📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলামের উদারতা

📄 অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলামের উদারতা


একটি মুসলিম দেশে ইসলাম মুসলিমকে শুধু অমুসলিমদের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতেই বলে না, রাষ্ট্রে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সুখ-সমৃদ্ধিও নিশ্চিত করে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর একাধিক স্থানে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার তুলে ধরা হয়েছে। অমুসলিমরা নিজ নিজ উপাসনালয়ে উপাসনা করবেন। নিজ ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মালয়কে সুরক্ষিত রাখবেন। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার সমান। তাদের প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য ইসলাম সহ্য করে না। যেসব অমুসলিমের সঙ্গে কোনো সংঘাত নেই, যারা শান্তি পূর্ণভাবে মুসলিমদের সঙ্গে বসবাস করেন তাদের প্রতি বৈষম্য দেখানো নয়; বরং ইনসাফ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
আল্লাহ নিষেধ করেন না ঐ লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয়নি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন। (সূরা আল-মুমতাহিনা: ৮)
আল্লাহ তা'আলা ঈমানের দাবিদার প্রতিটি মুসলিমকে নির্দেশ দিয়েছেন পরমতসহিষ্ণুতা ও পরধর্মের বা মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে। আল্লাহ ইরশাদ করেন,
তারা আল্লাহ তা'আলার বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি দিয়ো না, নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না জেনে আল্লাহ তা'আলাকেও গালি দেবে। আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের কার্যকলাপ সুশোভনীয় করে রেখেছি, অতঃপর সবাইকে একদিন তার মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, তারপর তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা দুনিয়ার জীবনে কে কী কাজ করে এসেছে। (সূরা আল আন'আম : ১০৮)
কোনো বিধর্মী উপসনালয়ে সাধারণ অবস্থা তো দূরের কথা যুদ্ধাবস্থায়ও হামলা করা যাবে না। কোনো পুরোহিত বা পাদ্রীর প্রতি অস্ত্র তাক করা যাবে না। কোনো উপসনালয় জ্বালিয়ে দেয়া যাবে না। হাবীব ইবন অলীদ থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ সৈন্যদল প্রেরণকালে বলতেন,
'তোমরা আল্লাহ ও আল্লাহর নামে আল্লাহর পথে যাত্রা কর। তোমরা আল্লাহর প্রতি কুফরকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আমি তোমাদের কয়েকটি উপদেশ দিয়ে প্রেরণ করছি : (যুদ্ধক্ষেত্রে) তোমরা বাড়াবাড়ি করবে না, ভীরুতা দেখাবে না, (শত্রুপক্ষের) কারো চেহারা বিকৃতি ঘটাবে না, কোনো শিশুকে হত্যা করবে না, কোনো গির্জা জ্বালিয়ে দেবে না এবং কোনো বৃক্ষও উৎপাটন করবে না।' [আবদুর রাযযাক, মুসান্নাফ # ৯৪৩০]
মুতার যুদ্ধে রওয়ানার প্রাক্ককালে রসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাহিনীকে নির্দেশ দেন: 'তোমরা কোনো নারীকে হত্যা করবে না, অসহায় কোনো শিশুকেও না; আর না অক্ষম বৃদ্ধকে। আর কোনো গাছ উপড়াবে না, কোনো খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দেবে না। আর কোনো গৃহও ধ্বংস করবে না।' [সহীহ মুসলিম # ১৭৩১]
আরেক হাদীসে আছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রসূলুল্লাহ ﷺ নিজের কোনো বাহিনী প্রেরণ করলে বলতেন, 'তোমরা গির্জার অধিবাসীদের হত্যা করবে না।' [ইবন আবী শাইবা, মুসান্নাফ # ৩৩৮০৪; কিতাবুল জিহাদ, যুদ্ধক্ষেত্রে যাদের হত্যা করা নিষেধ অধ্যায়]
আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুও রসূলুল্লাহ ﷺ -কে অনুসরণ করেছেন। আপন খিলাফতকালে প্রথম যুদ্ধের বাহিনী প্রেরণ করতে গিয়ে তিনি এর সেনাপতি উসামা ইবন যায়েদ রাদিআল্লাহু আনহুর উদ্দেশে বলেন,
'হে লোক সকল, দাঁড়াও, আমি তোমাদের দশটি বিষয়ে উপদেশ দেব। আমার পক্ষ হিসেবে কথাগুলো তোমরা মনে রাখবে। কোনো খিয়ানত করবে না, বাড়াবাড়ি করবে না, (শত্রুদের) অনুরূপ করবে না, ছোট বাচ্চাকে হত্যা করবে না, বয়োবৃদ্ধকেও না আর নারীকেও না। খেজুর গাছ কাটবে না কিংবা তা জ্বালিয়েও দেবে না। কোনো ফলবতী গাছ কাটবে না। আহারের প্রয়োজন ছাড়া কোনো ছাগল, গরু বা উট জবাই করবে না। আর তোমরা এমন কিছু লোকের সামনে দিয়ে অতিক্রম করবে যারা গির্জাগুলোয় নিজেদের ছেড়ে দিয়েছে। তোমরাও তাদেরকে তাদের এবং তারা যা ছেড়ে নিজেদের জন্য তাতে ছেড়ে দেবে। [মুখতাসারু তারীখি দিমাশক # ১/৫২; তারীখুত তাবারী]
কোনো মুসলিম যদি কোনো অমুসলিমের প্রতি অন্যায় করেন, তবে কিয়ামতের দিনে নাবী তার বিপক্ষে লড়বেন বলে হাদীসে এসেছে। একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
'সাবধান! যদি কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিম নাগরিকের উপর নিপীড়ন চালিয়ে তার অধিকার খর্ব করে, তার ক্ষমতার বাইরে কষ্ট দেয় এবং তার কোনো বস্তু জোরপূর্বক নিয়ে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ উত্থাপন করব।' [আবু দাউদ # ৩০৫২]
অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু 'আনহু) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
'যে মুসলিম কর্তৃক নিরাপত্তা প্রাপ্ত কোনো অমুসলিমকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ তার ঘ্রাণ পাওয়া যায় চল্লিশ বছরের পথের দূরত্ব থেকে'। [সহীহ বুখারী # ৩১৬৬]
আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবী বাকরা (রাদিয়াল্লাহু 'আনহু) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি চুক্তিতে থাকা কোনো অমুসলিমকে অসময়ে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন'। [আবূ দাউদ # ২৭৬০; নাসাঈ # ৪৭৪৭, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
ঐতিহাসিক বিদায় হাজ্জের দীর্ঘ ভাষণে রসূলুল্লাহ সমাজ ও রাষ্ট্রের সব দিক ও বিভাগ সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি মাতাপিতার হক, সন্তান-সন্ততির হক, আত্মীয়-স্বজনদের হক, অনাথ ও দরিদ্রদের হক, প্রতিবেশীর হক, মুসাফিরের হক, চলার পথের সঙ্গী বা পথচারীর হক, দাস-দাসী বা চাকর- চাকরানীর হক এমনকি ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমের হক সম্পর্কেও নির্দেশনা দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজে মুসলিমদের কাছে অমুসলিমদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে আমানত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মুসলিমদের তিনি অমুসলিমদের নিরাপত্তা দানের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনে অমুসলিমদের জান-মালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের ইজ্জত-আব্রু ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার জন্য প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ অমুসলিম জনগোষ্ঠীও মানুষ, তারাও আল্লাহর বান্দা। ইসলাম সম্পর্কে তারা ভুল বা বিভ্রান্তির শিকার হলে তাদের প্রতি আক্রমণ না করে তাদেরকে মূল সত্য এবং ইসলামের মহানুভবতা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
ইসলামের দৃষ্টিকোণে দুনিয়ায় মানুষের প্রাণ হরণ কিংবা জীবন নাশের চেয়ে বড় অপরাধ আর হয় না। পবিত্র কুরআনে তাই একজন মানুষের হত্যাকে পুরো মানবজাতির হত্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল। (সূরা আল-মায়িদা : ৩২)
মানুষের প্রাণহানী ঘটানোকে যেখানে বলা হয়েছে পুরো মানব জাতিকে হত্যার সমতুল্য, সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকে গণ্য করা হয়েছে হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ হিসেবে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
আর ফিতনা হত্যার চেয়েও গুরুতর। (সূরা আল-বাকারা : ১৯১)
আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামের শান্তিপূর্ণ ও উদারনৈতিক শিক্ষার সৌজন্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পরমতসহিষ্ণুতার জন্য বরাবর সারা বিশ্বের সুনাম কুড়িয়েছে। এ দেশের মুসলিম জনগণ সবসময় তাদের ধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী অন্য ধর্মের লোকদের সঙ্গে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ দেশে মসজিদ-মন্দিরে পাশাপাশি স্ব-স্ব ধর্মের ইবাদত হয়। পবিত্র রমাদান মাসে হিন্দুরা সাড়ম্বরে অষ্টমী পালন করে। খ্রিস্টানরা জাঁকজমকভাবে বড়দিন উদযাপন করেন। বৌদ্ধ ও অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিবাদে পালন করেন।
পক্ষান্তরে আমাদের নিকট প্রতিবেশী ভারতে ক'দিন পরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু কর্তৃক মুসলিমরা আক্রান্ত হন, আরেক প্রতিবেশী মিয়ানমারে এই সেদিনও রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে সাধারণ বৌদ্ধ থেকে নিয়ে শান্তিপ্রিয় হিসেবে খ্যাত ভিক্ষুরা পর্যন্ত নির্বিচার হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালাল মুসলিমের বিরুদ্ধে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। নারী-শিশু-বৃদ্ধকে অকাতরে হত্যা করা হয়েছে। এ দেশের কোটি মুসলিমের হৃদয় কেঁদেছে তখন, তবে কেউ এ দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু বা বৌদ্ধদের উপর সে ক্ষোভ দেখান নি।
আমেরিকায় মহানবী ﷺ -কে অবমাননা করে চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘটনায় যখন সারা বিশ্ব উত্তাল, বিশ্বের দুইশ' কোটি মুসলিমের হৃদয়ে যখন জ্বলছে ক্ষোভের দাবানল, তখন একের পর এক ফ্রান্সের সাপ্তাহিকে, তারপর স্পেনের একটি ম্যাগাজিনে মহানবীর ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশের ঘটনা বিশ্ব মুসলিমকে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। বাকস্বাধীনতার নামে অন্যের পবিত্র ধর্মানুভূতিতে আঘাত কোনো ধর্মই অনুমোদন করে না। তারপরও ঘটছে এমন ঘটনা। স্বল্প বিরতিতে ক'দিন পরপরই ঘটছে এর পুনরাবৃত্তি।
একজনের অপরাধে দশজনকে শাস্তি দেয়া অনুমোদিত নয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
হে মু'মিনগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে সদা দণ্ডায়মান হও। কোনো কওমের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে কোনোভাবে প্ররোচিত না করে যে, তোমরা ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ কর, তা তাকওয়ার নিকটতর। এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত। (সূরা আল-মায়িদা: ৮)
সরকারের কর্তব্য হলো ইসলাম অবমাননার সকল পথ বন্ধ করে ও অপরাধীকে তাৎক্ষণিক শাস্তির আওতায় এনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ধ্বংসের যে কোন উস্কানিকে অংকুরেই বিনষ্ট করতে হবে। ফলে এ ধরনের ঘটনা থেকে দেশি- বিদেশি যে ষড়যন্ত্রকারী মহল ফায়দা লুটতে চায়, তাদেরও গতি রোধ করা সম্ভব হবে। সর্বোপরি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সদাচার ও সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য- সম্প্রীতির বন্ধনকে অটুট রাখতে সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
আল্লাহ সকল মুসলিমকে ইসলামের উদারতা ও মহানুভবতা সবার সামনে তুলে ধরার তাওফীক দান করুন। আমীন।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 মোঘল সম্রাট আকবরের দ্বারা ইসলামের ক্ষতিসাধন

📄 মোঘল সম্রাট আকবরের দ্বারা ইসলামের ক্ষতিসাধন


আমরা অনেকেই মোঘল সম্রাটদের সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানি না। আমাদের ধারণা মোঘল সম্রাট আকবরের ইসলামের প্রতি অনেক অবদান। এবার সম্রাট আকবরের অবদান সম্পর্কে একটু জানা যাক। সম্রাট আকবর তাঁর রাজত্বের প্রাথমিক পর্যায়ে 'আলিম-'উলামা ও আওলিয়া কিরামের সাহচর্য গ্রহণ করে একজন নিষ্ঠাবান সুন্নী মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে গিয়ে পৌঁছে এবং তার দ্বারা হিন্দুস্তানের মুসলিমদের যে অপূরণীয় স্বার্থহানি ঘটে এবং দ্বীন-ইসলামের ক্ষতিসাধিত হয় তার প্রতিক্রিয়া আজ অবধি বিদ্যমান।
অধ্যাদেশ বা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আকবর ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভ করেন। এতে তাকে আইনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ বলে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং এ বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ আলিমগণের পরামর্শ গ্রহণ করতে মোটেই বাধ্য নন, বরং তাঁরাই তার নির্দেশ শিরোধার্য করতে বাধ্য। মোল্লা মুবারক অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দলীল দ্বারা আকবারের অন্তরে তার বক্তব্য বদ্ধমূল করেন। এখান হতেই আকবরের ধর্মবিমুখতা বরং ধর্মদ্রোহিতার প্লাবণ শুরু হয়। তিনি নিত্য নূতন ফরমান জারী করে দ্বীন ইসলামের মর্মমূলে কুঠারাঘাত হানতে থাকেন এবং ১৫৯২ খৃ. নাগাদ দ্বীন-ই-ইলাহীর ভিত্তি স্থাপন করেন। উদাহরণস্বরূপ এখানে তার ধর্মবিরোধী কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ করা হলো।
মুশরিক রমণীদের বিবাহ: সম্রাট আকবর কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ লংঘন করে হিন্দু রমণীদের কেবল বিবাহ-ই করেননি, রাজকীয় অন্দরমহলে তাদের পূজা পার্বণ অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাও করে দেন। তার এক স্ত্রী ছিল রাজা বিহারী মলের কন্যা ও রাজা ভগবান দাসের ভগ্নী। তার অপর স্ত্রী ছিল যোধপুরের রানী যোধবাই। এসব রমণী আকবরের ধর্মচ্যুতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এ সকল রমণীর প্রভাবে আকবর হিন্দু ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি মারাত্মকভাবে ঝুঁকে পড়েন এবং হিন্দু যোগীদের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেন, এমনকি তাদের জন্য তিনি যোগীপুরা নামে একটি স্বতন্ত্র আবাসিক এলাকা নির্মাণ করেন এবং রাজকোষ হতে তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেন। তিনি এমন কিছু মুদ্রাও চালু করেন যাতে হিন্দুদের দেব-দেবীর মূর্তি অঙ্কিত ছিল।
হিন্দু ধর্মের প্রতি আকবরের আকর্ষণ লক্ষ্য করে হিন্দু ব্রাক্ষ্মণগণ তাদের সাধ্য হাসিলের পরিকল্পনা মাফিক তাদের পুরাতন পুঁথি-পুস্তক হতে আকবরকে তথাকথিত ভবিষ্যদ্বাণী পড়ে শুনায় যে, হিন্দুস্তানে একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক জন্মগ্রহণ করবেন যিনি গাভী ও ব্রাহ্মণদিগকে সম্মান করবেন। তাদের মুখে এ কথা শুনে এবং অতি পুরাতন দস্তাবেয দেখে আকবর ব্রাহ্মণদের প্রতি আরও অধিক শ্রদ্ধাবনত হন এবং গাভীর পতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করতে থাকেন। এবং হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসমতে প্রতি বুধবার এবং দেওয়ালী অনুষ্ঠান উপলক্ষে গাভীদর্শনকে সৌভাগ্যের কারণ মনে করতেন। এভাবে হিন্দু মানসিকতায় প্রভাবিত হয়ে আকবর গরু যবেহ করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং এর গোবরকে পবিত্র বস্তু ঘোষণা করেন।
কোন কোন ব্রাহ্মণ আকবরের মনে বদ্ধমূল করে দেয় যে, একবার খোদা (নাউযু বিল্লাহ) শূকরের রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাই শূকর দর্শন সৌভাগ্যের কারণ হয়ে থাকে। চাঁদ সূরী নামক এক জৈন ধর্মগুরুর প্রভাবে আকবর পিয়াজ-রসুন ভক্ষণ ত্যাগ করেন। হিন্দুদের প্রভাবে আকবর সূর্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেন। হিন্দু ব্রাহ্মণগণ তাকে এ ধারণা প্রদান করেন যে, সূর্যদেবতা রাজা-বাদশাহদের পৃষ্ঠপোষক। তাই এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিৎ। সূর্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আকবরকে অগ্নিপূজার স্তরে নামিয়ে দেয়। আকবারের আমলে 'দর্শনিয়া' নামে একটি ফেরকার উদ্ভব ঘটে। তারা বাদশাহ আকবরের দর্শন লাভ না করা পর্যন্ত দাঁত মাজত না এবং আহারও গ্রহণ করত না। বাদশাহ সূর্য দেবতার এক সহস্র নাম জপ করার পর ঝরোকায় প্রবেশ করা মাত্র তারা সিজদাবনত হতো।
যেহেতু হিন্দু ধর্মে সূদের ব্যবসা হারাম নয়, তাই আকবর সূদী কারবার হালাল ঘোষণা করেন। হিন্দু ধর্মমতে রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ বন্ধন নিষিদ্ধ হওয়ায় আকবর মুসলিমদের জন্যও চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ও মামাতো বোনকে বিবাহ না করার হুকুম জারী করেন। আকবর শাহী দরবারে এবং শাহী মহলে নামায আদায় করার উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেন। হিন্দুদের বরাতের দিন মুসলিমদের প্রকাশ্যে পানাহারের অনুমতি ছিল না, কিন্তু রমাদানে হিন্দু ও মুসলিমদের জন্য প্রকাশ্যে পানাহারের অনুমতি ছিল।
মোটকথা আকবর হিন্দুদিগের অসংখ্য রসম-রেওয়াজের অনুসারী হয়ে পড়েন। তার মাতা ইনতিকাল করলে তিনি হিন্দু রেওয়াজ মুতাবিক ভদরা করান।
মোঘল সম্রাট আকবর ভারত উপমহাদেশে ইসলামের যে ক্ষতি সাধন করে গেছেন তার প্রভাব আজও আমাদের মুসলিম সমাজ বয়ে যাচ্ছে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 'সাম্প্রদায়িকতা' শব্দের অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন

📄 'সাম্প্রদায়িকতা' শব্দের অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন


পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ পালিত হয়। বাংলাদেশে ঢাকায় এবং অন্য অনেক স্থানে বাংলা নববর্ষ উৎসাহের সাথে পালিত হয়। পরের দিন একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রথম পাতায় চার কলাম হেডিং দেয়া হয়। হেডিংটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। 'সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িকতা নয়' (Harmony, not Communalism)।
এ শিরোনামে বাংলাদেশের সেক্যুলার মহল এবং অতি সেক্যুলার পত্রপত্রিকার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পাচ্ছে। এখানে 'সাম্প্রদায়িকতা' শব্দটি এ শিরোনামে কেন ব্যবহার করা হয়েছে: বাংলাদেশে সাধারণভাবে যে অর্থে 'সাম্প্রদায়িকতা' শব্দটি ব্যবহার করা হয় তার আলোকে দেখলে এর অর্থ হচ্ছে, এ কথা বলা যে- বাংলা নববর্ষ উৎসবকে কোনোভাবেই ইসলাম প্রভাবিত করেনি। তাই এটাতে সম্প্রীতি প্রকাশ পেয়েছে, সাম্প্রদায়িকতা নয়।
চিরদিনই বাংলাদেশের সেক্যুলার পত্রপত্রিকার ইসলামবিরোধী, ধর্মবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। কেননা এ দেশের ৮৩ ভাগ মুসলিমসহ ১০০ ভাগ জনগণ সবাই ধর্মেবিশ্বাসী ও নৈতিকতায় বিশ্বাসী; এখান থেকে বাদ যেতে পারে মাত্র কয়েক হাজার লোক।
সেক্যুলার পত্রপত্রিকা নারী সম্পর্কিত বা মানবাধিকার সংক্রান্ত ইসলামী শিক্ষাকে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়। এসব সেক্যুলার পত্রপত্রিকা বিশেষ করে নারী ও যুবকদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চায়। তারা ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশাকে উৎসাহিত করে, যার ফলে ব্যভিচার বৃদ্ধি পায়। এসব কোনো ধর্মেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এমন সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে উৎসাহিত করে, যেখানে অনেক অশ্লীলতা থাকে এবং মেয়েদের শরীর প্রদর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেম হয়। এভাবে তারা নারীকে পণ্যে পরিণত করে।
এখন সম্প্রদায় (Community) সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। সব মানুষই কোনো না কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ। মুসলিমরাও তাই। স্বাভাবিকভাবেই সব সম্প্রদায় তাদের লক্ষ্য কার্যকর করার চেষ্টা করবে। মুসলিমরাও তাদের সম্প্রদায় বা সমাজের লক্ষ্য কার্যকর করার চেষ্টা করবে। স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমরা তাদের উৎসবকে তাদের ধর্মের আলোকে পালন করবে। মুসলিমদের পরিচয় ইসলাম দ্বারা; তাদের বিশ্বাস, আইন ও সংস্কৃতি দ্বারা নির্ধারিত।
মুসলিমরা তাদের উৎসবে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা, প্রকাশ্যে বয়স্ক মেয়েদের নাচ বা কোনো ধরনের শিরকের অন্তর্ভুক্তি অনুমোদন করে না। তারা মঙ্গলপ্রদীপ বা মঙ্গলশোভাযাত্রা চায় না। প্রদীপ থেকে কোনো মঙ্গল আসে না। মঙ্গল আসে কেবল স্রষ্টার কাছ থেকে। তেমনিভাবে অশালীন পোশাক ও বড় বড় পশুর মূর্তিসহ শোভাযাত্রা কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। যদি এগুলো গ্রহণ না করা হয় তাহলে সেকিউলার পত্রপত্রিকার মতে তা হয়ে যায় সাম্প্রদায়িকতা। যদি এগুলো মেনে নেয়া হয় তা হলে তা হয় সম্প্রীতি (harmony)।
স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে ৮৩% মুসলিম বাস করার কারণে সব উৎসবই ইসলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিত। উৎসবগুলোতে যদি নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা হয়, তাহলে তা অধিকতর শালীন হয় এবং কোনো ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হয় না। কারণ অশালীন পোশাক, অবাধ মেলামেশা কোন ধর্মেরই অংশ নয়। পহেলা বৈশাখে আগের মতো নানা রকম মেলা হওয়া, খেলাধুলা হওয়া, ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা এবং দরিদ্রদের এ আনন্দে শরীক করলে এই অনুষ্ঠানটি আবার সর্বাঙ্গসুন্দর ও সফল একটি উৎসবে পরিণত হবে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) মতবাদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন

📄 ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) মতবাদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন


ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ ইংরেজী Secularism শব্দেরই বাংলা অনুবাদ। ইসলাম হল আল্লাহর অনুমোদিত ধর্ম। আল্লাহ যা যা বানিয়েছেন, শয়তান ঠিক তার উল্টোটা বানিয়েছে। যেমন, আল্লাহ বানিয়েছেন খিলাফত আর শয়তান বানিয়েছে মূলূকীয়া বা রাজতন্ত্র। আল্লাহ বানিয়েছেন যাকাত ব্যবস্থা আর শয়তান বানিয়েছে সুদভিত্তিক অর্থনীতি। আল্লাহ বানিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ইসলাম আর শয়তান বানিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা অজ্ঞতার কারণে বলে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। আসলে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থই হচ্ছে ধর্মহীনতা। বিশ্ববিখ্যাত সব Dictionary থেকে জানা যাক ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ কী?
Random House Dictionary of English Language-র মতেঃ
1. Not regarded as religious form or spiritually sacred - এর অর্থ হল ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বলে বিবেচিত নয়।
2. Not pertaining to or connected with any religion - যা কোন ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয়।
3. Not belonging to any religious order - যা কোন ধর্মবিশ্বাসের অন্তর্গত নয়। এটার নামই হল Secularism.
Chambers Dictionary-র মতেঃ
The belief that the state morals s«ohould be independent of religion. অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ হচ্ছে এমন এক বিশ্বাস যার মতে রাষ্ট্র-নৈতিক শিক্ষা ইত্যাদি সবকিছু অবশ্যই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে মুক্ত হতে হবে।
Oxford Dictionary-র মতেঃ
Secularism means that the doctrine should be based solely on the wellbeing of the mankind in the recent life to the exclusion of all religious considerations drawn from belief in God. - এর অর্থ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ হচ্ছে এমন এক মতবাদ যা আল্লাহতে বিশ্বাস বা পরকালে বিশ্বাস-নির্ভর সমস্ত বিবেচনা থেকে মুক্ত। মানবজাতির বর্তমান কল্যাণ চিন্তার উপর ভিত্তি করে এই নৈতিকতা ও মতবাদ গড়ে উঠবে।
Encyclopedia Britannica-র মতেঃ
1) Secular spirit or tendency especially based on social philosophy that rejects all forms of religious faith. ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ হচ্ছে সেই ধর্মহীন রাজনৈতিক দর্শন যা সকল ধর্মবিশ্বাসকেই প্রত্যাখান করে।
2) The view the public education and other matters of civil society should be conducted without the introduction of religious elements. এমন দৃষ্টিভঙ্গি যা সমাজের শিক্ষা ও অন্যান্য সাধারণ বিষয়গুলো কোন ধর্মীয় বিধান বা অনুশাষণ থেকে মুক্ত অবস্থায় পরিচালিত।
ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য: Dictionary-র সংজ্ঞা তো দেখলাম। এবার আল্লাহ কী বলছেন তা দেখিঃ
"তোমরা কি কুরআনের কিছু অংশ মান আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? জেনে রাখ, তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ আচরণ করবে তাদের এছাড়া আর কী শাস্তি হতে পারে যে তারা পার্থিব জীবনে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে থাকবে এবং পরকালে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে? তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ অবগত আছেন।" (সূরা আল বাকারা ২:৮৫)
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা সলাত, সিয়াম, হাজ্জ, যাকাত মানে কিন্তু কুরআনের বিচার মানে না, কুরআনের অর্থনীতি মানে না, কুরআনের পররাষ্ট্রনীতি মানে না, কুরআনের সমাজনীতি মানে না, রসূল -এর রাজনীতি মানে না। ধর্ম আর রাজনীতিকে তারা আলাদা করে সেজন্য আল্লাহ বলেন, তোমরা কুরআনের কিছু কথাকে করবে বিশ্বাস আর কিছু কথাকে করবে অবিশ্বাস/অস্বীকার - এ কাজটি যদি কর- দুনিয়াতে তোমাদেরকে লাঞ্ছনার জীবন দেয়া হবে - আর দেয়া হবে কিয়ামতে কঠিন শাস্তি (জাহান্নাম)। ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ এমন এক বিষাক্ত মতবাদ যা ঐশ্বরিক নয় - যা সম্পূর্ণ মানব-রচিত - ধর্মদ্রোহী/আল্লাহদ্রোহী মতবাদ একটি কুফরী মতবাদ। রাজনীতি এবং রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদের মূল কথা -
১) রাষ্ট্রনীতির সাথে ধর্ম সংযুক্ত থাকবে না;
২) ধর্ম থাকবে ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ;
৩) রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনায় কোনভাবেই ধর্মকে বিবেচনা করা হবে না;
৪) মুসলিম বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ইসলাম হতে মুক্ত শাসন। ইসলামকে ব্যক্তির জীবনে সীমাবদ্ধ রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে;
৫) ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হচ্ছে রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি তথা সমাজ ও রাষ্ট্রসম্পৃক্ত সকল কিছু থেকে ইসলামকে বর্জন করা। তাই ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ মুসলিম বিশ্বের জন্য এক মারাত্মক অভিশাপ।
আইন করে ধর্মীয় প্রবণতাকে মানুষের ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ রেখে সমাজ জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে আল্লাহ ও রসূলের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার নামই ধর্মনিরপেক্ষতা। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্ত র্জাতিক ক্ষেত্রে ধর্মকে পরিত্যাগ করাই এর লক্ষ্য। সে হিসেবে এ মতবাদকে ধর্মহীনতা বলাই সমীচীন। ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন:
"তারাই সেই লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে বিনষ্ট/নিষ্ফল হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে। তারাই সেই লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য তাদের আমলকে ওজনের কোন মানদন্ড স্থাপন করবো না। জাহান্নামই তাদের প্রতিফল; কারণ তারা কাফির হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করেছে। (সূরা কাহাফ: ১০৪-১০৬)
Secularism-এর যারা পূজারী তাদের চরিত্রে ও তাদের প্রতিটি কর্মের মধ্যে থাকে দুনিয়ার কোন স্বার্থ পূরণের ভাবনা। সে চেতনায় আখিরাতের কোন ভাবনা থাকে না। বস্তুত সেক্যুলারিজমের আভিধানিক অর্থ হলো ইহলৌকিকতা। সে ইহলৌকিক ভাবনা নিয়েই তাদের রাজনীতি এবং তা নিয়েই তাদের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তি। প্রতিটি কর্মের মধ্যে সেক্যুলারিস্টগণ তাই নিজেদের দুনিয়াবী স্বার্থসিদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তির বিষয়টি সর্বাগ্রে দেখেন। স্বার্থলাভ ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি ছাড়া কেউ কোন কাজ করতে পারে এটা তারা ভাবতেও পারে না।
বাস্তবতা: বাংলাদেশে যারা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে কথা বলেন তাদের মূল মাথা ব্যাথা হলো ইসলামকে নিয়ে। এরা অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে খুবই গর্বিত বোধ করে কিন্তু কোন ইসলামী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়াকে খুবই খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। এদের ইচ্ছা হলো সকল ধর্ম তার জায়গা মতোই থাকবে শুধু ইসলামকে বাদ দিতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00