📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 নারীর স্বাধীনতা নাকি অপমান!

📄 নারীর স্বাধীনতা নাকি অপমান!


নারীর স্বাধীনতা বলতে কী বুঝায়? আমরা দেখছি দেশের সর্বত্রই নারী স্বাধীনতার নামে কিছু কাজকর্ম হচ্ছে। যেমন:
- রাস্তা-ঘাটে যতো পোষ্টার বিজ্ঞাপন হিসেবে টানানো হয় সেখানে পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশী অশ্বিল ছবি দেখা যায়!
- পত্র-পত্রিকায় নারী-পুরুষের যতো ছবি ছাপা হয় তার মধ্যে নারীদেরকেই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অশালিন সংক্ষিপ্ত পোশাকে দেখা যায়!
- নাটক-সিনেমায় যা প্রচার হয় তার মধ্যে পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশী অশ্বিল ও অনৈতিক ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায়
- ঘরের বাইরে, শপিং মলে, পার্কে, কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় মেয়েরা বেশী সর্ট ড্রেস পরে থাকে!
- কোন নতুন মডেলের গাড়ি বা মোটর সাইকেলের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় গাড়ির পাশে একটি বা দুটি মেয়ে সংক্ষিপ্ত অশালিন পোশাক পরে দাঁড়িয়ে আছে! এমন কি ঢাকার গাড়ি বিক্রির মেলাতেও এখন পাশ্চাত্যের মতো করে তরণীদেরকে সংক্ষিপ্ত পোশাকে বা অশালীনভাবে শাড়ি পড়িয়ে বসিয়ে রাখা হয়।
সাবান একটি প্রয়োজনীয় পণ্য যা নরনারী সকলেরই প্রয়োজন, কিন্তু টিভি বিজ্ঞাপনে দেখা যাচ্ছে মডেল হিসেবে একটি স্বল্পবসনা নারী গোসল করছে! অভিভাবক হিসেবে আমরা কি কখনও একটু চিন্ত া করে দেখেছি যে, আমরা মুসলিমরা কতটা মূল্যবোধহীন হয়ে গেছি যে, পরিবারের সকলে মিলে টিভিতে একজন নারীকে গোসল করতে দেখি! যে পরিবারে একসাথে এমন দৃশ্য দেখা হয়, সেই পরিবারের মুসলিম সন্তানরা বড় হয়ে কেমন হবে বলে আশা করি?
ব্লেড, রেজার বা সেভিং ক্রিমের বিজ্ঞাপনে পুরুষের সাথে নারীকেও দেখানো হচ্ছে অশালীনভাবে!
কন্ডমের বিজ্ঞাপনে নারীকে না দেখালেই কি নয়? এমন কি স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ অবস্থাও দেখানো হচ্ছে।
বাজারে সাধারণত যে সকল ড্রেস পাওয়া যায় তাতে ছেলেদেরগুলো থাকে ঢিলেঢালা, কিন্তু মেয়েদের ড্রেস থাকে এমন ডিজাইনের যাতে করে তার শরীরের গঠন প্রণালী ফুটে উঠে।
কোন প্রধান অতিথিকে সম্বর্ধনা দিতে ফুল হাতে দুই লাইনে দাড় করানো হচ্ছে নারীদেরকে!
শিল্পমেলা বা বাণিজ্য মেলার স্টলগুলোতে সেলস গার্ল হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে নারীদেরকে কিন্তু অশালীন পোশাকে বা উগ্র সাজে।
আমরা যদি উপরের এই বাস্তব চিত্রগুলোর দিকে তাকাই এবং গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে কি বলবো যে এগুলো নারী স্বাধীনতা? নাকী স্বাধীনতা ও অধিকারের নামে নারীদেরকে অসম্মান করা। নারীরা তাদের শরীরের সবচেয়ে গোপন অংশও পাবলিকের সামনে উন্মুক্ত করে ফেলছে। এটা অনেকটা জেনে বুঝে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতো। নিজের মূল্যবান সম্পদ শরীর অন্যকে প্রদর্শন করার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। তাই নারীর সম্মান নারী নিজেকেই সচেতন হয়ে রক্ষা করতে হবে।
একজন নারীবাদী মহিলা মন্তব্য করেছেন যে - “নারীদের জন্য সংক্ষিপ্ত ড্রেস তো পুরুষরাই তৈরী করে, এতে নারীদের দোষ কোথায়?” প্রশ্ন হলো বিষও তো পুরুষরা তৈরী করে সেজন্য আমি জেনেশুনে তো আর বিষ পান করতে পারি না বা বিষ পান করে তো আর পুরুষদের দোষ দিতে পারি না।
২০১৩ সালে চীন সরকার নারীদেরকে অসম্মানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সরকারীভাবে আইন করেছে এখন থেকে মেয়েরা আর সর্ট স্কার্ট পরতে পারবে না।
আমরা পত্রিকায় দেখেছি যে ক্যানাডার একজন উর্দ্ধতন পুলিশ অফিসার তার অভিজ্ঞতা থেকে মন্তব্য করেছিলেন যে, মেয়েদের রাস্তা-ঘাটে Sexual Assault হওয়ার জন্য দায়ী তাদের সর্ট এবং আপত্তিকর ড্রেস।
বোনেরা আসুন কয়েকটা কথা ভেবে দেখি। যেহেতু সর্বত্র নারী স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে, একজন স্বাধীন নারী হিসেবে যদি আমি যা ইচ্ছে তাই (সংক্ষিপ্ত ড্রেস) পরতে পারি তাহলে তো একজন নারী হিসেবে আমার এই স্বাধীনতাও আছে যে:
* আমি আমার শরীর অন্যকে প্রদর্শন করবো না, ঢেকে রাখবো। * আমি অন্যের হাতের পুতুল হবো না। * অনৈতিক পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি আমাকে যেভাবে সাজাতে চাইবে আমি সেভাবে সাজবো না। * কেউ পণ্য হিসেবে আমাকে ব্যবহার করতে চাইলেও অমি সেভাবে ব্যবহৃত হবো না।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 নারী স্বাধীনতার স্ববিস্তৃত

📄 নারী স্বাধীনতার স্ববিস্তৃত


ব্যবিলনীয় সভ্যতা যে কয়েকটি কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো, নারী-পুরুষের অবৈধ যৌন-উদ্দামতার অবাধ ও যথেচ্ছ প্রসার। বিশেষ ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না, ইউরোপ, আমেরিকা এবং বাংলাদেশ আজ ব্যবিলনের মতোই জাতিতে পরিণত হয়েছে। এটা শুধু নিন্দার কথা নয়, ভয় ও দুঃখের কথা।
আশঙ্কা হয়, আসমান থেকে অবতীর্ণ বা জমীন থেকে উত্থিত কোনো গযবের আবশ্যকতা নেই, শুধু অবাধ যৌনাচার ও নারী-স্বাধীনতার নামে নারীকে পথে বসানোর এই পাপেই আমরা হয়তো অনতিবিলম্বে মুখ থুবড়ে পড়বো। কারণ ব্যভিচারের চেয়ে কুৎসিত ও কদর্য কোনো পাপ নেই; আর নারী-স্বাধীনতার কুহকে নারীকে পণ্য করে বেচা-কেনা করার চেয়ে জঘন্য কোনো ব্যবসাও নেই। অতএব এমন অকথ্য পাপ নিয়ে যারা নির্ভয়ে খেলা করে, এমন অকথ্য পাপ যাদের জীবনদর্শন, তাদের উপর আল্লাহর লানত যে শীঘ্রই অবতরণ করবে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 নারীর অধিকার সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হওয়া প্রয়োজন

📄 নারীর অধিকার সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হওয়া প্রয়োজন


বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নারী আন্দোলন চলছে। কিন্তু নারীদের আসল পরিচয় ও সঠিক মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা কী বলেছেন তা নারীরা ভালভাবে জানেন না। আলাহ শেষ নাবী মুহাম্মাদ -এর মাধ্যমে নারীদের যে মর্যাদা প্রদান করেছেন তা না জানার কারণে নতুন করে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে হচ্ছে। নারীদের নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কে জানতে হলে কুরআন-হাদীস অধ্যয়ন ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
পাঠক, আপনি/আমি যদি একজন অভিভাবক হই, আমরা কি ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে অবগত? আমরা যদি অবগত না হই, তাহলে আমাদের সন্তান কিভাবে জানবে? আমাদের অজ্ঞতার অন্যতম একটা কারণ ইসলাম হতে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।
ইসলাম নারীদের জন্য যেসব বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, তা তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার জন্য করেনি, বরং তারা যাতে কোন প্রকার অন্যায় ও অশ্লীল কাজে জড়িয়ে না পড়ে, নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগে, সেজন্যই তাদের উপর এ সব বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে যা মেনে চললে তাদের জন্য অফুরন্ত পুরষ্কারের প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দিয়েছেন। আর এটিই হল নারীদের জন্য সত্যিকার সম্মান ও মর্যাদা।
উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রসূলুলাহ বলেছেন : আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের ফিতনার চেয়ে মারাত্মক ও ক্ষতিকর আর কোন ফিতনা (অরাজকতা) আমি রেখে যাইনি। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আলাহর বিধান হলো যতক্ষণ না মানুষ নিজের মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং পরিবর্তনকে কাজে পরিণত করার চেষ্টা চালাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাতে কোন পরিবর্তন আসবে না।
"আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” (সূরা রাদ ১৩: ১১)
আল্লাহ তা'আলা নারীদের জন্য যেসব বিধি-বিধান দিয়েছেন, তা সবই নারীদের নিরাপত্তা ও তাদের মান সম্মানের হিফাযত করার জন্যই দিয়েছেন। ইসলামের মধ্যেই নিহিত রয়েছে নারীদের প্রকৃত কল্যাণ। একমাত্র ইসলামই নিশ্চিত করছে নারীদের নিরাপত্তা এবং গ্যারান্টি দিয়েছে তাদের মান মর্যাদা রক্ষার।
পাঠক, আপনি/আমি যদি ইসলামে নারী অধিকার নিয়ে না জেনে থাকি, তাহলে এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করি। নিজে জানি ও পরিবারকে জানাই।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ইসলামে নারীর অধিকার

📄 ইসলামে নারীর অধিকার


ইসলাম নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাস করে। এখানে সমতা মানে অভিন্নতা নয়। ইসলামে নর-নারীর ভূমিকা সম্পূরক, বৈপরীত্যের নয়; সম্পর্ক অংশীদারীত্বের, বিরোধিতার নয়, যা শ্রেষ্ঠত্বের সংগ্রামে লিপ্ত করে। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীদেরকে নিম্নের ছয়টি বিষয়ে অধিকার নিশ্চিত করেছে। ক) আত্মিক অধিকার খ) অর্থনৈতিক অধিকার গ) সামাজিক অধিকার ঘ) শিক্ষার অধিকার ঙ) আইনগত অধিকার চ) রাজনৈতিক অধিকার

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00