📄 ২৬. লেংগটা পীরের মাজেযা
২৬. আমাদের এলাকায় মাঝে মধ্যে এক লেংটা পীর আসে। তার পরনে এক দেড় ইঞ্চি পাশের একটি লেংটি থাকে মাত্র। তার মধ্যে নাকি বিরাট মাজেযা আছে। তার থেকে ফু ইত্যাদি নেয়ার জন্যে তার কাছে নারী পুরুষের ভীড় জমে যায়। সত্যি কি এ ধরণের লোকদের মধ্যে কোনো মাজেযা আছে?
তার মধ্যে মাজেযা যতোটুকু ছিলো, সবটা তো সে প্রকাশই করে দিয়েছে। আর লেংটির ভেতর কি আছে তাতো সবাই জানে। এই লেংটি আর লেংটির ভেতর যা আছে তার বাইরে কোনো মাজেযা তার কাছে নেই। ঐ লোকটা একটা নিকৃষ্ট লম্পট ছাড়া আর কিছুই নয়। সে মুসলিম তো নয়ই, সে মানুষের সংজ্ঞায়ও পড়ে না। সে পশুর চাইতেও অধম। এরা সমাজে বের হলে এদের পেটানো উচিত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এদের বস্ত্র পরতে বাধ্য করা, নইলে বন্দি করে রাখা।
📄 ২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা
২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি বৈধ?
কবর যিয়ারতের অনুমতি ইসলামি শরিয়তে আছে। রসূল সা. মুমিনদেরকে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করার উদ্দেশ্যে কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। তবে কোনো নবী, অলি, বুযুর্গ ব্যক্তির কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ নয়। রসূল সা. বলেছেন:
لا تَشُدُّوا الرِّحَالَ إِلَّا إِلَى ثَلَثَةِ مَسَاجِدَ ، مَسْجِدُ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى (بُخَارِي وَ مُسْلِم)
অর্থ: (সওয়াব, নেকী, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে) তোমরা সফর করো না; তবে শুধুমাত্র তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে। সেগুলো হলো: ১. মসজিদুল হারাম, ২. আমার মসজিদ এবং ৩. মসজিদুল আকসা। (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)
📄 ২৮. রূহানি ফয়েয
২৮. রূহানি ফয়েয কি?
সাধারণত রূহানি ফয়েয লাভের উদ্দেশ্যে মৃত পীর বুযুর্গদের কবর যিয়ারত করা হয় এবং তাদেরকে ধ্যান করা হয়। ফয়েয আরবি শব্দ। এর অর্থ: দয়া, দান, সমৃদ্ধি। রূহানি ফয়েয মানে - আত্মিক দয়া, দান ও সমৃদ্ধি। যারা মৃত পীর বুযুর্গদের কবর থেকে, কিংবা তাদেরকে ধ্যানের মাধ্যমে তাদের থেকে রূহানি ফয়েয লাভ করার চেষ্টা করে, তারা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত। এ ধরনের ফয়েয হাসিলের কোনো ভিত্তি নেই। আল্লাহর রসূল সা. এবং সাহাবীগণ এ ধরনের ফয়েয হাসিল করার কোনো পথের সন্ধান দিয়ে যাননি। এটা বিদআত এবং শিরক।
📄 ২৯. নবীর কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া
২৯. রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া কি জায়েয। অনেক হাজীই রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনায় যান।
রসূলের কবরে সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া নিষেধ। এ সম্পর্কে যতো কথাই বলা হয়, সবই ভ্রান্ত মনগড়া কথা। হজ্জ করতে গেলে মদিনা যাওয়া জরুরি নয়। মদিনায় যাওয়া হজ্জের অংশ নয়। তবে যারা মদিনায় যান, তাদের উচিত মসজিদে নববীতে সালাত আদায়ের নিয়্যতে মদিনায় যাওয়া, অন্য কোনো নিয়্যতে নয়। নবীর কবর যিয়ারত, কবরে সালাম দেয়া, ফয়েয নেয়া, নবীর কাছে কিছু চাওয়া ইত্যাদি উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ।