📄 ১০. জীবিত ও মৃত ব্যক্তিদের উসিলা বানানো
১০. কিছু লোক কুরআনের আয়াত 'ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওসিলার' উল্লেখ করে বলে: উসিলা মানে পীর বুযুর্গ ধরা।' তারা আরো বলে: 'বিপদ মুসিবত, দুঃখ কষ্ট দূর করা ও আল্লাহর শান্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে এইসব উসিলার সাহায্য নিতে হবে। এসব কাজে তাদের অনেক ক্ষমতা।' এই ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা মরা ও জীবিত ব্যক্তিদেরকে উসিলা ধরে এবং তাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে, ফরিয়াদ করে এবং তাদের কাছে মুক্তি চায়। -এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভংগি কী?
এ প্রসঙ্গে প্রথম কথা হলো, দোয়া হচ্ছে ইবাদত। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةِ : অর্থ: 'দোয়া হচ্ছে ইবাদত।' (মিশকাত: দোয়া অধ্যায়)
الدُّعَاءُ مُخُ الْعِبَادَةِ : অর্থ: 'দোয়া হলো ইবাদতের মস্তিষ্ক (অর্থাৎ মূল)।' (মিশকাত: দোয়া অধ্যায়)
সুতরাং যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে, ফরিয়াদ করে, এবং যা আল্লাহর কাছে চাওয়ার তা তাদের কাছে চায়, তারা সরাসরি শিরকে লিপ্ত। তারা অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ বানাচ্ছে এবং তাদের ইবাদত করছে।
'ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওসিলার' অর্থ পীর বুযুর্গ ধরতে হবে, এমন কথা যারা বলে, তারা কুরআন সম্পর্কে অজ্ঞ এবং কুরআনকে নিজেদের দুনিয়াবি স্বার্থে ব্যবহার করে। উসিলা শব্দটি কুরআন মজিদে দুই জায়গায় উল্লেখ হয়েছে। তা হলো:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থ: হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নৈকট্য লাভের উসিলা (উপায়) অন্বেষণ করো, আর তাঁর পথে জিহাদ করো (প্রচেষ্টা চালাও), যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (সূরা ৫ আল মায়িদা: আয়াত ৩৫)
এ আয়াতে উল্লেখিত 'উসিলা অন্বেষণ করো' অর্থ কী? এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাহাবী ইবনে আব্বাস রা. বলেন: الْوَسِيلَةُ أَيْ الْقُرْبَةُ : "উসিলা মানে-নৈকট্য।" (তফসির ইবনে কাছির)
প্রখ্যাত তাবেয়ী কাতাদা (রহ.) বলেন: أَيْ تَقَرَّبُوا إِلَيْهِ بِطَاعَتِهِ وَالْعَمَلِ بِمَا يَرْضِيْهِ "উসিলা অন্বেষণ করো মানে: আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করো তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে এবং এমন উত্তম আমলের মাধ্যমে, যে ধরণের আমল দ্বারা তিনি সন্তুষ্ট হন।" (তফসির ইবনে কাছির)
উসিলা শব্দটি সূরা বনি ইসরাঈলেও এসেছে। সেখানে আল্লাহ পাক বলেন:
قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دুত্ هِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشَفَ الضَّরِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلاً • أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ ، إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا .
অর্থ: হে নবী! তাদের বলো: "তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর যাদের কাছে বিপদ মুসিবত ও দুঃখ কষ্ট দূর করার জন্যে) দোয়া-প্রার্থনা-ফরিয়াদ করো, দুঃখ ও বিপদ মুসিবত দূর করার কোনো ক্ষমতা তাদের নাই। এরা যাদের কাছে প্রার্থনা করে তারা নিজেরাই তো তাদের প্রভুর নৈকট্য লাভের উসিলা সন্ধান করে, এ উদ্দেশ্যে যে, কে তাঁর কতো নৈকট্যে যেতে পারে, তারাও তাঁরই রহমত প্রত্যাশা করে এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে ভীত থাকে। কারণ তাঁর শাস্তি যে অতিশয় ভয়াবহ।" (সূরা ১৭ বনি ইসরাঈল: আয়াত ৫৬-৫৭)
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্যে এবং বিপদ মুসিবত ও দুঃখ কষ্ট দূর করার জন্যে মরা বা জীবিত ব্যক্তিদের উসিলা বানাতে কুরআন সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। বলা হয়েছে:
১. তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর শরিক ও সমকক্ষ বানাচ্ছে।
২. তারা যাদেরকে উসিলা বানায়, বিপদ মুসিবত ও দুঃখ কষ্ট দূর করতে তারা সম্পূর্ণ অক্ষম ও অসহায়।
৩. তারা নিজেরাই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্যে উসিলা খোঁজে।
৪. উসিলা মানে-আল্লাহর আনুগত্য ও নেক আমল, যা আল্লাহর নৈকট্য ও দয়া লাভের উপায়।
📄 ১১. অলি আল্লাহরা কবরে জীবিত, তাদের খুশি করা
১১. অলি আল্লাহদের জীবন মৃত্যু সমান কথা। আসলে অলি আল্লাহরা মরে না, তারা কবরে জীবিতই আছে। তাদের কাছে ফরিয়াদ করে, দোয়া প্রার্থনা করে, তাদেরকে এবং তাদের কবরকে সাজদা করে তাদেরকে খুশি করতে পারলে সব গুনাহ মাফ পাওয়া যাবে। তারা সুপারিশ করে পার করে নেবে।
নবী, অলি, বুযুর্গ ও পীরের মৃত্যু আর সাধারণ মুসলমানের মৃত্যুতে কোনো পার্থক্য নাই। মৃত্যু মৃত্যুই। মৃত্যুর পর দুনিয়ার সাথে সকলেরই সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। মৃত লোকেরা জীবিত লোকদের জন্যে কিছুই করতে পারে না। করার কোনো ক্ষমতাই তাদের থাকে না।
রসূলুল্লাহ সা.-এর মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন : إِنَّكَ مِّيْتَ وَأَنَّهُمْ مَّيِّتُوْن
অর্থ: (হে মুহাম্মদ!) নিশ্চয়ই তোমার মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে। (সূরা ৩৯ যুমার: আয়াত ৩০)
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: 'দোয়া ইবাদত'। বরং 'দোয়া ইবাদতের মস্তিষ্ক।' আর সাজদা করা তো বরং শ্রেষ্ঠ ইবাদত।
সুতরাং মৃত কিংবা জীবিত অলি, পীর, বুযুর্গদের কাছে ফরিয়াদ করা, প্রার্থনা করা, তাদের কবরে কান্নাকাটি করে কিছু চাওয়া এবং তাদেরকে ও তাদের কবরে সাজদা করার অর্থ তাদের ইবাদত করা। এসব কাজ অকাট্য শিরক। আল্লাহর রসূলের প্রতিপক্ষ মুশরিকরা একাজই করতো। এ জন্যেই তাদেরকে মুশরিক বলা হতো। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের কাছে প্রার্থনা ফরিয়াদ করে সেই মুশরিকদের ভ্রান্ত ধারণা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে:
وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى
অর্থ: যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: "আমরা (এই অলিদের) ইবাদত করি শুধু এই উদ্দেশ্যে যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটে পৌঁছে দেবে।" (সূরা ৩৯ যুমার: আয়াতাংশ ৩)
সুতরাং এরা এবং ঐ মুশরিকরা একই মুশরিক -যারা আল্লাহর রসূলের তাওহীদের দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল। পার্থক্য শুধু এতোটুকু যে, তারা বলতো আমরা ইবরাহিমের ধর্মের উপর আছি। আর এরা বলে: আমরা মুহাম্মদের ধর্মের উপর আছি।
📄 ১২. দীনদারি ও বুযুর্গি প্রদর্শনের জন্যে খেতাব গ্রহণ
১২. দীনদারি ও বুযুর্গি প্রদর্শনের জন্যে খেতাব বা উপাধি গ্রহণ করা কি বৈধ?
আমাদের এ অঞ্চলে দীনদারি ও বুযুর্গি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে খেতাব আর উপাধির ছড়াছড়ি দেখা যায়। এসব উপাধি গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি আর সীমালংঘনের কোনো সীমা নাই। যেমন: অলিয়ে কামেল, আশেকে রসূল, মাহবুবে সোবহানী, কুতুবে রব্বানী, মুজাদ্দিদে যামান, অলিকুল শিরোমনি, গাউছ, গাউসুল আযম, ইমাম আযম, মুহিউস সুন্নাহ, ইমামুল আয়িম্মাহ, কুতুবে এরশাদ, হুজুর কেবলা, খাজা বাবা, গাউসুস সাকালাইন, হাদিয়ে যামান, মাহবুবে এলাহী ইত্যাদি। এসবগুলোই দীনদারি, বুযুর্গি, শ্রেষ্ঠত্ব, পাপীদের মুক্তিদাতা ইত্যাদি বুঝানোর জন্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
প্রথম কথা হলো এসবই সুন্নতের খেলাফ। আল্লাহর রসূল সা. এ ধরণের কোনো উপাধি গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাহাবীরাও তাঁকে এ ধরণের উপাধিতে ডাকেননি।
দ্বিতীয় কথা হলো, এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন সাহাবায়ে কিরাম। স্বয়ং আল্লাহ পাক তাদেরকে ক্ষমার ও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা কেউ এ ধরণের উপাধি গ্রহণ করেননি। তাঁরা পরস্পরকে এ ধরণের উপাধি দেননি। উম্মতের শ্রেষ্ঠ বুযুর্গগণ এ ধরণের উপাধি গ্রহণ করেননি। তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী, ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী, আহমদ, মালেক কেউ এ ধরণের উপাধি গ্রহণ করেননি।
দেখা যায়, জীবদ্দশাতেই এখন বহু লোক এসব উপাধি গ্রহণ করে। আবার অনেক ভালো লোককে মৃত্যুর পর লোকেরা এসব উপাধিতে ভূষিত করে। এসব উপাধির মধ্যে শিরক পর্যন্ত আছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো, এ ধরণের উপাধি কাদের প্রয়োজন? জবাব একটাই, তাহলো: যাদের কোনো স্বার্থ বা গরজ আছে, তাদেরই এ ধরণের উপাধি প্রয়োজন। একটু ভাবলেই দেখা যায়, সুন্নতের খেলাফ হওয়া সত্ত্বেও এ ধরণের উপাধি গ্রহণ বা প্রদান করে সাধারণত: ১. জাহিল লোকেরা, ২. মতলব বাজ ও স্বার্থান্বেষী লোকেরা, ৩. ইসলামের নাম ব্যবহারকারী ধোকাবাজ লোকেরা। এসব উপাধি দ্বারা মুসলিম জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা হয়। এ প্রসংগে আল্লাহ পাক বলেন:
فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
অর্থ: সুতরাং তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে শুদ্ধতার সার্টিফিকেট দিওনা। তিনিই অধিক জানেন- কে প্রকৃত মুত্তাকি।' (সূরা ৫৩ আন নাজম: আয়াত ৩২)
📄 ১৩. কাউকেও গাউসুল আযম বলা, আবদুল কাদের জিলানির নামে অলৌকিক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা প্রচার
১৩. বলা হয়: আবদুল কাদের জিলানী গাউসুল আযম। মায়ের গর্ভে থাকতেই কুরআন মুখস্ত করেছেন। মেরাজে সিদরাতুল মুনতাহার পরে নবীকে অভয় দিয়েছেন- এগুলো কি ঠিক?
এ কথাগুলো থেকে বুঝা যায়, আবদুল কাদের জিলানি মানুষ ছিলেন না। কারণ এসব কথা মানব গুণাবলীর মধ্যে পড়ে না। এগুলো নিতান্তই জাহিল লোকদের কথাবার্তা যাদের মানবত্ব সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।
গাউছ মানে-ত্রাণকর্তা, পরিত্রাণদানকারী, উদ্ধারকারী। আর গাউসুল আযম মানে-সর্বশ্রেষ্ঠ ত্রাণকর্তা। গাউছ কথাটি আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ তাহলে তা হবে শিরকের নামান্তর। আবদুল কাদের জিলানি কখনো নিজেকে গাউছ বা গাউছুল আযম দাবি করেন নাই। পরবর্তীকালে জাহিল লোকেরা তাঁকে এই উপাধি দিয়েছে।
আর বাকি বিষয়গুলো তো কোনো মানুষের জন্যে প্রযোজ্য নয়। আবদুল কাদের জিলানি তো নস্যি, স্বয়ং নবীর কাছে এ ধরনের অনেক অলৌকিক বিষয় দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি বলেছেন, আমিতো মানুষ, আমার পক্ষে এগুলো করে দেখানো সম্ভব নয়। দেখুন কুরআন কী বলে:
وَقَالُوا لَن تُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنبُوعًا • أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ মِّن نَّخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهَارَ خِلَالَهَا تَفْحِيرًا . أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ قَبِيلاً • أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِّن زُخْرُفَ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاءِ وَلَن تُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَّقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إِلَّا بَشَرًا رَّسُولاً .
অর্থ: (কাফির মুশরিকরা) বলে: আমরা কখনো তোমার প্রতি ঈমান আনবোনা, যতোক্ষণ না তুমি ভূমি থেকে আমাদের জন্যে একটি ঝরণাধারা উৎসারিত করবে, অথবা তোমার খেজুর ও আংগুরের একটি বাগান হবে, যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অনেক নদী নালা, ঝরণাধারা প্রবাহিত করে নেবে, অথবা তুমি যেমন বলে থাকো, সে অনুযায়ী আকাশকে খণ্ডবিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলবে, অথবা আল্লাহকে এবং ফেরেশতাদেরকে আমাদের সম্মুখে এনে উপস্থিত করাবে, অথবা তোমার স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত একটি ঘর হবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহন করবে, কিন্তু তোমার ঐ আরোহনকে আমরা ততোক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাস করবো না, যতোক্ষণ না তুমি ওখান থেকে আমাদের প্রতি একটি কিতাব নাযিল করবে যা আমরা পাঠ করবো। (হে নবী!) তুমি বলো: অতিশয় পবিত্র ও মহান আমার প্রভু! আমি কি একজন মানুষ রসূল ছাড়া আর কিছু? (সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ৯০-৯৩)