📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 রূপ-সৌন্দর্য নারীর মহামূল্যবান সম্পদ

📄 রূপ-সৌন্দর্য নারীর মহামূল্যবান সম্পদ


আমাদের কাছে যখন কোন দামী সম্পদ, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি থাকে তা আমরা লোকচক্ষুর অন্তরালে লুকিয়ে রাখি, লকারে রাখি বা ব্যাংকে রাখি যাতে কেউ চুরি-ডাকাতি করে নিয়ে যেতে না পারে। এই সম্পদ দেখে কারো লোভও হতে পারে, হিংসাও জাগতে পারে। ঠিক তেমনি নারীর মহামূল্যবান রূপ-সৌন্দর্য আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন তাকে আমানত স্বরূপ। এই রূপ আল্লাহ তা'আলা চাইলে যেকোন সময় আবার ফেরতও নিয়ে নিতে পারেন। তাই মহান আল্লাহর দেয়া এই রূপ-সম্পদ নারীর উচিত পরপুরুষ থেকে লুকিয়ে রাখা, ঢেকে রাখা, আড়াল করে রাখা, আর এতেই রয়েছে তার প্রকৃত কল্যাণ। এতে সে দুই দিক দিয়ে লাভবান হচ্ছে এক, আল্লাহর হুকুম পালন করছে আর অন্যদিকে তার মহামূল্যবান সম্পদ পরপুরুষের কু-দৃষ্টি হতে রক্ষা পাচ্ছে। আসলে নারীর রূপ-সৌন্দর্য্য শুধু তার স্বামীর জন্য। এই রূপ অন্য কাউকে প্রদর্শন করলে অকল্যাণ ছাড়া জীবনে আর কোন কিছুই আসে না।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 পুরুষদের পর্দা

📄 পুরুষদের পর্দা


আজকালকার ছেলেরা শুধুমাত্র মেয়েদেরকে দেখাবার জন্য শরীর বানায়। জীমে যায়। সিক্স প্যাক বানাবার জন্য প্রচুর সাধনা করে। আরো একটু বড় বাইসেপের জন্য প্রতিদিন জীমে যায় এবং ঘন্টার পর ঘন্টা পরিশ্রম করে। পোশাকের দিক থেকেও পুরুষরা অনেক অশালীন হচ্ছে। যাদের শরীর আছে, তারা শরীর দেখাবার জন্য পাতলা পোশাক পড়ছে, সিক্স প্যাক যাদের আছে, তারা তাদের অর্ধ নগ্ন ছবি দিয়ে অনলাইনে ছবি পোষ্ট করছে। ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কাভারে জায়গা পাবার জন্য অনেক চেষ্টা করছে। এই মুসলিম ছেলেরা জীমে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটায় কিন্তু মসজিদে যায় না। লাইব্রেরিতে যায় না। মেধাহীন একটা মুসলিম জাতি গড়ে উঠছে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 বাড়ীর ভেতরে পর্দার নিয়ম

📄 বাড়ীর ভেতরে পর্দার নিয়ম


বাড়ীর ভেতরে মহিলাদের কর্মব্যস্ত থাকাকালে সব সময় সতর ঢেকে রাখা কিছুতেই সম্ভব নয়। তাই বাড়ীর ভিতরে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত থাকা উচিত নয়। সেখানে মেয়েরা যাতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এর পূর্ণ সুযোগ থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর ছোট্ট সংসারে পর্দার সমস্যা নেই। কিন্তু একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবারে এটা একটি বড় সমস্যা। নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও যেসব পুরুষের সাথে দেখা দেয়া শরীয়তে নিষেধ তাদের অন্দর মহলে যেতে দেয়া মোটেই উচিত নয়। শুধুমাত্র নিচের ১২জন অন্দর মহলে যেতে পারবে:
১) স্বামী ২) বাবা ৩) স্বামীর বাবা ৪) নিজের ছেলে ৫) স্বামীর ছেলে ৬) ভাই ৭) ভাইয়ের ছেলে ৮) বোনের ছেলে ৯) নিজের মেলামেশার মেয়েরা ১০) নিজের খরিদকৃত গোলাম (এযুগে প্রযোজ্য নয়) ১১) অতি বৃদ্ধ এবং ১২) এমন শিশুরা যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। (সূরা নূর: ৩০-৩১)
মেয়েদের এটুকু সচেতন থাকা দরকার যে তাদের শরীরের কোন অংশ খোলা থাকা অবস্থায় এবং ভালভাবে না ঢেকে স্বামী ছাড়া আর কারো সামনে যাওয়া শালীনতার বিরোধী। যেমন: দেবর এবং ভাসুরের সামনে, দুলাভাইয়ের সামনে, নিজ কাজিনদের সামনে, গৃহ শিক্ষকের সামনে, ড্রাইভার-দারোয়ান-চাকরের সামনে, মাছ-তরকারীওয়ালাদের সামনে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 কর্মক্ষেত্রে পর্দার সুবিধা

📄 কর্মক্ষেত্রে পর্দার সুবিধা


ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পুরুষের দায়িত্ব হলো সংসারের সকল খরচ বহন করা। অর্থাৎ পরিবারের ভরণপোষণের সমস্ত দায়দায়িত্ব স্বামীর (সহীহ বুখারী)। স্ত্রী চাকুরী করতে বাধ্য না বা স্ত্রীকে আয়-রোজগার করার জন্য স্বামী বলতেও পারবেন না। হ্যাঁ, যদি স্ত্রী চাকুরী করার কারণে সংসারে অতিরিক্ত কিছু আসে তাহলে তা আলহামদুলিল্লাহ, তবে স্ত্রী অবশ্যই ১০০% পর্দার মধ্যে থেকে আয়- রোজগার করবেন। তবে অতিরিক্ত আয় করতে গিয়ে যদি স্ত্রীকে সামান্যতম বেপর্দা হতে হয় বা ঠিক মতো পর্দা করা সম্ভব না হয় তাহলে তার দায়-দায়িত্ব নিজের আমলনামা ছাড়াও স্বামীর আমলনামায় এসে পড়বে। অর্থাৎ এই কবীরা গুনাহর জন্য এবং ফরয হুকুম অমান্য করার জন্য আল্লাহর কাছে দু'জনকেই কঠিন জবাবদিহি করতে হবে।
তাই কর্মজীবী মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে পুরুষ কলিগ, কো-ওয়ার্কার, বস, কোম্পানির মালিক এবং অন্যান্য পুরুষদের সামনে অবশ্যই পর্দা করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে লাঞ্চের সময় দেখা যায় সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেয়া বা সময় কাটানো হয় কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সীমালংঘন করা যাবে না। পুরুষ-মহিলার অবাধ মেলামেশা (ফ্রী-মিক্সিং) করা যাবে না, এদের মাঝে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যদি চাকুরী করার স্বার্থে কর্মক্ষেত্রে পর্দা করা সম্ভব না হয় তাহলে আখিরাতের ময়দানে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত সলাত যেমন ফরয তেমনি পর্দা করাও ফরয। মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে যার যার হিসাব তাকেই দিতে হবে।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের ৮০%ই নারী শ্রমিক। আলহামদুলিল্লাহ! এই সম্মানিত বোনদের পরিশ্রমেই বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার একটি বিশাল অংশ রিজার্ভ ফান্ডে এসে থাকে। এদের কারণে আজ উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অতি দুঃখের বিষয় যে এই শ্রমিকদের ঘামের টাকায় মালিকরা মুনাফা অর্জন করেন কিন্তু তাদেরকে খুবই কম মুজরী দিয়ে থাকেন, তাদের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেন না বললেই চলে। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে শত শত শ্রমিক মারা যান। তাদের দায় দায়িত্ব মালিকরা নেন না। সরকারও উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ দেন না।
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে এই বোনেরা পাবেন তাদের শ্রমের সঠিক মর্যাদা, ইনশাআল্লাহ। তাদের নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার, নির্যাতনবিরোধী আইন হলে তাদের সকল বিষয়ে সমঅধিকার নিশ্চিত হবে। এরপর ধর্মীয় অধিকার (রিলিজিয়াস রাইটস) নিশ্চিত করতে হবে যেমন মহিলা সেকশন ও পুরুষ সেকশন আলাদা হবে। হয়তো কোন ফ্যাক্টরীর বেশীরভাগ অংশই হবে মহিলা সেকশন। আলাদা মহিলা সেকশন হলে বোনদের নিজেদের মধ্যে পর্দা করতে হবে না। এতে অমুসলিম মহিলারাও সম্মানের সাথে শান্তিতে থাকবেন, পুরুষ সহকর্মীরা তাদের উত্যক্ত করার সুযোগও পাবে না, কাজের ফাঁকে ফাঁকে পরপুরুষরা তাদের সাথে আজেবাজে গল্প করার সুযোগও পাবে না। মুসলিমরা ওয়াক্তমত নামায পড়তে পারবেন। রমাদান মাসে সময় নিয়ে ইফতার করতে পারবেন। এতে কর্মক্ষেত্রে শান্তি বিরাজ করবে এবং রহমতের ফিরিশতারা তাদেরকে পাহারা দিবেন। আশা করা যায় তারা আখিরাত এবং এই দুনিয়া দুই দিকেই সাফল্য অর্জন করবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00