📄 ৫৭. জনি আংটি ও মাজেজা আংটি ধারণ করা
৫৭. আজকাল ব্যাপকভাবে জন্ম বার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করার তোড়জোড় দেখা যায়। নিজের, সন্তানের, পীর বুযুর্গের, পিতা মাতার ও নেতাদের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়। -এটা বৈধ কি?
জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা ইসলামি রেওয়াজ নয়। আল্লাহর রসূল এটা করেননি। সাহাবীগণ রসূলের এবং তাদের নিজেদের জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেননি। এসব উপলক্ষে তাঁরা কোনো প্রকার অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করেননি।
সুতরাং জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা একটি বিদ'আত, এমনকি সে অনুষ্ঠানে যদি কুরআন তিলাওয়াত, ধর্মীয় আলোচনা এবং দোয়ার আয়োজনও করা হয়। তবে মৃত ব্যক্তিদের উত্তম গুণাবলী সব সময়ই আলোচনা হতে পারে এবং তাদের জন্যে সব সময়ই দোয়া করা যেতে পারে। বিদআত শুধু জন্ম মৃত্যুর তারিখে বা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা বা বার্ষিকী পালন করা।
৫৭. আজকাল ব্যাপকভাবে জন্ম বার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করার তোড়জোড় দেখা যায়। নিজের, সন্তানের, পীর বুযুর্গের, পিতা মাতার ও নেতাদের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়। -এটা বৈধ কি?
জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা ইসলামি রেওয়াজ নয়। আল্লাহ্র রসূল এটা করেননি। সাহাবীগণ রসূলের এবং তাদের নিজেদের জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেননি। এসব উপলক্ষে তাঁরা কোনো প্রকার অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করেননি।
সুতরাং জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা একটা বিদ'আত, এমনকি সে অনুষ্ঠানে যদি কুরআন তিলাওয়াত, ধর্মীয় আলোচনা এবং দোয়ার আয়োজনও করা হয়।
তবে মৃত ব্যক্তিদের উত্তম গুণাবলী সব সময়ই আলোচনা হতে পারে এবং তাদের জন্যে সব সময়ই দোয়া করা যেতে পারে। বিদআত শুধু জন্ম মৃত্যুর তারিখে বা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা বা বার্ষিকী পালন করা।
📄 ৫৮. ফোটা দিয়ে চেহারা করা
৫৮. গ্রামে গঞ্জে দেখা যায় নৈতিক অপরাধের জন্যে ফতোয়া দিয়ে কিংবা সালিশি করে ছেলে বা মেয়েদেরকে, বিশেষ করে মেয়েদেরকে দোররা মারা হয়। এটা কি বৈধ?
যিনা-ব্যভিচার বা অনৈতিক ও অশ্লীল কাজের জন্যে গ্রামে গঞ্জে বিচ্ছিন্ন ফতোয়া দিয়ে বা সালিশি করে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই। ইসলামি নিয়মানুযায়ী যে কোনো দন্ডযোগ্য অপরাধের জন্যে অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্ব হলো সরকারের। এর নিয়ম হলো, যে কোনো অপরাধের জন্যে-
১. সরকারি বা সরকার অনুমোদিত আদালতে অভিযোগ (মকদ্দমা) দায়ের করতে হবে।
২. ঘটনা প্রত্যক্ষকারী নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী থাকতে হবে।
৩. প্রশাসনের সহযোগিতায় আদালত কর্তৃক ঘটনা তদন্ত করতে হবে।
৪. অতপর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী আদালত কর্তৃক অভিযুক্তের শাস্তি হবে।
৫. উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে অভিযুক্ত অভিযোগ থেকে রেহাই পাবে।
এ নিয়মের বরখেলাফ করে অন্য কোনো ভাবে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই। তবে পিতা মাতা, অভিভাবক এবং শিক্ষক কর্তৃক সন্তান, অধীনস্ত এবং ছাত্রদেরকে শিক্ষা প্রদান ও সতর্ক করার জন্যে কোনো লঘু শাস্তি প্রদান (তাযীর) করা হলে তা বৈধ।
৫৮. গ্রামে গঞ্জে দেখা যায় নৈতিক অপরাধের জন্যে ফতোয়া দিয়ে কিংবা সালিশি করে ছেলে বা মেয়েদেরকে, বিশেষ করে মেয়েদেরকে দোররা মারা হয়। এটা কি বৈধ?
যিনা-ব্যভিচার বা অনৈতিক ও অশ্লীল কাজের জন্যে গ্রামে গঞ্জে বিচ্ছিন্ন ফতোয়া দিয়ে বা সালিশি করে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই।
ইসলামি নিয়মানুযায়ী যে কোনো দন্ডযোগ্য অপরাধের জন্যে অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্ব হলো সরকারের।
এর নিয়ম হলো, যে কোনো অপরাধের জন্যে-
১. সরকারি বা সরকার অনুমোদিত আদালতে অভিযোগ (মকদ্দমা) দায়ের করতে হবে।
২. ঘটনা প্রত্যক্ষকারী নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী থাকতে হবে।
৩. প্রশাসনের সহযোগিতায় আদালত কর্তৃক ঘটনা তদন্ত করতে হবে।
৪. অতপর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী আদালত কর্তৃক অভিযুক্তের শাস্তি হবে।
৫. উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে অভিযুক্ত অভিযোগ থেকে রেহাই পাবে। এ নিয়মের বরখেলাফ করে অন্য কোনো ভাবে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই।
তবে পিতা মাতা, অভিভাবক এবং শিক্ষক কর্তৃক সন্তান, অধীনস্ত এবং ছাত্রদেরকে শিক্ষা প্রদান ও সতর্ক করার জন্যে কোনো লঘু শাস্তি প্রদান (তাযীর) করা হলে তা বৈধ।
📄 ৫৯. গায়ে তাবিজ
৫৯. আমাদের দেশে বিশাল আয়োজনের সাথে শবে বরাত পালন করা হয়, এতে অনুষ্ঠানাদি করা হয়, ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিরাট তোড়জোড় দেখা যায়, ঐ রাত্রে কবরস্থানে যাওয়া হয়। বিশেষ ধরণের নামায পড়া হয়, রুটি বিলানো হয়। -এগুলোর কি কোনো ভিত্তি আছে?
শবে বরাত নামে কোনো অনুষ্ঠান বা ইবাদত অনুষ্ঠান ইসলামে নেই। কয়েকটি হাদিসে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্রের কিছু ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। এই হাদিস ক'টি সবই জয়ীফ।
রসূল সা. এই রাত্রের জন্যে কোনো বিশেষ ইবাদত বা নামায নির্ধারণ করেননি। এই নির্দিষ্ট দিনই গরিবদেরকে রুটি বিলাতে হবে, এমনটিও তিনি নির্ধারণ করেননি। সুতরাং ঐ রাত্রের জন্যে বিশেষভাবে নির্ধারণ করে কোনো বিশেষ ইবাদত, নামায, দান সদকা, অনুষ্ঠানাদি ইত্যাদি করা বিদ'আত।
৫৯. আমাদের দেশে বিশাল আয়োজনের সাথে শবে বরাত পালন করা হয়, এতে অনুষ্ঠানাদি করা হয়, ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিরাট তোড়জোড় দেখা যায়, ঐ রাত্রে কবরস্থানে যাওয়া হয়। বিশেষ ধরণের নামায পড়া হয়, রুটি বিলানো হয়। -এগুলোর কি কোনো ভিত্তি আছে?
শবে বরাত নামে কোনো অনুষ্ঠান বা ইবাদত অনুষ্ঠান ইসলামে নেই।
কয়েকটি হাদিসে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্রের কিছু ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। এই হাদিস ক'টি সবই জয়ীফ।
রসূল সা. এই রাত্রের জন্যে কোনো বিশেষ ইবাদত বা নামায নির্ধারণ করেননি। এই নির্দিষ্ট দিনই গরিবদেরকে রুটি বিলাতে হবে, এমনটিও তিনি নির্ধারণ করেননি।
সুতরাং ঐ রাত্রের জন্যে বিশেষভাবে নির্ধারণ করে কোনো বিশেষ ইবাদত, নামায, দান সদকা, অনুষ্ঠানাদি ইত্যাদি করা বিদ'আত।
📄 ৬০. মিসওয়াক
৬০. আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে মিলাদের প্রচলন আছে। জীবনে, মরণে, বিপদে মুসিবতে, আয়োজনে, উদ্বোধনে মিলাদ পড়ানো হয়। মিলাদ পড়া বা মিলাদ মাহফিল করা কি জায়েয?
আমাদের সমাজে যে মিলাদ প্রচলিত আছে, রসূল সা. এ মিলাদের প্রচলন করেননি। সাহাবায়ে কিরামও করেননি, তাবেয়ীগণও করেননি। অতীতের ইমাম মুজতাহিদরাও করেননি। জানা যায়, কোনো এক ফাসিক বাদশাহ কর্তৃক মিলাদের প্রচলন শুরু হয়।
এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কথা হলো, এমন কোনো কাজই ইসলামের ধর্মীয় কাজ নয়, যা আল্লাহর রসূল সা. চালু করেন নাই এবং সাহাবীগণও চালু করেন নাই। এ ধরণের কোনো কাজকে ইসলামের ধর্মীয় কাজ মনে করে, ইবাদতের কাজ মনে করে, সওয়াবের কাজ মনে করে, নেকীর কাজ মনে করে পালন করা সুস্পষ্ট বিদ'আত।
৬০. আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে মিলাদের প্রচলন আছে। জীবনে, মরণে, বিপদে মুসিবতে, আয়োজনে, উদ্বোধনে মিলাদ পড়ানো হয়। মিলাদ পড়া বা মিলাদ মাহফিল করা কি জায়েয?
আমাদের সমাজে যে মিলাদ প্রচলিত আছে, রসূল সা. এ মিলাদের প্রচলন করেননি। সাহাবায়ে কিরামও করেননি, তাবেয়ীগণও করেননি। অতীতের ইমাম মুজতাহিদরাও করেননি।
জানা যায়, কোনো এক ফাসিক বাদশাহ কর্তৃক মিলাদের প্রচলন শুরু হয়।
এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কথা হলো, এমন কোনো কাজই ইসলামের ধর্মীয় কাজ নয়, যা আল্লাহর রসূল সা. চালু করেন নাই এবং সাহাবীগণও চালু করেন নাই।
এ ধরণের কোনো কাজকে ইসলামের ধর্মীয় কাজ মনে করে, ইবাদতের কাজ মনে করে, সওয়াবের কাজ মনে করে, নেকীর কাজ মনে করে পালন করা সুস্পষ্ট বিদ'আত।