📄 কো-এডুকেশনের প্রভাব
কো-এডুকেশন মানে ছেলেমেয়েরা একই সময়ে একই স্থানে, একই শ্রেণীকক্ষে বসে পড়ালেখা করা। যার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই খারাপ হচ্ছে। এতে নানা ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই ছেলেমেয়েদের মাঝে অবৈধ সম্পর্কের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও পশ্চিমা দৃষ্টিতে ও আইনানুসারে এই সম্পর্ক বৈধ। চলুন এ সম্পর্কে বাংলাদেশের একটি চিত্র দেখি。
বাংলাদেশ অবজার্ভার পত্রিকায় ডা. সাবরিনা কিউ রশীদ একটি আর্টিক্যালে লিখেছেন, 'পূর্বে কখনো আমরা ডাক্তারেরা এত অধিক সংখ্যক অবিবাহিত অল্প বয়স্ক মেয়েকে গর্ভবতী হতে দেখিনি'। তিনি এ মন্তব্য সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের সম্পর্কে করতে গিয়ে প্রবন্ধে উল্লেখ করেন - ছাত্র- ছাত্রীদের পারস্পরিক কথাবার্তা শেষ পর্যন্ত আর শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো পরবর্তীতে স্পর্শ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ বয়সের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যৌন হরমোনের নিঃসরণ হওয়ায় যে কোন স্পর্শ শরীর ও মনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এটি ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে। কেননা মেয়েরা একটু ঠাণ্ডা হলেও ছেলেরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। সুতরাং মেয়েরা ছেলেদের বন্ধু হিসেবে নিতে চাইলেও ছেলেরা তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবে।
সেজন্য ডা. সাবরিনা সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের ছেলেদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা না করতে এবং নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করে চলতে বলেছেন। ডা. সাবরিনা রশীদের পরামর্শ যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিমপ্রধান দেশের চিত্র যদি হয় এমন তাহলে আমাদের অবশ্যই সেটা গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখতে হবে।
তাছাড়া চিন্তা করা উচিত যে ছেলেমেয়েদেরকে দুটো ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মেজাজে, ভিন্ন চাহিদা ও শারীরিক গঠনে, ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন বস্ত্র পরিধান করার আদেশ দিয়ে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন। তাহলে কিভাবে তাদের মধ্যে স্রষ্টার আদেশ ব্যতিরেকে মিল বা বন্ধুত্ব হতে পারে? (বিয়ে ছাড়া কি সম্ভব!) তবে যেহেতু এদের সাথে ক্লাস করতেই হচ্ছে কাজেই তাদের উভয় পক্ষেরই আচরণ অত্যন্ত ফর্মাল হওয়া উচিত, ঘনিষ্ট নয়, যাতে ক্ষতিকর কিছু ঘটার সুযোগ না থাকে।
ইসলাম ছেলেমেয়েদেরকে অবাধে চলাফেরা করা, বিনা প্রয়োজনে পাশাপাশি বসে কথা বলা, রাস্তা দিয়ে যাওয়া, শপিং মলে একসাথে কেনাকাটা করতে যাওয়া ইত্যাদি নিরুৎসাহিত করেছে। অফিসে বা কর্মস্থলে পুরুষ ও মহিলা একটা নিরাপদ দূরত্ব ব্যতিরেকে পাশাপাশি কাজ করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ছেলে ও মেয়ে উভয়েই মানুষ; কিন্তু তাদের মাঝে ভিন্নতাও আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মেয়েদের দেহকে কোমলরূপে সৃষ্টি করেছেন। নম্রতা, বিনয়, মায়া মমতার আধিক্য এবং প্রখর সৌন্দর্যানুভূতি তাঁদের চরিত্রের ভূষণ। ফলে তারা সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন।
আমরা যতক্ষণ আল্লাহর হুকুম বা বিধান মেনে চলবো, ততক্ষণ আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি আমাদের পক্ষ হয়ে আমাদের সাহায্য করবে। যেমন আগুন সাহায্য করেছিল ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে। পানি সাহায্য করেছিল মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে, ছুরি সাহায্য করেছিল ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে। আর যদি আল্লাহর বিধান অমান্য করে নিজের খুশিমতো খামখেয়ালীভাবে চলাফেরা করি, তবে আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। যেমন লোহিত সাগরের (Red Sea) পানি ফিরাউনের বিরুদ্ধে লড়েছিল, আল্লাহর সৃষ্টি মশা যেমন নমরূদের বিরুদ্ধে লড়েছিল, আবাবিল পাখি যেমন লড়েছিল বাদশা আবরাহা ও তার বিরাট হাতী ও সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে ইত্যাদি।
📄 উচ্চ শিক্ষিতদের চিন্তাধারা
একটি ইউনিভার্সিটি চত্তরে রাতভর নাচ-গান-আলোচনা সভাতে শতশত ছেলেমেয়ে একসাথে অনুষ্ঠান উপভোগ করছে। যুবতী মেয়েরা সারা রাত সেখানে কাটাচ্ছে, অনেক অভিভাবকরাই সেটা ভাল চোখে দেখছেন না। এই বিষয়ে কিছু টিভি চ্যানেলে সামান্য কিছু আলাপ আলোচনা হচ্ছে।
এরকম একটি টকশোতে ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসরও এসেছিলেন বক্তা হিসেবে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে “এই যে যুবতী মেয়েরা রাতভর সেখানে কাটাচ্ছে আপনি এ বিষয়ে কী মনে করেন বা আপনার অভিমত কী?” তিনি উত্তরে বলেছিলেন যে “এতে অবাক হওয়ার কী আছে, আমি তো এতে খারাপ কিছু দেখছি না, আমিওতো আমার ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া মেয়েকে গতরাত থেকে সেখানে নিজে দিয়ে এসেছি।”
📄 অবৈধ বা হারাম উপার্জনের প্রভাব
প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর জন্য হালাল রুজির সন্ধান করা অবশ্যকর্তব্য। কেননা হালাল সম্পদ বা খাদ্যই হলো ইবাদত কবুলের শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত। হালাল উপায়ে অর্জিত ও শরীয়ত অনুমোদিত অর্থ- সম্পদ বা খাদ্যগ্রহণ ছাড়া আল্লাহর দরবারে কোন ইবাদতই কবুল হয় না। জীবিকা নির্বাহের জন্য উপার্জনের গুরুত্ব ইসলামে যেমনি রয়েছে, ঠিক তেমনি হালাল উপার্জনের গুরুত্বও অত্যধিক। ইসলাম অর্থসম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের পার্থক্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর যাবতীয় ব্যবস্থাকে ইসলাম হালাল করেছে।
* পাঠক, আমি/আপনি যদি এক বা একাধিক সন্তানের অভিভাবক হয়ে থাকি, নিজেকে প্রশ্ন করে দেখি তো আমার সন্তানকে কখনো হালাল/হারাম উপার্জন নিয়ে সুপরামর্শ দিয়েছি কিনা বা এ বিষয়ে আল্লাহর কি হুকুম তা জানিয়েছি কিনা?
* ইসলাম মানুষের জন্য হালাল ও হারামের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করেই থেমে থাকেনি, বরং হালাল উপার্জনের দিয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। (রেফারেন্স সূরা জুমা ৬২: ৯-১০) ফরয ইবাদত সমূহের আদায়ের পর এ মহতি কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও বৈধ উপায় অবলম্বন করা ব্যবসায়ীসহ সকল মানুষের উপর ইসলামের একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান। যারা উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও হারামের প্রশ্নে সতর্কতা অবলম্বন করে না তাদের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন : মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে যখন সেই ব্যক্তি কোন উৎস থেকে সম্পদ আহরণ করছে, তা হালাল না হারাম, সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ করবে না। (সহীহ বুখারী)
* হালাল উপার্জন (ইনকাম) ইবাদত কবুল হবার পূর্বশর্ত। হারাম খেয়ে আমরা যতই সিজদা দেই না কেন, কোন লাভ নেই। হারাম উপার্জনে পালিত সন্তান ইসলামী তরীকা মানুষ হবারও কোন সম্ভাবনাই নেই।
📄 সর্বত্র দুর্নীতির প্রভাব
* আমরা জানি যে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমাদের দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির ভয়াবহতা আমরা সকলেই কমবেশী জানি। এই দুর্নীতি দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি, আর সেই সাথে আমাদের বিবেকও ভোঁতা হয়ে গেছে।
* আমাদের সন্তানেরা জন্মের পর থেকেই দেখে আসছে দুর্নীতির দাপট। নিজের বাবা, মা, চাচা, মামা, খালু, ভাই, বোন সকলেই কম বেশী দুর্নীতি করছে। দুর্নীতি করছে করছে মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, কমিশনার, চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পুলিশ, বিডিআর, ডাক্তার, নার্স, কম্পাউন্ডার, ইঞ্জিনিয়র, কন্ট্রাক্টর, জজ, উকিল, মোক্তার, পিয়ন, ব্যবসায়ী, সরকারী, আধাসরকারী, বেসরকারী কর্মকর্তারা। এদের লিস্ট করে শেষ করা যাবে না।
• আমাদের এক পরিচিত ভাই তিনি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর ডাইরেক্টর। তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশে যাচ্ছিলেন বেড়াতে। তাদের ভিসাসহ সকল কাগজ-পত্রই রয়েছে ঠিক মতো। কিন্তু ঢাকা এয়ারপোর্টে কাস্টমস অফিসার তাদেরকে আটকিয়েছে যে 'আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যে বিদেশে যাচ্ছেন তার ফরেন মিনিষ্ট্রি থেকে এন.ও.সি লাগবে'। তখন ঐ ভাই একটু বিরক্ত হয়ে কাস্টমস অফিসারকে বলছেন 'ভাই কেন দুই নাম্বারী করছেন?' প্রতি উত্তরে কাস্টমস অফিসার বলছেন যে 'দুই নাম্বারীর দেখেছেন কি? দশ নাম্বারী করার জন্য ঘুষ দিয়ে এই পদে চাকুরী নিয়েছি।'
• পাঠক আপনি/আমিও হয়তো নিজ সন্তানকে ওর শিশুকাল হতে দুর্নীতি শেখাচ্ছি, সেটা কি জানি? যেমন: ✓ হয়তো সন্তানকে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছি। আমার এপয়েন্টমেন্ট অনেক পরে, আর অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করছে না। তখন আমি হয়তো সন্তানকে কোলে রেখেই ঘুষ দিয়ে সময়টা আগিয়ে নিলাম! ✓ ট্রাফিক সার্জন হয়তো আমার গাড়ির কাগজ পত্রে সমস্যা পেলো তখন আমি কিছু ঘুষ দিয়ে মুক্তি পেলাম! ✓ সন্তানকে ভাল স্কুলে ভর্তির জন্য ডোনেশন (ঘুষ) সংক্রান্ত কার্যকলাপ হয়তো সন্তানের সামনেই করলাম বা সন্তানের সামনেই এ বিষয়ে কথা পাকাপাকি করলাম! ✓ আমার সন্তান হয়তো পরীক্ষায় ফেল করেছে কিন্তু আমি অবৈধ পথে সেটাকে পাশ করিয়ে নিলাম! ✓ টেলিফোন আসলে সন্তানকে দিয়ে ফোন রিসিভ করিয়ে তাকে বলছি বলো বাবা বাসায় নেই! ✓ এসব ঘটনা আমাদের সন্তানরা শিশুকাল হতে দেখে দেখে বড় হচ্ছে। আর এদের মাঝেই কেউ কেউ বড় হয়ে ঘুষ নেবার কাজটা করছে, দুর্নীতি করছে!
• পাঠক দেখুন, আমরা মা-বাবারা যদি ইসলামের পথে থাকতাম এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়ের উপর থাকতাম কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আমাদের সন্তানরাও সেভাবেই বড় হতো এবং ইসলাম হতে দূরে সরে যেতো না।