📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে 📄 অভিভাবকগণ খেয়াল করি

📄 অভিভাবকগণ খেয়াল করি


যে সকল পিতা-মাতাদের সন্তান বড় হয়ে গেছে অর্থাৎ ইউনিভার্সিটি পাশ করে গেছে অথবা বিয়ে-স্বাদী হয়ে গেছে তারা মনে করেন যে, বিষয়টি আমাদের না। আমাদের সন্তানতো বড় হয়েই গেছে, তারা তো পড়াশোনা শেষ করে প্রফেশনাল হয়ে গেছে। আমি এখন আল্লাহ-বিল্লাহ করে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দিব। আমরা কি কখনো গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেছি যে আমার ইউনিভার্সিটি পাশ করা প্রফেশনাল ছেলে বা মেয়ে কি প্রকৃত মুসলিম হয়েছে? তারা কি পরিপূর্ণভাবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন-যাপন করছে? তাদেরকে প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার কি কোন অবদান আছে?
শিশু, বালক, যুবক, বৃদ্ধ সকলের মন এক চলমান মেশিন। এ মেশিন সর্বদা সচেতন ও অবচেতনমনে ইনপুট (Input) গ্রহণ করছে। সে ইনপুট প্রসেস (Process) হয়ে আউটপুট (Output) বেরোয় মানুষের কর্ম ও দৃষ্টিভঙ্গীর মাধ্যমে। ফলে কেউ হয় দানশীল, কেউ উদ্ধত, কেউ হয় আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা আবার কেউ হয় বিপথগামী। আমার শিশু কোন না কোন কিছু শিখছে। প্রতিদিন সে নিত্য নূতন কায়দা রপ্ত করছে। এটা ভাবা যাবে না যে আমরা যদি কিছু না শেখাই তাহলে কোথা হতে সে শিখবে? আসলে এই ধারণাটা ভুল। আশেপাশের পরিবেশ, টিভি, রেডিও, স্কুল-কলেজ, ইন্টারনেট, পত্র-পত্রিকা, আমার আচরণ, আমার স্ত্রীর আচরণ সবকিছু হতে প্রতিনিয়ত সে ইনপুট সংগ্রহ করছে।
সুতরাং আমি কি সতর্ক হবো না? আমি কি চাই না যে আমার শিশুর মনে ভাল উপাদানগুলি বেশী করে ঢুকুক? আমি কি চাই না যে আমার শিশু একজন ভাল একাডেমিক হওয়ার পাশাপাশি একজন ভাল মুসলিম হোক? আমি কি চাই না যে সে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে পিতামাতার মুখ উজ্জ্বল করার পাশাপাশি কুরআন-হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্বীনের উপর অনর্গল বক্তৃতা দিয়ে অমুসলিমদের হিদায়াতের নূর দেখাক?
আসুন চোখ বন্ধ করে খানিক চিন্তা করি। হলিউড বলিউড বা এর অন্ধ অনুসারী অন্য টিভি চ্যানেলগুলি প্রতিনিয়ত মুভি আর বিচিত্র অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে। বলিউডের প্রভাব এখন প্রযুক্তির আশীর্বাদে সর্বত্রই দৃঢ়ভাবে প্রসারিত। আমি এবং আমার সন্তানেরা প্রতিনিয়তই এগুলি হতে মনের খোরাক নিচ্ছি। শিশুরা অনুকরণ প্রিয় হবার কারণে এসব বিনোদনের মৌলিক বিষয়গুলির সাথে খুব সহজে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই তদের মননশীলতার উপর ঐসব উপাদানগুলির স্থায়ী প্রভাব পড়ছে। আসুন এবার চিন্তা করি এসব অখাদ্য কুখাদ্যের (অপসংস্কৃতির) বিপরীতে আমি নিজে ও আমার সন্তানরা কী ইনপুট নিচ্ছি? খোদ হলিউডের জন্মস্থান হতেই এখন এর কুরুচি আর বিকৃত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শ্লোগান উঠেছে। এর বদৌলতে ছেলেমেয়েরা বইয়ের চাইতে বন্দুকের প্রতি বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ড্রাগ, ভায়োলেন্স, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়া ইত্যাদির অবদানে বলিউড সংস্কৃতি বেশ নাম করেছে।
বলিউড সংস্কৃতি আজ এমন এক টর্নেডোর নাম যা সারা বিশ্বের আনাচে কানাচে লজ্জা শরমের অবশিষ্টাংশটুকুও ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে ফেলতে চায়। এক আমেরিকান আইডলই দুনিয়া কাঁপানোর জন্য যথেষ্ট। নিজেকে এবং আমার পরিবারকে এগুলি হতে বিরত রাখার দায়িত্ব আমারই। এটি আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসের গভীরতার উপর নির্ভর করে। তবে সন্তানের চরিত্র গঠনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্ট্রাটেজীর অংশ হিসেবে হলিউড-বলিউডের কুখাদ্যের পাশাপাশি যদি কিছু পুষ্টিকর ভালো খাবার সরবরাহ না করা হয় তাহলে এ সন্তানটি যে কি হবে তা এখন হয়তো আমরা বুঝবো না কিন্তু ভবিষ্যতে যখন বুঝবো তখন আর আমাদের করার কিছু থাকবে না। তখন চিন্তা করে বা চেষ্টা করেও কোন কুলকিনারা করা যাবে না। কারণ আমার শিশু তখন বড় হয়ে যুবক হয়ে গেছে। তার নিজস্ব মূল্যবোধ তৈরী হয়ে গেছে। এখন তার নতুন তাগুতি বিশ্বাস (conviction) ও মূল্যবোধের দাওয়াতী কাজের প্রথম টার্গেট হবো আমি নিজে ও আমারা স্বামী/স্ত্রী। আমরা কবরে বসে তাদের কাছ থেকে কোন দু'আ পাবোনা।
হাইস্কুল পাস মেয়েরা আজকাল নিজেরাই একটা আদর্শ তৈরী করে নেয়। সেটি হতে পারে Rock n Roll এর আদর্শ, কিংবা আমেরিকান আইডলের আদর্শ, কিংবা ইন্ডিয়ান কোন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী গায়ক বা গায়িকার আদর্শ। শুধু তাই নয়, এর বাইরে সব কিছুকে তারা সেকেলে বা নিম্নস্তরের জিনিস বলে মনে করে। শুধু নিজেরা এই আদর্শ অনুসরণ করেই ক্ষান্ত হয়না, অন্যদেরকেও সে আদর্শের অনুসারী বানানোর চেষ্টা করে।
আমরা পিতামাতারা জেগে উঠি, সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে, সঠিক ইসলামী শিক্ষায় নিজেদের ও সন্তানদের দীক্ষিত করার এটাই প্রকৃষ্ট সময়। আর অবহেলা না করি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px