📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 লালন ফকিরের ধর্মীয় মতবাদ

📄 লালন ফকিরের ধর্মীয় মতবাদ


ফকির লালন সাঁইয়ের ধর্মীয় মতবাদ হচ্ছে গুরুবাদী মানব ধর্ম। তার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গুরুকে বিশ্বাস করা। গুরুবাক্য বলবান, আর সব বাক্য জ্ঞান। গুরুর বাক্যই শিষ্য ও ভক্তের সাধনা আরাধনা। গুরুর প্রতি নিষ্ঠাই হচ্ছে সকল সাধনার শ্রেষ্ঠ সাধনা। এই গুরু হচ্ছেন একজন মানব গুরু। লালন অনুসারীদের অধিকাংশই মুসলিম। অল্পসংখ্যক অন্য সম্প্রদায়ের লোকও আছেন। দলমত নির্বিশেষে সকল লালন অনুসারীই মানবতাবাদী। গুরুবাদ অবলম্বন করেছেন লালন অনুসারীরা বাউল সম্প্রদায়ের লোক। তারা আধ্যাত্ম সাধনায় গুরুবাদী মানব ধর্মের অনুসারী। হাওয়া বা বাতাসের সাধনা যারা করে তারা হচ্ছে বাউল। 'বাও' মানে বাতাস আর 'উল' মানে হচ্ছে সন্ধান। আউল, বাউল, দরবেশ, সাঁই এবং ফকির এই হলো সাধনা স্তরের পাঁচটি পর্যায়ের নাম। আউল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বাউল হচ্ছেন দীক্ষাপ্রাপ্ত মুরীদ, দরবেশ হচ্ছেন একজন আত্মসংযমী আদর্শ মানব, আধ্যাত্মজ্ঞানে যিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত তিনি হচ্ছেন সাঁই, আত্মতত্ত্বে যিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছেন তিনি হচ্ছেন ফকির। ফকির লালন সাঁইয়ের ভাষায় "এলমে লাদুন্নি হয় যার - সর্বভেদে মালুম হয় তার।"
ফকির লালন সাঁইয়ের তরিকার নাম ওয়াহাদানিয়াত অর্থাৎ লা-শরীক আল্লাহর খাস তরিকা। এই ওয়াহাদানিয়াত তরিকায় প্রথম খিলাফত প্রাপ্ত হন উয়াইস করনী। অতএব তিনিই প্রথম ফকির। ফকিরি মতবাদের এই ধারা বা দর্শন জুনায়েদ বোগদাদী, মনসুর হাল্লাজ, সামস তাবরেজ, জালালউদ্দিন রূমীসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ফকির দরবেশ বা সূফী থেকে ক্রমান্বয়ে ভারতবর্ষে পৌঁছায়। ফকির লালন সাঁইয়ের মতাদর্শ অনুসারে সন্ত ান উৎপাদন নিষিদ্ধ। কারণ নিজ আত্মা থেকে সন্তান, ফলে সন্তান উৎপাদন বা সন্তানের জন্মদান করলে আত্মা খন্ডিত হয়। ঐ মতোবাদের অর্থ এই যে, খন্ডিত আত্মা নিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় না। ফকির লালন সাঁই জন্মান্তরবাদী। তাই গুরুর নির্দেশে লালন ভক্ত শিষ্যরা খন্ড করে সন্তানের জন্ম দান করেন না।
গুরুর নিকট দীক্ষাপ্রাপ্ত শিষ্যরা বিশেষ বিশেষ স্তরে পৌঁছালে তাকে খিলাফত প্রদান করা হয়। যারা খিলাফতি পান তাদের পশুপাখি হত্যা করা, ডিম, মাংস খাওয়া নিষেধ। কারণ মানুষের জন্ম হয়েছে জীব থেকে। আত্মার মুক্তির জন্য এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কোন পশুপাখি হত্যা করা যাবে না, ভক্ষণ করাও যাবে না। এই আকীদা নিয়ে লালন ফকির যে বিষয়গুলোর উপর গান রচনা করেছেন তার মধ্যে হচ্ছে: নবুয়ত তত্ত্ব, নামাজের তত্ত্ব, বিলায়েত তত্ত্ব, দন্য তত্ত্ব, চাঁদ তত্ত্ব, ত্রিপেনী তত্ত্ব, সৃষ্টি তত্ত্ব, গুরু তত্ত্ব, মুর্শিদ তত্ত্ব, কৃষ্ণলীলা ও বিচ্ছেদ, গৌরলীলা ও গোষ্ঠ ইত্যাদি।
উপরের এই তথ্য থেকে আমরা জানতে পারলাম যে "গুরুবাদী মানব ধর্ম" সন্ধান কুরআন-হাদীসে কোথাও নেই। আল্লাহর রসূল ﷺ-এর জীবনী বা সাহবা (রা.)-দের জীবনীতে এই ধরনের দর্শনের কোন হদিস পাওয়া যায় না। আল্লাহ আমাদের জন্য যে ইসলাম পাঠিয়েছেন তার সাথে এই দর্শনের কোন মিল নেই। যা দেখা যাচ্ছে এই দর্শনে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, খৃষ্টান ধর্ম, ইহুদী ধর্ম ও অন্যান্য ধর্ম থেকে কিছু কিছু নিয়ে একটা মিক্সড ফিলোসফি তৈরী করা হয়েছে! এই বিষয়ে আরো ভাল বুঝতে হলে তাকে ইসলামী আকীদার উপর ভাল জ্ঞান থাকতে হবে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতিই মানবতার একমাত্র উপায়

📄 ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতিই মানবতার একমাত্র উপায়


সাহিত্য-সংস্কৃতি একান্ত নিজের মত করে গড়ে ওঠে না, উঠতেও পারে না; এটা গড়ে ওঠে কোনো-না কোন ধর্ম বা মতবাদ বা জীবনদর্শনের আশ্রয় ও অবলম্বনে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করতে পারি, ভারতীয় সংস্কৃতির যে-রূপ, তার প্রধান ভিত্তি হলো অংশীবাদ, পৌত্তলিকতা ও প্রকৃতিপূজা, এবং তৎসঙ্গে অবতারবাদ-নির্ভর মানবপূজা। বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত-সাহিত্য গড়ে উঠেছে মার্কসীয় দর্শনপুষ্ট সমাজতন্ত্রবাদের ভিত্তিতে। এবং ইয়োরোপীয় কি আমেরিকান সংস্কৃতি আসলে ধনতান্ত্রিক বস্তুবাদী জীবনদর্শনেরই অভিব্যক্তি। এবং আমরা এইকথাও জানি, একদা এই বাংলাদেশে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা যে চর্যাপদ রচনা করেছিলেন, তারও মূল অবলম্বন ছিল বৌদ্ধ-ধর্মদর্শন। এবং পরবর্তী সময়ে বৈষ্ণব পদাবলী, বাউল গানের যে প্রসার ঘটে, সেসবও ছিল যথাক্রমে বৈষ্ণব ও বাউল ধর্মাশ্রিত। উল্লেখ্য যে, মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব গীতিকবিতা রাধা-কৃষ্ণের লীলা বিষয়ক অনেকটা মানবিক বটে কিন্তু তার মধ্য দিয়ে মুখ্যত একটা ঐশ্বরিক আবেদন সৃষ্টির প্রেরণা ছিল। এবং একইভাবে বহু-প্রচলিত বাউলগান হলো যৌনতাশ্রয়ী দেহবাদ-নির্ভর একটা 'আধ্যাত্মিক' উপধর্ম।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি মনুষ্যত্বের উৎকর্ষ সাধনে কতটা কী ফলপ্রসু ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে ও করে, সে বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হলে আল কুরআন এবং রসূল ﷺ-এর জীবনাদর্শের নির্ভুল পথনির্দেশনা ছাড়া আমাদের জন্য দ্বিতীয় কোন পথ নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'ইন্নাদ্বীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম' তাঁর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন বা ধর্ম হলো ইসলাম (সূরা আলে ইমরান: ১৯)। অর্থাৎ ইসলামের বাইরে অন্য যে সকল ধর্ম, তার কোনোটাই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব এই সকল প্রত্যাখ্যাত ধর্ম ও মতবাদকে আশ্রয় করে যে সাহিত্য ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, নিশ্চয়ই তারও কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। আর এই অগ্রহণযোগ্য সংস্কৃতি বা সাহিত্য যে মানবকল্যাণের প্রশ্নে আদৌ কোন ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়, বরং মানবতার অপকর্ম সাধনই তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, এটা অস্বীকার করার কোন হেতু নেই, কোন যুক্তিও নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, ইসলাম কি তাহলে সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চাকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে? ইসলামে কাব্য কবিতার স্থান কি একেবারেই নেই? এই বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যার অবকাশ নেই, কাব্য কবিতার স্থান ইসলামে অবশ্যই আছে তবে তা যেন কোনভানেই ইসলামী আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা ও বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত

📄 ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা ও বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত


ইসলামী শিক্ষার অর্থ শুধু নিরঙ্কুশভাবে পরকালমুখী শিক্ষা নয়; ইহকাল পরকাল উভয়কে নিয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূল কর্তৃক পেশকৃত হিদায়াতকে সামনে রেখে যে সর্বাঙ্গসম্পূর্ণ শিক্ষা, সেটাই ইসলামী শিক্ষা। এখানে আত্মিক ও নৈতিক মানসকাঠামো সবল করে তুলবার কার্যক্রম যেমন অপরিহার্য, একই সঙ্গে ইহজাগতিক বৈষয়িক যোগ্যতালাভের বিষয়টিও সমান অপরিহার্য। এটা কোন আলেম-উলামার কথা নয়, পীর-মুর্শিদের কথা নয়; এই কথা স্বয়ং আল্লাহর কথা, আল্লাহর রসূল -এর কথা, ইসলামের কথা।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গ মানুষ পূর্ণাঙ্গ সমাজ

📄 ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গ মানুষ পূর্ণাঙ্গ সমাজ


আসলে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা যা বলে বা বলতে চায়, সেটা নতুন কিছু নয়। আল কুরআন এবং রসূল -এর জীবনাদর্শ থেকে প্রাপ্ত যে সর্বতোমুখী হিদায়াত, পূর্ণাঙ্গ মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ সমাজ বিনির্মাণের যে পথ ও পাথেয়, ইসলামী শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা সেই কথাই বলে। ইসলাম যেমন একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান, ইসলাম একটি নির্ভুল জীবনদর্শনও বটে। আর এই জীবনদর্শন তাওহীদ রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই জীবনদর্শনই ইসলামের প্রাণ। এ থেকে অন্যথা হলে, এই জীবনদর্শনের ব্যতিক্রম ঘটলে, ইসলাম আর ইসলাম থাকে না, মুসলিমও আর মুসলিম থাকে না। ইবলিস নানাভাবে প্রলুব্ধ ও প্ররোচিত করতেই পারে, এবং প্ররোচিত করাই তার কাজ। বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার অন্ত রে-বাইরে যে প্রশস্ত অঙ্গন, সেই অঙ্গন ইবলিসদের একটি বড় প্রিয় ও জরুরী কর্মক্ষেত্র। কারণ এখান থেকেই পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসে দেশ জাতি ও সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় জনস্রোত। অতএব ইবলিস ও তার সহযোগীদের কাজই হলো এই জনস্রোতকে কলুষিত ও বিপথগামী করা, নৈতিকভাবে পঙ্গু অক্ষম অপদার্থে পরিণত করা। বলা যায়, এই কাজে তার সাফল্য আশাতীতভাবে প্রমাণিতও হয়েছে, যে কারণে দেশব্যাপী আজ এই সমূহ দুরবস্থা。
একজন প্রকৃত মুসলিম কোনো অবস্থাতেই জীবনে শিরককে গ্রহণ করতে পারে না, সহস্র প্রলোভনেও পৌত্তলিকতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না, সংস্কৃতির নামে তাগুতের (আল্লাহ বিরোধী শক্তি) ইবাদতে মগ্ন হতে পারে না। তাই খাঁটি মুসলিমের পক্ষে ভাষা ও সংস্কৃতির নামে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বেলে আরতি করা, নিষিদ্ধ-পুরুষের হাতে সিঁদুর-পরিধান, নগ্ন-পৃষ্ঠদেশে উল্কি অঙ্কন, ভাইফোঁটা ইত্যাদিকে মেনে নেয়া সম্ভব নয় এবং এসব কাজকে ঈমান আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক ভাবাই ঈমানের পরিচয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00