📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পরর্দ্বীনতার ক্ষতি

📄 সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পরর্দ্বীনতার ক্ষতি


কাফেরদের সাথে ভালোবাসা ও মুহাব্বতের সম্পর্ক রাখার বিধিবিধানসংক্রান্ত আলোচনার বিভিন্ন শৈলী রয়েছে। কোনো বক্তব্যে সরাসরি নিষেধাজ্ঞাসূচক শব্দ রয়েছে। কোথাও নিন্দা করা হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে যারা কাফেরদেরকে ভালোবাসে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। উসুলে ফিকহের দৃষ্টিতে সবগুলোই নিষেধাজ্ঞাসূচক শৈলী। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো কাজ থেকে বারণ করা। এ জাতীয় সব বক্তব্যকে সামনে রেখে উলামায়ে কেরাম কাফেরের সাথে ভালোবাসা ও মৈত্রীসম্পর্ক স্থাপনকে নাজায়েয বলে ঘোষণা করেছেন। আর নিজেরাও এর ওপর পূর্ণ আমল করেছেন। সাথে, কারও থেকে এই বিষয়ে ত্রুটি হলে তাদেরকে সতর্ক ও সংশোধন করেছেন। তারা তাদের রচনায় এই সংক্রান্ত বিধিবিধানকে ইলমি ও ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন। যার কারণে সামগ্রিকভাবে এই মাসআলায় উলামায়ে কেরাম সকলেই একমত।
তবে কাফেরের সাথে সবধরনের লেনদেন ও সম্পর্ক নিষিদ্ধ নয়। এমনইভাবে সবধরনের সম্পর্ক বৈধও নয়। বরং সম্পর্কের বিভিন্ন ধরন ও প্রকৃতি রয়েছে। কিছু আছে বৈধ সম্পর্ক আর কিছু আছে অবৈধ। আবার অবৈধ সম্পর্কেরও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কিছু কিছু স্পষ্ট কুফরের কারণ আর কিছু তো অবৈধ বটে, কিন্তু তার ভিত্তিতে কাউকে কাফের আখ্যা দেওয়া যায় না। এমনইভাবে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শর্ত ও ব্যাখ্যা-বিশलेषण রয়েছে।
এখন কোন ধরনের সম্পর্কের কী হুকুম? আলোচনার সহজবোধ্যতা ও সরল উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে কাফেরদের সাথে সম্পর্ককে নিম্নোক্ত তিন ভাগে বিভক্ত করছি,
১. ধর্মীয় সম্পর্ক।
২. সামাজিক সম্পর্ক।
৩. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক।

সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পর্দাহীনতা আল্লাহ রাববুল আলামীনের নাফরমানি ও আল্লাহর রসূল -এর অবাধ্যতা। এই অবাধ্যতা নিজেদেরই ক্ষতি।
“আমার সব উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যারা অস্বীকার করে তারা ছাড়া। সাহাবী (রা.) এ কথা শুনে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যারা অস্বীকার করে তারা কারা? রসূল বললেন, যে আমার অনুকরণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার নাফরমানি করল, সে অস্বীকার করল”। [সহীহ বুখারী]
আল্লাহ বলেন: নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মু'মিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। (সূরা নূর: ১৯)
ইবলিস শয়তান বনী আদমের চির শত্রু। পৃথিবীর শুরু থেকেই শয়তান মানুষকে বিপদে ফেলে আসছে। হাদীসে রয়েছে:
১. রসূল বলেছেন, আমি আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের ফিতনার চেয়ে বড় ক্ষতিকর কোন ফিতনা রেখে যাইনি। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
২. রসূল বলেছেন, “তোমরা দুনিয়াকে ভয় কর এবং নারীকে ভয় কর, কারণ বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীর ফিতনা”। [সহীহ মুসলিম]
৩. রসূল উম্মতকে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করতে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী) বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে তিনি উম্মতে মুসলিমাহকে অধিক সতর্ক করেছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম নারী ও পুরুষ রসূল -এর আদেশের বিরোধিতা করছেন। রসূল উম্মতকে যে ভবিষ্যৎ বাণী করে গেছেন, তার প্রতিফলনই আমরা আজ লক্ষ্য করছি।
আল্লাহ বলেন: আর যে রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য হিদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পর এবং মু'মিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাব যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। আর আবাস হিসেবে তা খুবই মন্দ। (সূরা নিসা: ১১৫)
হিদায়াতের পথ স্পষ্ট হওয়ার পরও যদি কেউ গোমরাহির পথ অবলম্বন করে, এবং মু'মিনদের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামীন কঠিন আযাব রেখেছেন, তাদের কঠিন শাস্তি দেবেন। আর আখিরাতের শাস্তি কত কঠিন হবে তা বর্ণনা দিয়ে বোঝানো যাবে না।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 রূপ-সৌন্দর্য নারীর মহামূল্যবান সম্পদ

📄 রূপ-সৌন্দর্য নারীর মহামূল্যবান সম্পদ


আমাদের কাছে যখন কোন দামী সম্পদ, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি থাকে তা আমরা লোকচক্ষুর অন্তরালে লুকিয়ে রাখি, লকারে রাখি বা ব্যাংকে রাখি যাতে কেউ চুরি-ডাকাতি করে নিয়ে যেতে না পারে। এই সম্পদ দেখে কারো লোভও হতে পারে, হিংসাও জাগতে পারে। ঠিক তেমনি নারীর মহামূল্যবান রূপ-সৌন্দর্য আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন তাকে আমানত স্বরূপ। এই রূপ আল্লাহ তা'আলা চাইলে যেকোন সময় আবার ফেরতও নিয়ে নিতে পারেন। তাই মহান আল্লাহর দেয়া এই রূপ-সম্পদ নারীর উচিত পরপুরুষ থেকে লুকিয়ে রাখা, ঢেকে রাখা, আড়াল করে রাখা, আর এতেই রয়েছে তার প্রকৃত কল্যাণ। এতে সে দুই দিক দিয়ে লাভবান হচ্ছে এক, আল্লাহর হুকুম পালন করছে আর অন্যদিকে তার মহামূল্যবান সম্পদ পরপুরুষের কু-দৃষ্টি হতে রক্ষা পাচ্ছে। আসলে নারীর রূপ-সৌন্দর্য্য শুধু তার স্বামীর জন্য। এই রূপ অন্য কাউকে প্রদর্শন করলে অকল্যাণ ছাড়া জীবনে আর কোন কিছুই আসে না।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 পুরুষদের পর্দা

📄 পুরুষদের পর্দা


আজকালকার ছেলেরা শুধুমাত্র মেয়েদেরকে দেখাবার জন্য শরীর বানায়। জীমে যায়। সিক্স প্যাক বানাবার জন্য প্রচুর সাধনা করে। আরো একটু বড় বাইসেপের জন্য প্রতিদিন জীমে যায় এবং ঘন্টার পর ঘন্টা পরিশ্রম করে। পোশাকের দিক থেকেও পুরুষরা অনেক অশালীন হচ্ছে। যাদের শরীর আছে, তারা শরীর দেখাবার জন্য পাতলা পোশাক পড়ছে, সিক্স প্যাক যাদের আছে, তারা তাদের অর্ধ নগ্ন ছবি দিয়ে অনলাইনে ছবি পোষ্ট করছে। ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কাভারে জায়গা পাবার জন্য অনেক চেষ্টা করছে। এই মুসলিম ছেলেরা জীমে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটায় কিন্তু মসজিদে যায় না। লাইব্রেরিতে যায় না। মেধাহীন একটা মুসলিম জাতি গড়ে উঠছে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 বাড়ীর ভেতরে পর্দার নিয়ম

📄 বাড়ীর ভেতরে পর্দার নিয়ম


বাড়ীর ভেতরে মহিলাদের কর্মব্যস্ত থাকাকালে সব সময় সতর ঢেকে রাখা কিছুতেই সম্ভব নয়। তাই বাড়ীর ভিতরে পুরুষদের অবাধ যাতায়াত থাকা উচিত নয়। সেখানে মেয়েরা যাতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এর পূর্ণ সুযোগ থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর ছোট্ট সংসারে পর্দার সমস্যা নেই। কিন্তু একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবারে এটা একটি বড় সমস্যা। নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও যেসব পুরুষের সাথে দেখা দেয়া শরীয়তে নিষেধ তাদের অন্দর মহলে যেতে দেয়া মোটেই উচিত নয়। শুধুমাত্র নিচের ১২জন অন্দর মহলে যেতে পারবে:
১) স্বামী ২) বাবা ৩) স্বামীর বাবা ৪) নিজের ছেলে ৫) স্বামীর ছেলে ৬) ভাই ৭) ভাইয়ের ছেলে ৮) বোনের ছেলে ৯) নিজের মেলামেশার মেয়েরা ১০) নিজের খরিদকৃত গোলাম (এযুগে প্রযোজ্য নয়) ১১) অতি বৃদ্ধ এবং ১২) এমন শিশুরা যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। (সূরা নূর: ৩০-৩১)
মেয়েদের এটুকু সচেতন থাকা দরকার যে তাদের শরীরের কোন অংশ খোলা থাকা অবস্থায় এবং ভালভাবে না ঢেকে স্বামী ছাড়া আর কারো সামনে যাওয়া শালীনতার বিরোধী। যেমন: দেবর এবং ভাসুরের সামনে, দুলাভাইয়ের সামনে, নিজ কাজিনদের সামনে, গৃহ শিক্ষকের সামনে, ড্রাইভার-দারোয়ান-চাকরের সামনে, মাছ-তরকারীওয়ালাদের সামনে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00