📄 ১৬. দরগাহ, মাযার, শরিফ এবং দরগাহ ও মাযারের প্রতিসম্মান প্রদর্শন
১৬. দরগাহ এবং মাযারের মধ্যে পার্থক্য কি? দরগাহ এবং মাযারকে শরিফ বলা যাবে কি? যেমন দরগাহ শরিফ, মাযার শরিফ। দরগাহ এবং মাযারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জায়েয আছে কি?
দরগাহ ফারসি শব্দ। মাযার আরবি শব্দ। উভয় শব্দের একই অর্থ। অর্থাৎ পরিদর্শনের স্থান, দর্শণীয় স্থান, রাজসভা। -এগুলো হলো আভিধানিক অর্থ। প্রচলিত অর্থে দরগাহ এবং মাযার মানে- বুযুর্গ বা পুণ্যবান ব্যক্তির সমাধি।
আমাদের উপমহাদেশে যে কোনো কিছুর সাথে 'শরিফ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। শব্দটি ব্যবহার করা একটা বাতিকে পরিণত হয়েছে। শরিফ মানে- মর্যাদাবান, সম্মানার্হ, অভিজাত, ভদ্র। সাধারণত কোনো কিছুর সাথে 'শরিফ' কথাটি জুড়ে দেয়া হয় শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে 'শরিফ' প্রয়োগ করা জায়েয। যেমন: কুরআন শরিফ, কাবা শরিফ, হারাম শরিফ, হাদিস শরিফ, খানকা শরিফ।
উল্লেখিত ক্ষেত্র সমূহে যেরূপ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশার্থে শরিফ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, অনুরূপ ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনার্থে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে শরিফ শব্দ প্রয়োগ একেবারে না জায়েয। যেমন: মাযার শরিফ, দরগাহ শরিফ, উরস শরিফ, আজমীর শরিফ। এর কারণ হলো, ইসলামে প্রথমোক্তগুলো ঈমান, আকিদা এবং কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতেই সম্মানার্হ। কিন্তু শেষোক্তগুলোর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা ঈমান আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক। বরং অনেক ক্ষেত্রেই শিরক।
📄 ১৭. মৃতদের কাছে সন্তান প্রার্থনা, মুসিবত দূর করার প্রার্থনা করা
১৭. দেখা যায়: কিছু লোক মৃত পীর বা অলি বুযুর্গের নাম ধরে ডেকে বা তাদের কবরে গিয়ে তাদের কাছে সন্তান প্রার্থনা করে, সমস্যা ও বালা মুসিবত দূর করার প্রার্থনা করে।- এসব ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য কি?
এসব কাজ যারা করে, তারা মৃত ব্যক্তিদেরকে জীবিত মনে করে এবং খোদায়ী ক্ষমতার অধিকারী বলে ধারণা করে। সুতরাং একাজ অকাট্য শিরক।
ইসলামি দৃষ্টিভংগি হলো- মৃতরা মৃতই। তারা কারো কোনো লাভ বা ক্ষতি করতে পারে না। আর কোনো মানুষই খোদায়ী ক্ষমতার অধিকারী নয়। দোয়া, প্রার্থনা, ফরিয়াদ সরাসরি শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই করতে হবে এবং কেবল তাঁর কাছেই চাইতে হবে।
📄 ১৮. মৃত ব্যক্তিদের জন্যে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা
১৮. অনেকে মৃত ব্যক্তিদের জন্যে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করে। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন?
মৃত ব্যক্তিদের জন্যে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা ইসলামি রীতি নয়। এটা অন্য ধর্মের রীতি। কোনো মুসলিম অন্য ধর্মের রীতি অনুসরণ করতে পারে না।
ইসলাম মৃত ব্যক্তিদের প্রতি কর্তব্য পালনের সুস্পষ্ট বিধান দিয়েছে। তা হলো-
- তাদের জন্যে দয়াময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা。
- তাদের উত্তম কর্মসমূহের প্রশংসা করা এবং অনুসরণ করা。
- তাদের কথা স্মরণ হলে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করা。
- তাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে ভালো ব্যবহার করা।
📄 ১৯. নবী নূরের তৈরি, তাঁকে সৃষ্টি করা না হলে জগত সৃষ্টি করা হতো না, সর্বপ্রথম মুহাম্মদ সা.-এর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে
১৯. বলা হয়: আমাদের নবী নূরের তৈরি। তাঁকে সৃষ্টি করা না হলে বিশ্ব জগতই সৃষ্টি করা হতো না। সর্বপ্রথম তাঁর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে। - এ এসব কথা কি সঠিক?
এসব কথা প্রচার করার জন্য জাল এবং বানোয়াট হাদিস তৈরি করা হয়েছে। এসব কথার সাথে মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সা. এবং তাঁর সৃষ্টি ও জগত সৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণ ওয়ায়েযরা তাহকিক না করেই এসব কথা বলে বেড়ায়।
কুরআন বলছে: আদম এবং আদম সন্তানরা সকলেই মাটির তৈরি। (সূরা ৩০ আর রূম: আয়াত ২০) মাটিতে যদি নূর থেকে থাকে, তবে তা আদম, ইবরাহিম, মূসা, মুহাম্মদ এবং অন্যান্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের মধ্যেও ছিলো। তেমনি নমরূদ, ফেরাউন, আবু জেহেল এবং অন্যান্য চরম আল্লাহদ্রোহীদের মধ্যেও ছিলো। কারণ সকল মানুষের সৃষ্টিগত উপাদান একই। (সূরা ৭৬ আদ দাহার: আয়াত ২)
কুরআন বলছে: সর্বপ্রথম আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর তার থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে সকল মানুষকে। (সূরা ৪ আন নিসা: আয়াত ১) সুতরাং সর্বপ্রথম মুহাম্মদ সা.-কে নয়, আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিশ্বজগত সৃষ্টির সাথে মুহাম্মদকে সৃষ্টি করার কোনোই সম্পর্ক নাই। মানুষ সৃষ্টির লক্ষ কোটি বছর আগেই বিশ্বজগত সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং এসব কথাই কুরআনের বিরোধী, মিথ্যা এবং বর্জনীয়।