📄 ৯৬. মৃত স্বামীর এবং মৃত স্ত্রীর মুখ না দেখা
৯৬. আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী আর স্বামীর মুখ দেখেনা এবং স্ত্রী মারা গেলে স্বামী আর স্ত্রীর মুখ দেখেনা, মনে করা হয় তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।
এটা একটা বিরাট ভুল, অজ্ঞতা এবং ভ্রান্ত প্রথা। স্বামীর মুখ দেখার সবচেয়ে বেশি হকদার স্ত্রী এবং স্ত্রীর মুখ দেখার সবচাইতে বেশি হকদার স্বামী।
মৃত্যু দ্বারা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়না। জান্নাতেও এই সম্পর্ক অটুট থাকবে। মুমিন স্বামী স্ত্রী জান্নাতে স্বামী স্ত্রী হিসেবেই থাকবে (দেখুন আল কুরআন, সূরা রা'দ: আয়াত ২৩)
সমাজের এই প্রথা এক জঘন্য নিষ্ঠুর প্রথা। ভ্রান্ত প্রথা ভেঙ্গে চুরমার করে দিন।
📄 ৯৭. স্ত্রী বা স্বামী কর্তৃক মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে গোসল না করানো
৯৭. স্বামী মারা গেলে স্ত্রী এবং স্ত্রী মারা গেলে স্বামী কি মাইয়্যেতকে গোসল করাতে পারে? উল্লেখ্য আমাদের সমাজে একাজকে ঠিক মনে করা হয়না। অন্য লোক দিয়ে গোসল করানো হয়。
এটা ভুল ধারণা।
রসূলুল্লাহ সা.-এর মৃত্যু হলে তাঁর স্ত্রীগণই তাঁকে গোসল করিয়েছেন। আবু বকর রা.-কেও তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী তাঁর স্ত্রীই গোসল করিয়েছেন।
সুতরাং উম্মতের জন্যেও এটাই উত্তম। এটা ঠিক মনে না করা অন্যায়। স্ত্রী মারা গেলে স্বামী গোসল করাবে কিনা? -এর জবাব হলো, স্বামীর গোসল করানোর ক্ষেত্রে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা নেই।
তবে কোনো মহিলাও গোসল করাতে পারে।
আমাদের মতে, অন্য লোক দিয়ে গোসল করানোর চাইতে স্ত্রী বা স্বামী গোসল করানোই উত্তম।
📄 ৯৮. স্বামীর নাম না নেয়া
৯৮. আমাদের সমাজে স্ত্রী স্বামীকে নাম ধরে ডাকেনা। ইসলামে কি স্বামীকে নাম ধরে ডাকা নিষেধ?
না, ইসলামে স্বামীর নাম ধরে ডাকা নিষেধ নয়। স্বামীর নাম ধরে না ডাকাটা একটা সামাজিক কুপ্রথা।
হাদিসে পাওয়া যায়, মহিলা সাহাবীগণ তাদের স্বামীর নাম নিতেন, নাম ধরে ডাকতেন।
সমাজিক প্রথা পালন করতে গিয়ে আমাদের দেশে মহিলারা অনেক আজগুবি আচরণ করে। আমি শুনেছি, এক মহিলার স্বামীর নাম ছিলো 'আকবর'। ছেলের নাম ছিলো 'বাদল'। ঐ মহিলা সালাতে বারবার 'আল্লাহু আকবর' বলার পরিবর্তে বলতো 'আল্লাহু বাদলের বাপ'।
আরেক মহিলার স্বামীর নাম ছিলো 'রহমতুল্লাহ'। এই মহিলা কাউকে সালাম দেয়ার সময় বলতো: আসসালামু আলাইকুম খোকার বাপ। সালাত শেষে সালাম ফেরানোর সময়ও একই কথা বলতো。
সুতরাং ভিত্তিহীন রসম রেওয়াজ পরিত্যাগ করুন।
📄 ৯৯. রান্নার পর না খেয়ে প্রথা অনুযায়ী স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করা
৯৯. বাড়িতে খাবার রান্না বান্না করার পর মহিলারা নিজেরা না খেয়ে পুরুষদের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। সমাজে প্রচলন আছে পুরুষদের আগে মহিলাদের খাওয়া নিষেধ। এটা কি ঠিক?
এটা ভ্রান্ত ধারণা। মহিলাদের এধরণের ভ্রান্ত প্রথা পালন করা উচিত নয়। ভ্রান্ত প্রথা ভাঙ্গা উচিত।
তবে কোনো মহিলা একত্রে খাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করাতে দোষ নেই।