📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৮৯. পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে বড় অংকের মোহরানা ধার্য করা

📄 ৮৯. পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে বড় অংকের মোহরানা ধার্য করা


৮৯. অনেক বিয়েতে বিশাল অংকের মোহরানা ধার্য করা হয়, যা পরিশোধ করা হয়না। অনেক সময় তা পরিশোধ করা ছেলের সাধ্যাতীত থাকে। ধার্যের সময় বলা হয়: মোহরানা দেয়ইবা কে, নেয়ই বা কে? তবে বংশ মর্যাদা অনুযায়ী বড় অংকের মোহরানা ধার্য করতে হবে। -এটা কি বৈধ?

মোহরানা বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। মোহরানা পরিশোধ না করার নিয়্যতে বিয়ে করলে বিয়ে বৈধ হবেনা। সুতরাং ছেলের জন্যে যা পরিশোধ করা সম্ভব নয়, সেকরম মোহরানা ধার্য বৈধ নয়。

তবে সামর্থ ও উভয় পক্ষের মর্যাদা অনুযায়ী মোহরানা বেশি পরিমাণ ধার্য করাতে কোনো দোষ নেই।

কিন্তু মোহরানা অবশ্যি পরিশোধ করতে হবে। কনের সম্মতি সাপেক্ষে মোহরানার কিছু অংশ বাকীতে পরিশোধ করাও বৈধ।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৯০. বিয়ের উপহারকে মোহরানা উসুল দেখানো

📄 ৯০. বিয়ের উপহারকে মোহরানা উসুল দেখানো


৯০. বিয়েতে উপহার বা যৌতুক হিসেবে ছেলের পক্ষ থেকে গয়না অলংকার, শাড়ি ঘড়ি প্রদান করলে সেগুলোর দাম ধরে মোহরানা বাবদ উসুল লেখা হয়। -এতে কি মোহরানা আদায় হবে?

যৌতুক বা উপহার সামগ্রী দ্বারা মোহরানা আদায় হবেনা। মোহরানা বিয়ে সম্পন্ন হবার অবধারিত শর্তসমূহের একটি। সুতরাং এটি বিয়ের একটি ফরয。

অপরদিকে উপহার বা যৌতুক হচ্ছে ঐচ্ছিক সামগ্রী। শরিয়তে বা আইনে যৌতুক এবং উপহার আদান প্রদানের কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে কনে যদি মোহরানা হিসেবে অলংকার বা শাড়ী দাবি করে, সেক্ষেত্রে তার দাবিকৃত পরিমাণের অলংকার বা শাড়ি দ্বারা তার মোহরানা উসুল হবে。

কিন্তু কোনো অবস্থাতেই উপহার সামগ্রিকে মোহরানা হিসেবে উসুল দেখানো যাবেনা।

কনে যদি মোহরানার বিনিময়ে সেগুলো গ্রহণ করে সেটা ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে বলে দিতে হবে, বর পক্ষ উপহার প্রদান করে নাই。

মোহরানা সম্পর্কে জানার জন্যে দেখুন সূরা আন নিসা, আয়াত ২৪।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৯১. বিয়ের আগেই বর কণের অবাধ মেলামেশা

📄 ৯১. বিয়ের আগেই বর কণের অবাধ মেলামেশা


৯১. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিয়ের আগেই ছেলে ও মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা একত্রে চলা ফেরা করে। অতপর একসময় বিয়ে করে। - এটা কি বৈধ?

এটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং হারাম। কোনো মেয়ের সাথে বিয়ের পূর্বে অবাধে মেলা মেশা করা, একত্রে ভ্রমণ করা, নির্জনে চলাফেরা করা ইসলামে অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ।

ইসলামে শুধু বিয়ের জন্যে প্রস্তাবিত মেয়েকে দূরে থেকে কিংবা কাছে থেকে প্রচলিত উত্তম পন্থায় দেখে নিতে বলেছে এবং শুধু এটাকেই বৈধ করেছে। এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্য: সূরা আন নূর, আয়াত ৩০-৩১।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৯২. পাত্রের পুরুষ আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক পাত্রী দেখা

📄 ৯২. পাত্রের পুরুষ আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক পাত্রী দেখা


৯২. অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কনে দেখার জন্যে বর, বরের ভাইয়েরা, দুলা ভাইয়েরা, বন্ধু বান্ধব এবং অন্যান্য পুরুষ ও মহিলা আত্মীয় স্বজন এসে সবাই মিলে কনে দেখে। -এটা কি বৈধ?

এটাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পর্দা বা হিজাবের নিয়ম ও সীমা লংঘণ করে বর ছাড়া অন্য কোনো পূরুষের পক্ষে কনে দেখা বৈধ নয়। তবে-
১. বর নিয়ম মাফিক দেখতে পারবে, ২. তার মহিলা আত্মীয় স্বজন দেখতে পারবে। এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্য: সূরা আন নূর, আয়াত ৩০-৩১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px