📄 ২৮. রূহানি ফয়েয
২৮. রূহানি ফয়েয কি?
সাধারণত রূহানি ফয়েয লাভের উদ্দেশ্যে মৃত পীর বুযুর্গদের কবর যিয়ারত করা হয় এবং তাদেরকে ধ্যান করা হয়। ফয়েয আরবি শব্দ। এর অর্থ: দয়া, দান, সমৃদ্ধি। রূহানি ফয়েয মানে - আত্মিক দয়া, দান ও সমৃদ্ধি। যারা মৃত পীর বুযুর্গদের কবর থেকে, কিংবা তাদেরকে ধ্যানের মাধ্যমে তাদের থেকে রূহানি ফয়েয লাভ করার চেষ্টা করে, তারা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত। এ ধরনের ফয়েয হাসিলের কোনো ভিত্তি নেই। আল্লাহর রসূল সা. এবং সাহাবীগণ এ ধরনের ফয়েয হাসিল করার কোনো পথের সন্ধান দিয়ে যাননি। এটা বিদআত এবং শিরক।
📄 ২৯. নবীর কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া
২৯. রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া কি জায়েয। অনেক হাজীই রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনায় যান।
রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া নিষেধ। এ সম্পর্কে যতো কথাই বলা হয়, সবই ভ্রান্ত মনগড়া কথা। হজ্জ করতে গেলে মদিনা যাওয়া জরুরি নয়। মদিনায় যাওয়া হজ্জের অংশ নয়। তবে যারা মদিনায় যান, তাদের উচিত মসজিদে নববীতে সালাত আদায়ের নিয়্যতে মদিনায় যাওয়া, অন্য কোনো নিয়্যতে নয়। নবীর কবর যিয়ারত, কবরে সালাম দেয়া, ফয়েয নেয়া, নবীর কাছে কিছু চাওয়া ইত্যাদি উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ।
📄 ৩০. কিছু লোকের কাছে গায়েবি ইল্ম থাকার প্রচার
৩০. কিছু কিছু লোকের কাছে গায়েবি ইলম আছে বলে প্রচার করা হয়। এটা কি সত্য?
এ কথা আবারো আমরা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, কুরআন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউই গায়েব জানে না:
قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ .
অর্থ: হে নবী! বলো: মহাকাশ এবং এই পৃথিবীতে যারা আছে কেউই গায়েব জানে না আল্লাহ ছাড়া। এমনকি কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেটাও তারা জানে না। (সূরা ২৭ আন নামল: আয়াত ৬৫)
📄 ৩১. ঈসা আ. কি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন?
৩১. ঈসা আ. যেহেতু নবী, সে জন্যে তাঁর ব্যাপারে আমাদের সঠিক আকিদা পোষণ করতে হবে। খৃস্টানরা যে তাকে আল্লাহর পুত্র বলে, সে কথা যে ডাহা মিথ্যা তা তো আমাদের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি কি সত্য?
ঈসা আ.-এর ক্রুশবিদ্ধ হবার বিষয়টি ডাহা মিথ্যা, যেমন তাঁর আল্লাহর পুত্র হবার বিষয়টি ডাহা মিথ্যা। খৃষ্টানদের যে গোষ্ঠীটি ঈসা আ. ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে প্রচার করে তারা নেহায়েতই অনুমানের ভিত্তিতে একথা প্রচার করে। ঈসা আলাইহিস সালামই যে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন একথা নিশ্চিত করে তারাও বলতে পারে না। এ সন্দেহের সুস্পষ্ট সমাধান দিয়েছে আল কুরআন। কুরআন বলে দিয়েছে:
وَبِكُفْرِهِمْ وَقَوْلِهِمْ عَلَى مَرْيَمَ بُهْتَانًا عَظِيمًا ، وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ ولكن شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتَّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينَا . بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا .
অর্থ: এবং তারা অভিশপ্ত হয়েছে তাদের কুফুরির কারণে মরিয়মের বিরুদ্ধে জঘন্য অপবাদ রটিয়ে, আর "আমরা আল্লাহ্র রসূল মরিয়ম পুত্র ঈসাকে হত্যা করেছি" একথা রটানোর কারণে। অথচ তারা তাকে হত্যাও করে নাই, ক্রুশবিদ্ধও করে নাই, কিন্তু তাদের এ রকম বিভ্রম হয়েছিল। যারা তার (ঈসার) সম্পর্কে মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল, তারা অবশ্যই (তাকে হত্যার ব্যাপারে) সংশয়ে ছিলো। অনুমানের পিছে ছুটা ছাড়া এ বিষয়ে তাদের কোনো অবগতিই ছিলো না। এটা নিশ্চিত যে, তারা তাকে হত্যা করে নাই। বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ কর্ম সম্পাদনে পরাক্রমশালী মহাকৌশলী। (সূরা ৪ নিসা: আয়াত ১৫৬-১৫৮)