📄 ৬০. মিসওয়াক
৬০. আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে মিলাদের প্রচলন আছে। জীবনে, মরণে, বিপদে মুসিবতে, আয়োজনে, উদ্বোধনে মিলাদ পড়ানো হয়। মিলাদ পড়া বা মিলাদ মাহফিল করা কি জায়েয?
আমাদের সমাজে যে মিলাদ প্রচলিত আছে, রসূল সা. এ মিলাদের প্রচলন করেননি। সাহাবায়ে কিরামও করেননি, তাবেয়ীগণও করেননি। অতীতের ইমাম মুজতাহিদরাও করেননি। জানা যায়, কোনো এক ফাসিক বাদশাহ কর্তৃক মিলাদের প্রচলন শুরু হয়।
এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কথা হলো, এমন কোনো কাজই ইসলামের ধর্মীয় কাজ নয়, যা আল্লাহর রসূল সা. চালু করেন নাই এবং সাহাবীগণও চালু করেন নাই। এ ধরণের কোনো কাজকে ইসলামের ধর্মীয় কাজ মনে করে, ইবাদতের কাজ মনে করে, সওয়াবের কাজ মনে করে, নেকীর কাজ মনে করে পালন করা সুস্পষ্ট বিদ'আত।
৬০. আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে মিলাদের প্রচলন আছে। জীবনে, মরণে, বিপদে মুসিবতে, আয়োজনে, উদ্বোধনে মিলাদ পড়ানো হয়। মিলাদ পড়া বা মিলাদ মাহফিল করা কি জায়েয?
আমাদের সমাজে যে মিলাদ প্রচলিত আছে, রসূল সা. এ মিলাদের প্রচলন করেননি। সাহাবায়ে কিরামও করেননি, তাবেয়ীগণও করেননি। অতীতের ইমাম মুজতাহিদরাও করেননি।
জানা যায়, কোনো এক ফাসিক বাদশাহ কর্তৃক মিলাদের প্রচলন শুরু হয়।
এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কথা হলো, এমন কোনো কাজই ইসলামের ধর্মীয় কাজ নয়, যা আল্লাহর রসূল সা. চালু করেন নাই এবং সাহাবীগণও চালু করেন নাই।
এ ধরণের কোনো কাজকে ইসলামের ধর্মীয় কাজ মনে করে, ইবাদতের কাজ মনে করে, সওয়াবের কাজ মনে করে, নেকীর কাজ মনে করে পালন করা সুস্পষ্ট বিদ'আত।
📄 ৬১. তাবিজ তুমার
৬১. অনেকে বিভিন্ন কথা লিখে এবং কুরআনের আয়াত লিখেও গলায় তাবিজ তুমার ঝুলায়, কোমরে বাঁধে, ঘরে ঝুলিয়ে রাখে। এগুলো কি বৈধ? এতে কি রোগ সারে?
এগুলোতে রোগ সারে কি না চিকিৎসকরা বলতে পারবেন। তবে আল্লাহর রসূল একাজ করেননি। সাহাবীগণও করেননি। বরং রসূল সা. কারো গলায় তাবিজ তুমার দেখলে রাগান্বিত হতেন। তিনি তাবিজ তুমার নিতে নিষেধ করে দিয়েছেন। দৃষ্টিভংগি অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাবিজ তুমার মানুষকে শিরকে নিমজ্জিত করে। তবে কুরআন পড়ে ফু দেয়ার অনুমতি আছে। একবার একদল সাহাবী একাজ করলে রসূল সা. অনুমোদন দিয়েছিলেন।
৬১. অনেকে বিভিন্ন কথা লিখে এবং কুরআনের আয়াত লিখেও গলায় তাবিজ তুমার ঝুলায়, কোমরে বাধে, ঘরে ঝুলিয়ে রাখে। এগুলো কি বৈধ? এতে কি রোগ সারে?
এগুলোতে রোগ সারে কিনা চিকিৎসকরা বলতে পারবেন। তবে আল্লাহর রসূল একাজ করেননি। সাহাবীগণও করেননি।
বরং রসূল সা. কারো গলায় তাবিজ তুমার দেখলে রাগান্বিত হতেন। তিনি তাবিজ তুমার নিতে নিষেধ করে দিয়েছেন। দৃষ্টিভংগি অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাবিজ তুমার মানুষকে শিরকে নিমজ্জিত করে。
তবে কুরআন পড়ে ফু দেয়ার অনুমতি আছে। একবার একদল সাহাবী একাজ করলে রসূল সা. অনুমোদন দিয়েছিলেন।
📄 ৬২. পীর মুরিদী
৬২. যদিও পীরদের মাধ্যমে বহু শতাব্দী ধরে আমাদের দেশে দীনের 'আলো নিভু নিভু হলেও জ্বলে আসছে; কিন্তু একথা সুস্পষ্ট যে আমাদের সমাজে যতো শিরক ও বিদআত প্রচলিত হয়েছে তার অধিকাংশ পীর মুরিদীর মাধ্যমে প্রচলিত হয়েছে। পীর মুরিদী সম্পর্কে বলা হয়- পীর ধরা এবং মুরিদ হওয়া ফরয। আসলে পীর মুরিদী কি ইসলামে বৈধ?
পীর মুরিদীর সিলসিলা আল্লাহর রসূল চালু করেন নাই, সাহাবীগণও চালু করেন নাই। ইসলামের ইতিহাসে কোনো বড় আলেম উলামা পীরগিরি করেন নাই। জাহিল এবং অর্ধ আলেম লোকেরাই নিজেদের পীর দাবি করে, পীরের দিকে লোকদের আহবান করে এবং মুরিদ হয় ও মুরিদ বানায়। তারা পীর ধরা ফরয বলে প্রচার করে। তারা কুরআন মজিদের 'ওয়াবতাগু ইলাইহিল অসিলা'- এই আয়াতাংশকে পীর ধরার প্রমাণ হিসেবে পেশ করে। অথচ এই আয়াতাংশের সাথে পীর ধরার কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। ইসলামের কোনো বিজ্ঞ আলেম এ আয়াতের এ রকম ব্যাখ্যা করেননি।
বর্তমানে মুসলিম সমাজে পীর মুরিদীর যে সিলসিলা চালু আছে তা সুস্পষ্টভাবে বিদ'আত। একথাও সত্য, পীর মুরিদীর নামে সমাজে শিরক এবং বিদআত চালু করা হচ্ছে এবং ধরে রাখা হচ্ছে। মুসলিম সমাজকে শিরক ও বিদআত পরিহার করে কুরআন সুন্নাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। তাদেরকে কুরআন বুঝতে হবে এবং কুরআন সুন্নাহর অনুসরণ করে চলতে হবে। রসূল সা. বলেছেন: "আমি তোমাদের মধ্যে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি, এদুটোকে আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো বিপথগামী হবেনা। তার একটি আল্লাহর কিতাব (আল কুরআন) আর অপরটি তাঁর রসূলের সুন্নাহ।" (সূত্র: মুসনাদে আহমদ। বিদায় হজ্জের ভাষণের অংশ)
অনেক ভালো পীরের মাধ্যমে ইসলামের বেশ খেদমত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে তারা নামায রোযা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে পীর মুরিদী একটা ব্যবসা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।
৬২. যদিও পীরদের মাধ্যমে বহু শতাব্দী ধরে আমাদের দেশে দীনের আলো নিভু নিভু হলেও জ্বলে আসছে; কিন্তু একথা সুস্পষ্ট যে আমাদের সমাজে যতো শিরক ও বিদআত প্রচলিত হয়েছে তার অধিকাংশই পীর মুরিদীর মাধ্যমে প্রচলিত হয়েছে। পীর মুরিদী সম্পর্কে বলা হয়- পীর ধরা এবং মুরিদ হওয়া ফরয। আসলে পীর মুরিদী কি ইসলামে বৈধ?
পীর মুরিদীর সিলসিলা আল্লাহর রসূল চালু করেন নাই, সাহাবীগণও চালু করেন নাই। ইসলামের ইতিহাসে কোনো বড় আলেম উলামা পীরগীরি করেন নাই। জাহিল এবং অর্ধ আলেম লোকেরাই নিজেদের পীর দাবি করে, পীরের দিকে লোকদের আহবান করে এবং মুরিদ হয় ও মুরিদ বানায়। তারা পীর ধরা ফরয বলে প্রচার করে। তারা কুরআন মজিদের 'ওয়াবতাগু ইলাইহিল অসিলা'- এই আয়াতাংশকে পীর ধরার প্রমাণ হিসেবে পেশ করে। অথচ এই আয়াতাংশের সাথে পীর ধরার কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই। ইসলামের কোনো বিজ্ঞ আলেম এ আয়াতের এ রকম ব্যাখ্যা করেননি।
বর্তমানে মুসলিম সমাজে পীর মুরিদীর যে সিলসিলা চালু আছে তা সুস্পষ্টভাবে বিদ'আত। একথাও সত্য, পীর মুরিদীর নামে সমাজে শিরক এবং বিদআত চালু করা হচ্ছে এবং ধরে রাখা হচ্ছে।
মুসলিম সমাজকে শিরক ও বিদআত পরিহার করে কুরআন সুন্নাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। তাদেরকে কুরআন বুঝতে হবে এবং কুরআন সুন্নাহর অনুসরণ করে চলতে হবে।
রসূল সা. বলেছেন: "আমি তোমাদের মধ্যে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি, এদুটোকে আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো বিপথগামী হবেনা। তার একটি আল্লাহর কিতাব (আল কুরআন) আর অপরটি তাঁর রসূলের সুন্নাহ।" (সূত্র: মুসনাদে আহমদ। বিদায় হজ্জের ভাষণের অংশ)
অনেক ভালো পীরের মাধ্যমে ইসলামের বেশ খেদমত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে তারা নামায রোযা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে পীর মুরিদী একটা ব্যবসা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।
📄 ৬৩. পীরহীন পীর শয়তান
৬৩. কোনো ব্যক্তি পীর নামে খ্যাতি অর্জন করলে তার ছেলে শাহ কিংবা সাহেবজাদা উপাধি ধারণ করে এবং তার মৃত্যুর পর তার ছেলে বা বড় ছেলে গদ্দিনশীন পীর হয়ে বসে। - এভাবে গদ্দীনশীন হওয়া কি জায়েয?
পীরগিরি যদি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিংবা জমিদারি হয়ে থাকে, তবে পীরের ছেলের গদ্দিনশীন হবার একটা কারণ থাকে। কিন্তু ইসলাম এবং ইসলাম প্রচারের নামে ছেলে পিতার গদ্দিনশীন হবার বিধান ইসলামে নেই। এটা সুস্পষ্ট বিদআত। এ পন্থার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
৬৩. কোনো ব্যক্তি পীর নামে খ্যাতি অর্জন করলে তার ছেলে শাহ কিংবা সাহেবজাদা উপাধি ধারণ করে এবং তার মৃত্যুর পর তার ছেলে বা বড় ছেলে গদ্দিনশীন পীর হয়ে বসে।-এভাবে গদ্দীনশীন হওয়া কি জায়েয?
পীরগিরি যদি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিংবা জমিদারি হয়ে থাকে, তবে পীরের ছেলের গদ্দিনশীন হবার একটা কারণ থাকে। কিন্তু ইসলাম এবং ইসলাম প্রচারের নামে ছেলে পিতার গদ্দিনশীন হবার বিধান ইসলামে নেই। এটা সুস্পষ্ট বিদআত। এ পন্থার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।