📄 ৩. ইসলামের ভিত্তি বিধান ও মডেল
ইসলামি জ্ঞান, হিদায়াত ও জীবন পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো: ১. আল্লাহর কালাম আল কুরআন, ২. আখেরি নবী মুহাম্মদ রসূলুল্লাহর সুন্নাহ বা হাদিস।
কুরআন সুন্নাহ প্রদত্ত ইসলামের করণীয় ও পালনীয় বিধানের স্তর সমূহ হলো: ১. ফরয। ২. ওয়াজিব। ৩. নফল। ৪. মুবাহ। এগুলো প্রথম থেকে ক্রমানুসারে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ অবশ্য করণীয়, করণীয়, উত্তম, ঐচ্ছিক।
ইসলামের ভিত্তি ও বিধান সমূহের মডেল হলেন: ১. মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা. এবং ২. সাহাবায়ে কিরামের জামাত বা সমষ্টি।
📄 ৪. ইসলামের দৃষ্টিতে জাহিলিয়াত ও জাহিলিয়াতের বৈশিষ্ট্য
ইসলামের দৃষ্টিতে জাহিলিয়াত হলো: ১. আল্লাহর সম্পর্কে অজ্ঞতা, ২. শিরক, ৩. কুফর এবং মনগড়া (মানব রচিত) মতবাদে বিশ্বাস, ৪. ফিসক, যুলুম, ৫. বিদ'আত।
জাহেলিয়াতের ভিত্তি হলো: ১. অজ্ঞতা, ২. অন্ধ অনুসরণ, ৩. আত্মার দাসত্ব, ৪. স্বার্থপূজা, ৫. ভ্রান্ত রসম রেওয়াজ।
ইসলামের দৃষ্টিতে জাহিলিয়াতের বিধানসমূহ হলো: ১. হারাম (অকাট্য নিষিদ্ধ), অথবা ২. মাকরূহ তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি মন্দ), অথবা ৩. মাকরুহ তানযিহি (মন্দ, তবে নিষিদ্ধ নয়)।
📄 ৫. ইসলামের পথ জাহিলিয়াতের পথ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র
জাহিলিয়াতের কোনো প্রকার মিশ্রণ ইসলাম বরদাশত করেনা। ইসলামের করণীয় বর্জনীয় বর্ণনা করার পর আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ: আর আমার এই (ইসলামের) পথ সরল সঠিক সুদৃঢ় পথ। তোমরা এরি অনুসরণ করো, ভিন্ন পথসমূহের অনুসরণ করোনা; করলে তোমাদেরকে তাঁর (আল্লাহর) পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এ হলো তোমাদের জন্যে আল্লাহর নির্দেশ, যাতে করে তোমরা সতর্ক হও। (সূরা ৬ আনআম: আয়াত ১৫৩)
আল্লাহর পথ ইসলামের অনুসরণের জন্যে তিনি কুরআনকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন:
وَهَذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
অর্থ: আর এ কিতাব আমি নাযিল করেছি মহা কল্যাণময়। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং সাবধান হও। আশা করা যায় তোমাদের প্রতি রহম করা হবে। (সূরা ৬ আনআম: আয়াত ১১৫)
মহান আল্লাহ আরো বলেন:
أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْমٍ يُوقِنُونَ
অর্থ: তারা কি জাহিলিয়াতের বিধি বিধান, নিয়ম কানুন মেনে চলতে চায়? অথচ বিশ্বাসীদের জন্যে বিধান প্রদানে আল্লাহর চাইতে শ্রেষ্ঠ কে? (সূরা ৫ মায়িদা: ৫০)
জাহিলিয়াত পরিত্যাগ করে আল্লাহর পথে চলার জন্যে আল্লাহর রসূলের অনুসরণ অপরিহার্য:
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُوني يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ
অর্থ: হে নবী! তাদের বলে দাও: তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন। (সূরা ৩ আলে ইমরান: আয়াত ৩১)
রসূলুল্লাহ সা. পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন:
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةُ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّينَ ، تَمَسَّكُوْبِهَا وَعَضُوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدَ .
অর্থ: তোমাদেরকে অবশ্যই আমার সুন্নত এবং হিদায়াত প্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত অনুসরণ করে চলতে হবে। তোমরা তা শক্ত করে আঁকড়ে ধরো। ধরবে এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে অটল হয়ে থাকবে। (মুসনাদে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা-ইরবাজ ইবনে সারিয়া রা.)
📄 ৬. হালাল এবং হারাম সুস্পষ্ট, মাঝখানে সন্দেহজনক বিষয়সমূহ
কুরআন এবং হাদিসে হারাম ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সা. বলেন:
الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَالِكَ أُمُورٌ مُسْتَبَهَاتٌ لَا يَدْرِي كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ أَمِنَ الْحَلَالِ هيَ أَمِ الْحَرَامِ؟ فَمَنْ تَرَكَهَا اسْتَبَرَاءَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ فَقَدْ سَلِمَ وَمَنْ وَاقَعَ شَيْئًا مِنْهَا يُوْشِكُ أَنْ يُوَاقِعَ الْحَرَامَ كَمَا أَنَّ مَنْ يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى اوْشَكُ أَنْ يُوَاقِعَه أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكَ حِمَى أَلَا وَإِنْ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ
অর্থ: হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট। এ দুটির মাঝখানে কতিপয় জিনিস সন্দেহপূর্ণ। সেগুলো সম্পর্কে অনেক লোকেরই জানা নেই যে, আসলে তা হালাল না হারাম। এরূপ অবস্থায় যে ব্যক্তি স্বীয় দীন ও স্বীয় মান মর্যাদা রক্ষার জন্যে সেসব থেকে দূরে থাকে, সে নিশ্চয়ই নিরাপদ থাকে। কিন্তু যে ব্যক্তি তন্মধ্য থেকে কোনো কিছুর সাথে জড়িয়ে পড়বে, তার পক্ষে হারামের মধ্যে পড়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। যে ব্যক্তি নিজের জন্তুগুলোকে নিষিদ্ধ চারণভূমির আশে-পাশে চরায়, তার পক্ষে সে নিষিদ্ধ অঞ্চলে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তোমরা শোনো, প্রত্যেক রাজা-বাদশাহরই একটি 'সুরক্ষিত চারণভূমি' থাকে। আরও শোনো, আল্লাহর হারাম করা জিনিসগুলোই তাঁর সংরক্ষিত চারণভূমি। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি)