📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) মতবাদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন

📄 ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) মতবাদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন


ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ ইংরেজী Secularism শব্দেরই বাংলা অনুবাদ। ইসলাম হল আল্লাহর অনুমোদিত ধর্ম। আল্লাহ যা যা বানিয়েছেন, শয়তান ঠিক তার উল্টোটা বানিয়েছে। যেমন, আল্লাহ বানিয়েছেন খিলাফত আর শয়তান বানিয়েছে মূলূকীয়া বা রাজতন্ত্র। আল্লাহ বানিয়েছেন যাকাত ব্যবস্থা আর শয়তান বানিয়েছে সুদভিত্তিক অর্থনীতি। আল্লাহ বানিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ইসলাম আর শয়তান বানিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা অজ্ঞতার কারণে বলে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। আসলে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থই হচ্ছে ধর্মহীনতা। বিশ্ববিখ্যাত সব Dictionary থেকে জানা যাক ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ কী?
Random House Dictionary of English Language-র মতেঃ
1. Not regarded as religious form or spiritually sacred - এর অর্থ হল ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বলে বিবেচিত নয়।
2. Not pertaining to or connected with any religion - যা কোন ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয়।
3. Not belonging to any religious order - যা কোন ধর্মবিশ্বাসের অন্তর্গত নয়। এটার নামই হল Secularism.
Chambers Dictionary-র মতেঃ
The belief that the state morals s«ohould be independent of religion. অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ হচ্ছে এমন এক বিশ্বাস যার মতে রাষ্ট্র-নৈতিক শিক্ষা ইত্যাদি সবকিছু অবশ্যই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে মুক্ত হতে হবে।
Oxford Dictionary-র মতেঃ
Secularism means that the doctrine should be based solely on the wellbeing of the mankind in the recent life to the exclusion of all religious considerations drawn from belief in God. - এর অর্থ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ হচ্ছে এমন এক মতবাদ যা আল্লাহতে বিশ্বাস বা পরকালে বিশ্বাস-নির্ভর সমস্ত বিবেচনা থেকে মুক্ত। মানবজাতির বর্তমান কল্যাণ চিন্তার উপর ভিত্তি করে এই নৈতিকতা ও মতবাদ গড়ে উঠবে।
Encyclopedia Britannica-র মতেঃ
1) Secular spirit or tendency especially based on social philosophy that rejects all forms of religious faith. ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ হচ্ছে সেই ধর্মহীন রাজনৈতিক দর্শন যা সকল ধর্মবিশ্বাসকেই প্রত্যাখান করে।
2) The view the public education and other matters of civil society should be conducted without the introduction of religious elements. এমন দৃষ্টিভঙ্গি যা সমাজের শিক্ষা ও অন্যান্য সাধারণ বিষয়গুলো কোন ধর্মীয় বিধান বা অনুশাষণ থেকে মুক্ত অবস্থায় পরিচালিত।
ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য: Dictionary-র সংজ্ঞা তো দেখলাম। এবার আল্লাহ কী বলছেন তা দেখিঃ
"তোমরা কি কুরআনের কিছু অংশ মান আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? জেনে রাখ, তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ আচরণ করবে তাদের এছাড়া আর কী শাস্তি হতে পারে যে তারা পার্থিব জীবনে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে থাকবে এবং পরকালে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে? তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ অবগত আছেন।" (সূরা আল বাকারা ২:৮৫)
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা সলাত, সিয়াম, হাজ্জ, যাকাত মানে কিন্তু কুরআনের বিচার মানে না, কুরআনের অর্থনীতি মানে না, কুরআনের পররাষ্ট্রনীতি মানে না, কুরআনের সমাজনীতি মানে না, রসূল -এর রাজনীতি মানে না। ধর্ম আর রাজনীতিকে তারা আলাদা করে সেজন্য আল্লাহ বলেন, তোমরা কুরআনের কিছু কথাকে করবে বিশ্বাস আর কিছু কথাকে করবে অবিশ্বাস/অস্বীকার - এ কাজটি যদি কর- দুনিয়াতে তোমাদেরকে লাঞ্ছনার জীবন দেয়া হবে - আর দেয়া হবে কিয়ামতে কঠিন শাস্তি (জাহান্নাম)। ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ এমন এক বিষাক্ত মতবাদ যা ঐশ্বরিক নয় - যা সম্পূর্ণ মানব-রচিত - ধর্মদ্রোহী/আল্লাহদ্রোহী মতবাদ একটি কুফরী মতবাদ। রাজনীতি এবং রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদের মূল কথা -
১) রাষ্ট্রনীতির সাথে ধর্ম সংযুক্ত থাকবে না;
২) ধর্ম থাকবে ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ;
৩) রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনায় কোনভাবেই ধর্মকে বিবেচনা করা হবে না;
৪) মুসলিম বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ইসলাম হতে মুক্ত শাসন। ইসলামকে ব্যক্তির জীবনে সীমাবদ্ধ রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে;
৫) ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হচ্ছে রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি তথা সমাজ ও রাষ্ট্রসম্পৃক্ত সকল কিছু থেকে ইসলামকে বর্জন করা। তাই ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ মুসলিম বিশ্বের জন্য এক মারাত্মক অভিশাপ।
আইন করে ধর্মীয় প্রবণতাকে মানুষের ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ রেখে সমাজ জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে আল্লাহ ও রসূলের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার নামই ধর্মনিরপেক্ষতা। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্ত র্জাতিক ক্ষেত্রে ধর্মকে পরিত্যাগ করাই এর লক্ষ্য। সে হিসেবে এ মতবাদকে ধর্মহীনতা বলাই সমীচীন। ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন:
"তারাই সেই লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে বিনষ্ট/নিষ্ফল হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে। তারাই সেই লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য তাদের আমলকে ওজনের কোন মানদন্ড স্থাপন করবো না। জাহান্নামই তাদের প্রতিফল; কারণ তারা কাফির হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করেছে। (সূরা কাহাফ: ১০৪-১০৬)
Secularism-এর যারা পূজারী তাদের চরিত্রে ও তাদের প্রতিটি কর্মের মধ্যে থাকে দুনিয়ার কোন স্বার্থ পূরণের ভাবনা। সে চেতনায় আখিরাতের কোন ভাবনা থাকে না। বস্তুত সেক্যুলারিজমের আভিধানিক অর্থ হলো ইহলৌকিকতা। সে ইহলৌকিক ভাবনা নিয়েই তাদের রাজনীতি এবং তা নিয়েই তাদের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তি। প্রতিটি কর্মের মধ্যে সেক্যুলারিস্টগণ তাই নিজেদের দুনিয়াবী স্বার্থসিদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তির বিষয়টি সর্বাগ্রে দেখেন। স্বার্থলাভ ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি ছাড়া কেউ কোন কাজ করতে পারে এটা তারা ভাবতেও পারে না।
বাস্তবতা: বাংলাদেশে যারা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে কথা বলেন তাদের মূল মাথা ব্যাথা হলো ইসলামকে নিয়ে। এরা অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে খুবই গর্বিত বোধ করে কিন্তু কোন ইসলামী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়াকে খুবই খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। এদের ইচ্ছা হলো সকল ধর্ম তার জায়গা মতোই থাকবে শুধু ইসলামকে বাদ দিতে হবে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 “লাকুম দীনুকুম ওয়াল ইয়াদীন” আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা

📄 “লাকুম দীনুকুম ওয়াল ইয়াদীন” আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা


অনেক বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদ সূরা কাফিরুনের (কুরআনের ১০৯ নম্বর সূরা) শেষের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন। তারা বলেন, আল্লাহ নিজেই তো ধর্মনিরপেক্ষ। তখন তারা সূরা কাফিরুনের শেষ আয়াত quote করে বলেন যে "লাকুম দীনুকুম ওয়াল ইয়াদীন" অর্থাৎ তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার। কিন্তু তারা এই সূরার আগের আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা পড়েন না এবং এই সূরা নাযিলের উদ্দেশ্যই জানেন না। কখন এবং কেন আল্লাহ তাঁর নাবী -কে এই কথা কাফিরদেরকে বলতে বলেছিলেন সে সম্পর্কে এদের কোন ধারণাই নেই। দেখা যাক পুরো সূরাতে আল্লাহ কাফিরদেরকে কী বলছেন। আল্লাহ নাবী মুহাম্মাদ -কে নির্দেশ দিচ্ছেন...
(১) বল: হে কাফিররা! (২) আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা কর। (৩) এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি। (৪) এবং আমি ইবাদতকারী নই তার, যার ইবাদত তোমরা করে আসছো। (৫) এবং তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি। (৬) তোমাদের জন্য তোমাদের কর্মফল (দ্বীন) এবং আমার জন্য আমার কর্মফল (দ্বীন)।
কাফিররা যখন ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করছিল না এবং এক পর্যায়ে তারা রসূল -কে প্রস্তাব দিয়েছিল যে ঠিক আছে, আসুন আমরা একটা চুক্তি করি। আপনি কিছুদিন আমাদের মূর্তি পূজা করবেন তারপর আমরা কিছুদিন আপনার ইসলাম পালন করবো। এর উত্তরে আল্লাহ তা'আলা কঠোর হয়ে বলেছেন ঐ চুক্তির কোন প্রয়োজন নেই, বল তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমার ধর্ম আমার। অর্থাৎ বিধর্মী ও ধর্মহীনরা (যেমন আজকের বুদ্ধিজীবি শ্রেণী) তোমরা তোমাদের ধর্মবিশ্বাস বা অবিশ্বাস নিয়েই থাকো আমরা মুসলিমরা আমাদের ধর্ম নিয়েই থাকব। অতএব এই আয়াত এবং এই সূরা ধর্ম নিরপেক্ষতার সম্পূর্ণ বিপরীত।
এই আয়াতটি বুঝার জন্য আমাদেরকে সবগুলো মক্কী সূরার তাফসীর ভাল করে পড়তে হবে। শুধু মাঝখান থেকে একটি বা দুটি আয়াত নিয়ে quote করলে হবে না কারণ তাতে ভুল ব্যাখ্যার আশংকাই অধিক, যেমনটি আজকাল হচ্ছে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 দেশের উন্নতিতে ইসলাম কি প্রতিবন্ধক?

📄 দেশের উন্নতিতে ইসলাম কি প্রতিবন্ধক?


ব্লগে, টক শো'তে বা পত্র-পত্রিকার আলোচনায় অনেকে বলেন: 'দেশের উন্নয়নের জন্য ধর্মের প্রয়োজন নেই। ধর্ম আরো সমস্যা তৈরী করে। তাই অনেকেই ধর্ম, বিশেষ করে ইসলামের, বিরোধিতা করে থাকে।' আসলে বিষয়টা কি তাই?
আধুনিক যুগে যে সকল দেশ উন্নত হিসেবে বিবেচিত তাদের দিকে একটু তাকিয়ে দেখি। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মকে কিভাবে নিয়েছে। কয়েকটি দেশের উদাহরণ দেখা যাক। তারা ধর্মের সাথে, বিশেষ করে ইসলামের সাথে কেমন আচরণ করেন।
ক্যানাডা
ক্যানাডা পৃথিবীর ৪র্থ শান্তিপ্রিয় এবং একটি অমুসলিম দেশ। আমরা জানি বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, আর স্বাভাবিকভাবেই সে দেশে ইসলামী নীতি পালিত হওয়ার কথা বেশী। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যে আমাদের দেশে আমরা মুসলিম হিসেবে যতটা না ইসলামী নিয়ম-কানুন পালন করি ক্যানাডা একটি অমুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও সেদেশের সরকার আমাদের চেয়ে অনেক বেশী ইসলামী নিয়ম-কানুন পালন করে যাচ্ছে। আমরা মুসলিম হয়ে ইসলামী নিয়ম-কানুন ত্যাগ করেছি আর অমুসলিমরা তা গ্রহণ করে উপকৃত হচ্ছে।
ধর্মীয় অধিকার (Religious rights) : এদেশে প্রত্যেক ধর্মের লোকদের সমান অধিকার। কেউ কারো ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করতে পারবে না বা হেয় করতে পারবে না। যে যার ধর্ম অন্য ধর্মের লোকের নিকট প্রচার করতে পারবে। অর্থাৎ যার যার ধর্ম ঠিক মতো পালন করতে পারবে। যেমন: অফিসে সলাতের সময় হলে সলাতের জন্য সময় দিতে হবে বা রমাদানে ইফতারের জন্য সময় দিতে হবে। আবার কেউ চাইলে যে কারো বাসার দরজায় গিয়ে নক করে তার ধর্মের দাওয়াত দিতে পারে, ধর্মীয় বইপত্র দিতে পারে। অথবা কোন শপিং মলে বা ব্যস্ততম রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যে কেউ যে কোন ধর্মগ্রন্থ বিলি ও ধর্মপ্রচার করতে পারেন।
আইন : কেউ যদি কোন দাড়িওয়ালা মুসলিমকে দাড়ির কারণে রাস্তা-ঘাটে অপমান করে বা টুপি পড়ার জন্য অপমান করে বা কোন মহিলাকে বোরকা পরার জন্য বা নিকাব করার জন্য অপমান করে তাহলে তৎক্ষনাৎ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পদ্ধতি বাস্তবে কার্যকর রয়েছে। তাই অন্য ধর্মের লোকেরাও এই বিষয়ে খুবই সাবধাণতা অবলম্বন করে থাকে। ক্যানাডার মুসলিমরা এখানে সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসেবে গন্য হয়েছে।
স্কুল/কলেজ : ক্যানাডাতে প্রচুর ইসলামিক স্কুল রয়েছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা সেখানে পড়াশোনা করছে, ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। মেয়ে ছাত্রীরা এবং শিক্ষিকারা হিজাব পরে নিয়মিত স্কুল করছে। ইসলামিক সাবজেক্টগুলো শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় অতিরিক্ত মার্ক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।
সংগঠন (অর্গানাইজেশন) : এখানে অনেক ইসলামিক অর্গানাইজেশন রয়েছে যারা ইসলাম প্রচার এবং সামাজিক কর্ম-কান্ড করে থাকে। চাইলেই যে কেউ মিনিস্ট্রি থেকে রেজিস্ট্রেশন করে ইসলামিক অর্গানাইজেশন চালু করতে পারে। এই সকল ইসলামিক অর্গানাইজেশনের সদস্য হয়ে হাজার হাজার নরনারী সমাজসেবামূলক কাজকর্ম করছেন। এই ধরণের কাজের জন্য ইমিগ্রেশন মিনিষ্টার সরকারীভাবে প্রতি বছর এওয়ার্ড পুরষ্কার দিয়ে থাকেন।
ইনস্টিটিউশন : এখানে অনেক হালাল ফাইনানসিয়াল ইনস্টিটিউশন রয়েছে। যারা সুদমুক্ত অর্থনীতির কারবার করে থাকে। যেমন সুদবিহীন লোন দিয়ে বাড়ি কেনা, সুদমুক্ত পেনশন স্কিম, ছাত্রদের জন্য সুদমুক্ত এডুকেশন স্কিম এবং হালাল ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিস রয়েছে।
সিঙ্গাপুর ওদেশে সরকার চালান মূলতঃ সংখ্যাগরিষ্ঠ চাইনিজ অরিজিনের লোকেরা। ইসলাম ধর্মের বিরোধিতা করে না তাঁরা। কিন্তু তাঁরা মুসলিমদের কী পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না। সিঙ্গাপুরে বসবাসরত যেকোন পরিবারের সাথে কথা বললেই তা জানা যায়। বিশাল বিশাল মসজিদ বানিয়ে সরকারী বেতন দিয়ে খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের রাখা হয়েছে সলাত আদায় করানোর জন্য। প্রতিটি এলাকাতেই একটি করে মসজিদ রয়েছে এবং প্রতিটি মসজিদেই রয়েছে আফটার স্কুল মাদ্রাসা। মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বৃত্তি দেয়া হয় আরব দেশে গিয়ে কুরআন অধ্যয়নের জন্য, ইসলাম শেখার জন্যে। মুসলিমদের নানা রকম সেবা দেয়ার জন্য সিঙ্গাপুর সরকারের মন্ত্রনালয়ে 'মুইস' নামক একটি বিভাগ রয়েছে। মুসলিমদের জন্য সর্বত্রই হালাল খাবার পাওয়া যায়। এজন্য হালাল মনিটরিং অথরিটি রয়েছে যারা মুসলিমদের জন্য হালাল মাংস এবং অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের পরীক্ষার পর সার্টিফিকেশন দিয়ে থাকে এবং প্যাকেটের গায়ে লিখা থাকে 'হালাল'।
অস্ট্রিয়া অস্ট্রিয়া যদিও একটা সেকিউল্যার দেশ, কিন্তু সেখানে সকল ধর্মকে আন্ত রিকভাবেই সম্মান করা হয়। যদি কোন সরকারী স্কুলের কোন ক্লাসে ৬-৭ জন মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীও থাকে, তাদের জন্যে স্কুলের পক্ষ থেকেই একজন ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে ইসলাম শিক্ষা দেয়া হয়।
ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ড একটা সেকিউল্যার দেশ। তারপরও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন বলে থাকেন- এই ইংল্যান্ড খৃষ্টানদের। তারপরও কেউ ইসলামসহ অন্য কোন ধর্মকে প্রকাশ্যে অবমাননা করলে তার শাস্তির বিধান আছে এবং শাস্তি দেয়াও হয়। বাংলাদেশে এখনো মাত্র তিনটি সরকারী মাদ্রাসা। কিন্তু ইংল্যান্ড সরকারী মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক।
ইংল্যান্ডের ইস্ট লন্ডন এলাকায় গেলে মনে হবে কোন মুসলিম দেশে প্রবেশ করেছি। চারিদিকে দাড়ি-টুপিওয়ালা লোক। প্রচুর মসজিদ এবং ইসলামিক স্কুল। সেখানে মাইকে আযান দেয়া হয়। মুসলিমদের নামে পার্ক এবং রাস্তা রয়েছে। ইস্ট লন্ডনের রাস্তায় যতো হিজাব পরিহিতা মহিলা দেখা যায় তা মুসিলমদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায়ও দেখা যায় না।
আমরা বিভিন্ন উন্নত দেশের সরকারগুলোর ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি মনোভাব ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানলাম। এর বিপরীতে যদি মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের অবস্থা চিন্তা করি? লেখক নিয়মিত ক্যানাডার টরোন্টো শহরের ব্যস্ততম রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ইসলাম প্রচার করেন, ইসলামী বইপুস্তক ও কুরআন অমুসলিমদের মাঝে বিলি করেন। অসংখ্য লোক এই জায়গায় (ইটন সেন্টার) দাঁড়িয়ে মুসলিম হয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ।
বাংলাদেশ উন্নত হবার জন্যে ধর্মের বা ইসলামের দরকার আছে কি-না, বা কতটুকু দরকার আছে তা নিয়ে হয়ত আলোচনা বা বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু একটা বিষয়ে কোন দ্বিমত করার সুযোগ নেই যে, ধর্মের বিরোধিতা করে দেশকে কোন ক্রমেই উন্নত করা যায় না। আমাদের সম্মানিত রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদেরকে এই সহজ সত্যটা বুঝতে হবে। এখনো সময় আছে। তা না হলে আমাদেরকে আরো জঘন্য পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00