সা. মহিলাদের জন্যে নামাযের আলাদা কোনো পদ্ধতি দিয়ে যাননি। পুরুষ ও মহিলাদের নামায পড়ার পদ্ধতি একই। পার্থক্য করা সুন্নতের খেলাফ।
হাদিস থেকে জানা যায়, রসূল সা. মহিলাদের নামাযের ব্যাপারে কয়েকটি বিশেষ কথা বলে গেছেন। তাহলো:
১. তোমরা আল্লাহ্র দাসীদের (মহিলাদের) মসজিদে যেতে নিষেধ করোনা। ২. মহিলাদের ঘরে নামায পড়া উত্তম।
৩. জামাতের নামাযে ইমাম ভুল করলে মহিলারা আল্লাহু আকবার বা সুবহানাল্লাহ না বলে এক হাতের তালু দ্বারা আরেক হাতের তালুতে থাপ্পড় দিয়ে আওয়াজ করবে।
৪. ইমামের ভাষণ শুনার জন্যে মহিলাদের জুমা এবং ঈদের জামাতে উপস্থিত হওয়া উত্তম।
৫. মহিলারা মসজিদে যেতে সুগন্ধি ব্যবহার করে যাবেনা। এ বিষয়গুলো ছাড়া নামায পড়ার পদ্ধতিতে কোনো পার্থক্য নেই।
📄 ১০৫. জামাত শুরু হলে সুন্নত পড়া
১০৫. জামাত শুরু হলে সুন্নত পড়া
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যখন জামাতের জন্যে ইকামত বলা হবে (অর্থাৎ যখন ফরয নামাযের জামাত আরম্ভ হবে), তখন ঐ (ফরয) নামাযটি ছাড়া আর কোনো নামায নেই।" (সহীহ মুসলিম)
এই হাদিসের 'আর কোনো নামায নেই'- কথাটির অর্থ হলো, ফরয নামাযের জামাত দাঁড়িয়ে গেলে আর অন্য কোনো নামায পড়া যাবেনা।
এই হাদিসের ভিত্তিতে ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেছেন: ফরয নামাযের জামাত দাঁড়িয়ে গেলে সুন্নত নামায ত্যাগ করতে হবে এবং জামাতে শামিল হয়ে যেতে হবে।
ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন: ফজরের জামাত এক রাকাত পাবার সম্ভাবনা থাকলেও সুন্নত পড়ে নেয়া যাবে। তবে সুন্নত পড়ার জন্যে সফের (কাতারের) নিকট থেকে দূরে দাঁড়াতে হবে। তাঁর মতে সফের নিকট দাঁড়ানো মাকরূহ।
হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে, উক্ত হাদিস অনুযায়ী জামাত দাঁড়িয়ে যাবার পর সুন্নত নামায পড়ার কোনো অবকাশ দেখা যায়না। কারণ- - এমনটি করার অনুমতি রসূলুল্লাহ সা. দেননি। - সাহাবায়ে কিরাম থেকে এমনটি করার নযীর নেই। - ফজরের সুন্নতের গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নত নামাযের তুলনায় বেশি হলেও সেটা সুন্নতই, ফরয নয়।
মুয়াজ্জিনের ইকামত দেয়ার অর্থই হলো, ইমামের পক্ষ থেকে জামাতে শরীক হওয়ার আহবান জানানো। আর (ফরয নামাযের জন্যে) ইমামের আহবানে সাড়া দেয়া তো ওয়াজিব।
সুতরাং এ হাদিসটির স্পষ্ট অর্থ এবং যুক্তি অনুযায়ী জামাত শুরু হয়ে গেলে সুন্নত পড়ার অবকাশ থাকেনা।
📄 ১০৬. সফরের দূরত্ব নিয়ে বিবাদ
১০৬. আমাদের দেশে নামায কসর করার জন্যে সফরের দূরত্ব নিয়ে ঝগড়া করা হয়। কতো দূরের সফরে নামায কসর করা যাবে?
রসূলুল্লাহ সা. সফরের দূরত্বের কোনো সীমা রেখা নির্ধারণ করে দেননি। সাহাবীগণও কোনো সীমা রেখার কথা বলেননি। কতোটা দূরের সফর হলে নামায কসর করা যাবে, দুই নামায একত্র করা যাবে, (ফরয) রোযা স্থগিত করা যাবে- এসবের কিছুই রসূল সা. উল্লেখ করেননি। রসূল সা. এবং তাঁর সাহাবীগণ সাধারণভাবে সফর শব্দ ব্যবহার করেছেন।
কেউ কেউ মক্কা ও জিদ্দার ব্যবধান এবং মক্কা ও তায়েফের ব্যবধানকে (অর্থাৎ ৪৮ মাইলকে) সফরের নূন্যতম স্ট্যান্ডার্ড ধরেছেন। কিন্তু রসূল সা. এবং সাহাবীগণ এমন কিছু নির্ধারণ করে দেননি। তাঁরা সফর কথাটি বলেছেন। সুতরাং যে দূরত্বকে সাধারণভাবে সফর বলা হয়, সেটাই সফর। মাইল নির্ধারণ করা আমাদের দায়িত্ব নয়।
তাই 'সফর' বলা হয় এমন ছোট বড় সব সফরেই কসর করা, দুই নামায একত্র করা, রোযা স্থগিত করা, তাইয়াম্মুম ইত্যাদি বৈধ।
📄 ১০৭. সফরে দুই ওয়াক্ত নামায একত্রে না পড়া
১০৭. আমাদের দেশে সফরে দুই নামায একত্রে পড়া নিয়ে ঝগড়া হয়। হানাফীরা বলে আরাফা ছাড়া আর কোথাও দুই নামায একত্রে পড়া যাবেনা। অথচ হাদিসে এর বিপরীত দেখা যায়।
রসূলুল্লাহ সা. বিদায় আরাফা ছাড়াও তবুক এবং অন্যান্য সফরে দুই নামায একত্রে পড়েছেন। এ বিষয়ে অনেকগুলো হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
রসূলুল্লাহ সা.-এর রীতি ছিলো, তিনি যদি সূর্য হেলার আগে সফরে বেরোতেন, তাহলে যুহর নামাযকে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন। অতঃপর আসরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়তেন। যদি সূর্য হেলার পর সফরে রওয়ানা করতেন, তাহলে যুহরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়ে রওয়ানা করতেন।
যদি মাগরিবের সময় তাড়াহুড়া করে যাত্রা শুরু করতেন, তাহলে মাগরিবের নামাযকে বিলম্বিত করে ইশার সময় মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়তেন।
রসূলুল্লাহ সা.-এর তবুক সফর সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে: তবুক সফরে কোনো মনযিল থেকে রওয়ানা করার প্রাক্কালে রসূল সা. যদি সূর্য হেলার পরে রওয়ানা করতেন, তবে যুহরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়ে রওয়ানা করতেন। যদি সূর্য হেলার পূর্বে যাত্রা করতেন, তবে যুহরকে বিলম্বিত করে আসরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়তেন। মাগরিব এবং ইশার ক্ষেত্রেও অনুরূপ করতেন।
সহীহ বুখারিতে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সা. সফরে থাকাকালে যুহর ও আসর নামায একত্রে পড়তেন এবং মাগরিব আর ইশাও একত্রে পড়তেন।
বুখারিতে আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে: রসূল সা. সফরে মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়তেন। বুখারিতে আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে: রসূল সা. সূর্য হেলার পূর্বে যাত্রা করলে যুহরকে আসর পর্যন্ত বিলম্বিত করতেন এবং আসরের সময় যুহর ও আসর একত্রে পড়তেন।