📄 ৬২. পীর মুরিদী
৬২. যদিও পীরদের মাধ্যমে বহু শতাব্দী ধরে আমাদের দেশে দীনের 'আলো নিভু নিভু হলেও জ্বলে আসছে; কিন্তু একথা সুস্পষ্ট যে আমাদের সমাজে যতো শিরক ও বিদআত প্রচলিত হয়েছে তার অধিকাংশ পীর মুরিদীর মাধ্যমে প্রচলিত হয়েছে। পীর মুরিদী সম্পর্কে বলা হয়- পীর ধরা এবং মুরিদ হওয়া ফরয। আসলে পীর মুরিদী কি ইসলামে বৈধ?
পীর মুরিদীর সিলসিলা আল্লাহর রসূল চালু করেন নাই, সাহাবীগণও চালু করেন নাই। ইসলামের ইতিহাসে কোনো বড় আলেম উলামা পীরগিরি করেন নাই। জাহিল এবং অর্ধ আলেম লোকেরাই নিজেদের পীর দাবি করে, পীরের দিকে লোকদের আহবান করে এবং মুরিদ হয় ও মুরিদ বানায়। তারা পীর ধরা ফরয বলে প্রচার করে। তারা কুরআন মজিদের 'ওয়াবতাগু ইলাইহিল অসিলা'- এই আয়াতাংশকে পীর ধরার প্রমাণ হিসেবে পেশ করে। অথচ এই আয়াতাংশের সাথে পীর ধরার কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। ইসলামের কোনো বিজ্ঞ আলেম এ আয়াতের এ রকম ব্যাখ্যা করেননি।
বর্তমানে মুসলিম সমাজে পীর মুরিদীর যে সিলসিলা চালু আছে তা সুস্পষ্টভাবে বিদ'আত। একথাও সত্য, পীর মুরিদীর নামে সমাজে শিরক এবং বিদআত চালু করা হচ্ছে এবং ধরে রাখা হচ্ছে। মুসলিম সমাজকে শিরক ও বিদআত পরিহার করে কুরআন সুন্নাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। তাদেরকে কুরআন বুঝতে হবে এবং কুরআন সুন্নাহর অনুসরণ করে চলতে হবে। রসূল সা. বলেছেন: "আমি তোমাদের মধ্যে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি, এদুটোকে আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো বিপথগামী হবেনা। তার একটি আল্লাহর কিতাব (আল কুরআন) আর অপরটি তাঁর রসূলের সুন্নাহ।" (সূত্র: মুসনাদে আহমদ। বিদায় হজ্জের ভাষণের অংশ)
অনেক ভালো পীরের মাধ্যমে ইসলামের বেশ খেদমত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে তারা নামায রোযা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে পীর মুরিদী একটা ব্যবসা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।
৬২. যদিও পীরদের মাধ্যমে বহু শতাব্দী ধরে আমাদের দেশে দীনের আলো নিভু নিভু হলেও জ্বলে আসছে; কিন্তু একথা সুস্পষ্ট যে আমাদের সমাজে যতো শিরক ও বিদআত প্রচলিত হয়েছে তার অধিকাংশই পীর মুরিদীর মাধ্যমে প্রচলিত হয়েছে। পীর মুরিদী সম্পর্কে বলা হয়- পীর ধরা এবং মুরিদ হওয়া ফরয। আসলে পীর মুরিদী কি ইসলামে বৈধ?
পীর মুরিদীর সিলসিলা আল্লাহর রসূল চালু করেন নাই, সাহাবীগণও চালু করেন নাই। ইসলামের ইতিহাসে কোনো বড় আলেম উলামা পীরগীরি করেন নাই। জাহিল এবং অর্ধ আলেম লোকেরাই নিজেদের পীর দাবি করে, পীরের দিকে লোকদের আহবান করে এবং মুরিদ হয় ও মুরিদ বানায়। তারা পীর ধরা ফরয বলে প্রচার করে। তারা কুরআন মজিদের 'ওয়াবতাগু ইলাইহিল অসিলা'- এই আয়াতাংশকে পীর ধরার প্রমাণ হিসেবে পেশ করে। অথচ এই আয়াতাংশের সাথে পীর ধরার কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। ইসলামের কোনো বিজ্ঞ আলেম এ আয়াতের এ রকম ব্যাখ্যা করেননি।
বর্তমানে মুসলিম সমাজে পীর মুরিদীর যে সিলসিলা চালু আছে তা সুস্পষ্টভাবে বিদ'আত। একথাও সত্য, পীর মুরিদীর নামে সমাজে শিরক এবং বিদআত চালু করা হচ্ছে এবং ধরে রাখা হচ্ছে।
মুসলিম সমাজকে শিরক ও বিদআত পরিহার করে কুরআন সুন্নাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। তাদেরকে কুরআন বুঝতে হবে এবং কুরআন সুন্নাহর অনুসরণ করে চলতে হবে।
রসূল সা. বলেছেন: "আমি তোমাদের মধ্যে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি, এদুটোকে আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো বিপথগামী হবেনা। তার একটি আল্লাহর কিতাব (আল কুরআন) আর অপরটি তাঁর রসূলের সুন্নাহ।" (সূত্র: মুসনাদে আহমদ। বিদায় হজ্জের ভাষণের অংশ)
অনেক ভালো পীরের মাধ্যমে ইসলামের বেশ খেদমত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে তারা নামায রোযা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে পীর মুরিদী একটা ব্যবসা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।
📄 ৬৩. পীরহীন পীর শয়তান
৬৩. কোনো ব্যক্তি পীর নামে খ্যাতি অর্জন করলে তার ছেলে শাহ কিংবা সাহেবজাদা উপাধি ধারণ করে এবং তার মৃত্যুর পর তার ছেলে বা বড় ছেলে গদ্দিনশীন পীর হয়ে বসে। - এভাবে গদ্দীনশীন হওয়া কি জায়েয?
পীরগিরি যদি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিংবা জমিদারি হয়ে থাকে, তবে পীরের ছেলের গদ্দিনশীন হবার একটা কারণ থাকে। কিন্তু ইসলাম এবং ইসলাম প্রচারের নামে ছেলে পিতার গদ্দিনশীন হবার বিধান ইসলামে নেই। এটা সুস্পষ্ট বিদআত। এ পন্থার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
৬৩. কোনো ব্যক্তি পীর নামে খ্যাতি অর্জন করলে তার ছেলে শাহ কিংবা সাহেবজাদা উপাধি ধারণ করে এবং তার মৃত্যুর পর তার ছেলে বা বড় ছেলে গদ্দিনশীন পীর হয়ে বসে।-এভাবে গদ্দীনশীন হওয়া কি জায়েয?
পীরগিরি যদি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিংবা জমিদারি হয়ে থাকে, তবে পীরের ছেলের গদ্দিনশীন হবার একটা কারণ থাকে। কিন্তু ইসলাম এবং ইসলাম প্রচারের নামে ছেলে পিতার গদ্দিনশীন হবার বিধান ইসলামে নেই। এটা সুস্পষ্ট বিদআত। এ পন্থার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
📄 ৬৪. পীরের হাতে বায়াত হওয়া
৬৪. পীরের হাতে বায়াত করা কি জরুরি?
কুরআনে উল্লেখ আছে (সূরা আল ফাত্হ) রসূল সা. হুদাইবিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে সাহাবীগণ থেকে বায়াত (নিজের জীবনকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দেয়ার প্রতিজ্ঞা) গ্রহণ করেছিলেন আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা এবং জীবন উৎসর্গ করার জন্যে। এছাড়া সাহাবীগণ খোলাফায়ে রাশেদীনের কাছে তাদের নির্দেশ পালন করার বায়াত করেছিলেন। পীরের হাতে বায়াত করার কোনো ভিত্তি নেই। আর পীর মুরিদীই তো বিদআত।
৬৪. পীরের হাতে বায়াত করা কি জরুরি?
কুরআনে উল্লেখ আছে (সূরা আল ফাত্হ) রসূল সা. হুদাইবিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে সাহাবীগণ থেকে বায়াত (নিজের জীবনকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দেয়ার প্রতিজ্ঞা) গ্রহণ করেছিলেন আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা এবং জীবন উৎসর্গ করার জন্যে। এছাড়া সাহাবীগণ খোলাফায়ে রাশেদীনের কাছে তাদের নির্দেশ পালন করার বায়াত করেছিলেন। পীরের হাতে বায়াত করার কোনো ভিত্তি নেই। আর পীর মুরিদীই তো বিদআত।
📄 ৬৫. খবরকে রওজা বলা
৬৫. কিছু লোক বুযুর্গ ব্যক্তিদের কবরকে 'রওজা' বলে। এমনকি 'রওজা শরিফ' 'রওজা পাক' এবং 'রওজা মোবারক' বলে থাকে। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর কবরকেও 'রওজা' বা 'রওজা মোবারক' 'রওজা পাক' 'রওজা শরিফ' বলে থাকে। -এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভংগি কি?
রওজা আরবি শব্দ। এর অর্থ- বাগান বা উদ্যান। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাত - জান্নাতের রওজাসমূহের একটি রওজা।" কুরআন বা হাদিসে কোথাও কবরকে রওজা বলা হয় নাই। সাহাবীগণও বলেন নাই, তাবেয়ীগণও বলেন নাই।
সুতরাং যারা পুণ্যবান ব্যক্তিগণের কবরকে 'রওজা পাক', 'রওজা মোবারক' বা 'রওজা শরিফ' বলে, তা কবরের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্যেই বলে। এই ভক্তি শ্রদ্ধার বিষয়টি তাদের আকিদা বিশ্বাসে পরিণত হয়ে যায়। ফলে এটা শিরক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কবরকে অন্য কিছু বলা উচিত নয়। কবরকে কবর বলাই ইসলামি পরিভাষা। কবরকে দরগাহ, মাযার, রওজা বলা পরিত্যাগ করুন। 'শরিফ' তো নয়ই।
৬৫. কিছু লোক বুযুর্গ ব্যক্তিদের কবরকে 'রওজা' বলে। এমনকি 'রওজা শরিফ' 'রওজা পাক' এবং 'রওজা মোবারক' বলে থাকে। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর কবরকেও 'রওজা' বা 'রওজা মোবারক' 'রওজা পাক' 'রওজা শরিফ' বলে থাকে। -এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভংগি কি?
রওজা আরবি শব্দ। এর অর্থ- বাগান বা উদ্যান। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাত- জান্নাতের রওজাসমূহের একটি রওজা।"
কুরআন বা হাদিসে কোথাও কবরকে রওজা বলা হয় নাই। সাহাবীগণও বলেন নাই, তাবেয়ীগণও বলেন নাই।
সুতরাং যারা পুণ্যবান ব্যক্তিগণের কবরকে 'রওজা পাক', 'রওজা মোবারক' বা 'রওজা শরিফ' বলে, তা কবরের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্যেই বলে। এই ভক্তি শ্রদ্ধার বিষয়টি তাদের আকিদা বিশ্বাসে পরিণত হয়ে যায়। ফলে এটা শিরক পর্যন্ত পৌছুতে পারে।
কবরকে অন্য কিছু বলা উচিত নয়। কবরকে কবর বলাই ইসলামি পরিভাষা। কবরকে দরগাহ, মাযার, রওজা বলা পরিত্যাগ করুন। 'শরিফ' তো নয়ই।