📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২৫. আদম মুহাম্মদ সা. এর উসিলা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন

📄 ২৫. আদম মুহাম্মদ সা. এর উসিলা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন


২৫. বলা হয়: আদম আ. ভুল করার পর আল্লাহর আরশের নিচে আল্লাহর নামের পাশে মুহাম্মদ রসূলুল্লাহর নাম দেখতে পান। তখন তিনি মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্র উসিলা ধরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। - একথা কি ঠিক?

এসব কথা ভিত্তিহীন। হাদিসের নামে এসব বানানো কথা। একথাগুলো কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক। আদম আ. ভুল করার সাথে সাথে অনুতপ্ত হন। কিন্তু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ভাষা তাঁর জানা ছিলো না। কুরআন বলছে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে কিছু বাণী পৌঁছানো হয় এবং তিনি সেই বাণীগুলো উচ্চারণ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান:

فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَات فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

অর্থ: তখন আদম তাঁর প্রভুর নিকট থেকে কয়েকটি বাণী প্রাপ্ত হন। (সে বাণী উচ্চারণ করে তাওবা করলে) আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করেন। কারণ তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু। (সূরা ২ বাকারা: আয়াত ৩৭)

সূরা আ'রাফে আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত সেই কথাগুলো উদ্ধৃত হয়েছে। সে কথাগুলো শিখে নিয়ে আদম ও হাওয়া আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন:

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থ: আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় অবিচার করেছি। এখন তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো এবং আমাদের প্রতি দয়া না করো, তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বো। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ২৩)

আদম আলাইহিস সালামের সেই দোয়া সুস্পষ্টভাবে কুরআনে উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু তাতে কাউকেও উসিলা বানিয়ে দোয়া করা হয়নি। সুতরাং তাঁর উসিলা ধরে দোয়া করার বিষয়টি একেবারেই ভ্রান্ত, মনগড়া কথা।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২৬. লেংগটা পীরের মাজেযা

📄 ২৬. লেংগটা পীরের মাজেযা


২৬. আমাদের এলাকায় মাঝে মধ্যে এক লেংটা পীর আসে। তার পরনে এক দেড় ইঞ্চি পাশের একটি লেংটি থাকে মাত্র। তার মধ্যে নাকি বিরাট মাজেযা আছে। তার থেকে ফু ইত্যাদি নেয়ার জন্যে তার কাছে নারী পুরুষের ভীড় জমে যায়। সত্যি কি এ ধরণের লোকদের মধ্যে কোনো মাজেযা আছে?

তার মধ্যে মাজেযা যতোটুকু ছিলো, সবটা তো সে প্রকাশই করে দিয়েছে। আর লেংটির ভেতর কি আছে তাতো সবাই জানে। এই লেংটি আর লেংটির ভেতর যা আছে তার বাইরে কোনো মাজেযা তার কাছে নেই। ঐ লোকটা একটা নিকৃষ্ট লম্পট ছাড়া আর কিছুই নয়। সে মুসলিম তো নয়ই, সে মানুষের সংজ্ঞায়ও পড়ে না। সে পশুর চাইতেও অধম। এরা সমাজে বের হলে এদের পেটানো উচিত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এদের বস্ত্র পরতে বাধ্য করা, নইলে বন্দি করে রাখা।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা

📄 ২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা


২৭. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি বৈধ?

কবর যিয়ারতের অনুমতি ইসলামি শরিয়তে আছে। রসূল সা. মুমিনদেরকে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করার উদ্দেশ্যে কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। তবে কোনো নবী, অলি, বুযুর্গ ব্যক্তির কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ নয়। রসূল সা. বলেছেন:

لا تَشُدُّوا الرِّحَالَ إِلَّا إِلَى ثَلَثَةِ مَسَاجِدَ ، مَسْجِدُ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى (بُخَارِي وَ مُسْلِم)

অর্থ: (সওয়াব, নেকী, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে) তোমরা সফর করো না; তবে শুধুমাত্র তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে। সেগুলো হলো: ১. মসজিদুল হারাম, ২. আমার মসজিদ এবং ৩. মসজিদুল আকসা। (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২৮. রূহানি ফয়েয

📄 ২৮. রূহানি ফয়েয


২৮. রূহানি ফয়েয কি?

সাধারণত রূহানি ফয়েয লাভের উদ্দেশ্যে মৃত পীর বুযুর্গদের কবর যিয়ারত করা হয় এবং তাদেরকে ধ্যান করা হয়। ফয়েয আরবি শব্দ। এর অর্থ: দয়া, দান, সমৃদ্ধি। রূহানি ফয়েয মানে - আত্মিক দয়া, দান ও সমৃদ্ধি। যারা মৃত পীর বুযুর্গদের কবর থেকে, কিংবা তাদেরকে ধ্যানের মাধ্যমে তাদের থেকে রূহানি ফয়েয লাভ করার চেষ্টা করে, তারা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত। এ ধরনের ফয়েয হাসিলের কোনো ভিত্তি নেই। আল্লাহর রসূল সা. এবং সাহাবীগণ এ ধরনের ফয়েয হাসিল করার কোনো পথের সন্ধান দিয়ে যাননি। এটা বিদআত এবং শিরক।

ফন্ট সাইজ
15px
17px