📄 নারীর অধিকার সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হওয়া প্রয়োজন
বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নারী আন্দোলন চলছে। কিন্তু নারীদের আসল পরিচয় ও সঠিক মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা কী বলেছেন তা নারীরা ভালভাবে জানেন না। আলাহ শেষ নাবী মুহাম্মাদ -এর মাধ্যমে নারীদের যে মর্যাদা প্রদান করেছেন তা না জানার কারণে নতুন করে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে হচ্ছে। নারীদের নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কে জানতে হলে কুরআন-হাদীস অধ্যয়ন ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
পাঠক, আপনি/আমি যদি একজন অভিভাবক হই, আমরা কি ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে অবগত? আমরা যদি অবগত না হই, তাহলে আমাদের সন্তান কিভাবে জানবে? আমাদের অজ্ঞতার অন্যতম একটা কারণ ইসলাম হতে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।
ইসলাম নারীদের জন্য যেসব বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, তা তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার জন্য করেনি, বরং তারা যাতে কোন প্রকার অন্যায় ও অশ্লীল কাজে জড়িয়ে না পড়ে, নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগে, সেজন্যই তাদের উপর এ সব বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে যা মেনে চললে তাদের জন্য অফুরন্ত পুরষ্কারের প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দিয়েছেন। আর এটিই হল নারীদের জন্য সত্যিকার সম্মান ও মর্যাদা।
উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রসূলুলাহ বলেছেন : আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের ফিতনার চেয়ে মারাত্মক ও ক্ষতিকর আর কোন ফিতনা (অরাজকতা) আমি রেখে যাইনি। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আলাহর বিধান হলো যতক্ষণ না মানুষ নিজের মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং পরিবর্তনকে কাজে পরিণত করার চেষ্টা চালাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাতে কোন পরিবর্তন আসবে না।
"আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” (সূরা রাদ ১৩: ১১)
আল্লাহ তা'আলা নারীদের জন্য যেসব বিধি-বিধান দিয়েছেন, তা সবই নারীদের নিরাপত্তা ও তাদের মান সম্মানের হিফাযত করার জন্যই দিয়েছেন। ইসলামের মধ্যেই নিহিত রয়েছে নারীদের প্রকৃত কল্যাণ। একমাত্র ইসলামই নিশ্চিত করছে নারীদের নিরাপত্তা এবং গ্যারান্টি দিয়েছে তাদের মান মর্যাদা রক্ষার।
পাঠক, আপনি/আমি যদি ইসলামে নারী অধিকার নিয়ে না জেনে থাকি, তাহলে এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করি। নিজে জানি ও পরিবারকে জানাই।
📄 ইসলামে নারীর অধিকার
ইসলাম নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাস করে। এখানে সমতা মানে অভিন্নতা নয়। ইসলামে নর-নারীর ভূমিকা সম্পূরক, বৈপরীত্যের নয়; সম্পর্ক অংশীদারীত্বের, বিরোধিতার নয়, যা শ্রেষ্ঠত্বের সংগ্রামে লিপ্ত করে। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীদেরকে নিম্নের ছয়টি বিষয়ে অধিকার নিশ্চিত করেছে। ক) আত্মিক অধিকার খ) অর্থনৈতিক অধিকার গ) সামাজিক অধিকার ঘ) শিক্ষার অধিকার ঙ) আইনগত অধিকার চ) রাজনৈতিক অধিকার
📄 বাঙালি নারীর অমর্যই ভয় পান
বাংলাদেশের মুসলিম নারীরা অযথাই ভয়ে অস্থির যে বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে নারীদের অবস্থা শেষ! তাদেরকে ঘরে বন্দি করে ফেলা হবে! তাদের সকল স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হবে! দেশ ১৪শত বছর পিছিয়ে যাবে! দেশ আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে ফিরে যাবে! নারী শিক্ষা বন্ধ করে দিবে! হুজুররা নারীদেরকে রাস্তা-ঘাটে যেখানেই পাবে সেখানেই আপত্তি জানাবে ইত্যাদি ইত্যাদি আজগুবি সব চিন্তাভাবনা। এদের প্রতি প্রশ্ন ১৪শত বছর আগে নারীর যে ভয়াবহ দূরঅবস্থা ছিল কে তা পরিবর্তন করে নারীকে সকল অধিকার ফিরিয়ে দিল? কে নারী সুমহান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করলো? এটা কি আমেরিকা, ইউরোপ বা অন্য কোন উন্নত পশ্চিমা সভ্যতা নাকি ইসলাম?
ইসলামের দৃষ্টিতে হিজাব বাজায় রেখে নারীরা সকল বৈধ কাজকর্মই করতে পারবেন। ইসলামী পূর্ণজাগরণের অন্যতম প্রতীক হলো হিজাব। এটা সলাত বা হজ্জের মতো একটা প্রকাশ্য ইবাদত। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে সব ধরণের কাজ (যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পাইলট, পুলিশ) হিজাব পরিহিত মহিলারা সাফল্যের সাথে করছেন। আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী শেখ লুবনা এর ভালো উদাহরণ, তিনি গত চার বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী।
📄 নারীর হিজাব সম্পর্কে একটু জানা যাক
হিজাব বা পর্দার উদ্দেশ্য হলো নারীকে পুরুষের অনাকাংখিত দৃষ্টি থেকে নিরাপদ রাখা। এ কারণেই কুরআনে যুবতীদের চেয়ে বৃদ্ধাদের পর্দার গুরুত্ব কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ বৃদ্ধাদের প্রতি কারো আকর্ষণ থাকে না বরং তাদের প্রতি মা, দাদী ও নানীদের মতো শ্রদ্ধাবোধ এমনিতেই এসে যায়।
নারীদের চেহারা, সৌন্দর্য্য ও ভাবভঙ্গির মতো তাদের কণ্ঠস্বরও পুরুষদেরকে আকর্ষণ করতে পারে। তাই কোনো পরপুরুষের সাথে কথা বলতে বাধ্য হলে নারীদেরকে অনাকর্ষণীয় স্বরে কথা বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেন কন্ঠস্বর শুনে কোনো পুরুষ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হতে না পারে।
"যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করে থাক তা হলে কোমল আওয়াজে কথা বলো না, যাতে রোগগ্রস্ত অন্তরের মানুষ লোভে পড়ে যায়; বরং সোজাসুজি ও স্পষ্টভাবে কথা বল।” (সূরা আহযাব : ৩২)
বোনেরা ভাববেন না আল্লাহ শুধু মেয়েদের পর্দার কথা বলেছেন। বরং কুরআনে মেয়েদের আগে পুরুষদের পর্দা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (দেখুন সূরা নূর আয়াত ৩০-৩১) এর কারণ হলো, কোনো নারীকে দেখে যেমন কোনো পুরুষ আকৃষ্ট হয়ে কুচিন্তা করতে পারে তেমনি কোনো নারীও কোনো পুরুষকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কুচিন্তা করতে পারে।
একজন পুরুষের জন্য কোনো পরনারীকে আগ্রহ ভরে দেখা যেমন পাপ তেমনি একজন নারীর জন্য আগ্রহ ভরে পরপুরুষকে দেখাও পাপ। তাই পর্দার মধ্যে থেকেও পরপুরুষকে আগ্রহ নিয়ে দেখলে পর্দাহীনতার গুনাহ হয়ে যাবে। একজন মহিলার জন্য একজন পরপুরুষের সামনে বেপর্দা হওয়া যেমন পাপ, নিকটাত্মীয় গায়ের মুহরিমের সামনেও বেপর্দা হওয়া তেমনি পাপ।
যেমন আজকাল আমাদের দেশে দেবর, ভাশুর, ভগ্নিপতি, খালাতো, চাচাতো, মামাতো ও ফুফাতো ভাইদের সামনে মেয়েরা বেপর্দা হওয়াকে পাপ মনে করে না। প্রকৃতপক্ষে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের সাথে আরও বেশি পর্দা করা উচিত। কারণ এ ধরনের নিকটাত্মীয় গায়ের মুহরিমদের দ্বারা আরও বেশি বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
আমাদের সমাজে কতিপয় পর্দানশীন পরিবারেও পর্দার মূল লক্ষ্য অনুধাবন করতে না পেরে পর্দার কার্যক্রমে উল্টাপাল্টা করে ফেলেন। অনেক পরিবারের মহিলারা নিজেরা বোরকা পরে পর্দা করে বের হন অথচ তাদের যুবতী মেয়েরা তাদেরই সাথে আকর্ষণীয় পোশাকে বেপর্দা হয়ে বের হয়। অনেকের ভুল ধারণা এমন যে, বয়স হলেই শুধু পর্দা করতে হয়। যেমন: পুরুষদের মধ্যে ভুল ধারণা আছে যে বয়স হলে, চাকুরি থেকে অবসর নেবার পর দাড়ি রাখতে হয়, যুবক বয়সে দাড়ি রাখার প্রয়োজন নেই। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।