📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ইসলামে নারীর অধিকার

📄 ইসলামে নারীর অধিকার


ইসলাম নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাস করে। এখানে সমতা মানে অভিন্নতা নয়। ইসলামে নর-নারীর ভূমিকা সম্পূরক, বৈপরীত্যের নয়; সম্পর্ক অংশীদারীত্বের, বিরোধিতার নয়, যা শ্রেষ্ঠত্বের সংগ্রামে লিপ্ত করে। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীদেরকে নিম্নের ছয়টি বিষয়ে অধিকার নিশ্চিত করেছে। ক) আত্মিক অধিকার খ) অর্থনৈতিক অধিকার গ) সামাজিক অধিকার ঘ) শিক্ষার অধিকার ঙ) আইনগত অধিকার চ) রাজনৈতিক অধিকার

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 বাঙালি নারীর অমর্যই ভয় পান

📄 বাঙালি নারীর অমর্যই ভয় পান


বাংলাদেশের মুসলিম নারীরা অযথাই ভয়ে অস্থির যে বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে নারীদের অবস্থা শেষ! তাদেরকে ঘরে বন্দি করে ফেলা হবে! তাদের সকল স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হবে! দেশ ১৪শত বছর পিছিয়ে যাবে! দেশ আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে ফিরে যাবে! নারী শিক্ষা বন্ধ করে দিবে! হুজুররা নারীদেরকে রাস্তা-ঘাটে যেখানেই পাবে সেখানেই আপত্তি জানাবে ইত্যাদি ইত্যাদি আজগুবি সব চিন্তাভাবনা। এদের প্রতি প্রশ্ন ১৪শত বছর আগে নারীর যে ভয়াবহ দূরঅবস্থা ছিল কে তা পরিবর্তন করে নারীকে সকল অধিকার ফিরিয়ে দিল? কে নারী সুমহান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করলো? এটা কি আমেরিকা, ইউরোপ বা অন্য কোন উন্নত পশ্চিমা সভ্যতা নাকি ইসলাম?
ইসলামের দৃষ্টিতে হিজাব বাজায় রেখে নারীরা সকল বৈধ কাজকর্মই করতে পারবেন। ইসলামী পূর্ণজাগরণের অন্যতম প্রতীক হলো হিজাব। এটা সলাত বা হজ্জের মতো একটা প্রকাশ্য ইবাদত। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে সব ধরণের কাজ (যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পাইলট, পুলিশ) হিজাব পরিহিত মহিলারা সাফল্যের সাথে করছেন। আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী শেখ লুবনা এর ভালো উদাহরণ, তিনি গত চার বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 নারীর হিজাব সম্পর্কে একটু জানা যাক

📄 নারীর হিজাব সম্পর্কে একটু জানা যাক


হিজাব বা পর্দার উদ্দেশ্য হলো নারীকে পুরুষের অনাকাংখিত দৃষ্টি থেকে নিরাপদ রাখা। এ কারণেই কুরআনে যুবতীদের চেয়ে বৃদ্ধাদের পর্দার গুরুত্ব কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ বৃদ্ধাদের প্রতি কারো আকর্ষণ থাকে না বরং তাদের প্রতি মা, দাদী ও নানীদের মতো শ্রদ্ধাবোধ এমনিতেই এসে যায়।
নারীদের চেহারা, সৌন্দর্য্য ও ভাবভঙ্গির মতো তাদের কণ্ঠস্বরও পুরুষদেরকে আকর্ষণ করতে পারে। তাই কোনো পরপুরুষের সাথে কথা বলতে বাধ্য হলে নারীদেরকে অনাকর্ষণীয় স্বরে কথা বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেন কন্ঠস্বর শুনে কোনো পুরুষ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হতে না পারে।
"যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করে থাক তা হলে কোমল আওয়াজে কথা বলো না, যাতে রোগগ্রস্ত অন্তরের মানুষ লোভে পড়ে যায়; বরং সোজাসুজি ও স্পষ্টভাবে কথা বল।” (সূরা আহযাব : ৩২)
বোনেরা ভাববেন না আল্লাহ শুধু মেয়েদের পর্দার কথা বলেছেন। বরং কুরআনে মেয়েদের আগে পুরুষদের পর্দা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (দেখুন সূরা নূর আয়াত ৩০-৩১) এর কারণ হলো, কোনো নারীকে দেখে যেমন কোনো পুরুষ আকৃষ্ট হয়ে কুচিন্তা করতে পারে তেমনি কোনো নারীও কোনো পুরুষকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কুচিন্তা করতে পারে।
একজন পুরুষের জন্য কোনো পরনারীকে আগ্রহ ভরে দেখা যেমন পাপ তেমনি একজন নারীর জন্য আগ্রহ ভরে পরপুরুষকে দেখাও পাপ। তাই পর্দার মধ্যে থেকেও পরপুরুষকে আগ্রহ নিয়ে দেখলে পর্দাহীনতার গুনাহ হয়ে যাবে। একজন মহিলার জন্য একজন পরপুরুষের সামনে বেপর্দা হওয়া যেমন পাপ, নিকটাত্মীয় গায়ের মুহরিমের সামনেও বেপর্দা হওয়া তেমনি পাপ।
যেমন আজকাল আমাদের দেশে দেবর, ভাশুর, ভগ্নিপতি, খালাতো, চাচাতো, মামাতো ও ফুফাতো ভাইদের সামনে মেয়েরা বেপর্দা হওয়াকে পাপ মনে করে না। প্রকৃতপক্ষে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের সাথে আরও বেশি পর্দা করা উচিত। কারণ এ ধরনের নিকটাত্মীয় গায়ের মুহরিমদের দ্বারা আরও বেশি বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
আমাদের সমাজে কতিপয় পর্দানশীন পরিবারেও পর্দার মূল লক্ষ্য অনুধাবন করতে না পেরে পর্দার কার্যক্রমে উল্টাপাল্টা করে ফেলেন। অনেক পরিবারের মহিলারা নিজেরা বোরকা পরে পর্দা করে বের হন অথচ তাদের যুবতী মেয়েরা তাদেরই সাথে আকর্ষণীয় পোশাকে বেপর্দা হয়ে বের হয়। অনেকের ভুল ধারণা এমন যে, বয়স হলেই শুধু পর্দা করতে হয়। যেমন: পুরুষদের মধ্যে ভুল ধারণা আছে যে বয়স হলে, চাকুরি থেকে অবসর নেবার পর দাড়ি রাখতে হয়, যুবক বয়সে দাড়ি রাখার প্রয়োজন নেই। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পরর্দ্বীনতার ক্ষতি

📄 সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পরর্দ্বীনতার ক্ষতি


কাফেরদের সাথে ভালোবাসা ও মুহাব্বতের সম্পর্ক রাখার বিধিবিধানসংক্রান্ত আলোচনার বিভিন্ন শৈলী রয়েছে। কোনো বক্তব্যে সরাসরি নিষেধাজ্ঞাসূচক শব্দ রয়েছে। কোথাও নিন্দা করা হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে যারা কাফেরদেরকে ভালোবাসে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। উসুলে ফিকহের দৃষ্টিতে সবগুলোই নিষেধাজ্ঞাসূচক শৈলী। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো কাজ থেকে বারণ করা। এ জাতীয় সব বক্তব্যকে সামনে রেখে উলামায়ে কেরাম কাফেরের সাথে ভালোবাসা ও মৈত্রীসম্পর্ক স্থাপনকে নাজায়েয বলে ঘোষণা করেছেন। আর নিজেরাও এর ওপর পূর্ণ আমল করেছেন। সাথে, কারও থেকে এই বিষয়ে ত্রুটি হলে তাদেরকে সতর্ক ও সংশোধন করেছেন। তারা তাদের রচনায় এই সংক্রান্ত বিধিবিধানকে ইলমি ও ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন। যার কারণে সামগ্রিকভাবে এই মাসআলায় উলামায়ে কেরাম সকলেই একমত।
তবে কাফেরের সাথে সবধরনের লেনদেন ও সম্পর্ক নিষিদ্ধ নয়। এমনইভাবে সবধরনের সম্পর্ক বৈধও নয়। বরং সম্পর্কের বিভিন্ন ধরন ও প্রকৃতি রয়েছে। কিছু আছে বৈধ সম্পর্ক আর কিছু আছে অবৈধ। আবার অবৈধ সম্পর্কেরও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কিছু কিছু স্পষ্ট কুফরের কারণ আর কিছু তো অবৈধ বটে, কিন্তু তার ভিত্তিতে কাউকে কাফের আখ্যা দেওয়া যায় না। এমনইভাবে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শর্ত ও ব্যাখ্যা-বিশलेषण রয়েছে।
এখন কোন ধরনের সম্পর্কের কী হুকুম? আলোচনার সহজবোধ্যতা ও সরল উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে কাফেরদের সাথে সম্পর্ককে নিম্নোক্ত তিন ভাগে বিভক্ত করছি,
১. ধর্মীয় সম্পর্ক।
২. সামাজিক সম্পর্ক।
৩. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক।

সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পর্দাহীনতা আল্লাহ রাববুল আলামীনের নাফরমানি ও আল্লাহর রসূল -এর অবাধ্যতা। এই অবাধ্যতা নিজেদেরই ক্ষতি।
“আমার সব উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যারা অস্বীকার করে তারা ছাড়া। সাহাবী (রা.) এ কথা শুনে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যারা অস্বীকার করে তারা কারা? রসূল বললেন, যে আমার অনুকরণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার নাফরমানি করল, সে অস্বীকার করল”। [সহীহ বুখারী]
আল্লাহ বলেন: নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মু'মিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। (সূরা নূর: ১৯)
ইবলিস শয়তান বনী আদমের চির শত্রু। পৃথিবীর শুরু থেকেই শয়তান মানুষকে বিপদে ফেলে আসছে। হাদীসে রয়েছে:
১. রসূল বলেছেন, আমি আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের ফিতনার চেয়ে বড় ক্ষতিকর কোন ফিতনা রেখে যাইনি। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
২. রসূল বলেছেন, “তোমরা দুনিয়াকে ভয় কর এবং নারীকে ভয় কর, কারণ বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীর ফিতনা”। [সহীহ মুসলিম]
৩. রসূল উম্মতকে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করতে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী) বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে তিনি উম্মতে মুসলিমাহকে অধিক সতর্ক করেছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম নারী ও পুরুষ রসূল -এর আদেশের বিরোধিতা করছেন। রসূল উম্মতকে যে ভবিষ্যৎ বাণী করে গেছেন, তার প্রতিফলনই আমরা আজ লক্ষ্য করছি।
আল্লাহ বলেন: আর যে রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য হিদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পর এবং মু'মিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাব যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। আর আবাস হিসেবে তা খুবই মন্দ। (সূরা নিসা: ১১৫)
হিদায়াতের পথ স্পষ্ট হওয়ার পরও যদি কেউ গোমরাহির পথ অবলম্বন করে, এবং মু'মিনদের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামীন কঠিন আযাব রেখেছেন, তাদের কঠিন শাস্তি দেবেন। আর আখিরাতের শাস্তি কত কঠিন হবে তা বর্ণনা দিয়ে বোঝানো যাবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00