📄 ২০. রসূল সা. ভূমিষ্ট হবার সময় বিবি আছিয়া ও মরিয়মের উপস্থিতি
২০. মিলাদে বলা হয়-মুহাম্মদ সা.-এর ভূমিষ্ট হবার সময় তাঁর মায়ের কাছে বিবি আছিয়া ও বিবি মরিয়ম হাযির হয়েছিলেন- একথা কতোটা সত্য?
একথা ঘোড়ার ডিমের মতোই সত্য। যারা এ ধরণের অজ্ঞতার মিলাদ পড়েন, তাদের মুর্খতার জন্যে শয়তানের আনন্দের ইয়ত্তা নেই। মরা মানুষদের প্রতি অলৌকিক ক্ষমতা আরোপকারীরা শয়তানের শিষ্য শাগরেদ।
📄 ২১. নবী ও অলিগণ গায়েব জানেন
২১. কিছু লোক বলে বেড়ায় নবী এবং অলীগণ গায়েব জানেন। - এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভংগি কি?
নবীগণ যে গায়েব জানতেন না - সে কথা কুরআন মজিদে অকাট্যভাবে বলে দেয়া হয়েছে এবং বার বার বলা হয়েছে। সর্বশেষ নবী, বিশ্বনবী মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর অবস্থা লক্ষ্য করুন। মহান আল্লাহ বলেন:
قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْথَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ
অর্থ: হে নবী! তাদের বলো: "আল্লাহ যা চান তাছাড়া আমার নিজের ভালো মন্দের বিষয়টিও আমার ক্ষমতার মধ্যে নাই। আমি যদি গায়েব জানতামই, তবে তো আমি নিজের প্রভুত কল্যাণ সাধন করে নিতাম এবং কোনো মন্দই আমাকে স্পর্শ করতো না।" (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ১৮৮)
এবার ভেবে দেখুন, এই যদি হয় আল্লাহর রসূলের গায়েব জানার অবস্থা, তবে তাঁর তুলনায় অলি, বুযুর্গ, পীর দরবেশরা কোন্ খানে। গায়েব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যে নির্ধারিত। রসূল সা. যা কিছু বলেছেন সবই অহির মাধ্যমে বলেছেন।
📄 ২২. পৃথিবীকে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড বলা
২২. অনেকে পৃথিবীকে 'বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড' বলে। - এটা কি বলা যায়?
এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই পৃথিবীকে 'ব্রহ্মাণ্ড' বলতে পারেন না। কারণ, এটা একটা শিরকি আকিদা। ব্রহ্মাণ্ড মানে - ব্রহ্মা দেবীর ডিম। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী শিবের সাথে অবৈধ মিলনের ফলে ব্রহ্মা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তখন এ জগত ছিলো মহাসমুদ্র। ব্রহ্মা তার গর্ভ প্রসবের সময় মহা সমুদ্রের মাঝখানে একটা বিশাল আন্ডা প্রসব করে। ব্রহ্মার সেই আন্ডার নামই ব্রহ্মাণ্ড - যাকে পৃথিবী বলা হয়। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী পৃথিবী হলো সেই ব্রহ্মাণ্ড। জানিনা, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে শিক্ষিত হিন্দু পন্ডিতরা এখনো এই বিশ্বাস ধারণ করেন কিনা? তবে কিছু মুসলমান না জেনে বুঝেই পৃথিবীকে ব্রহ্মাণ্ড বলে থাকেন।
📄 ২৩. আল্লাহ রসূলের দোয়ায় ভালো আছি বলা
২৩. আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা হয়: আল্লাহ রসূলের দোয়ায় ভালো আছি। পীর আওলিয়ার দোয়ায় ভালো আছি। আপনার/আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। এই সবগুলো জবাবই ভুল। আপনি কারো দোয়ায় ভালো আছেন কিনা - তাতো আপনি জানেন না। সুতরাং জবাব সত্য নয়। আপনি মূলত আল্লাহর দয়া ও রহমতে ভালো আছেন, তাই বলুন: 'আলহামদুলিল্লাহ' আমি ভালো আছি। 'আল্লাহর দোয়ায় ভালো আছি' একথাটাও ঠিক নয়, সঠিক হলো: আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।