📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৪৭. কুরআন দিয়ে তাবিজ বানানো

📄 ৪৭. কুরআন দিয়ে তাবিজ বানানো


৪৭. অনেকে কুরআন লিখে তাবিজ বানায় এবং সে তাবিজ যেখানে সেখানে ব্যবহার করে। এটা কি জায়েয?

তাবিজ বানানোর জন্যে কুরআন নাযিল হয়নি। এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের খেলাফ। এ ধরনের কাজ তিনি করেননি। সাহাবীগণও করেননি। মুমিনদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

৪৭. অনেকে কুরআন লিখে তাবিজ বানায় এবং সে তাবিজ যেখানে সেখানে ব্যবহার করে। এটা কি জায়েয?

তাবিজ বানানোর জন্যে কুরআন নাযিল হয়নি। এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের খেলাফ। এ ধরনের কাজ তিনি করেননি। সাহাবীগণও করেননি। মুমিনদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৪৮. কুরআন শরিফের ওপর দিকে তাবিজ রাখা

📄 ৪৮. কুরআন শরিফের ওপর দিকে তাবিজ রাখা


৪৮. বাজার থেকে কুরআন শরিফ কিনে আনলে দেখা যায় অনেক কুরআন শরিফের শুরুতে তাবিজ লেখা আছে। এগুলো দেখে অনেক সাধারণ মানুষ মনে করে কুরআন শরিফ তাবিজ তুমারের কিতাব। অনেক ইমাম মুয়াজ্জিনও তাই মনে করে এবং তারা সেগুলো লিখে তাবিজ তুমার দেয়। - এসব কি বৈধ?

এগুলো বৈধ হবার প্রশ্নই উঠে না। যারা আল্লাহর কালামের শুরুতে তাবিজ লিখে ছাপিয়ে দিয়েছে, তারা জঘন্য পাপের কাজ করেছে। তাবিজতি করার উদ্দেশ্যেই অনেকে ঐ প্রকাশকদের কুরআন শরিফগুলো কিনে। বেশি ব্যবসার উদ্দেশ্যেই তারা কুরআন শরিফে তাবিজ ছাপে। এরা মূলত কুরআন দ্বারা ব্যবসা করে। কুরআনে এদের কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। (দ্রষ্টব্য: সূরা আল বাকারা: আয়াত ১৭৪-১৭৫)

৪৮. বাজার থেকে কুরআন শরিফ কিনে আনলে দেখা যায় অনেক কুরআন শরিফের শুরুতে তাবিজ লেখা আছে। এগুলো দেখে অনেক সাধারণ মানুষ মনে করে কুরআন শরিফ তাবিজ তুমারের কিতাব। অনেক ইমাম মুয়াজ্জিনও তাই মনে করে এবং তারা সেগুলো লিখে তাবিজ তুমার দেয়। - এসব কি বৈধ?

এগুলো বৈধ হবার প্রশ্নই উঠেনা।

যারা আল্লাহ্র কালামের শুরুতে তাবিজ লিখে ছাপিয়ে দিয়েছে, তারা জঘন্য পাপের কাজ করেছে।

তাবিজটি করার উদ্দেশ্যেই অনেকে ঐ প্রকাশকদের কুরআন শরিফগুলো কিনে। বেশি ব্যবসার উদ্দেশ্যেই তারা কুরআন শরিফে তাবিজ ছাপে।

এরা মূলত কুরআন দ্বারা ব্যবসা করে।

কুরআনে এদের কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। (দ্রষ্টব্য: সূরা আল বাকারা: আয়াত ১৭৪-১৭৫)

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৪৯. কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শের জন্য ওযু ও পবিত্রতা

📄 ৪৯. কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শের জন্য ওযু ও পবিত্রতা


৪৯. লোকেরা সাধারণত অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করে না এবং স্পর্শ করে না। -এটা কি সঠিক?

অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ পড়া এবং স্পর্শ করা যাবে না - একথার পক্ষে কুরআন হাদিসে কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই। মুমিনদের তো সব সময়ই কুরআন মজিদ ধরা এবং পড়ার প্রয়োজন হয়। কুরআন মজিদ তো মুমিনদের জীবন যাপনের ম্যানুয়েল এবং গাইডবুক। সুতরাং তারা এক মুহূর্তও কুরআন থেকে দূরে থাকতে পারে না। কিন্তু সর্বক্ষণ অযু ও পবিত্রতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন, জটিল ও অস্বাভাবিক।

আর কুরআন মজিদ ধরা পড়ার জন্যে অযু এবং পবিত্রতা যদি জরুরিই হতো তবে আল্লাহ অবশ্যই কুরআন মজিদে তা বলে দিতেন, যেমন নামাযের জন্যে অযু ও পবিত্রতার কথা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন (দ্রষ্টব্য সূরা আল মায়িদা আয়াত ৬)। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও তাঁর সুন্নতের মধ্যে কুরআন পাঠ এবং স্পর্শ করার জন্যে অযু ও পবিত্রতার বিধান স্পষ্টভাবে জারি করতেন, যেভাবে করেছেন নামাযের জন্যে।

ফকীহগণ এ প্রসঙ্গে নিজস্বভাবে যেসব মতামত দিয়েছেন, তাতে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে আল কুরআন তো মুসলিম অমুসলিম সকল মানুষের কিতাব। অমুসলিম ও মুশরিকরা কুরআন ধরা ও পড়ার জন্যে কিভাবে অযু করবে এবং পবিত্র হবে? কারণ অযু এবং পবিত্রতার বিধান তো শুধু মুমিনদের জন্যে, অমুসলিমদের জন্যে নয়? নাকি অমুসলিমদেরকে কুরআন থেকে দূরে রাখা হবে? এবং তাদেরকে কুরআন ধরতে এবং পড়তে নিষেধ করা হবে? অথচ মহান আল্লাহ আল কুরআন তাদের জন্যেও নাযিল করেছেন, শুধু মুসলিমদের জন্যে নয়।

৪৯. লোকেরা সাধারণত অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করে না এবং স্পর্শ করে না। -এটা, কি সঠিক?

অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ পড়া এবং স্পর্শ করা যাবে না- একথার পক্ষে কুরআন হাদিসে কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই।

মুমিনদের তো সব সময়ই কুরআন মজিদ ধরা এবং পড়ার প্রয়োজন হয়। কুরআন মজিদ তো মুমিনদের জীবন যাপনের ম্যানুয়েল এবং গাইডবুক। সুতরাং তারা এক মুহূর্তও কুরআন থেকে দূরে থাকতে পারে না। কিন্তু সর্বক্ষণ অযু ও পবিত্রতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন, জটিল ও অস্বাভাবিক。

আর কুরআন মজিদ ধরা পড়ার জন্যে অযু এবং পবিত্রতা যদি জরুরিই হতো তবে আল্লাহ অবশ্যি কুরআন মজিদে তা বলে দিতেন, যেমন নামাযের জন্যে অযু ও পবিত্রতার কথা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন (দ্রষ্টব্য সূরা আল মায়িদা আয়াত ৬)। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও তাঁর সুন্নতের মধ্যে কুরআন পাঠ এবং স্পর্শ করার জন্যে অযু ও পবিত্রতার বিধান স্পষ্টভাবে জারি করতেন, যেভাবে করেছেন নামাযের জন্যে।

ফকীহগণ এ প্রসঙ্গে নিজস্বভাবে যেসব মতামত দিয়েছেন, তাতে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড মতভেদ লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে আল কুরআন তো মুসলিম অমুসলিম সকল মানুষের কিতাব।

অমুসলিম ও মুশরিকরা কুরআন ধরা ও পড়ার জন্যে কিভাবে অযু করবে এবং পবিত্র হবে? কারণ অযু এবং পবিত্রতার বিধান তো শুধু মুমিনদের জন্যে, অমুসলিমদের জন্যে নয়?

নাকি অমুসলিমদেরকে কুরআন থেকে দূরে রাখা হবে? এবং তাদেরকে কুরআন ধরতে এবং পড়তে নিষেধ করা হবে?

অথচ মহান আল্লাহ আল কুরআন তাদের জন্যেও নাযিল করেছেন, শুধু মুসলিমদের জন্যে নয়।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৫০. মৃত ব্যক্তির শিয়রে বসে কুরআন তেলাওয়াত করা

📄 ৫০. মৃত ব্যক্তির শিয়রে বসে কুরআন তেলাওয়াত করা


৫০. দেখা যায়, কেউ মারা গেলে তার কবরের পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় বা করানো হয়। এতে কি মৃত ব্যক্তির কোনো ফায়দা হয়?

কবরের পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াত করার প্রচলন আল্লাহর রসূলও চালু করেন নাই। সাহাবীগণও একাজ করেন নাই। এ কাজ সুন্নতের খেলাফ। জীবিতদের কুরআন তিলাওয়াত দ্বারা মৃতদের কোনো ফায়দা হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দুনিয়ার সাথে মৃত ব্যক্তির সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।

তবে কেউ কোনো ভালো কাজ করে মৃত ব্যক্তির আমল নামায় সেটার নেকী পৌঁছানোর জন্যে যদি আল্লাহর কাছে দোয়া করে, সে রকম দোয়া করা জায়েয আছে বলে আলেমগণ মত দিয়েছেন। কিন্তু তাতে মৃত ব্যক্তির ফায়দা হবে কি না তা আল্লাহই ভালো জানেন।

৫০. দেখা যায়, কেউ মারা গেলে তার কবরের পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় বা করানো হয়। এতে কি মৃত ব্যক্তির কোনো ফায়দা হয়?

কবরের পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াত করার প্রচলন আল্লাহর রসূলও চালু করেন নাই। সাহাবীগণও একাজ করেন নাই। এ কাজ সুন্নতের খেলাফ।

জীবিতদের কুরআন তিলাওয়াত দ্বারা মৃতদের কোনো ফায়দা হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দুনিয়ার সাথে মৃত ব্যক্তির সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।

তবে কেউ কোনো ভালো কাজ করে মৃত ব্যক্তির আমলনামায় সেটার নেকী পৌঁছানোর জন্যে যদি আল্লাহর কাছে দোয়া করে, সে রকম দোয়া করা জায়েয আছে বলে আলেমগণ মত দিয়েছেন। কিন্তু তাতে মৃত ব্যক্তির ফায়দা হবে কিনা তা আল্লাহই ভালো জানেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px