📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা

📄 ২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা


২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি বৈধ?

কবর যিয়ারতের অনুমতি ইসলামি শরিয়তে আছে। রসূল সা. মুমিনদেরকে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করার উদ্দেশ্যে কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। তবে কোনো নবী, অলি, বুযুর্গ ব্যক্তির কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ নয়। রসূল সা. বলেছেন:

لا تَشُدُّوا الرِّحَالَ إِلَّا إِلَى ثَلَثَةِ مَسَاجِدَ ، مَسْجِدُ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى (بُخَارِي وَ مُسْلِم)

অর্থ: (সওয়াব, নেকী, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে) তোমরা সফর করো না; তবে শুধুমাত্র তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে। সেগুলো হলো: ১. মসজিদুল হারাম, ২. আমার মসজিদ এবং ৩. মসজিদুল আকসা। (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২৮. রূহানি ফয়েয

📄 ২৮. রূহানি ফয়েয


২৮. রূহানি ফয়েয কি?

সাধারণত রূহানি ফয়েয লাভের উদ্দেশ্যে মৃত পীর বুযুর্গদের কবর যিয়ারত করা হয় এবং তাদেরকে ধ্যান করা হয়। ফয়েয আরবি শব্দ। এর অর্থ: দয়া, দান, সমৃদ্ধি। রূহানি ফয়েয মানে - আত্মিক দয়া, দান ও সমৃদ্ধি। যারা মৃত পীর বুযুর্গদের কবর থেকে, কিংবা তাদেরকে ধ্যানের মাধ্যমে তাদের থেকে রূহানি ফয়েয লাভ করার চেষ্টা করে, তারা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত। এ ধরনের ফয়েয হাসিলের কোনো ভিত্তি নেই। আল্লাহর রসূল সা. এবং সাহাবীগণ এ ধরনের ফয়েয হাসিল করার কোনো পথের সন্ধান দিয়ে যাননি। এটা বিদআত এবং শিরক।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২৯. নবীর কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া

📄 ২৯. নবীর কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া


২৯. রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া কি জায়েয। অনেক হাজীই রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনায় যান।

রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া নিষেধ। এ সম্পর্কে যতো কথাই বলা হয়, সবই ভ্রান্ত মনগড়া কথা। হজ্জ করতে গেলে মদিনা যাওয়া জরুরি নয়। মদিনায় যাওয়া হজ্জের অংশ নয়। তবে যারা মদিনায় যান, তাদের উচিত মসজিদে নববীতে সালাত আদায়ের নিয়্যতে মদিনায় যাওয়া, অন্য কোনো নিয়্যতে নয়। নবীর কবর যিয়ারত, কবরে সালাম দেয়া, ফয়েয নেয়া, নবীর কাছে কিছু চাওয়া ইত্যাদি উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ৩০. কিছু লোকের কাছে গায়েবি ইল্ম থাকার প্রচার

📄 ৩০. কিছু লোকের কাছে গায়েবি ইল্ম থাকার প্রচার


৩০. কিছু কিছু লোকের কাছে গায়েবি ইলম আছে বলে প্রচার করা হয়। এটা কি সত্য?

এ কথা আবারো আমরা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, কুরআন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউই গায়েব জানে না:

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ .

অর্থ: হে নবী! বলো: মহাকাশ এবং এই পৃথিবীতে যারা আছে কেউই গায়েব জানে না আল্লাহ ছাড়া। এমনকি কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেটাও তারা জানে না। (সূরা ২৭ আন নামল: আয়াত ৬৫)

ফন্ট সাইজ
15px
17px