📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ১৯. নবী নূরের তৈরি, তাঁকে সৃষ্টি করা না হলে জগত সৃষ্টি করা হতো না, সর্বপ্রথম মুহাম্মদ সা.-এর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে

📄 ১৯. নবী নূরের তৈরি, তাঁকে সৃষ্টি করা না হলে জগত সৃষ্টি করা হতো না, সর্বপ্রথম মুহাম্মদ সা.-এর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে


১৯. বলা হয়: আমাদের নবী নূরের তৈরি। তাঁকে সৃষ্টি করা না হলে বিশ্ব জগতই সৃষ্টি করা হতো না। সর্বপ্রথম তাঁর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে। - এ এসব কথা কি সঠিক?

এসব কথা প্রচার করার জন্য জাল এবং বানোয়াট হাদিস তৈরি করা হয়েছে। এসব কথার সাথে মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সা. এবং তাঁর সৃষ্টি ও জগত সৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণ ওয়ায়েযরা তাহকিক না করেই এসব কথা বলে বেড়ায়।

কুরআন বলছে: আদম এবং আদম সন্তানরা সকলেই মাটির তৈরি। (সূরা ৩০ আর রূম: আয়াত ২০) মাটিতে যদি নূর থেকে থাকে, তবে তা আদম, ইবরাহিম, মূসা, মুহাম্মদ এবং অন্যান্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের মধ্যেও ছিলো। তেমনি নমরূদ, ফেরাউন, আবু জেহেল এবং অন্যান্য চরম আল্লাহদ্রোহীদের মধ্যেও ছিলো। কারণ সকল মানুষের সৃষ্টিগত উপাদান একই। (সূরা ৭৬ আদ দাহার: আয়াত ২)

কুরআন বলছে: সর্বপ্রথম আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর তার থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে সকল মানুষকে। (সূরা ৪ আন নিসা: আয়াত ১) সুতরাং সর্বপ্রথম মুহাম্মদ সা.-কে নয়, আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিশ্বজগত সৃষ্টির সাথে মুহাম্মদকে সৃষ্টি করার কোনোই সম্পর্ক নাই। মানুষ সৃষ্টির লক্ষ কোটি বছর আগেই বিশ্বজগত সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং এসব কথাই কুরআনের বিরোধী, মিথ্যা এবং বর্জনীয়।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২০. রসূল সা. ভূমিষ্ট হবার সময় বিবি আছিয়া ও মরিয়মের উপস্থিতি

📄 ২০. রসূল সা. ভূমিষ্ট হবার সময় বিবি আছিয়া ও মরিয়মের উপস্থিতি


২০. মিলাদে বলা হয়-মুহাম্মদ সা.-এর ভূমিষ্ট হবার সময় তাঁর মায়ের কাছে বিবি আছিয়া ও বিবি মরিয়ম হাযির হয়েছিলেন- একথা কতোটা সত্য?

একথা ঘোড়ার ডিমের মতোই সত্য। যারা এ ধরণের অজ্ঞতার মিলাদ পড়েন, তাদের মুর্খতার জন্যে শয়তানের আনন্দের ইয়ত্তা নেই। মরা মানুষদের প্রতি অলৌকিক ক্ষমতা আরোপকারীরা শয়তানের শিষ্য শাগরেদ।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২১. নবী ও অলিগণ গায়েব জানেন

📄 ২১. নবী ও অলিগণ গায়েব জানেন


২১. কিছু লোক বলে বেড়ায় নবী এবং অলীগণ গায়েব জানেন। - এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভংগি কি?

নবীগণ যে গায়েব জানতেন না - সে কথা কুরআন মজিদে অকাট্যভাবে বলে দেয়া হয়েছে এবং বার বার বলা হয়েছে। সর্বশেষ নবী, বিশ্বনবী মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর অবস্থা লক্ষ্য করুন। মহান আল্লাহ বলেন:

قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْথَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ

অর্থ: হে নবী! তাদের বলো: "আল্লাহ যা চান তাছাড়া আমার নিজের ভালো মন্দের বিষয়টিও আমার ক্ষমতার মধ্যে নাই। আমি যদি গায়েব জানতামই, তবে তো আমি নিজের প্রভুত কল্যাণ সাধন করে নিতাম এবং কোনো মন্দই আমাকে স্পর্শ করতো না।" (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ১৮৮)

এবার ভেবে দেখুন, এই যদি হয় আল্লাহর রসূলের গায়েব জানার অবস্থা, তবে তাঁর তুলনায় অলি, বুযুর্গ, পীর দরবেশরা কোন্ খানে। গায়েব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যে নির্ধারিত। রসূল সা. যা কিছু বলেছেন সবই অহির মাধ্যমে বলেছেন।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ২২. পৃথিবীকে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড বলা

📄 ২২. পৃথিবীকে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড বলা


২২. অনেকে পৃথিবীকে 'বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড' বলে। - এটা কি বলা যায়?

এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই পৃথিবীকে 'ব্রহ্মাণ্ড' বলতে পারেন না। কারণ, এটা একটা শিরকি আকিদা। ব্রহ্মাণ্ড মানে - ব্রহ্মা দেবীর ডিম। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী শিবের সাথে অবৈধ মিলনের ফলে ব্রহ্মা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তখন এ জগত ছিলো মহাসমুদ্র। ব্রহ্মা তার গর্ভ প্রসবের সময় মহা সমুদ্রের মাঝখানে একটা বিশাল আন্ডা প্রসব করে। ব্রহ্মার সেই আন্ডার নামই ব্রহ্মাণ্ড - যাকে পৃথিবী বলা হয়। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী পৃথিবী হলো সেই ব্রহ্মাণ্ড। জানিনা, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে শিক্ষিত হিন্দু পন্ডিতরা এখনো এই বিশ্বাস ধারণ করেন কিনা? তবে কিছু মুসলমান না জেনে বুঝেই পৃথিবীকে ব্রহ্মাণ্ড বলে থাকেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px