📄 ৪৬. কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়তে নিষেধ করা
৪৬. একদল লোক কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়তে নিষেধ করে। তারা বলে, কুরআন বুঝা সাধারণ লোকদের কাজ নয়, (বড় বড় আলেম উলামার কাজ)। তারা আরো বলে, সাধারণ লোকেরা কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়লে বিভ্রান্ত হবে। -এসব কথা কি ঠিক?
এসব কথা সরাসরি কুরআনের বিরুদ্ধে এবং রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের বিরুদ্ধে। এসব কথা যদি কেউ বলে থাকে এবং যারাই বলে, অবশ্যই তারা বিভ্রান্তিতে আছে এবং শয়তানের ধোকায় পড়ে আছে।
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبِ أَقْفَالُهَا
অর্থ: তারা কি কুরআন অনুধাবনের চেষ্টা করে না? নাকি তাদের দিলসমূহ তালাবদ্ধ? (সূরা মুহাম্মদ: ২৪)
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
অর্থ: আমরা কুরআনকে বুঝার ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। কেউ কি আছে উপদেশ গ্রহণকারী? (সূরা ৫৪ আল কামার: আয়াত ৪০)
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআনের ইলম অর্জন করে এবং মানুষকে কুরআনের ইলম শিক্ষা দেয়।" (মিশকাত)
৪৬. একদল লোক কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়তে নিষেধ করে। তারা বলে, কুরআন বুঝা সাধারণ লোকদের কাজ নয়, (বড় বড় আলেম উলামার কাজ)। তারা আরো বলে, সাধারণ লোকেরা কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়লে বিভ্রান্ত হবে। -এসব কথা কি ঠিক?
এসব কথা সরাসরি কুরআনের বিরুদ্ধে এবং রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের বিরুদ্ধে। এসব কথা যদি কেউ বলে থাকে এবং যারাই বলে, অবশ্যি তারা বিভ্রান্তিতে আছে এবং শয়তানের ধোকায় পড়ে আছে।
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبِ أَقْفَالُهَا
অর্থ: তারা কি কুরআন অনুধাবনের চেষ্টা করে না? নাকি তাদের দিলসমূহ তালাবদ্ধ? (সূরা মুহাম্মদ: ২৪)
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
অর্থ: আমরা কুরআনকে বুঝার ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। কেউ কি আছে উপদেশ গ্রহণকারী? (সূরা ৫৪ আল কামার: আয়াত ৪০)
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআনের ইলম অর্জন করে এবং মানুষকে কুরআনের ইলম শিক্ষা দেয়।" (মিশকাত)
📄 ৪৭. কুরআন দিয়ে তাবিজ বানানো
৪৭. অনেকে কুরআন লিখে তাবিজ বানায় এবং সে তাবিজ যেখানে সেখানে ব্যবহার করে। এটা কি জায়েয?
তাবিজ বানানোর জন্যে কুরআন নাযিল হয়নি। এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের খেলাফ। এ ধরনের কাজ তিনি করেননি। সাহাবীগণও করেননি। মুমিনদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।
৪৭. অনেকে কুরআন লিখে তাবিজ বানায় এবং সে তাবিজ যেখানে সেখানে ব্যবহার করে। এটা কি জায়েয?
তাবিজ বানানোর জন্যে কুরআন নাযিল হয়নি। এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের খেলাফ। এ ধরনের কাজ তিনি করেননি। সাহাবীগণও করেননি। মুমিনদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।
📄 ৪৮. কুরআন শরিফের ওপর দিকে তাবিজ রাখা
৪৮. বাজার থেকে কুরআন শরিফ কিনে আনলে দেখা যায় অনেক কুরআন শরিফের শুরুতে তাবিজ লেখা আছে। এগুলো দেখে অনেক সাধারণ মানুষ মনে করে কুরআন শরিফ তাবিজ তুমারের কিতাব। অনেক ইমাম মুয়াজ্জিনও তাই মনে করে এবং তারা সেগুলো লিখে তাবিজ তুমার দেয়। - এসব কি বৈধ?
এগুলো বৈধ হবার প্রশ্নই উঠে না। যারা আল্লাহর কালামের শুরুতে তাবিজ লিখে ছাপিয়ে দিয়েছে, তারা জঘন্য পাপের কাজ করেছে। তাবিজতি করার উদ্দেশ্যেই অনেকে ঐ প্রকাশকদের কুরআন শরিফগুলো কিনে। বেশি ব্যবসার উদ্দেশ্যেই তারা কুরআন শরিফে তাবিজ ছাপে। এরা মূলত কুরআন দ্বারা ব্যবসা করে। কুরআনে এদের কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। (দ্রষ্টব্য: সূরা আল বাকারা: আয়াত ১৭৪-১৭৫)
৪৮. বাজার থেকে কুরআন শরিফ কিনে আনলে দেখা যায় অনেক কুরআন শরিফের শুরুতে তাবিজ লেখা আছে। এগুলো দেখে অনেক সাধারণ মানুষ মনে করে কুরআন শরিফ তাবিজ তুমারের কিতাব। অনেক ইমাম মুয়াজ্জিনও তাই মনে করে এবং তারা সেগুলো লিখে তাবিজ তুমার দেয়। - এসব কি বৈধ?
এগুলো বৈধ হবার প্রশ্নই উঠেনা।
যারা আল্লাহ্র কালামের শুরুতে তাবিজ লিখে ছাপিয়ে দিয়েছে, তারা জঘন্য পাপের কাজ করেছে।
তাবিজটি করার উদ্দেশ্যেই অনেকে ঐ প্রকাশকদের কুরআন শরিফগুলো কিনে। বেশি ব্যবসার উদ্দেশ্যেই তারা কুরআন শরিফে তাবিজ ছাপে।
এরা মূলত কুরআন দ্বারা ব্যবসা করে।
কুরআনে এদের কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। (দ্রষ্টব্য: সূরা আল বাকারা: আয়াত ১৭৪-১৭৫)
📄 ৪৯. কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শের জন্য ওযু ও পবিত্রতা
৪৯. লোকেরা সাধারণত অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করে না এবং স্পর্শ করে না। -এটা কি সঠিক?
অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ পড়া এবং স্পর্শ করা যাবে না - একথার পক্ষে কুরআন হাদিসে কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই। মুমিনদের তো সব সময়ই কুরআন মজিদ ধরা এবং পড়ার প্রয়োজন হয়। কুরআন মজিদ তো মুমিনদের জীবন যাপনের ম্যানুয়েল এবং গাইডবুক। সুতরাং তারা এক মুহূর্তও কুরআন থেকে দূরে থাকতে পারে না। কিন্তু সর্বক্ষণ অযু ও পবিত্রতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন, জটিল ও অস্বাভাবিক।
আর কুরআন মজিদ ধরা পড়ার জন্যে অযু এবং পবিত্রতা যদি জরুরিই হতো তবে আল্লাহ অবশ্যই কুরআন মজিদে তা বলে দিতেন, যেমন নামাযের জন্যে অযু ও পবিত্রতার কথা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন (দ্রষ্টব্য সূরা আল মায়িদা আয়াত ৬)। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও তাঁর সুন্নতের মধ্যে কুরআন পাঠ এবং স্পর্শ করার জন্যে অযু ও পবিত্রতার বিধান স্পষ্টভাবে জারি করতেন, যেভাবে করেছেন নামাযের জন্যে।
ফকীহগণ এ প্রসঙ্গে নিজস্বভাবে যেসব মতামত দিয়েছেন, তাতে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে আল কুরআন তো মুসলিম অমুসলিম সকল মানুষের কিতাব। অমুসলিম ও মুশরিকরা কুরআন ধরা ও পড়ার জন্যে কিভাবে অযু করবে এবং পবিত্র হবে? কারণ অযু এবং পবিত্রতার বিধান তো শুধু মুমিনদের জন্যে, অমুসলিমদের জন্যে নয়? নাকি অমুসলিমদেরকে কুরআন থেকে দূরে রাখা হবে? এবং তাদেরকে কুরআন ধরতে এবং পড়তে নিষেধ করা হবে? অথচ মহান আল্লাহ আল কুরআন তাদের জন্যেও নাযিল করেছেন, শুধু মুসলিমদের জন্যে নয়।
৪৯. লোকেরা সাধারণত অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করে না এবং স্পর্শ করে না। -এটা, কি সঠিক?
অযু ও পবিত্রতা ছাড়া কুরআন মজিদ পড়া এবং স্পর্শ করা যাবে না- একথার পক্ষে কুরআন হাদিসে কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই।
মুমিনদের তো সব সময়ই কুরআন মজিদ ধরা এবং পড়ার প্রয়োজন হয়। কুরআন মজিদ তো মুমিনদের জীবন যাপনের ম্যানুয়েল এবং গাইডবুক। সুতরাং তারা এক মুহূর্তও কুরআন থেকে দূরে থাকতে পারে না। কিন্তু সর্বক্ষণ অযু ও পবিত্রতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন, জটিল ও অস্বাভাবিক。
আর কুরআন মজিদ ধরা পড়ার জন্যে অযু এবং পবিত্রতা যদি জরুরিই হতো তবে আল্লাহ অবশ্যি কুরআন মজিদে তা বলে দিতেন, যেমন নামাযের জন্যে অযু ও পবিত্রতার কথা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন (দ্রষ্টব্য সূরা আল মায়িদা আয়াত ৬)। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও তাঁর সুন্নতের মধ্যে কুরআন পাঠ এবং স্পর্শ করার জন্যে অযু ও পবিত্রতার বিধান স্পষ্টভাবে জারি করতেন, যেভাবে করেছেন নামাযের জন্যে।
ফকীহগণ এ প্রসঙ্গে নিজস্বভাবে যেসব মতামত দিয়েছেন, তাতে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড মতভেদ লক্ষ্য করা যায়।
অন্যদিকে আল কুরআন তো মুসলিম অমুসলিম সকল মানুষের কিতাব।
অমুসলিম ও মুশরিকরা কুরআন ধরা ও পড়ার জন্যে কিভাবে অযু করবে এবং পবিত্র হবে? কারণ অযু এবং পবিত্রতার বিধান তো শুধু মুমিনদের জন্যে, অমুসলিমদের জন্যে নয়?
নাকি অমুসলিমদেরকে কুরআন থেকে দূরে রাখা হবে? এবং তাদেরকে কুরআন ধরতে এবং পড়তে নিষেধ করা হবে?
অথচ মহান আল্লাহ আল কুরআন তাদের জন্যেও নাযিল করেছেন, শুধু মুসলিমদের জন্যে নয়।