📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৯১. বিয়ের আগেই বর কণের অবাধ মেলামেশা

📄 ৯১. বিয়ের আগেই বর কণের অবাধ মেলামেশা


৯১. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিয়ের আগেই ছেলে ও মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা একত্রে চলা ফেরা করে। অতপর একসময় বিয়ে করে। - এটা কি বৈধ?

এটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং হারাম। কোনো মেয়ের সাথে বিয়ের পূর্বে অবাধে মেলা মেশা করা, একত্রে ভ্রমণ করা, নির্জনে চলাফেরা করা ইসলামে অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ।

ইসলামে শুধু বিয়ের জন্যে প্রস্তাবিত মেয়েকে দূরে থেকে কিংবা কাছে থেকে প্রচলিত উত্তম পন্থায় দেখে নিতে বলেছে এবং শুধু এটাকেই বৈধ করেছে। এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্য: সূরা আন নূর, আয়াত ৩০-৩১।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৯২. পাত্রের পুরুষ আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক পাত্রী দেখা

📄 ৯২. পাত্রের পুরুষ আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক পাত্রী দেখা


৯২. অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কনে দেখার জন্যে বর, বরের ভাইয়েরা, দুলা ভাইয়েরা, বন্ধু বান্ধব এবং অন্যান্য পুরুষ ও মহিলা আত্মীয় স্বজন এসে সবাই মিলে কনে দেখে। -এটা কি বৈধ?

এটাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পর্দা বা হিজাবের নিয়ম ও সীমা লংঘণ করে বর ছাড়া অন্য কোনো পূরুষের পক্ষে কনে দেখা বৈধ নয়। তবে-
১. বর নিয়ম মাফিক দেখতে পারবে, ২. তার মহিলা আত্মীয় স্বজন দেখতে পারবে। এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্য: সূরা আন নূর, আয়াত ৩০-৩১।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৯৩. তিন তালাক এবং একত্রে তিন তালাক

📄 ৯৩. তিন তালাক এবং একত্রে তিন তালাক


৯৩. তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত তিন তালাক দেয়া। অনেক সময় রাগের মাথায় এক সাথে তিন তালাক দেয়া দেয়া হয়। -এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী? তিন তালাক দেয়া এবং একত্রে তিন তালাক দেয়া দুটোই সুন্নতের খেলাফ।

মূলত চিন্তাভাবনা ছাড়া রাগের মাথায় স্ত্রী তালাক দেয়া নিষেধ। একত্রে বসবাস করার সব রকম চেষ্টার পরও যদি তা সম্ভব না হয় এবং তালাক যদি দিতেই হয়, তবে সুন্নত নিয়ম হলো:
১. তালাক দিবে মোট দুইটি (দ্রষ্টব্য সূরা বাকারা: আয়াত ২২৯)।
২. স্ত্রীর পবিত্রাবস্থার সূচনায় প্রথম তালাক দিয়ে ইদ্দতকাল গণনা করতে থাকবে।
৩. পরবর্তী পবিত্রাবস্থা পর্যন্ত ভাবতে থাকবে স্ত্রীকে রাখবে নাকি বিচ্ছেদ ঘটাবে। রাখলে একত্রে বসবাস শুরু করবে।
৪. বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলে এসময় আরেকটি তালাক দেবে। এতেই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যাবে。
৫. কিন্তু ইদ্দতকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বের করে দেয়া যাবেনা।
৬. ইদ্দতকাল শেষ হবার পর তালাকপ্রাপ্তা তার তালাক দাতা স্বামীর ঘর থেকে বিদায় নেবে।
৭. এই দুইজন পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে যে কোনো সময় তা করতে পারবে। স্ত্রীর মধ্যবর্তী কোনো বিয়ের প্রয়োজন নেই।

কিন্তু কেউ যদি তার স্ত্রীকে তিনবার তালাক দেন, তবে তিনি আর তার এই স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারবেন না।

একত্রে এবং রাগের মাথায় তিন তালাক দিলেও তালাক হয়ে যাবে, যেমন রাগের মাথায় গুলি করলেও মানুষ মারা যায়। অবশ্য এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করেছেন।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৯৪. হিল্লা বিয়ে

📄 ৯৪. হিল্লা বিয়ে


৯৪. হিল্লা বিয়ে কি? এটা কি বৈধ?

আমাদের সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ে পুরোপুরি না জায়েয এবং হারাম।

কুরআনের বিধান অনুযায়ী স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে চিরতরে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এই স্ত্রীকে সে আর পুনরায় বিয়ে করতে পারবেনা কয়েকটি শর্ত পূর্ণ না হলে। শর্তগুলো হলো:
১. এই তালাকপ্রাপ্তার অন্য কোথাও বিয়ে হতে হবে, ২. সেই স্বামী মারা যাওয়ার মাধ্যমে তাকে বিধবা, কিংবা তার থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তালাকপ্রাপ্তা হতে হবে। ৩. স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের পর ইদ্দতকাল পার হতে হবে。

কিন্তু লোকেরা রাগের মাথায় চিন্তা ভাবনা ছাড়াই স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। অতপর অনুশোচনা করে এবং পুনরায় তালাক দেয়া স্ত্রীকে পেতে চায়।

এমতাবস্থায় উপরোক্ত তিনটি শর্ত পূর্ণ করে তাকে পাওয়া কঠিন বা অসম্ভব বিধায় মাঝখানে ঐ মহিলার একটি কৃত্রিম বিয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং তালাক নেয়া হয়। এই বিয়ে এবং তালাক দুটোই সমঝোতা মূলক। -এটাই সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ে।

এটা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ এবং হারাম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px