📄 ৯৫. মেয়েদেরকে পিতার ওয়ারিশি না দেয়া এবং তাদের না নেয়া
৯৫. মেয়েরা সাধারণত বাপের বাড়ি থেকে ওয়ারিশি বা উত্তরাধিকার নিতে চায়না। তারা ভাবে, এতে ভাইয়েদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে এবং বাপের বাড়ি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
অপরদিকে পিতার মৃত্যুর পর ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে পিতার সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করে নেয়, বোনদের অংশ পৃথক করে দেয়না।
অনেক সময়, মেয়েদের উত্তরাধিকার নেয়াকে অভদ্র, অসামাজিক ও অসম্মানজনক মনে করা হয়। -এ ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কি?
ওয়ারিশি বা উত্তরাধিকার আল্লাহর নির্ধারিত অংশ। স্বয়ং আল্লাহ পাকই কুরআন মজিদে মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা ও আত্মীয় স্বজনের কে কতোটুকু উত্তরাধিকার পাবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। দেখুন সূরা আন নিসা: আয়াত ৭,১১ ও ১২।
অতপর একই সূরার ১৩ নম্বর আয়াতে যারা আল্লাহর এই বন্টন অনুযায়ী উত্তরাধিকার বন্টন করে নেবে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।
আর যারা আল্লাহর নির্ধারিত বণ্টন অনুযায়ী ওয়ারিশি বন্টন করে নেবেনা ১৪ নম্বর আয়াতে তাদেরকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপের এবং অপমানকর শাস্তি প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
যারা বোনদেরকে পিতা মাতার ওয়ারিশি থেকে বঞ্চিত করে এবং তাদের অংশ বের করে না দিয়ে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে নেয়, তাদেরকে আল্লাহ চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
অপরদিকে কোনো মহিলাও যদি পিতা মাতার মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া সম্পদ সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশি না নিতে চান, তিনিও আল্লাহর আইন অমান্যকারী হিসেবে পাপী হবেন।
বোন আল্লাহ্র আইন অনুযায়ী ওয়ারিশি ভাগ করে নিলে ভাইদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হবে কেন? তাদের সাথে তো বোনের রক্তের সম্পর্ক, ওয়ারিশির সম্পর্ক নয়। রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জাহান্নামী।
ওয়ারিশি নিলে যদি বোনের সাথে রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়, তা হলে তো ওয়ারিশ নেয়ার কারণে ভাইয়ে ভাইয়েও সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা।
আসলে এগুলো সবই মনগড়া প্রথা বানিয়ে নেয়া হয়েছে।
তবে ছেলে বা মেয়ে যে কেউ নিজের অংশ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অন্য কাউকে দান করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন করতে হবে এবং সাক্ষী রাখতে হবে।
ওয়ারিশি নেয়া মেয়েদের জন্যে অসম্মানের নয়, বরং সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। কারণ, আল্লাহ্র আইন পালনকারী মহিলারা মর্যাদাবানই হয়ে থাকে। আর যারা আল্লাহ্ আইন পালন করেনা, তারাই নিকৃষ্ট।
📄 ৯৬. মৃত স্বামীর এবং মৃত স্ত্রীর মুখ না দেখা
৯৬. আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী আর স্বামীর মুখ দেখেনা এবং স্ত্রী মারা গেলে স্বামী আর স্ত্রীর মুখ দেখেনা, মনে করা হয় তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।
এটা একটা বিরাট ভুল, অজ্ঞতা এবং ভ্রান্ত প্রথা। স্বামীর মুখ দেখার সবচেয়ে বেশি হকদার স্ত্রী এবং স্ত্রীর মুখ দেখার সবচাইতে বেশি হকদার স্বামী।
মৃত্যু দ্বারা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়না। জান্নাতেও এই সম্পর্ক অটুট থাকবে। মুমিন স্বামী স্ত্রী জান্নাতে স্বামী স্ত্রী হিসেবেই থাকবে (দেখুন আল কুরআন, সূরা রা'দ: আয়াত ২৩)
সমাজের এই প্রথা এক জঘন্য নিষ্ঠুর প্রথা। ভ্রান্ত প্রথা ভেঙ্গে চুরমার করে দিন।
📄 ৯৭. স্ত্রী বা স্বামী কর্তৃক মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে গোসল না করানো
৯৭. স্বামী মারা গেলে স্ত্রী এবং স্ত্রী মারা গেলে স্বামী কি মাইয়্যেতকে গোসল করাতে পারে? উল্লেখ্য আমাদের সমাজে একাজকে ঠিক মনে করা হয়না। অন্য লোক দিয়ে গোসল করানো হয়。
এটা ভুল ধারণা।
রসূলুল্লাহ সা.-এর মৃত্যু হলে তাঁর স্ত্রীগণই তাঁকে গোসল করিয়েছেন। আবু বকর রা.-কেও তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী তাঁর স্ত্রীই গোসল করিয়েছেন।
সুতরাং উম্মতের জন্যেও এটাই উত্তম। এটা ঠিক মনে না করা অন্যায়। স্ত্রী মারা গেলে স্বামী গোসল করাবে কিনা? -এর জবাব হলো, স্বামীর গোসল করানোর ক্ষেত্রে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা নেই।
তবে কোনো মহিলাও গোসল করাতে পারে।
আমাদের মতে, অন্য লোক দিয়ে গোসল করানোর চাইতে স্ত্রী বা স্বামী গোসল করানোই উত্তম।
📄 ৯৮. স্বামীর নাম না নেয়া
৯৮. আমাদের সমাজে স্ত্রী স্বামীকে নাম ধরে ডাকেনা। ইসলামে কি স্বামীকে নাম ধরে ডাকা নিষেধ?
না, ইসলামে স্বামীর নাম ধরে ডাকা নিষেধ নয়। স্বামীর নাম ধরে না ডাকাটা একটা সামাজিক কুপ্রথা।
হাদিসে পাওয়া যায়, মহিলা সাহাবীগণ তাদের স্বামীর নাম নিতেন, নাম ধরে ডাকতেন।
সমাজিক প্রথা পালন করতে গিয়ে আমাদের দেশে মহিলারা অনেক আজগুবি আচরণ করে। আমি শুনেছি, এক মহিলার স্বামীর নাম ছিলো 'আকবর'। ছেলের নাম ছিলো 'বাদল'। ঐ মহিলা সালাতে বারবার 'আল্লাহু আকবর' বলার পরিবর্তে বলতো 'আল্লাহু বাদলের বাপ'।
আরেক মহিলার স্বামীর নাম ছিলো 'রহমতুল্লাহ'। এই মহিলা কাউকে সালাম দেয়ার সময় বলতো: আসসালামু আলাইকুম খোকার বাপ। সালাত শেষে সালাম ফেরানোর সময়ও একই কথা বলতো。
সুতরাং ভিত্তিহীন রসম রেওয়াজ পরিত্যাগ করুন।