📄 ৯২. পাত্রের পুরুষ আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক পাত্রী দেখা
৯২. অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কনে দেখার জন্যে বর, বরের ভাইয়েরা, দুলা ভাইয়েরা, বন্ধু বান্ধব এবং অন্যান্য পুরুষ ও মহিলা আত্মীয় স্বজন এসে সবাই মিলে কনে দেখে। -এটা কি বৈধ?
এটাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পর্দা বা হিজাবের নিয়ম ও সীমা লংঘণ করে বর ছাড়া অন্য কোনো পূরুষের পক্ষে কনে দেখা বৈধ নয়। তবে-
১. বর নিয়ম মাফিক দেখতে পারবে, ২. তার মহিলা আত্মীয় স্বজন দেখতে পারবে। এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্য: সূরা আন নূর, আয়াত ৩০-৩১।
📄 ৯৩. তিন তালাক এবং একত্রে তিন তালাক
৯৩. তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত তিন তালাক দেয়া। অনেক সময় রাগের মাথায় এক সাথে তিন তালাক দেয়া দেয়া হয়। -এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী? তিন তালাক দেয়া এবং একত্রে তিন তালাক দেয়া দুটোই সুন্নতের খেলাফ।
মূলত চিন্তাভাবনা ছাড়া রাগের মাথায় স্ত্রী তালাক দেয়া নিষেধ। একত্রে বসবাস করার সব রকম চেষ্টার পরও যদি তা সম্ভব না হয় এবং তালাক যদি দিতেই হয়, তবে সুন্নত নিয়ম হলো:
১. তালাক দিবে মোট দুইটি (দ্রষ্টব্য সূরা বাকারা: আয়াত ২২৯)।
২. স্ত্রীর পবিত্রাবস্থার সূচনায় প্রথম তালাক দিয়ে ইদ্দতকাল গণনা করতে থাকবে।
৩. পরবর্তী পবিত্রাবস্থা পর্যন্ত ভাবতে থাকবে স্ত্রীকে রাখবে নাকি বিচ্ছেদ ঘটাবে। রাখলে একত্রে বসবাস শুরু করবে।
৪. বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলে এসময় আরেকটি তালাক দেবে। এতেই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যাবে。
৫. কিন্তু ইদ্দতকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বের করে দেয়া যাবেনা।
৬. ইদ্দতকাল শেষ হবার পর তালাকপ্রাপ্তা তার তালাক দাতা স্বামীর ঘর থেকে বিদায় নেবে।
৭. এই দুইজন পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে যে কোনো সময় তা করতে পারবে। স্ত্রীর মধ্যবর্তী কোনো বিয়ের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু কেউ যদি তার স্ত্রীকে তিনবার তালাক দেন, তবে তিনি আর তার এই স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারবেন না।
একত্রে এবং রাগের মাথায় তিন তালাক দিলেও তালাক হয়ে যাবে, যেমন রাগের মাথায় গুলি করলেও মানুষ মারা যায়। অবশ্য এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করেছেন।
📄 ৯৪. হিল্লা বিয়ে
৯৪. হিল্লা বিয়ে কি? এটা কি বৈধ?
আমাদের সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ে পুরোপুরি না জায়েয এবং হারাম।
কুরআনের বিধান অনুযায়ী স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে চিরতরে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এই স্ত্রীকে সে আর পুনরায় বিয়ে করতে পারবেনা কয়েকটি শর্ত পূর্ণ না হলে। শর্তগুলো হলো:
১. এই তালাকপ্রাপ্তার অন্য কোথাও বিয়ে হতে হবে, ২. সেই স্বামী মারা যাওয়ার মাধ্যমে তাকে বিধবা, কিংবা তার থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তালাকপ্রাপ্তা হতে হবে। ৩. স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের পর ইদ্দতকাল পার হতে হবে。
কিন্তু লোকেরা রাগের মাথায় চিন্তা ভাবনা ছাড়াই স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। অতপর অনুশোচনা করে এবং পুনরায় তালাক দেয়া স্ত্রীকে পেতে চায়।
এমতাবস্থায় উপরোক্ত তিনটি শর্ত পূর্ণ করে তাকে পাওয়া কঠিন বা অসম্ভব বিধায় মাঝখানে ঐ মহিলার একটি কৃত্রিম বিয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং তালাক নেয়া হয়। এই বিয়ে এবং তালাক দুটোই সমঝোতা মূলক। -এটাই সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ে।
এটা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ এবং হারাম।
📄 ৯৫. মেয়েদেরকে পিতার ওয়ারিশি না দেয়া এবং তাদের না নেয়া
৯৫. মেয়েরা সাধারণত বাপের বাড়ি থেকে ওয়ারিশি বা উত্তরাধিকার নিতে চায়না। তারা ভাবে, এতে ভাইয়েদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে এবং বাপের বাড়ি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
অপরদিকে পিতার মৃত্যুর পর ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে পিতার সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করে নেয়, বোনদের অংশ পৃথক করে দেয়না।
অনেক সময়, মেয়েদের উত্তরাধিকার নেয়াকে অভদ্র, অসামাজিক ও অসম্মানজনক মনে করা হয়। -এ ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কি?
ওয়ারিশি বা উত্তরাধিকার আল্লাহর নির্ধারিত অংশ। স্বয়ং আল্লাহ পাকই কুরআন মজিদে মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা ও আত্মীয় স্বজনের কে কতোটুকু উত্তরাধিকার পাবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। দেখুন সূরা আন নিসা: আয়াত ৭,১১ ও ১২।
অতপর একই সূরার ১৩ নম্বর আয়াতে যারা আল্লাহর এই বন্টন অনুযায়ী উত্তরাধিকার বন্টন করে নেবে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।
আর যারা আল্লাহর নির্ধারিত বণ্টন অনুযায়ী ওয়ারিশি বন্টন করে নেবেনা ১৪ নম্বর আয়াতে তাদেরকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপের এবং অপমানকর শাস্তি প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
যারা বোনদেরকে পিতা মাতার ওয়ারিশি থেকে বঞ্চিত করে এবং তাদের অংশ বের করে না দিয়ে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে নেয়, তাদেরকে আল্লাহ চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
অপরদিকে কোনো মহিলাও যদি পিতা মাতার মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া সম্পদ সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশি না নিতে চান, তিনিও আল্লাহর আইন অমান্যকারী হিসেবে পাপী হবেন।
বোন আল্লাহ্র আইন অনুযায়ী ওয়ারিশি ভাগ করে নিলে ভাইদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হবে কেন? তাদের সাথে তো বোনের রক্তের সম্পর্ক, ওয়ারিশির সম্পর্ক নয়। রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জাহান্নামী।
ওয়ারিশি নিলে যদি বোনের সাথে রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়, তা হলে তো ওয়ারিশ নেয়ার কারণে ভাইয়ে ভাইয়েও সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা।
আসলে এগুলো সবই মনগড়া প্রথা বানিয়ে নেয়া হয়েছে।
তবে ছেলে বা মেয়ে যে কেউ নিজের অংশ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অন্য কাউকে দান করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন করতে হবে এবং সাক্ষী রাখতে হবে।
ওয়ারিশি নেয়া মেয়েদের জন্যে অসম্মানের নয়, বরং সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। কারণ, আল্লাহ্র আইন পালনকারী মহিলারা মর্যাদাবানই হয়ে থাকে। আর যারা আল্লাহ্ আইন পালন করেনা, তারাই নিকৃষ্ট।