📄 বাড়ীর ভেতরে পর্দার নিয়ম
বাড়ীর ভেতরে মহিলাদের কর্মব্যস্ত থাকাকালে সব সময় সতর ঢেকে রাখা কিছুতেই সম্ভব নয়। তাই বাড়ীর ভিতরে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত থাকা উচিত নয়। সেখানে মেয়েরা যাতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এর পূর্ণ সুযোগ থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর ছোট্ট সংসারে পর্দার সমস্যা নেই। কিন্তু একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবারে এটা একটি বড় সমস্যা। নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও যেসব পুরুষের সাথে দেখা দেয়া শরীয়তে নিষেধ তাদের অন্দর মহলে যেতে দেয়া মোটেই উচিত নয়। শুধুমাত্র নিচের ১২জন অন্দর মহলে যেতে পারবে:
১) স্বামী ২) বাবা ৩) স্বামীর বাবা ৪) নিজের ছেলে ৫) স্বামীর ছেলে ৬) ভাই ৭) ভাইয়ের ছেলে ৮) বোনের ছেলে ৯) নিজের মেলামেশার মেয়েরা ১০) নিজের খরিদকৃত গোলাম (এযুগে প্রযোজ্য নয়) ১১) অতি বৃদ্ধ এবং ১২) এমন শিশুরা যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। (সূরা নূর: ৩০-৩১)
মেয়েদের এটুকু সচেতন থাকা দরকার যে তাদের শরীরের কোন অংশ খোলা থাকা অবস্থায় এবং ভালভাবে না ঢেকে স্বামী ছাড়া আর কারো সামনে যাওয়া শালীনতার বিরোধী। যেমন: দেবর এবং ভাসুরের সামনে, দুলাভাইয়ের সামনে, নিজ কাজিনদের সামনে, গৃহ শিক্ষকের সামনে, ড্রাইভার-দারোয়ান-চাকরের সামনে, মাছ-তরকারীওয়ালাদের সামনে।
📄 কর্মক্ষেত্রে পর্দার সুবিধা
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পুরুষের দায়িত্ব হলো সংসারের সকল খরচ বহন করা। অর্থাৎ পরিবারের ভরণপোষণের সমস্ত দায়দায়িত্ব স্বামীর (সহীহ বুখারী)। স্ত্রী চাকুরী করতে বাধ্য না বা স্ত্রীকে আয়-রোজগার করার জন্য স্বামী বলতেও পারবেন না। হ্যাঁ, যদি স্ত্রী চাকুরী করার কারণে সংসারে অতিরিক্ত কিছু আসে তাহলে তা আলহামদুলিল্লাহ, তবে স্ত্রী অবশ্যই ১০০% পর্দার মধ্যে থেকে আয়- রোজগার করবেন। তবে অতিরিক্ত আয় করতে গিয়ে যদি স্ত্রীকে সামান্যতম বেপর্দা হতে হয় বা ঠিক মতো পর্দা করা সম্ভব না হয় তাহলে তার দায়-দায়িত্ব নিজের আমলনামা ছাড়াও স্বামীর আমলনামায় এসে পড়বে। অর্থাৎ এই কবীরা গুনাহর জন্য এবং ফরয হুকুম অমান্য করার জন্য আল্লাহর কাছে দু'জনকেই কঠিন জবাবদিহি করতে হবে।
তাই কর্মজীবী মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে পুরুষ কলিগ, কো-ওয়ার্কার, বস, কোম্পানির মালিক এবং অন্যান্য পুরুষদের সামনে অবশ্যই পর্দা করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে লাঞ্চের সময় দেখা যায় সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেয়া বা সময় কাটানো হয় কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সীমালংঘন করা যাবে না। পুরুষ-মহিলার অবাধ মেলামেশা (ফ্রী-মিক্সিং) করা যাবে না, এদের মাঝে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যদি চাকুরী করার স্বার্থে কর্মক্ষেত্রে পর্দা করা সম্ভব না হয় তাহলে আখিরাতের ময়দানে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত সলাত যেমন ফরয তেমনি পর্দা করাও ফরয। মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে যার যার হিসাব তাকেই দিতে হবে।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের ৮০%ই নারী শ্রমিক। আলহামদুলিল্লাহ! এই সম্মানিত বোনদের পরিশ্রমেই বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার একটি বিশাল অংশ রিজার্ভ ফান্ডে এসে থাকে। এদের কারণে আজ উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অতি দুঃখের বিষয় যে এই শ্রমিকদের ঘামের টাকায় মালিকরা মুনাফা অর্জন করেন কিন্তু তাদেরকে খুবই কম মুজরী দিয়ে থাকেন, তাদের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেন না বললেই চলে। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে শত শত শ্রমিক মারা যান। তাদের দায় দায়িত্ব মালিকরা নেন না। সরকারও উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ দেন না।
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে এই বোনেরা পাবেন তাদের শ্রমের সঠিক মর্যাদা, ইনশাআল্লাহ। তাদের নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার, নির্যাতনবিরোধী আইন হলে তাদের সকল বিষয়ে সমঅধিকার নিশ্চিত হবে। এরপর ধর্মীয় অধিকার (রিলিজিয়াস রাইটস) নিশ্চিত করতে হবে যেমন মহিলা সেকশন ও পুরুষ সেকশন আলাদা হবে। হয়তো কোন ফ্যাক্টরীর বেশীরভাগ অংশই হবে মহিলা সেকশন। আলাদা মহিলা সেকশন হলে বোনদের নিজেদের মধ্যে পর্দা করতে হবে না। এতে অমুসলিম মহিলারাও সম্মানের সাথে শান্তিতে থাকবেন, পুরুষ সহকর্মীরা তাদের উত্যক্ত করার সুযোগও পাবে না, কাজের ফাঁকে ফাঁকে পরপুরুষরা তাদের সাথে আজেবাজে গল্প করার সুযোগও পাবে না। মুসলিমরা ওয়াক্তমত নামায পড়তে পারবেন। রমাদান মাসে সময় নিয়ে ইফতার করতে পারবেন। এতে কর্মক্ষেত্রে শান্তি বিরাজ করবে এবং রহমতের ফিরিশতারা তাদেরকে পাহারা দিবেন। আশা করা যায় তারা আখিরাত এবং এই দুনিয়া দুই দিকেই সাফল্য অর্জন করবেন।
📄 মহিলাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ
মহিলাদের জান্নাতে যাওয়া খুবই সহজ তা রসূল মহিলাদের গ্যারান্টি দিয়েছেন। জান্নাতে যাওয়ার জন্য মহিলাদের শুধু চারটি কাজ করতে হবে। (আবু দাউদ) ১) পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করতে হবে। ২) রমাদান মাসে রোযা রাখতে হবে। ৩) স্বামীর আনুগত্য করতে হবে। ৪) পর্দা করে চলতে হবে।
ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমাদের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা এই যে, তারা ভাবে ইসলামে জান্নাত শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়। এ ভুল ধারণা সূরা নিসার ১২৪ নম্বর আয়াত এর দ্বারা দূর করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন, "পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে কেউ সৎকাজ করলে ও মু'মিন হলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সামান্যতম অবিচারও তাদের প্রতি করা হবে না।"
একই রূপ বর্ণনায় সূরা আন নাহলে ৯৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, "মু'মিন হয়ে পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে যে সৎকর্ম করবে তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করবো এবং তাদিগকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার দান করবো।"