📄 দেয়ালে ছবি টাঙানো এক শোকের স্মৃতি রাখা
আমরা অনেকে ঘরের দেয়ালে নানা রকম ছবি ফ্রেমে বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখি। যেমন: বিয়ের ছবি, নিজ পিতা-মাতার ছবি, পারিবারিক ছবি, রবীন্দ্র-নজরুল, নেতা-নেত্রীর ছবি, পীরের ছবি, বিভিন্ন স্টারদের ছবি বা পশু-পাখির ছবি ইত্যাদি। আবার অনেকে আর্ট-কালচারের নামে শোপীস হিসাবে ঘরে নানা রকম মূর্তিও রাখে। মনে রাখতে হবে ঘরে যে কোন ধরনের মূর্তি এবং কোন প্রাণীর ছবিই রাখা নিষেধ/হারাম। যে ঘরে ছবি এবং মূর্তি থাকে সে ঘরে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করে না। আমি কি চাই না যে আমার ঘরে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করুক?
রাস্তার মোড়ে মোড়ে মূর্তি তৈরী করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে মূর্তি তৈরী করা, বিনা প্রয়োজননে ছবি তোলা বা ভিডিও করা ইত্যাদিও বড় গুনাহ।
যে দেশে মুসলিমদের ঘরে ঘরে শিরক হচ্ছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে শিরক হচ্ছে সেখানে অশান্তি ছাড়া আল্লাহর রহমত তো থাকার কথা না। এসবের প্রত্যক্ষ প্রভাবে সন্তানরা ইসলাম থেকে এমনিতেই দূরে সরে যাবে।
📄 গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান
যদিও আজকাল কিছু মুসলিম পরিবার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান ত্যাগ করছে কিন্তু তারপরেও অনেক মুসলিম পরিবার এখনো গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। যারা পালন করে আসছে তারা দিন দিন এই অনুষ্ঠানের বাজেট বৃদ্ধি করছে এবং অনুষ্ঠানে আরো নতুন নতুন অনৈসলামী কার্যকলাপ সংযোজন করছে। ইদানীংকালের কিছু মুসলিম পরিবারের গায়ে হলুদের চিত্র তুলে ধরছি। দেখা যাচ্ছে যে, যার গায়ে হলুদ তার ছোট ভাই-বোনেরা, কাজিনরা বাসার ছাদে গভীর রাত পর্যন্ত নাচ-গানের অনুষ্ঠান করছে বন্ধুদের নিয়ে। উচ্চ ভলিউমে গভীর রাত পর্যন্ত গান বাজে। অশালীন ভাষার গানও পরিবেশিত হয়। এমন কি ঐ পরিবারে হয়তো কেউ মদ/বিয়ার পান করে না কিন্তু বড় ভাই/বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ছোট ভাই-বোনেরা সামান্য একটু মদ/বিয়ার পান করবে এটা একটা আবদারের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কি, যে পরিবারের ছেলে মেয়েরা সারা বছর তাদের বয় ফ্রেন্ড গার্ল ফ্রেন্ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি পায় না তারাও বড় ভাই/বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গোপনে বয় ফ্রেন্ড গার্ল ফ্রেন্ডকে আমন্ত্রণ জানায় এবং অনেক রাত পর্যন্ত গান নাচে ডুবে থাকে। ধনী মুসলিম পরিবারের চিত্র আরো খারাপ। তারা professional dancer ভাড়া করে এনে নাচ-গানের অনুষ্ঠান করছে। যাদের বাজেট কম তাদের ক্ষেত্রে যাদের বিয়ে তাদের ছোট ভাই বোনেরা ও তাদের বান্ধবীরা হলুদ অনুষ্ঠানের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্র্যাকটিস করে হলুদের প্রোগ্রামের দিন মিউজিকের সাথে নাচার জন্য। এমনকি যদিও ঐ সকল পরিবারের অনেক মুরুববীই হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায়কারী। এভাবে মুসলিম পরিবারগুলি দিন দিন ইসলাম থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।
📄 বিয়ের অনুষ্ঠান
এবার একটি মুসলিম পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরা যাক। কাজী সাহেব আসলেন। সকলেই খুব ভাব-গাম্ভীর্য সহকারে বিয়ে পড়ার কার্য সম্পাদন করলেন। কাজী দু'হাত তুলে দু'আ শুরু করলেন। সাথে সাথে মহিলারা মাথায় কাপড় দিলেন। নারী পুরুষ সকলেই অনেক দু'আ করলেন। তারপর খেজুর বিতরণ করা হলো সকলের মাঝে। তারপর কাজী সাহেব প্রস্থান করলেন। এরপর বাসার সকলে ঐ সময়ের জনপ্রিয় একটি হিন্দি সিনেমার গানের সাথে নাচলেন। গানটি ছিলো 'হরে রাম হরে রাম, হরে কৃষ্ণ হরে রাম'। পাঠক একবার চিন্তা করে দেখি পরিস্থিতি কতোটা ভয়ংকর পর্যায়ে চলে গেছে!
📄 বিয়ে নিয়ে নানারকম কুসংস্কারে বিশ্বাস করার প্রভাব
চৈত্র মাসে বিয়ে করা যাবে না এই মাস অশুভ। এই কুসংস্কার হিন্দুদের থেকে এসেছে।
মহাররম মাসে বিয়ে-শাদী নিষেধ, এই মাস শোকের মাস। এই ধরনের কুসংস্কার শিয়াদের থেকে এসেছে।
শনিবারে বিয়ে করা যাবে না, শনিবার অশুভ, এই ধরনের বিশ্বাস কুসংস্কার।
বিয়ের দিন ধান-ঘাস দিয়ে বধূবরণ করা এবং দুধের উপর দিয়ে বরকনে হেঁটে যাওয়া। মনে রাখবেন এসব হিন্দুদের রীতি।
বিয়ের কাবিনে এক লক্ষ এক টাকা ধার্য্য করা অর্থাৎ মূল অংকের সাথে এক টাকা সংযুক্ত করতেই হবে এটা মনে করা কুসংস্কার।