📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 বর্ষবরণ ও আদ্যবর্তী সংস্কৃতিপ্রীতি

📄 বর্ষবরণ ও আদ্যবর্তী সংস্কৃতিপ্রীতি


আনন্দ খারাপ নয়, কিন্তু শিরক ও অশ্লীলতার সঙ্গে যুক্ত হলে তা খারাপ- তো বটেই, আনন্দ তখন একেবারেই গর্হিত ও হারাম হয়ে যায়। কারো অজানা নয়, পহেলা বৈশাখে ভোর না-হতেই নারী-পুরুষের অবাধ ও উদার মেলামেশার মধ্য দিয়ে রমনায় পান্তা খাওয়ার মহোৎসব শুরু হয়ে যায়। চারুকলা চত্বরে অনেক মেয়েরা তাদের বাহু-পিঠে-গালে উল্কি এঁকে নেবার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে, নানা দিকে নানা রঙের মিছিল শুরু হয়ে যায়। আর মিছিল শুধু মিছিল নয়, ঢোল-বাদ্যসহকারে জন্তু জানোয়ারের মুখোশ পরিহিত উদ্‌ভ্রান্ত নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিয়ে সে-এক দৃশ্য।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন বা নববর্ষ বরণের যে ক্রিয়া ও প্রক্রিয়া, তার কোনো একটি বিষয়েও আপত্তি নেই, আপত্তি থাকার কোনো কারণও নেই। শঙ্খধবনি হোক, পান্তাভাতের নৈবদ্য সাজিয়ে অতিথিরূপী নারায়ণ- সেবা হোক, উল্কি অঙ্কন, চন্দন বা সিন্দুর টিপ পরিধান হোক, নৃত্য সঙ্গীত মৃদঙ্গ করতাল ঢোলবাদ্য, উলুধবনি মঙ্গলদীপ, রবীন্দ্রপূজা, প্রকৃতিপূজা যাই-ই হোক, কোনো কিছুতেই অনুমাত্র আপত্তি নেই। বরং আশা করবো, হিন্দু সম্প্রদায় তাদের মতো করে নির্বিঘ্নে আলপনা এঁকে ঘট-সাজিয়ে শঙ্খ বাজিয়ে পহেলা বৈশাখকে নানা আচারে উপাচারে মুখরিত করে তুলুক। এমনকি তাদের কাছে প্রকৃতিপূজা যেহেতু সিদ্ধ; তারা মনে করলে, মঙ্গলদাত্রী বৈশাখী দেবীপ্রতিমা নির্মাণ করে পূজা-অর্চনাও করতে পারে।
কিন্তু ইসলামের আপত্তি শুধু একটি ক্ষেত্রে, এবং তা হলো এই হিন্দু উৎসবে মুসলিম নারীপুরুষের অংশগ্রহণ। কেউ যদি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করে তাহলে সে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারে না। কারণ এই কাজগুলো ইসলামী আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক। আকীদা হচ্ছে একজন মুসলিমের বিশ্বাসের ভিত্তি।
হ্যাঁ, মুসলিমরা বৈশাখী মেলায় যেতে পারে এক শর্তে। ইসলামের প্রথম যুগে মক্কায় কাবা ঘরের আশে পাশে অমুসলিমদের মেলা বসত। মুহাম্মাদ ﷺ সেই মেলায় যেতেন দ্বীন ইসলাম প্রচার করার উদ্দেশ্যে। তিনি মেলায় আসা শতশত লোকদের নিকট ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতেন এবং দাওয়াত দেয়ার এটি ছিল একটি উত্তম সময়। তাই বৈশাখী মেলা উদযাপন করার উদ্দেশ্যে নয় বৈশাখী মেলায় গিয়ে অমুসলিমদের নিকট দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া যেতে পারে, সেখানে অন্যান্য দোকনীদের সাথে দাওয়াতী স্টল দেয়া যেতে পারে। অমুসলিম এবং নন-প্র্যাকটিসিং মুসলিমদের মাঝে আল-কুরআনের বাংলা অনুবাদের হাজার হাজার কপি ফ্রী গ্রিফ্ট হিসেবে বিতরণ করা যেতে পারে। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম তার উপর কোন ভাল বইও বিতরণ করা যেতে পারে।
ইসলাম একটি স্বতন্ত্র জীবনদর্শন, একটি সর্বতোমুখী হিদায়াত। এখানে সংস্কৃতি আছে কিন্তু সংস্কৃতিপূজার কোনো অস্তিত্ব নেই; অলঙ্ঘনীয় মানবাধিকারের কথা আছে কিন্তু মানবপূজা এখানে হারাম। এবং এখানে এমনসব আনন্দকর্ম পুরোপুরি নিষিদ্ধ, যা যৌনতা, বেহায়াপনা, শিরক ও অশ্লীলতার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলে। অতএব পহেলা বৈশাখ হোক, বর্ষবরণ, বর্ষবিদায় কি প্রকৃতিবন্দনা যা-কিছুই হোক, একজন মুসলিম সর্বদা ও সর্বতোভাবে এই শর্তের অধীন যে, তার তাওহিদী-অভিজ্ঞান যেন এতোটুকু নিষ্প্রভ না হয়, সে যেন কোনোভাবেই শিরকের ফাঁদে জড়িয়ে না পড়ে, তার কর্মকান্ডে যেন বিন্দু পরিমান শিরকের ছোয়া না লাগে।
তথাকথিত সংস্কৃতিপ্রেমীরা বলতে পারে এবং আমরাও তর্কের খাতিরে ধরে নিতে পারি, বর্ষশুরুর প্রাক্কালে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্যে অন্যায় কিছু নেই। কারণ, এটা-তো সবারই মনস্কামনা যে, নতুন বছর সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক, সবার জীবন শান্তি ও সুখের সৌরভে আমোদিত করে তুলুক। আসলে এখানেই প্রশ্ন এবং প্রশ্নটি জীবনদর্শনের। কোনো মুসলিম কি একথা স্বপ্নেও ভাবতে পারে, নববর্ষ বা বৈশাখের আবাহনের মধ্যে কোন মঙ্গল বা কল্যাণ নিহিত আছে! অসম্ভব! সকল শক্তি, ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ; আমাদের সকল চাওয়া, সকল প্রার্থনা একমাত্র তাঁরই কাছে আমরা পেশ করি। এক্ষেত্রে কোনোরকম ব্যতিক্রম ঘটলে অর্থাৎ অন্য কোথাও অন্য কারো কাছে আমরা আমাদের কোনো আরজু যদি নিবেদন করি, সেটা সুস্পষ্ট শিরক, যে শিরকের অপরাধ আল্লাহপাক কখনোই ক্ষমা করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। অতএব নববর্ষ উদযাপনের বাহানায় আমাদের পক্ষে মুশরিকী চেতনা উদ্ভুত আনন্দযজ্ঞে শামিল হওয়ার কোনো উপায় নেই।
কেবল মাত্র আল্লাহ যে সকল সময়, দিনক্ষণ, রাত ও মাসকে বরকতময় বলে জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা মুসলিমরা কেবলমাত্র সেই সকল নির্দিষ্ট সময়ে, দিনক্ষণে ও মাসে রসূল ﷺ-এর নির্দেশিত উপায়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে বিশেষ বরকত অর্জন করতে পারি।
নববর্ষকে যদি আমাদের জীবনে ফলবান, গ্লানিমুক্ত ও শান্তিময়রূপে দেখতে চাই, তাহলে সেই প্রার্থনা ইসলাম-সম্মতভাবে আল্লাহপাকের কাছেই পেশ করতে হবে। আসলে শয়তান বড় চতুর। আগে আসতো নানা ধরনের অংশীবাদপুষ্ট ধর্মের আলখাল্লা পরিধান করে; এখন আসে, কখনো ধর্মনিরপেক্ষতা, কখনো উদার আবহমান সংস্কৃতি ও নান্দনিকতার পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে। উদ্দেশ্য একটাই, তাওহিদী উম্মাহকে সত্যভ্রষ্ট করা, পার্থিব ও পারলৌকিক জীবনের সমূহ সর্বনাশ সাধনের পথ প্রশস্ত করা।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 অপসংস্কৃতির কবলে বাংলাদেশ

📄 অপসংস্কৃতির কবলে বাংলাদেশ


ইসলামকে পছন্দ করি না করি, বাংলাদেশ যে নব্বই শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত একটি তাওহিদী বাংলাদেশ, এটা বাস্তব। সংস্কৃতি যদি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, যদি নববই ভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চৈতন্যের সাথে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তার নান্দনিক গুণ ও তথাকথিত Aesthetic value যতই থাক বা যতই উচ্চরবে প্রচারিত (ঘোষিত) হোক, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটা অবশ্যই অপসংস্কৃতি। অপরদিকে, যে সংস্কৃতি ও সংস্কৃতিচর্চা দেশের সিংহভাগ মানুষের বিশ্বাস, ধর্মানুভূতি ও জীবনদর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক, নিঃসন্দেহে সেটাও অপসংস্কৃতি।
বহু পতিতা- যে বছরের পর বছর কুৎসিত জীবনযাপন করে চলেছে, তাদেরও পক্ষে যুক্তি আছে। তারা অনেকেই বিশ্বাস করে, তারা যৌনশিল্পী, তাদের দেহ আসলে মন্দির, সেখানে মানবরূপী ঈশ্বর এসে পরমহংসের মত দেহনিঃসৃত তৃপ্তিটুকু শুধু পান করে যান। যদিও অর্থের বিনিময়ে কিন্তু অর্থটা লক্ষ্য নয়; মূল লক্ষ্য ঈশ্বরের সহবাস, দেহকে নৈবেদ্য করে ঈশ্বরের হাতে তুলে দেয়া। কী অদ্ভুত সাদৃশ্য, আমাদের অনেক আধুনিক সংস্কৃতিজীবীরও ধারণা, মানুষ যে বাহবা দেয়, সেটা শুধু বাহবা নয়, সেটা ঈশ্বরের পরম আশীর্বাদ। আর এই আশীর্বাদ লাভের জন্য যদি বিবসনা হয়ে নানা রূপ দেহভঙ্গি ও যৌন উত্তেজক মদির-মুদ্রায় নিজেকে নিঃশেষে নিবেদন করতে হয়, সেটা পুণ্যকর্ম।
আল কুরআন ও রসূল -কে উপেক্ষা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে (নাউযুবিল্লাহ) যাদের কাছে এই অপসংস্কৃতি হয়ে ওঠে প্রধান, যারা মুসলিম উম্মাহর বক্ষদেশ লক্ষ্য করে ক্রমাগত শরবর্ষণে তাওহিদী আমানতকে উৎখাত করতে চায়, তাদের কাছে ভালো কিছু আশা করাই অসমীচীন। শুধু একটাই দুঃখ, বাংলাদেশের এই বর্তমান তরুণ-প্রজন্মের একটি বিরাট অংশ আজ তাদেরই কারণে অশ্লীলতা দেহবাদ ও অংশীবাদপুষ্ট অপসংস্কৃতির অব্যর্থ শিকার। এই দুরবস্থা ক্রমশই বিস্তৃত ও ঘনীভূত হচ্ছে। এখনই সতর্ক না হলে শেষ পর্যন্ত কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলা কঠিন। অপসংস্কৃতির কবল থেকে আল্লাহ তা'আলা বাংলাদেশকে হিফাজত করুন।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 সংস্কৃতি নিয়ে আরো কিছু কথা

📄 সংস্কৃতি নিয়ে আরো কিছু কথা


যারা বলেন, 'লা-ইকরাহা ফিদ্দীন' দ্বীনের ক্ষেত্রে কোন জবরদস্তি নেই, তাদের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করা যায়, একথা আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন ভিন্নধর্মীদের প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন না করার জন্য। একথার অর্থ আদৌ এ রকম নয় যে, ইসলামও ভালো, ইসলামের বাইরে যা আছে তাও ভালো; অতএব মিলেমিশে একটা উদার জীবনাচার ও সংস্কৃতি গড়ে নিলে আল্লাহর তরফ থেকে আপত্তি নেই (নাউযুবিল্লাহ)। দ্বিতীয়ত, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করবার পর, আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূল যা অনুমোদন করেননি, সেই অননুমোদিত পন্থায় সর্বপ্রেমী বৈষ্ণব রসের উদার সংস্কৃতি রচনা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
শুধু ১০ই মহররম নয়, রোযা রাখলে আগে-পিছনে মিলিয়ে দুটি বা তিনটি রোযা রাখতে হবে, যাতে ইহুদিদের সাথে মিলে না যায়। সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং সূর্য যখন মধ্যগগনে, এই তিন সময়ে সলাত আদায় করা যে নিষিদ্ধ, তারও একমাত্র কারণ, সলাতের ওয়াক্ত যেন কোনো অবস্থাতেই মুশরিক-সূর্যপূজকদের অনুরূপ না হয়। অথচ কী দুর্ভাগ্য, আজ আমরা আমাদের অন্তরের টানে এক অংশীবাদপুষ্ট নিবিড় সাংস্কৃতিক সখ্য ও উদার বেপরোয়া জীবনাচারের মধ্যে আত্মমুক্তির আস্বাদ গ্রহণ করছি।
এই দীর্ঘ দেড় সহস্র বৎসরকালে মুসলিম উম্মাহ যেখানে যতবার বিপর্যস্ত হয়েছে, তার অন্যতম মুখ্য কারণ ছিল, কুরআন ও সুন্নাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ ও অসমর্থিত শিল্পচর্চার মধ্যে ডুবে যাওয়া। মোগল সাম্রাজ্যের পতন, অযোধ্যার পতন, মুর্শিদাবাদ কি হায়দরাবাদের পতন ইত্যাদি বহু বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ছিল শাসকদের কাব্যভক্তি ও সংস্কৃতিবিলাস।
ইবলিস কী চায়, ইবলিসের অভিপ্রায় কী? উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য একটাই, আল্লাহ এবং তাঁর রসূল -এর প্রকৃষ্ট হিদায়াত থেকে মুসলিমকে উল্টোদিকে ধাবিত করা। তবে এক্ষেত্রে ইবলিসের সর্বাধিক প্রিয় ও কার্যকরী হাতিয়ার হলো গানবাজনা, নৃত্যগীত ও নাটক-নবেলের সংস্কৃতি। এই পথে ইবলিস যতটা সহজে ধ্বংস ডেকে আনতে পারে, অন্য কোনভাবে ততটা হয় না। এবং এইজন্যই পৃথিবীর অন্য সকল দেশের মত বাংলাদেশের সংস্কৃতি-জগৎও ইবলিসের একটি নির্ভরযোগ্য মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে。
* তথাকথিত সংস্কৃতিসেবীদের অধিকাংশই কুরআনের কথা ও রসূল -এর জীবনাদর্শের কথাকে বড় ভয় পায়। আর এজন্যই আমাদের নান্দনিক জগতে ভালো-মন্দ অনেক কিছু আছে, শুধু আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূল নেই। শয়তান যেহেতু অন্ধকারের প্রতিভু, শয়তানের নিয়ন্ত্রণাধীন আমাদের সংস্কৃতির একটি বিরাট অংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এজন্যই আমাদের সংস্কৃতিতে ন্যাড়ার ফকির লালন একজন বড়-মাপের 'আউলিয়া', পাগলা কানাই এমনকি অর্ধশিক্ষিত আরজ আলি মাতুব্বরও বিরাট কিছু।
আসলে পুরো মুসলিম উম্মাহর মধ্যেই এমন এক ধরনের তীব্র অন্ধত্ব প্রবল হয়ে উঠেছে, যে কারণে সহজ সরল বিষয়গুলোও মুসলিম আজ অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। রসূল কি জীবনে একবারও গানবাজনা চর্চার কথা বলেছেন? বলবেন কী করে? তিনি তো এসেছিলেন বাদ্যযন্ত্র উৎখাত করতে (সহীহ বুখারী)। আর ইসলাম-তো পৃথিবীতে গানবাজনা কি নাটক করার জন্য আসে-নি; এসেছে পৃথিবীকে জঞ্জালমুক্ত ও পবিত্র করবার জন্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য, এসেছে মানবরূপী ইবলিসদের মোকাবিলায় আল্লাহর একক প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য। আর এই কাজ পদ্য বা গীতনৃত্য ছবি-আঁকা দিয়ে হয় না; এর জন্য প্রয়োজন সংগ্রাম, প্রয়োজন আল্লাহর দ্বীন-প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা বুকে নিয়ে জীবন ও সম্পদ ব্যায় করা।
যে তেইশ বছর ধরে শত সহস্রবার জিব্রাইল (আ.) আল্লাহর নিকট থেকে ওহী নিয়ে আসলেন, তার কোনো একটি আয়াতেও কি নাচগানের কথা আছে? বরং উল্টোটাই বলা আছে। বলা হয়েছে, কাব্য-কবিতা নিয়ে মশগুল তথাকথিত সংস্কৃতিবিলাসীরা হলো ইবলিসের নিকট থেকে ইলহামপ্রাপ্ত ঘোরতর মিথ্যাবাদী এবং নানা উপত্যকায় ভ্রাম্যমাণ উদভ্রান্ত মুনাফিক; যাদেরকে শুধু পথভ্রষ্ট ব্যক্তিরাই গুরু বলে মান্য করে (সূরা শুয়ারা : ২২১-২২৬)। আসলে মুসলিমের সংস্কৃতি হলো সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক জিহাদের সংস্কৃতি, রসূল -কে একমাত্র আদর্শ মেনে জীবন গঠন ও পরিচালনার সংস্কৃতি।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 লালন ফকিরের ধর্মীয় মতবাদ

📄 লালন ফকিরের ধর্মীয় মতবাদ


ফকির লালন সাঁইয়ের ধর্মীয় মতবাদ হচ্ছে গুরুবাদী মানব ধর্ম। তার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গুরুকে বিশ্বাস করা। গুরুবাক্য বলবান, আর সব বাক্য জ্ঞান। গুরুর বাক্যই শিষ্য ও ভক্তের সাধনা আরাধনা। গুরুর প্রতি নিষ্ঠাই হচ্ছে সকল সাধনার শ্রেষ্ঠ সাধনা। এই গুরু হচ্ছেন একজন মানব গুরু। লালন অনুসারীদের অধিকাংশই মুসলিম। অল্পসংখ্যক অন্য সম্প্রদায়ের লোকও আছেন। দলমত নির্বিশেষে সকল লালন অনুসারীই মানবতাবাদী। গুরুবাদ অবলম্বন করেছেন লালন অনুসারীরা বাউল সম্প্রদায়ের লোক। তারা আধ্যাত্ম সাধনায় গুরুবাদী মানব ধর্মের অনুসারী। হাওয়া বা বাতাসের সাধনা যারা করে তারা হচ্ছে বাউল। 'বাও' মানে বাতাস আর 'উল' মানে হচ্ছে সন্ধান। আউল, বাউল, দরবেশ, সাঁই এবং ফকির এই হলো সাধনা স্তরের পাঁচটি পর্যায়ের নাম। আউল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বাউল হচ্ছেন দীক্ষাপ্রাপ্ত মুরীদ, দরবেশ হচ্ছেন একজন আত্মসংযমী আদর্শ মানব, আধ্যাত্মজ্ঞানে যিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত তিনি হচ্ছেন সাঁই, আত্মতত্ত্বে যিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছেন তিনি হচ্ছেন ফকির। ফকির লালন সাঁইয়ের ভাষায় "এলমে লাদুন্নি হয় যার - সর্বভেদে মালুম হয় তার।"
ফকির লালন সাঁইয়ের তরিকার নাম ওয়াহাদানিয়াত অর্থাৎ লা-শরীক আল্লাহর খাস তরিকা। এই ওয়াহাদানিয়াত তরিকায় প্রথম খিলাফত প্রাপ্ত হন উয়াইস করনী। অতএব তিনিই প্রথম ফকির। ফকিরি মতবাদের এই ধারা বা দর্শন জুনায়েদ বোগদাদী, মনসুর হাল্লাজ, সামস তাবরেজ, জালালউদ্দিন রূমীসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ফকির দরবেশ বা সূফী থেকে ক্রমান্বয়ে ভারতবর্ষে পৌঁছায়। ফকির লালন সাঁইয়ের মতাদর্শ অনুসারে সন্ত ান উৎপাদন নিষিদ্ধ। কারণ নিজ আত্মা থেকে সন্তান, ফলে সন্তান উৎপাদন বা সন্তানের জন্মদান করলে আত্মা খন্ডিত হয়। ঐ মতোবাদের অর্থ এই যে, খন্ডিত আত্মা নিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় না। ফকির লালন সাঁই জন্মান্তরবাদী। তাই গুরুর নির্দেশে লালন ভক্ত শিষ্যরা খন্ড করে সন্তানের জন্ম দান করেন না।
গুরুর নিকট দীক্ষাপ্রাপ্ত শিষ্যরা বিশেষ বিশেষ স্তরে পৌঁছালে তাকে খিলাফত প্রদান করা হয়। যারা খিলাফতি পান তাদের পশুপাখি হত্যা করা, ডিম, মাংস খাওয়া নিষেধ। কারণ মানুষের জন্ম হয়েছে জীব থেকে। আত্মার মুক্তির জন্য এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কোন পশুপাখি হত্যা করা যাবে না, ভক্ষণ করাও যাবে না। এই আকীদা নিয়ে লালন ফকির যে বিষয়গুলোর উপর গান রচনা করেছেন তার মধ্যে হচ্ছে: নবুয়ত তত্ত্ব, নামাজের তত্ত্ব, বিলায়েত তত্ত্ব, দন্য তত্ত্ব, চাঁদ তত্ত্ব, ত্রিপেনী তত্ত্ব, সৃষ্টি তত্ত্ব, গুরু তত্ত্ব, মুর্শিদ তত্ত্ব, কৃষ্ণলীলা ও বিচ্ছেদ, গৌরলীলা ও গোষ্ঠ ইত্যাদি।
উপরের এই তথ্য থেকে আমরা জানতে পারলাম যে "গুরুবাদী মানব ধর্ম" সন্ধান কুরআন-হাদীসে কোথাও নেই। আল্লাহর রসূল ﷺ-এর জীবনী বা সাহবা (রা.)-দের জীবনীতে এই ধরনের দর্শনের কোন হদিস পাওয়া যায় না। আল্লাহ আমাদের জন্য যে ইসলাম পাঠিয়েছেন তার সাথে এই দর্শনের কোন মিল নেই। যা দেখা যাচ্ছে এই দর্শনে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, খৃষ্টান ধর্ম, ইহুদী ধর্ম ও অন্যান্য ধর্ম থেকে কিছু কিছু নিয়ে একটা মিক্সড ফিলোসফি তৈরী করা হয়েছে! এই বিষয়ে আরো ভাল বুঝতে হলে তাকে ইসলামী আকীদার উপর ভাল জ্ঞান থাকতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00