📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৪৪. না বুঝে কুরআন পড়া, শবিনা পড়া

📄 ৪৪. না বুঝে কুরআন পড়া, শবিনা পড়া


৪৪. আমাদের দেশের সাধারণ মুসলমানগণ না বুঝেই কুরআন তিলাওয়াত করেন। অনেকেই প্রতিদিন কিছু অংশ তিলাওয়াত করেন, খতম করেন, এবং জীবনে বহুবার খতম করেন। অধিকাংশ হাফেযই না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করেন, খতম করেন, শবিনা পড়েন। না বুঝে কুরআন পড়ার মধ্যে কি কোনো সওয়াব আছে?

এক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য কী? কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বয়ং কুরআনই বলেছে:
১. মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনা। (আল কুরআন ১৪:১)
২. মানব জাতিকে জীবন যাপনের সঠিক পথ প্রদর্শন। (আল কুরআন ২:১৮৫)

এই উদ্দেশ্যের দাবি হলো: ১. কুরআন বুঝা এবং ২. কুরআনের অনুসরণ করা। কুরআন মজিদের সাথে মুমিনের যতো সওয়াব ও নেকি জড়িত সবই এই দুটির সাথে জড়িত। অর্থাৎ বুঝার সাথে এবং অনুসরণ করার সাথে।

যিনি না বুঝে কুরআন পাঠ করেন, তার উপমা হলো ঐ ব্যক্তির মতো, যিনি শুনেছেন রসূলুল্লাহ সা. আতর ভালোবাসতেন। তাই তিনি প্রতিদিন কিছু সময় আতরের দোকানে গিয়ে বসে আসেন। কিন্তু তিনি আতর কিনে ব্যবহার করেন না। ফলে তিনি প্রতিদিন কিছু সময় নিজে আতরের ঘ্রাণ পান। কিন্তু তার থেকে কেউ আতরের ঘ্রাণ পায় না। তিনি নিজেও সব সময় আতরের ঘ্রাণ পান না।

পক্ষান্তরে যিনি কুরআন বুঝেন এবং কুরআনের জ্ঞানার্জন করেন, তার চিন্তা, ধ্যান ধারণা এবং চরিত্র ও কর্মে সব সময় সেই জ্ঞান প্রস্ফুটিত ও বিকশিত থাকে। ফলে সর্বক্ষণ তিনি নিজেও সুরভিত থাকেন এবং অন্যেরাও তার সুবাসে সুবাসিত হন।

আমাদের দেশে যেসব নিরক্ষর বা স্বল্প শিক্ষিত নারী পুরুষ কুরআন তিলাওয়াত করতে শিখেন এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করেন, কুরআনের প্রতি তাদের আগ্রহ, কুরআনকে ভালবাসা এবং তিলাওয়াত করার কারণে তারা অবশ্যই সওয়াব পাবেন। কিন্তু যেসব মুসলিম সময় শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে শিক্ষিত হয়েছেন, বিভিন্ন ভাষা ও বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেছেন, জ্ঞান ও মেধা খাটিয়ে চাকরি কিংবা ব্যবসা করছেন, বেবুঝ কুরআন তিলাওয়াতের জন্য তাদের কিছু সওয়াব হলেও কুরআন বুঝার চেষ্টা না করার জন্যে, এবং এর জন্যে সময় শ্রম অর্থ ও মেধা নিয়োজিত না করার জন্যে তারা পাকড়াও থেকে রেহাই পাবেন কি?

৪৪. আমাদের দেশের সাধারণ মুসলমানগণ না বুঝেই কুরআন তিলাওয়াত করেন। অনেকেই প্রতিদিন কিছু অংশ তিলাওয়াত করেন, খতম করেন, এবং জীবনে বহুবার খতম করেন। অধিকাংশ হাফেযই না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করেন, খতম করেন, শবিনা পড়েন। না বুঝে কুরআন পড়ার মধ্যে কি কোনো সোয়াব আছে? এক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য কী? কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বয়ং কুরআনই বলেছে: ১. মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনা। (আল কুরআন ১৪:১) ২. মানব জাতিকে জীবন যাপনের সঠিক পথ প্রদর্শন। (আল কুরআন ২:১৮৫) এই উদ্দেশ্যের দাবি হলো: ১. কুরআন বুঝা এবং ২. কুরআনের অনুসরণ করা。

কুরআন মজিদের সাথে মুমিনের যতো সোয়াব ও নেকি জড়িত সবই এই দুটির সাথে জড়িত। অর্থাৎ বুঝার সাথে এবং অনুসরণ করার সাথে।

যিনি না বুঝে কুরআন পাঠ করেন, তার উপমা হলো ঐ ব্যক্তির মতো, যিনি শুনেছেন রসূলুল্লাহ সা. আতর ভালোবাসতেন। তাই তিনি প্রতিদিন কিছু সময় আতরের দোকানে গিয়ে বসে আসেন। কিন্তু তিনি আতর কিনে ব্যবহার করেন না। ফলে তিনি প্রতিদিন কিছু সময় নিজে আতরের ঘ্রাণ পান। কিন্তু তার থেকে কেউ আতরের ঘ্রাণ পায় না। তিনি নিজেও সব সময় আতরের ঘ্রাণ পান না।

পক্ষান্তরে যিনি কুরআন বুঝেন এবং কুরআনের জ্ঞানার্জন করেন, তার চিন্তা, ধ্যান ধারণা এবং চরিত্র ও কর্মে সব সময় সেই জ্ঞান প্রস্ফুটিত ও বিকশিত থাকে। ফলে সর্বক্ষণ তিনি নিজেও সুরভিত থাকেন এবং অন্যেরাও তার সুবাসে সুবাসিত হন।

আমাদের দেশে যেসব নিরক্ষর বা স্বল্প শিক্ষিত নারী পুরুষ কুরআন তিলাওয়াত করতে শিখেন এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করেন, কুরআনের প্রতি তাদের আগ্রহ, কুরআনকে ভালবাসা এবং তিলাওয়াত করার কারণে তারা অবশ্যি সওয়াব পাবেন।

কিন্তু যেসব মুসলিম সময় শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে শিক্ষিত হয়েছেন, বিভিন্ন ভাষা ও বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেছেন, জ্ঞান ও মেধা খাটিয়ে চাকরি কিংবা ব্যবসা করছেন, বেবুঝ কুরআন তিলাওয়াতের জন্য তাদের কিছু সোয়াব হলেও কুরআন বুঝার চেষ্টা না করার জন্যে, এবং এর জন্যে সময় শ্রম অর্থ ও মেধা নিয়োজিত না করার জন্যে তারা পাকড়াও থেকে রেহাই পাবেন কি?

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৪৫. আল কুরআন : সওয়াব হাসিল ও সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি

📄 ৪৫. আল কুরআন : সওয়াব হাসিল ও সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি


৪৫. সাধারণত লোকেরা সওয়াব হাসিল এবং কুরআনের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করে, সম্মানের সাথে চুমু খেয়ে মাথার উপর তাকে উঠিয়ে রাখে। এটা কি কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও কুরআন থেকে সওয়াব হাসিলের সঠিক পদ্ধতি? তা না হলে সঠিক পদ্ধতি কী?

এগুলো কুরআন থেকে সওয়াব হাসিল এবং কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সঠিক পদ্ধতি নয়। কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কুরআন থেকে সওয়াব হাসিলের সঠিক পদ্ধতি হলো:
১. কুরআন মজিদ পাঠ করতে শিখা এবং নিয়মিত পাঠ করা।
২. কুরআন জানা এবং বুঝা।
৩. কুরআন মানা এবং অনুসরণ করা।
৪. যারা কুরআন জানে না তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দান করা।
৫. মানুষকে কুরআনের দিকে আহ্বান জানানো।
৬. পরিবার, সমাজ, ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান প্রবর্তনের প্রচেষ্টা চালানো।

৪৫. সাধারণত লোকেরা সওয়াব হাসিল এবং কুরআনের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করে, সম্মানের সাথে চুমু খেয়ে মাথার উপর তাকে উঠিয়ে রাখে। এটা কি কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও কুরআন থেকে সওয়াব হাসিলের সঠিক পদ্ধতি? তা না হলে সঠিক পদ্ধতি কী?

এগুলো কুরআন থেকে সওয়াব হাসিল এবং কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সঠিক পদ্ধতি নয়।

কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কুরআন থেকে সওয়াব হাসিলের সঠিক পদ্ধতি হলো: ১. কুরআন মজিদ পাঠ করতে শিখা এবং নিয়মিত পাঠ করা। ২. কুরআন জানা এবং বুঝা। ৩. কুরআন মানা এবং অনুসরণ করা। ৪. যারা কুরআন জানে না তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দান করা। ৫. মানুষকে কুরআনের দিকে আহ্বান জানানো। ৬. পরিবার, সমাজ, ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে কুরআনের বিধান প্রবর্তনের প্রচেষ্টা চালানো।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৪৬. কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়তে নিষেধ করা

📄 ৪৬. কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়তে নিষেধ করা


৪৬. একদল লোক কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়তে নিষেধ করে। তারা বলে, কুরআন বুঝা সাধারণ লোকদের কাজ নয়, (বড় বড় আলেম উলামার কাজ)। তারা আরো বলে, সাধারণ লোকেরা কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়লে বিভ্রান্ত হবে। -এসব কথা কি ঠিক?

এসব কথা সরাসরি কুরআনের বিরুদ্ধে এবং রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের বিরুদ্ধে। এসব কথা যদি কেউ বলে থাকে এবং যারাই বলে, অবশ্যই তারা বিভ্রান্তিতে আছে এবং শয়তানের ধোকায় পড়ে আছে।

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبِ أَقْفَالُهَا

অর্থ: তারা কি কুরআন অনুধাবনের চেষ্টা করে না? নাকি তাদের দিলসমূহ তালাবদ্ধ? (সূরা মুহাম্মদ: ২৪)

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ

অর্থ: আমরা কুরআনকে বুঝার ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। কেউ কি আছে উপদেশ গ্রহণকারী? (সূরা ৫৪ আল কামার: আয়াত ৪০)

রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআনের ইলম অর্জন করে এবং মানুষকে কুরআনের ইলম শিক্ষা দেয়।" (মিশকাত)

৪৬. একদল লোক কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়তে নিষেধ করে। তারা বলে, কুরআন বুঝা সাধারণ লোকদের কাজ নয়, (বড় বড় আলেম উলামার কাজ)। তারা আরো বলে, সাধারণ লোকেরা কুরআনের অর্থ ও তফসির পড়লে বিভ্রান্ত হবে। -এসব কথা কি ঠিক?

এসব কথা সরাসরি কুরআনের বিরুদ্ধে এবং রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের বিরুদ্ধে। এসব কথা যদি কেউ বলে থাকে এবং যারাই বলে, অবশ্যি তারা বিভ্রান্তিতে আছে এবং শয়তানের ধোকায় পড়ে আছে।

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبِ أَقْفَالُهَا
অর্থ: তারা কি কুরআন অনুধাবনের চেষ্টা করে না? নাকি তাদের দিলসমূহ তালাবদ্ধ? (সূরা মুহাম্মদ: ২৪)

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
অর্থ: আমরা কুরআনকে বুঝার ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। কেউ কি আছে উপদেশ গ্রহণকারী? (সূরা ৫৪ আল কামার: আয়াত ৪০)

রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআনের ইলম অর্জন করে এবং মানুষকে কুরআনের ইলম শিক্ষা দেয়।" (মিশকাত)

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৪৭. কুরআন দিয়ে তাবিজ বানানো

📄 ৪৭. কুরআন দিয়ে তাবিজ বানানো


৪৭. অনেকে কুরআন লিখে তাবিজ বানায় এবং সে তাবিজ যেখানে সেখানে ব্যবহার করে। এটা কি জায়েয?

তাবিজ বানানোর জন্যে কুরআন নাযিল হয়নি। এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের খেলাফ। এ ধরনের কাজ তিনি করেননি। সাহাবীগণও করেননি। মুমিনদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

৪৭. অনেকে কুরআন লিখে তাবিজ বানায় এবং সে তাবিজ যেখানে সেখানে ব্যবহার করে। এটা কি জায়েয?

তাবিজ বানানোর জন্যে কুরআন নাযিল হয়নি। এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতের খেলাফ। এ ধরনের কাজ তিনি করেননি। সাহাবীগণও করেননি। মুমিনদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px