📄 ২৩. আল্লাহ রসূলের দোয়ায় ভালো আছি বলা
২৩. আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা হয়: আল্লাহ রসূলের দোয়ায় ভালো আছি। পীর আওলিয়ার দোয়ায় ভালো আছি। আপনার/আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। এই সবগুলো জবাবই ভুল। আপনি কারো দোয়ায় ভালো আছেন কিনা - তাতো আপনি জানেন না। সুতরাং জবাব সত্য নয়। আপনি মূলত আল্লাহর দয়া ও রহমতে ভালো আছেন, তাই বলুন: 'আলহামদুলিল্লাহ' আমি ভালো আছি। 'আল্লাহর দোয়ায় ভালো আছি' একথাটাও ঠিক নয়, সঠিক হলো: আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
📄 ২৪. পীরকে সাজদা করা, পীরের পায়ে চুমু খাওয়া
২৪. আমি নিজ চোখে দেখেছি একজন পীরকে তার অনুসারীরা সাজদা করে, উপুড় হয়ে তার পায়ে চুমু খায় এবং কান্নাকাটি করে তার কাছে প্রার্থনা করে। - এ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?
আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও সাজদা করা নিষিদ্ধ। অনেকে বলেন, সম্মানার্থে সাজদা জায়েয। তারা কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা করেন এবং মনগড়া কথা বলেন। সম্মানার্থে যদি কাউকেও সাজদা করা জায়েয হতো, তাহলে সাহাবীগণ আল্লাহর রসূলকে সাজদা করতেন। কারণ মানুষের মধ্যে তাঁর চাইতে অধিক সম্মান পাওয়ার যোগ্য আর কে?
মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর শরিয়তে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও সাজদা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একাজ শিরক। সাজদা শুধুমাত্র আল্লাহকেই করতে হবে:
فَسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا
অর্থ: সুতরাং কেবল আল্লাহকে সাজদা করো এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করো। (আল কুরআন, সূরা আন নজম: আয়াত ৬২)
রসূল সা.-কেও সাজদা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, নিষিদ্ধ করেন। তিনি বলেন: "মানুষকে সাজদা করা যদি বৈধ হতো তবে নারীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সাজদা করতে।"
📄 ২৫. আদম মুহাম্মদ সা. এর উসিলা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন
২৫. বলা হয়: আদম আ. ভুল করার পর আল্লাহর আরশের নিচে আল্লাহর নামের পাশে মুহাম্মদ রসূলুল্লাহর নাম দেখতে পান। তখন তিনি মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্র উসিলা ধরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। - একথা কি ঠিক?
এসব কথা ভিত্তিহীন। হাদিসের নামে এসব বানানো কথা। একথাগুলো কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক। আদম আ. ভুল করার সাথে সাথে অনুতপ্ত হন। কিন্তু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ভাষা তাঁর জানা ছিলো না। কুরআন বলছে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে কিছু বাণী পৌঁছানো হয় এবং তিনি সেই বাণীগুলো উচ্চারণ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান:
فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَات فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অর্থ: তখন আদম তাঁর প্রভুর নিকট থেকে কয়েকটি বাণী প্রাপ্ত হন। (সে বাণী উচ্চারণ করে তাওবা করলে) আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করেন। কারণ তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু। (সূরা ২ বাকারা: আয়াত ৩৭)
সূরা আ'রাফে আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত সেই কথাগুলো উদ্ধৃত হয়েছে। সে কথাগুলো শিখে নিয়ে আদম ও হাওয়া আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন:
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
অর্থ: আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় অবিচার করেছি। এখন তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো এবং আমাদের প্রতি দয়া না করো, তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বো। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ২৩)
আদম আলাইহিস সালামের সেই দোয়া সুস্পষ্টভাবে কুরআনে উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু তাতে কাউকেও উসিলা বানিয়ে দোয়া করা হয়নি। সুতরাং তাঁর উসিলা ধরে দোয়া করার বিষয়টি একেবারেই ভ্রান্ত, মনগড়া কথা।
📄 ২৬. লেংগটা পীরের মাজেযা
২৬. আমাদের এলাকায় মাঝে মধ্যে এক লেংটা পীর আসে। তার পরনে এক দেড় ইঞ্চি পাশের একটি লেংটি থাকে মাত্র। তার মধ্যে নাকি বিরাট মাজেযা আছে। তার থেকে ফু ইত্যাদি নেয়ার জন্যে তার কাছে নারী পুরুষের ভীড় জমে যায়। সত্যি কি এ ধরণের লোকদের মধ্যে কোনো মাজেযা আছে?
তার মধ্যে মাজেযা যতোটুকু ছিলো, সবটা তো সে প্রকাশই করে দিয়েছে। আর লেংটির ভেতর কি আছে তাতো সবাই জানে। এই লেংটি আর লেংটির ভেতর যা আছে তার বাইরে কোনো মাজেযা তার কাছে নেই। ঐ লোকটা একটা নিকৃষ্ট লম্পট ছাড়া আর কিছুই নয়। সে মুসলিম তো নয়ই, সে মানুষের সংজ্ঞায়ও পড়ে না। সে পশুর চাইতেও অধম। এরা সমাজে বের হলে এদের পেটানো উচিত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এদের বস্ত্র পরতে বাধ্য করা, নইলে বন্দি করে রাখা।