📄 বিদ্আত পালন করার প্রভাব
বিদ'আত কথাটা আমরা সবাই হয়তো শুনেছি কিন্তু এর অর্থ কি আমরা জানি? যে সব ধরনের কাজ বা অনুষ্ঠান ইবাদত বা সওয়াবের কাজ বলে কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা স্বীকৃত নয়, রসূল নিজে যা কখনো করেননি বা কাউকে কখনো করতে বলেননি, তাঁর সাহাবাদের সময়ও তা ইবাদত হিসেবে প্রচলিত ছিলোনা এমন সব কাজ বা অনুষ্ঠানাদি সওয়াবের উদ্দ্যেশে পালন করার নামই বিদ'আত।
বিদ'আত বলতে বুঝায় দ্বীন পরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তন আনা। আমরা বাংলাদেশের মুসলিমরা ইসলামে যা আছে তা ঠিক মতো পালন না করে ইসলামে যা নেই তা খুব সওয়াবের কাজ মনে করে পালন করে যাচ্ছি। যেমন:
ঈদে মিলাদুন্নবী দিবস পালন করা। মিলাদের মাহফিল করা। শবে বরাতকে ভাগ্য রজনী মনে করে এ রাত্রি পালন করা। শবে মিরাজ দিবস পালন করা। ওরছ করা, ইছালে সওয়াবের মাহফিল করা। মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা। মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কুলখানি, চল্লিশা করা। মৃত ব্যক্তিকে সামনে নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা। মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে জিয়াফত, কুরআনখানি, ইছালে সওয়াব অনুষ্ঠান করা। মৃত ব্যক্তির উপর সূরা ইয়াসীন পাঠ করা। সলাতের শুরুতে 'নাউয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া ......' বলে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা। কাযা নামায (সলাত) আদায় করা।
📄 বেশীরভাগ কথীরা গুনাহের সাথেই আমরা জড়িত!
কুরআন-হাদীসের দৃষ্টিতে সত্তরটির মতো কবীরা গুনাহ রয়েছে। যে গুনাহ আল্লাহ সহজে (খালেস তওবাহ না করলে) মাফ করবেন না। কবীরা গুনাহের এই ৭০টি লিস্ট দেখে মনে হবে যে আমরা বাংলাদেশের মুসলিমরা পাল্লা দিয়ে এইসব গুনাহ নিয়মিত করে যাচ্ছি। আর এই সকল গুনাহ করতে করতে আমাদের অন্তরে মরিচা পড়ে গেছে, অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছে ফলে আল্লাহর আযাবের ভয় অন্তরে আর অবশিষ্ট নেই। কোন অন্যায়-অবিচার করতে বিবেক আর বাধা দেয় না, অন্যায়কে আর অন্যায় মনে হয় না। মনে হয় কবীরা গুনাহ করতে করতে আমরা একেবারে বিবেকশুন্য হয়ে গেছি।