📄 ২১. নবী ও অলিগণ গায়েব জানেন
২১. কিছু লোক বলে বেড়ায় নবী এবং অলীগণ গায়েব জানেন। - এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভংগি কি?
নবীগণ যে গায়েব জানতেন না - সে কথা কুরআন মজিদে অকাট্যভাবে বলে দেয়া হয়েছে এবং বার বার বলা হয়েছে। সর্বশেষ নবী, বিশ্বনবী মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর অবস্থা লক্ষ্য করুন। মহান আল্লাহ বলেন:
قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْথَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ
অর্থ: হে নবী! তাদের বলো: "আল্লাহ যা চান তাছাড়া আমার নিজের ভালো মন্দের বিষয়টিও আমার ক্ষমতার মধ্যে নাই। আমি যদি গায়েব জানতামই, তবে তো আমি নিজের প্রভুত কল্যাণ সাধন করে নিতাম এবং কোনো মন্দই আমাকে স্পর্শ করতো না।" (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ১৮৮)
এবার ভেবে দেখুন, এই যদি হয় আল্লাহর রসূলের গায়েব জানার অবস্থা, তবে তাঁর তুলনায় অলি, বুযুর্গ, পীর দরবেশরা কোন্ খানে। গায়েব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যে নির্ধারিত। রসূল সা. যা কিছু বলেছেন সবই অহির মাধ্যমে বলেছেন।
📄 ২২. পৃথিবীকে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড বলা
২২. অনেকে পৃথিবীকে 'বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড' বলে। - এটা কি বলা যায়?
এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই পৃথিবীকে 'ব্রহ্মাণ্ড' বলতে পারেন না। কারণ, এটা একটা শিরকি আকিদা। ব্রহ্মাণ্ড মানে - ব্রহ্মা দেবীর ডিম। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী শিবের সাথে অবৈধ মিলনের ফলে ব্রহ্মা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তখন এ জগত ছিলো মহাসমুদ্র। ব্রহ্মা তার গর্ভ প্রসবের সময় মহা সমুদ্রের মাঝখানে একটা বিশাল আন্ডা প্রসব করে। ব্রহ্মার সেই আন্ডার নামই ব্রহ্মাণ্ড - যাকে পৃথিবী বলা হয়। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী পৃথিবী হলো সেই ব্রহ্মাণ্ড। জানিনা, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে শিক্ষিত হিন্দু পন্ডিতরা এখনো এই বিশ্বাস ধারণ করেন কিনা? তবে কিছু মুসলমান না জেনে বুঝেই পৃথিবীকে ব্রহ্মাণ্ড বলে থাকেন।
📄 ২৩. আল্লাহ রসূলের দোয়ায় ভালো আছি বলা
২৩. আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা হয়: আল্লাহ রসূলের দোয়ায় ভালো আছি। পীর আওলিয়ার দোয়ায় ভালো আছি। আপনার/আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। এই সবগুলো জবাবই ভুল। আপনি কারো দোয়ায় ভালো আছেন কিনা - তাতো আপনি জানেন না। সুতরাং জবাব সত্য নয়। আপনি মূলত আল্লাহর দয়া ও রহমতে ভালো আছেন, তাই বলুন: 'আলহামদুলিল্লাহ' আমি ভালো আছি। 'আল্লাহর দোয়ায় ভালো আছি' একথাটাও ঠিক নয়, সঠিক হলো: আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
📄 ২৪. পীরকে সাজদা করা, পীরের পায়ে চুমু খাওয়া
২৪. আমি নিজ চোখে দেখেছি একজন পীরকে তার অনুসারীরা সাজদা করে, উপুড় হয়ে তার পায়ে চুমু খায় এবং কান্নাকাটি করে তার কাছে প্রার্থনা করে। - এ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?
আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও সাজদা করা নিষিদ্ধ। অনেকে বলেন, সম্মানার্থে সাজদা জায়েয। তারা কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা করেন এবং মনগড়া কথা বলেন। সম্মানার্থে যদি কাউকেও সাজদা করা জায়েয হতো, তাহলে সাহাবীগণ আল্লাহর রসূলকে সাজদা করতেন। কারণ মানুষের মধ্যে তাঁর চাইতে অধিক সম্মান পাওয়ার যোগ্য আর কে?
মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর শরিয়তে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও সাজদা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একাজ শিরক। সাজদা শুধুমাত্র আল্লাহকেই করতে হবে:
فَسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا
অর্থ: সুতরাং কেবল আল্লাহকে সাজদা করো এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করো। (আল কুরআন, সূরা আন নজম: আয়াত ৬২)
রসূল সা.-কেও সাজদা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, নিষিদ্ধ করেন। তিনি বলেন: "মানুষকে সাজদা করা যদি বৈধ হতো তবে নারীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সাজদা করতে।"