📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ১০৩. রফে ইয়াদাইনকে আহলে হাদিসের নিয়ম বলা

📄 ১০৩. রফে ইয়াদাইনকে আহলে হাদিসের নিয়ম বলা


১০৩. রফে ইয়াদাইন করাকে আহলে হাদিসের নিয়ম বলা হয়। এটা কি ঠিক?

নামাযে রফে ইয়াদাইন করাকে আহলে হাদিসের নিয়ম বলাটা একটা মারাত্মক ভুল। এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুপ্রমানিত সুন্নত。

রসূল সা. নামাযে তিন অথবা চার স্থানে রফে ইয়াদাইন করতেন। স্থানগুলো হলো: ১. তাকবীরে তাহরিমার সময়। ২. রুকুতে যাবার সময়। ৩. রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময়। ৪. প্রথম তাশাহ্হুদ শেষে দাঁড়াবার কালে।

প্রথম তিনটি রফে ইয়াদাইনের কথা বর্ণনা করেছেন কমপক্ষে ত্রিশজন সাহাবী। তাঁরা রসূলুল্লাহ সা. সা.-এর নামযের নিয়ম বর্ণনা করতে গিয়ে তিন জায়গায় রফে ইয়াদাইনের কথা উলেখ করেছেন। এঁদের মধ্যে কয়েকজন সাহাবী চতুর্থ রফে ইয়াদাইনের কথাও উল্লেখ করেছেন। এ সংক্রান্ত সবগুলো হাদিসই সহীহ সূত্রে বর্ণিত।

সুতরাং রফে ইয়াদাইন করা কোনো বিশেষ মযহাব বা আহলে হাদিসের রীতি নয়, স্বয়ং আল্লাহর রসূলের সুস্পষ্ট সুন্নত。

কেবল হানাফি মযহাবে একটি মাত্র স্থানে (তাকবীরে তাহরীমার সময়) রফে হায়াদাইন করা হয়। বাকী সকলেই হাদিসে বর্ণিত তিন বা চার স্থানে রফে ইয়াদাইন করেন।

ইবনে মাসউদ রা.-এর একটি মাত্র বর্ণনার ফলে হানাফী মযহাব শুধু এক জায়গায় রফে ইয়াদাইন করে। অথচ ইবনে মাসউদ রা. বিশেষ কারণে শেষ দিকে একাধিক রফে ইয়াদাইন ত্যাগ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর যাদুল মা'আদ গ্রন্থে বলেন:

ইবনে মাসউদ রা.-এর রফে ইয়াদাইন ত্যাগ করাটা এ জন্যে ছিলোনা যে, তিনি তা রসূলুল্লাহ সা. থেকে জানতে পেরেছেন। তিনি আসলে রফে ইয়াদাইনের সাথে বিরোধও করেননি এবং তার পরিপন্থি কাজও করেননি। ব্যাপারটা হলো, সেকালে আমীর-উমারারা দেরি করে নামাযে আসতেন। ফলে তিনি আযান-ইকামত ছাড়া ঘরেই নামায পড়তেন। এসময় তাঁর দুপাশে দু'জন মুক্তাদি দাঁড়াতো। তিনি ইমাম হিসেবে সামনে না দাঁড়িয়ে তাদের সমান্তরালে তাদের মাঝখানে দাঁড়াতেন। এতে করে রফে ইয়াদাইন করতে অসুবিধা হতো বলে তিনি তা করতেন না। (দ্রষ্টব্য, গ্রন্থ: আল্লাহর রসূল কিভাবে নামায পড়তেন?)

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ১০৪. পুরুষ এবং মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি আলাদা করা

📄 ১০৪. পুরুষ এবং মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি আলাদা করা


১০৪. আমাদের দেশে পুরুষ এবং মহিলারা কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে নামায পড়ে। পুরুষ এবং মহিলাদের নামায পদ্ধতিতে পার্থক্য করা কি বৈধ?

রসূলুল্লাহ সা. মহিলাদের জন্যে নামাযের আলাদা কোনো পদ্ধতি দিয়ে যাননি। পুরুষ ও মহিলাদের নামায পড়ার পদ্ধতি একই। পার্থক্য করা সুন্নতের খেলাফ।

হাদিস থেকে জানা যায়, রসূল সা. মহিলাদের নামাযের ব্যাপারে কয়েকটি বিশেষ কথা বলে গেছেন। তাহলো:
১. তোমরা আল্লাহ্র দাসীদের (মহিলাদের) মসজিদে যেতে নিষেধ করোনা। ২. মহিলাদের ঘরে নামায পড়া উত্তম।
৩. জামাতের নামাযে ইমাম ভুল করলে মহিলারা আল্লাহু আকবার বা সুবহানাল্লাহ না বলে এক হাতের তালু দ্বারা আরেক হাতের তালুতে থাপ্পড় দিয়ে আওয়াজ করবে।
৪. ইমামের ভাষণ শুনার জন্যে মহিলাদের জুমা এবং ঈদের জামাতে উপস্থিত হওয়া উত্তম।
৫. মহিলারা মসজিদে যেতে সুগন্ধি ব্যবহার করে যাবেনা। এ বিষয়গুলো ছাড়া নামায পড়ার পদ্ধতিতে কোনো পার্থক্য নেই।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ১০৫. জামাত শুরু হলে সুন্নত পড়া

📄 ১০৫. জামাত শুরু হলে সুন্নত পড়া


১০৫. জামাত শুরু হলে সুন্নত পড়া

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যখন জামাতের জন্যে ইকামত বলা হবে (অর্থাৎ যখন ফরয নামাযের জামাত আরম্ভ হবে), তখন ঐ (ফরয) নামাযটি ছাড়া আর কোনো নামায নেই।" (সহীহ মুসলিম)

এই হাদিসের 'আর কোনো নামায নেই'- কথাটির অর্থ হলো, ফরয নামাযের জামাত দাঁড়িয়ে গেলে আর অন্য কোনো নামায পড়া যাবেনা।

এই হাদিসের ভিত্তিতে ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেছেন: ফরয নামাযের জামাত দাঁড়িয়ে গেলে সুন্নত নামায ত্যাগ করতে হবে এবং জামাতে শামিল হয়ে যেতে হবে।

ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন: ফজরের জামাত এক রাকাত পাবার সম্ভাবনা থাকলেও সুন্নত পড়ে নেয়া যাবে। তবে সুন্নত পড়ার জন্যে সফের (কাতারের) নিকট থেকে দূরে দাঁড়াতে হবে। তাঁর মতে সফের নিকট দাঁড়ানো মাকরূহ।

হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে, উক্ত হাদিস অনুযায়ী জামাত দাঁড়িয়ে যাবার পর সুন্নত নামায পড়ার কোনো অবকাশ দেখা যায়না। কারণ- - এমনটি করার অনুমতি রসূলুল্লাহ সা. দেননি। - সাহাবায়ে কিরাম থেকে এমনটি করার নযীর নেই। - ফজরের সুন্নতের গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নত নামাযের তুলনায় বেশি হলেও সেটা সুন্নতই, ফরয নয়।

মুয়াজ্জিনের ইকামত দেয়ার অর্থই হলো, ইমামের পক্ষ থেকে জামাতে শরীক হওয়ার আহবান জানানো। আর (ফরয নামাযের জন্যে) ইমামের আহবানে সাড়া দেয়া তো ওয়াজিব।

সুতরাং এ হাদিসটির স্পষ্ট অর্থ এবং যুক্তি অনুযায়ী জামাত শুরু হয়ে গেলে সুন্নত পড়ার অবকাশ থাকেনা।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ১০৬. সফরের দূরত্ব নিয়ে বিবাদ

📄 ১০৬. সফরের দূরত্ব নিয়ে বিবাদ


১০৬. আমাদের দেশে নামায কসর করার জন্যে সফরের দূরত্ব নিয়ে ঝগড়া করা হয়। কতো দূরের সফরে নামায কসর করা যাবে?

রসূলুল্লাহ সা. সফরের দূরত্বের কোনো সীমা রেখা নির্ধারণ করে দেননি। সাহাবীগণও কোনো সীমা রেখার কথা বলেননি। কতোটা দূরের সফর হলে নামায কসর করা যাবে, দুই নামায একত্র করা যাবে, (ফরয) রোযা স্থগিত করা যাবে- এসবের কিছুই রসূল সা. উল্লেখ করেননি। রসূল সা. এবং তাঁর সাহাবীগণ সাধারণভাবে সফর শব্দ ব্যবহার করেছেন।

কেউ কেউ মক্কা ও জিদ্দার ব্যবধান এবং মক্কা ও তায়েফের ব্যবধানকে (অর্থাৎ ৪৮ মাইলকে) সফরের নূন্যতম স্ট্যান্ডার্ড ধরেছেন। কিন্তু রসূল সা. এবং সাহাবীগণ এমন কিছু নির্ধারণ করে দেননি। তাঁরা সফর কথাটি বলেছেন। সুতরাং যে দূরত্বকে সাধারণভাবে সফর বলা হয়, সেটাই সফর। মাইল নির্ধারণ করা আমাদের দায়িত্ব নয়।

তাই 'সফর' বলা হয় এমন ছোট বড় সব সফরেই কসর করা, দুই নামায একত্র করা, রোযা স্থগিত করা, তাইয়াম্মুম ইত্যাদি বৈধ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px