📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে 📄 পহেলা বৈশাখ ও নিউইয়ার উদযাপন করার বিধান

📄 পহেলা বৈশাখ ও নিউইয়ার উদযাপন করার বিধান


নববর্ষ উদযাপন করা জায়িয কিনা
বাংলা নববর্ষ 'পহেলা বৈশাখ', ইংরেজি নববর্ষ 'থার্টিফাস্ট নাইট' কিংবা হিজরি নববর্ষ পালন করা ইসলাম সম্মত নয়। ইন্ন কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "কোন মুসলিমের সুযোগ নেই কাফিরদের সামঞ্জস্য গ্রহণ করা, না তাদের ধর্মীয় উৎসবে, না মৌসুমি উৎসবে, না তাদের কোন ইবাদতে। কারণ আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতকে সর্বশেষ নাবী দ্বারা সম্মানিত করেছেন, যাকে পরিপূর্ণ ও সর্বব্যাপী দ্বীন দেয়া হয়েছে। যদি মূসা ইব্‌ন্ন ইমরান জীবিত থাকতেন, যার উপর তাওরাত নাযিল হয়েছে; কিংবা ঈসা ইবন মারইয়াম জীবিত থাকতেন, যার উপর ইঞ্জিল নাযিল হয়েছে; তারাও ইসলামের অনুসারী হত। তারাসহ সকল নাবী থাকলেও কারো পক্ষে পরিপূর্ণ ও সম্মানিত শরীয়তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকত না। অতএব মহান নাবীর আদর্শ ত্যাগ করে আমাদের পক্ষে কীভাবে সম্ভব এমন জাতির অনুসরণ করা, যারা নিজেরা পথভ্রষ্ট, মানুষকে পথভ্রষ্টকারী ও সঠিক দ্বীন থেকে বিচ্যুত। তারা বিকৃতি, পরিবর্তন ও অপব্যাখ্যা করে আসমানী ওহির কোন বৈশিষ্ট্য তাদের দ্বীনে অবশিষ্ট রাখেনি। দ্বিতীয়ত তাদের ধর্ম রহিত, রহিত ধর্মের অনুসরণ করা হারাম, তার উপর যত আমল করা হোক আল্লাহ গ্রহণ করবেন না। তাদের ধর্ম ও মানব রচিত ধর্মের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আল্লাহ যাকে চান সঠিক পথের সন্ধান দান করেন"।
নববর্ষ উদযাপন করে আমরা অন্যধর্মের অনুসরণ করতে পারি না। এসব তাদের বানানো উৎসব ও কুসংস্কার।
আমরা বিভিন্ন উপলক্ষে যেসব অনুষ্ঠান পালন করি তার অধিকাংশ ইহুদি, খৃস্টান ও মুশরিকদের তৈরি। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমরা আকীকা ত্যাগ করে খাতনার সময় ঘটা করে অনুষ্ঠান করি। খাতনা করা সুন্নত, এতে কোন অনুষ্ঠান নেই, অথচ আমরা অনুষ্ঠান করি, এদিকে আকীকা দেয়া নাবী -এর নির্দেশ, অথচ আমরা অনেকেই তা ত্যাগ করেছি এবং অপরদিকে অনেকেই অতিরিক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করি। আমরা কি এতটাই নির্বোধ বনে গেলাম! আমরা প্রতিদিন কমপক্ষে সতেরো বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে সিরাতে মুস্তাকিমের প্রার্থনা করি, বাস্তবে আমরা যা ত্যাগ করছি, অর্থাৎ নাবী -এর পথ ও সুন্নত। কমপক্ষে সতেরো বার অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের রাস্তা থেকে পানাহ চাই, অথচ বাস্তবে আমরা তাদের অনুসরণ করছি!
মুসলিমের একমাত্র উৎসবঃ ঈদ
আমাদের মুসলিমদেরকে ইসলামে স্বীকৃত উৎসব ঈদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের উৎসব ঈদ শুধু একটি উৎসবই নয়, বরং একটি ইবাদতও, যার দ্বারা আমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি। এ ঈদের সংখ্যা তিনটি, চতুর্থ কোন ঈদ নেই। জুমা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদহা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নাবী -কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয় জুমার দিন ঈদের দিন, অতএব তোমাদের ঈদের দিনকে তোমরা সিয়ামের দিন বানিয়ো না, তবে তার পূর্বে কিংবা পরে যদি সিয়াম রাখ, তাহলে পার"। (সহীহ মুসলিম)
আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"নাবী ﷺ মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দু'টি দিন ছিল, যেখানে তারা খেলা-ধুলা করত। তিনি বললেন: এ দু'টি দিন কী? তারা বলল: আমরা এতে জাহিলি যুগে খেলা-ধুলা করতাম। রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু'টি দিন দিয়েছেন: ঈদুল আদহা ও ঈদুল ফিতর"।
ইবন তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ হাদীস প্রমাণ করে যে কাফিরদের উৎসব পালন করা হারাম। কারণ নাবী ﷺ আনসারদের জাহিলি দুই ঈদের উপর বহাল রাখেননি। রীতি মোতাবেক তাতে খেলা-ধুলার অনুমতি দেননি। তিনি বলেছেন: নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে পরিবর্তন করে দিয়েছেন। এর দাবি পূর্বের আমল ত্যাগ করা। কারণ বদল করার পর উভয় বস্তুকে জমা করা যায় না। বদল শব্দের অর্থ একটি ত্যাগ করে অপরটি গ্রহণ করা। অতএব কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় ইহুদি, খৃস্টান ও মুশরিকদের উৎসব পালন করা, যেমন নববর্ষ ও অন্যান্য উৎসবসমূহ।
শুভ নববর্ষ বলা
আমরা চিন্তা করেছি কিংবা ভেবে দেখেছি যে, নববর্ষের শুরুতে যখন বলি, যাকেই বলি: "শুভ নববর্ষ", কিংবা "হ্যাপি নিউ ইয়ার"? কার অনুসরণ করছি, কাকে বলছি ও কী বলছি? নিশ্চয় আমরা চিন্তা করিনি, চিন্তা করলে কখনো আমাদের বিবেক সায় দিত না কুফরী কথার পক্ষে, কিংবা তাদের শুভেচ্ছা জানানোর প্রতি, যারা ঈসা আলাইহিস সালামকে বলেছে স্বয়ং আল্লাহ, কখনো বলেছে আল্লাহর পুত্র, কখনো বলেছে তিনজনের তৃতীয় সত্ত্বা।
যারা আল্লাহর সাথে শরীক করেছে ও তাঁর অসন্তোষের পাত্রে পরিণত হয়েছে, তাদের জন্য আল্লাহ জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন, আমরা কিভাবে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই, কিভাবে তাদের অনুসরণ করি এবং বলি নববর্ষের শুভেচ্ছা! ইব্‌ নুল কায়্যিম জাওযি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “তাদেরকে তাদের কুফরী উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সবার জন্যে হারাম, যেমন বলা: "তোমার উৎসব সফল হোক", "শুভ বড় দিন" অথবা এ জাতীয় অন্যান্য শব্দ, যা বর্তমান আমরা শুনতে পাই। এভাবে শুভেচ্ছা জানানোর ফলে যদিও সে কাফির হয় না, কিন্তু তার এ কর্ম হারাম তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ প্রকারান্তরে এভাবে সে ক্রুশকে সিজদার প্রতি উদ্বুদ্ধ করছে! এ জাতীয় শুভেচ্ছা মদ্যপ, হত্যাকারী ও ব্যভিচারীকে শুভেচ্ছার জানানোর চেয়ে মারাত্মক। অথচ যে কবীরা গুনাহের জন্য শুভেচ্ছা জানাল, সে নিজেকে আল্লাহর শাস্তি ও অসন্তোষের জন্য প্রস্তুত করল"।
নববর্ষ ও আমাদের সতর্কতা
আমরা বছরের অন্যান্য দিনের ন্যায় নববর্ষের দিনকে গণ্য করব। এতে কোন ধরণের অনুষ্ঠান করব না ও তাতে অংশ নেব না। আমাদের সন্তানদের প্রতি গভীর দৃষ্টি রাখব, যেন তারা বিজাতীয় উৎসবে অংশগ্রহণ না করে।
সন্তান কিংবা পরিবারের কোন সদস্যের আবদার রক্ষার্থে আল্লাহর নির্দেশ উপেক্ষা করে তাদের উৎসব উদযাপন করা যাবে না। ইমাম যাহাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “যদি কেউ বলে: আমরা এগুলো ছোট বাচ্চা ও নারীদের জন্য করি, তাকে বলা হবে: সবচেয়ে হতভাগা সে ব্যক্তি যে আল্লাহর অসন্তোষের বস্তু দ্বারা পরিবার ও সন্তানকে সন্তুষ্ট করে।
ভুল ধারণার অপনোদন
আমরা বলে থাকি পহেলা বৈশাখ পালন হচ্ছে বাঙালী কালচারাল অনুষ্ঠান, এর সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই, আমরা বাঙালী জাতি হিসেবেই পহেলা বৈশাখ পালন করে থাকি, এতে অসুবিধাটা কোথায়? অবশ্যই ধর্মের জায়গায় ধর্ম, আর জাতির জায়গায় জাতি।
সর্বপ্রথম দেখতে হবে আমার পরিচয় কী? আমার পরিচয় হচ্ছে আমি মুসলিম। জাতিগতভাবে একজন মুসলিম হতে পারে বাঙালী, ইংরেজ, চাইনিজ অথবা আফ্রিকান। এই সকল জাতি তার জাতিগত কালচারাল অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে কিন্তু অবশ্যই একজন মুসলিম হিসেবে যেন তা ইসলামী আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। কারণ আকীদা হচ্ছে ঈমানের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। তাই আমি যেই জাতির মুসলিম-ই হই না কেন একজন ঈমানদার মুসলিম হিসেবে আগে আমাকে ইসলামী আকীদাগত বিষয়গুলো সম্পর্কে খুব ভাল করে পড়াশোনা করে জেনে নিতে হবে যে আমি কী করতে পারবো আর কী করতে পাবো না। কোন ভাবেই যেন হালালের সাথে হারামের সংমিশ্রণ হয়ে না যায়।
চাইনিজদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে 'চাইনিজ নিউ ইয়ার'। এই সময় তাদের সাতদিন সরকারী ছুটি থাকে এবং এই সাতদিন ধরে চলে তাদের নানা রকম কালচারাল অনুষ্ঠান, বিগত পূর্বপুরুষদের পূজা করা এই অনুষ্ঠানের একটি অংশ। চাইনিজদের মধ্যেও অনেক মুসলিম রয়েছে। তারা কি তাদের জাতির ঐ সাতদিন ব্যাপি 'চাইনিজ নিউ ইয়ার' উৎসব পালন করে? অবশ্যই মুসলিম চাইনিজরা তা পালন করে না। কারণ ঐ সাতদিন ব্যাপী যে কালচারাল অনুষ্ঠান হয় তা ইসলামী আকীদা অর্থাৎ ঈমানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
পৃথিবীতে দু'প্রকার দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) রয়েছে: (ক) মানব রচিত দ্বীন যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ ও অগ্নিপূজক ইত্যাদি। (খ) আল্লাহর দেয়া (আসমানী বা ওহী নির্ভর) দ্বীন যেমন ইহুদিধর্ম, খৃস্টান ধর্ম ও ইসলাম।
মানব জাতির হিদায়াত ও কল্যাণের জন্য আল্লাহ তা'আলা সকল নাবী ও রসূলকে এ দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। ইহুদি-খৃস্টানদের দ্বীন আজ পরিবর্তিত, রহিত ও মানব রচিত দ্বীনের ন্যায় প্রত্যাখ্যাত। আল্লাহর নিকট তার কোন মূল্য নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সর্বোত্তম দ্বীন, সর্বোত্তম কুরআন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী ও রসূল দান করেছেন।
আসুন আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করি এবং কাফির মুশরিকদের সঙ্গ ত্যাগ করি, তাদের কৃষ্টি-কালচার পরিহার করি। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর নিকট আত্মসমর্পণকারী ও একনিষ্ঠভাবে শুধু তাঁরই ইবাদতকারী হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে 📄 বৃত্তি, ভাস্কর্য ও ইসলাম

📄 বৃত্তি, ভাস্কর্য ও ইসলাম


আভিধানিক অর্থে ভাস্কর্য:
ভাস্কর্য বা স্কালপচার (Sculpture): যে আকৃতি বা ছবি পাথর বা অন্যকিছুতে খোদাই করে তৈরি করা হয় তা-ই ভাস্কর্য। 'ভাস্কর্য বিদ্যা'-এর অর্থ, The art of carving বা খোদাই বিদ্যা। যিনি এ বিদ্যা অর্জন করেছেন অর্থাৎ যিনি খোদাই করে আকৃতি বা ছবি নির্মাণ করেন, তাকে বলা হয় ভাস্কর (Sculptor)। অক্সফোর্ড অভিধানে ভাস্কর (Sculptor) সম্পর্কে বলা হচ্ছে- One who carves images or figures. অর্থাৎ যে ছবি অথবা আকৃতি খোদাই করে তৈরি করে।
পক্ষান্তরে মূর্তি অর্থ ছায়া অথবা এমন আকৃতি বা শরীর যার ছায়া আছে। ভাস্কর্য ও মূর্তির আভিধানিক অর্থে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেল। এককথায় যে সকল আকৃতি খোদাই করে তৈরি করা হয় তা ভাস্কর্য- রৌদ্র বা আলোর বিপরীতে যার ছায়া পড়ে না। আর যে সকল আকৃতি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়, রৌদ্রে বা আলোর বিপরীতে যার ছায়া প্রকাশ পায়, তা হল মূর্তি। বিভিন্ন অভিধানে এভাবেই বলা হয়েছে।
কেউ কেউ মনে করেন যে সকল আকৃতি পূজা অর্চনার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয় সেগুলোকে মূর্তি বলে। আর যা পূজার জন্য নয়, তার নাম ভাস্কর্য। এটা ঠিক নয়, পূজার জন্য হলেও মূর্তি, পূজার জন্য না হলেও মূর্তি।
কাজেই বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে যে সকল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে তাকে ভাস্কর্য বলে চালিয়ে দেয়া একটি মূর্খতা। উদ্দেশ্য হল, ভাস্কর্য শিল্পের নামে ইসলামী সংস্কৃতির বিরোধিতা করা এবং অন্ধকার যুগের পৌত্তলিক সংস্কৃতি-কে বাঙালীর সংস্কৃতি বলে প্রতিষ্ঠিত করা।
ভাস্কর্য সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি কী?
কোন প্রাণীর ছবি, ভাস্কর্য, মূর্তি একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত তৈরি করা, প্রদর্শন করা বা স্থাপন করা যাবে না। ছবি, ভাস্কর্য, মূর্তি ইত্যাদিকে ইসলাম দু'ভাগে ভাগ করে। ১) প্রাণীর ছবি। ২) প্রাণহীন বস্তুর ছবি।
রসূলুল্লাহ ﷺ -এর হাদীসে এসেছে- আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রসূল' একদিন সফর থেকে ফিরে আসলেন। আমি একটি পর্দা টানিয়েছিলাম। যাতে প্রাণীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছবি ছিল। রসূল ﷺ যখন এটা দেখলেন, ক্রোধে তার মুখমণ্ডল রক্তবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, হে আয়িশা, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি তার হবে, যে আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্য নির্মাণ করে।' অতঃপর আমি সেটাকে টুকরো করে একটি বা দুটি বালিশ বানালাম। (সহীহ মুসলিম)
আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল ﷺ আমাকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন যে, 'কোনো প্রতিকৃতি রাখবে না, সবগুলো ভেঙে দেবে। আর কোনো উঁচু কবর রাখবে না, সবগুলো সমতল করে দেবে।' (সহীহ মুসলিম, আবু-দাউদ, আন-নাসাঈ)
আবু তালহা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রসূল ﷺ বলেছেন, 'যে ঘরে কুকুর ও প্রতিকৃতি আছে সেখানে ফিরিশতা প্রবেশ করে না।' (সহীহ বুখারী, সহীh মুসলিম)
প্রাণী ব্যতীত যে কোনো বস্তুই হোক তার ছবি, ভাস্কর্য, মূর্তি ইত্যাদি অঙ্কন, নির্মাণ, স্থাপন ও প্রদর্শন করা যাবে। কারণ, হাদীসে যে সকল নিষেধাজ্ঞার কথা এসেছে তার সবই ছিল প্রাণীর ছবি বিষয়ে। কেউ যদি কোনো ফুল, ফল, গাছ, নদী, পাহাড়, চন্দ্র, সূর্য, ঝর্ণা, জাহাজ, বিমান, গাড়ি, যুদ্ধাস্ত্র, ব্যবহারিক আসবাব-পত্র, কলম, বই ইত্যাদির ভাস্কর্য তৈরি করে সেটা ইসলামে অনুমোদিত।
যতগুলো পৌত্তলিকতা-বিরোধী ধর্ম আছে তার মধ্যে ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ও পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে' বেশি সোচ্চার। পৌত্তলিকতা বা শিরক হলো মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি মারাত্মক অবিচার। এটা ক্ষমার অযোগ্য অন্যায়। এটা হলো আল্লাহর প্রভুত্বকে অস্বীকার করে তাঁর প্রাপ্য উপাসনা অন্যকে নিবেদন করা। অবশ্য যারা ভোগবাদী দর্শনে বিশ্বাসী, সৃষ্টিকর্তা ও পরকাল যাদের কাছে গুরুত্বহীন, তাদের কাছে পৌত্তলিকতা আর একত্ববাদ কোনো বিষয় নয়।
ছবি, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য আর মূর্তিকে ইসলাম পৌত্তলিকতার প্রধান উপকরণ বলে মনে করে। শুধু মনে করা নয়, তার ইতিহাস, অভিজ্ঞতা স্পষ্ট। শুধু ইসলাম ধর্ম যে পৌত্তলিকতাকে ঘৃণার চোখে দেখে তা নয় বরং আরো দুটি একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারী ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও তা ঘৃণিত।
অতীতে পৌত্তলিকতার সূচনা হয়েছিল ছবি বা প্রতিকৃতির মাধ্যমে। ছবি ও ভাস্কর্যের পথ ধরেই যুগে যুগে পৌত্তলিকতার আগমন ঘটেছে। আর এ পৌত্তলিকতার অন্ধকার থেকে তাওহীদের আলোতে নিয়ে আসার জন্যই আল্লাহ যুগে যুগে নাবী ও রসূলদের পাঠিয়েছেন। আজীবন তাঁরা এ পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। অনেকে জীবন দিয়েছেন। অনেকে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। এ জন্যই ইসলাম ও অন্যান্য একেশ্বরবাদী ধর্ম মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সোচ্চার। মূর্তিপূজা ও পৌত্তলিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করা তাদের ধর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে 📄 সকল প্রশ্নের একমাত্র জবাব আমি মুসলিম

📄 সকল প্রশ্নের একমাত্র জবাব আমি মুসলিম


একজন মুসলিম, সে যতো বড় বাঙ্গালীই হোক, তাঁর কাছে কোনটা অধিক গৌরবের, কাহ্নপা জ্ঞানদাস-গোবিন্দদাস কি শ্রীচৈতন্য বা ন্যাড়ার ফকির সাঁইবাবাদের উত্তরাধিকার, নাকি মহানাবী এবং তাঁর অনুপম-চরিত্র সাহাবী (রা.)-দের উত্তরাধিকার? একজন মুসলিম সন্তানের অন্তর সত্যসত্যই কোন আনন্দে হিল্লোলিত হয়ে ওঠে, কবিগান-ঘেটুগান শারদীয় দুর্গোৎসব, রথযাত্রা, রাখীবন্ধন, ভাইফোঁটা ইত্যাদি নিয়ে, নাকি উমার (রা.), খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.), সালাহদীন আইয়ূবী, মুহম্মদ বিন কাসিম, মাহমুদ গজনাবী, বখতিয়ার খিলজী প্রমুখ বীর সিপাহসালার, যাঁরা ইসলামকে অপ্রতিহত বেগে ছড়িয়ে দিয়েছেন দিকে দিকে। এই শেষোক্ত গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকারকে যদি কেউ ভুলে থাকতে চায়, থাকতে পারেন; কেউ যদি অস্বীকার করতে চায়, তাও পারেন; কিন্তু সেটা যেহেতু ইসলামী চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এই বিস্মৃতি ও অস্বীকৃতিকে ঘোরতর আত্মঘাতী বলা হবে।
আল কুরআনে আল্লাহ সমস্ত সমস্যার সমাধান দিয়েছেন, তিনি বলেন: এটাই আমার সহজ পথ সুতরাং এ পথ ধরেই চল। অন্য পথে যাবে না। তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (সূরা আন'আম ৬: ১৫৩)
নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন জাতির পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজেরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করে। (সূরা রা'দ ১৩: ১১)
মু'মিনদের বৈশিষ্ট্য এই যে, যখন তাদেরকে ফায়সালার জন্যে আল্লাহ ও রসূলের (বিধানের) প্রতি ডাকা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। আর এরূপ লোকেরাই প্রকৃত সফলকাম। (সূরা নূর ২৪: ৫১)
আজ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে সম্পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহকে সম্যকভাবে সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্যে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম (মনোনীত করলাম)। (সূরা মায়িদা ৫:৩)
হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারের লোকদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও যার ইন্ধন (জ্বালানী) হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা আত তাহরীম: ৬)
সন্তানদেরকে এবং নিজ পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য পিতামাতাদের যে গাইডলাইন প্রয়োজন তা আমাদের প্রকাশিত "ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ" সংগ্রহ করে অনুসরণ করতে পারি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية