📄 ০১. কবর কেন্দ্রিক মসজিদ তৈরি
১. আমার দাদা একজন বুযুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তাঁর কবর কেন্দ্রিক একটি মসজিদ তৈরি করতে চাই। এটা জায়েয হবে কি? উল্লেখ্য, আমাদের দেশে এরকম অসংখ্য মসজিদ তৈরি হয়েছে।
কবরে বা কবর কেন্দ্রিক মসজিদ তৈরি করা ইসলামে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
যেবার অসুস্থ হয়ে রসূলুল্লাহ সা. ইন্তেকাল করেন, সেই অসুস্থতার সময় মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তিনি সাহাবীগণকে বলেন:
اَلا وَإِنْ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُوْنَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مساجدا ، اَلا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُবুورِ مَسَاجِدًا إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَالِكَ .
অর্থ: সাবধান! তোমাদের পূর্বের লোকেরা তাদের নবী এবং নেক লোকদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিতো। সাবধান! তোমরা কবরকে মসজিদ বানিয়োনা, আমি তোমাদের নিষেধ করছি এই কাজ। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৫৩২)
আল্লাহর রসূলের এই হাদিস বহু সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। বুখারি, মুসলিমসহ হাদিস গ্রন্থাবলীতে তাঁর মৃত্যুর পূর্বেকার এই বক্তব্য সংক্ষিপ্ত এবং বিস্তারিত আকারে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসগুলোতে একথাও রয়েছে, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমরা আমার কবরকে মসজিদ বানিয়োনা।"
সুতরাং যারা অলি বুযুর্গ ও নেক লোকদের কবরে বা কবর কেন্দ্রিক মসজিদ বানায়, তারা ঐ অলি, বুযুর্গ ও নেক লোকদেরকে ভালো মানুষ বলে স্বীকার করেনা। কারণ, তারা উনাদের আদর্শের খেলাফ কাজ করে। উনারা আল্লাহর রসূলের সুন্নত মতো চলতেন, এরা চলেনা।
📄 ০২. কবর পাকা করা, গম্বুজ বানানো, কবরে উরস, ইসালে সওয়াব
২. আমাদের দেশে অনেক জায়গায় কবর পাকা করা হয়, কবরে গম্বুজ বানানো হয়, কবর কেন্দ্রিক উরস, ওয়াজ মাহফিল, ইসালে সওয়াবের অনুষ্ঠান, এমনকি উৎসব ও মেলা করা হয়, এগুলো কি সুন্নত সম্মত?
এগুলোর কোনোটিই রসূলুল্লাহ সা. করেন নাই, করতে বলেন নাই এবং সাহাবীগণও করেন নাই।
রসূলুল্লাহ সা. কবরকে ইবাদতের স্থান বানাতে নিষেধ করেছেন এবং উঁচু কবর ভেঙ্গে সমান করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সুতরাং এগুলো সবই সুন্নতের খেলাফ। এগুলোর ভেতরে রয়েছে শিরক, বিদআত এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রম।
📄 ০৩. মাযারের নামে মান্নত করা, মৃত ব্যক্তিদের কাছে প্রার্থনা করা
৩. আমাদের দেশে দেখা যায়, অনেকেই বিপদ দূর হওয়ার জন্যে এবং উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে মাযারের নামে মান্নত করে, ঐ কবরে দাফন করা মৃত বুযুর্গ ব্যক্তির আশির্বাদ লাভের জন্যে তার মাযারে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করে, ফরিয়াদ করে। -এগুলো কি জায়েয?
এগুলো শুধু নাজায়েযই নয়, এগুলো সুস্পষ্ট শিরক। ইসলামের সুস্পষ্ট ঈমান আকিদা হলো:
- মৃত ব্যক্তি যিনিই হোন না কেন, তিনি মৃতই। তার পক্ষে কারো লাভ বা ক্ষতি করা সম্ভব নয়।
- তিনি নিজে জান্নাতে যাবেন কিনা তাও তিনি জানেন না।
- তার কবর আযাব হচ্ছে কিনা- তাও কেউ জানেনা।
- তার কবর আযাব হলে তা থেকে নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতাও তার নেই।
- সুতরাং তার পক্ষে অন্য কাউকে কোনো প্রকার সাহায্য করার প্রশ্নই আসেনা।
এ প্রসঙ্গে আল কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত সমূহ দেখুন:
সূরা ০৬ আল আন'আম: আয়াত ৪০-৪১ ও ৫৬। সূরা ০৭ আল আ'রাফ: আয়াত ১৯৪, ১৯৭। সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ৬৭। সূরা ১৯ মরিয়ম: আয়াত ৪৮। সূরা ২২ হজ্জ: আয়াত ৭৩। সূরা ২৬ শোয়ারা: আয়াত ৮২। সূরা ৩৫ ফাতির : আয়াত ১৩, ৪০। সূরা ৩৯ যুমার: আয়াত ৩৮। সূরা ৪০ গাফির: আয়াত ৬৬। সূরা ৭২ জিন: আয়াত ১৮।
📄 ০৪. কবরকে মাযার বলা
৪. কবরকে মাযার বলা বৈধ কি? আমাদের দেশে অনেক বুযুর্গ ও নেতার কবরকে মাযার বলা হয়।
মাযার মানে- দর্শনীয় স্থান, যেখানে পর্যটকরা দেখতে যায়। কবরকে মাযার বলা যায়না। রসূলুল্লাহ সা. কবরকে মাযার বলেন নাই, সাহাবীগণও বলেন নাই। আল্লাহর রসূলের কবরকে মাযার বলা হয়না, কোনো সাহাবীর কবরকেও মাযার বলা হয়না।
কবরকে মাযার বলা ইসলামের নীতি ও আদর্শের খেলাফ। কবরকে মাযার বলার উদ্দেশ্য তিনটি:
১. ঐ কবর পূজা করার জন্যে মানুষকে আহবান জানানো, অথবা
২. ঐ কবরে যাকে দাফন করা হয়েছে তার অনুসারী হওয়া, কিংবা
৩. যারা কবরকে ব্যবসা কেন্দ্র বানিয়েছে, তাদেরকে পয়সা দেয়া।
-এর কোনোটিই ইসলামে বৈধ নয়। -তবে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করার জন্যে রসূলুল্লাহ সা. কবর যিয়ারত করাকে বৈধ করেছেন।