📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 'ভ্যালেন্টাইন'স ডে'-র প্রভাব

📄 'ভ্যালেন্টাইন'স ডে'-র প্রভাব


• বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে 'ভ্যালেন্টাইন'স ডে' বা 'ভালবাসা দিবস' নামে এই নতুন দিবসটি খুব উৎসাহ সহকারে উদযাপন করা হচ্ছে। আগে শুধু এ দেশেই নয়, বেশির ভাগ মুসলিম দেশেই এটা পালিত হতো না। 'ভালবাসা দিবসে'র ইতিহাস ও ভিত্তি কী তা বেশির ভাগই জানে না।
• খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে রোমানরা এটা শুরু করেছিল পৌত্তলিক পার্বণ হিসেবে। 'উর্বরতা ও জনসমষ্টির দেবতা' লুপারকাসের সম্মানেই এটা করা হতো। এর প্রধান আকর্ষণ ছিল লটারি। 'বিনোদন ও আনন্দে'র জন্য যুবকদের মাঝে যুবতীদের বণ্টন করে দেয়াই ছিল এ লটারির লক্ষ্য। পরবর্তী বছর আবার লটারি না হওয়া পর্যন্ত যুবকেরা এ 'সুযোগ' পেত।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। মূলতঃ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী 'ভালবাসা দিবস' বলতে কিছু নেই। প্রতিটি মুসলিমের জন্য প্রতিটি দিবসই ভালবাসার দিবস। আসলে Islam শব্দের উৎপত্তিই হচ্ছে peace থেকে। তাই ইসলাম বছরের ৩৬৫ দিনই শান্তির কথা বলে, ভালবাসার কথা বলে। ইসলামে ভালবাসাবিহীন কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম বলে প্রতিটি মানুষ প্রতিটি মানুষকে বৈধভাবে ভালবাসবে, একজন আরেকজনের মঙ্গল কামনা করবে। এর মধ্যে থাকবে না কোন কৃত্রিমতা, থাকবে না কোন লৌকিকতা, থাকবে শুধু পবিত্রতা।
অভিভাবকগণ এতক্ষণ আমরা ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা হতে শুরু করে বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড, লিভটুগেদার, এম.আর ইত্যাদি নিয়ে আলোকপাত করলাম। আজ হতে অনেক বছর আগে হয়তো আমরা পারিবারিক পর্যায়ে আমাদের সন্তানদের অবাধ মেলামেশা মেনে নিয়েছি। সেটাই ক্রমে এখন জাতীয় পর্যায়ে পালিত হয় নির্দিষ্ট একটা দিনে। একবার ভেবে দেখি, অন্যায় কাজটা এতোটাই সহনশীল হয়ে গেছে যে, আজ ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্দিষ্ট দিনে সকলে মিলে একসাথে অন্যায় সম্পর্কের চর্চা করে যাচ্ছে। ভয়াবহতাটা কি উপলব্ধী করতে পারছি? এভাবে হয়তো ভবিষ্যতে একটা সময় সীমালঙ্ঘন করে ফেলবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম。

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 কো-এডুকেশনের প্রভাব

📄 কো-এডুকেশনের প্রভাব


কো-এডুকেশন মানে ছেলেমেয়েরা একই সময়ে একই স্থানে, একই শ্রেণীকক্ষে বসে পড়ালেখা করা। যার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই খারাপ হচ্ছে। এতে নানা ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই ছেলেমেয়েদের মাঝে অবৈধ সম্পর্কের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও পশ্চিমা দৃষ্টিতে ও আইনানুসারে এই সম্পর্ক বৈধ। চলুন এ সম্পর্কে বাংলাদেশের একটি চিত্র দেখি。
বাংলাদেশ অবজার্ভার পত্রিকায় ডা. সাবরিনা কিউ রশীদ একটি আর্টিক্যালে লিখেছেন, 'পূর্বে কখনো আমরা ডাক্তারেরা এত অধিক সংখ্যক অবিবাহিত অল্প বয়স্ক মেয়েকে গর্ভবতী হতে দেখিনি'। তিনি এ মন্তব্য সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের সম্পর্কে করতে গিয়ে প্রবন্ধে উল্লেখ করেন - ছাত্র- ছাত্রীদের পারস্পরিক কথাবার্তা শেষ পর্যন্ত আর শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো পরবর্তীতে স্পর্শ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ বয়সের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যৌন হরমোনের নিঃসরণ হওয়ায় যে কোন স্পর্শ শরীর ও মনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এটি ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে। কেননা মেয়েরা একটু ঠাণ্ডা হলেও ছেলেরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। সুতরাং মেয়েরা ছেলেদের বন্ধু হিসেবে নিতে চাইলেও ছেলেরা তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবে।
সেজন্য ডা. সাবরিনা সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের ছেলেদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা না করতে এবং নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করে চলতে বলেছেন। ডা. সাবরিনা রশীদের পরামর্শ যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিমপ্রধান দেশের চিত্র যদি হয় এমন তাহলে আমাদের অবশ্যই সেটা গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখতে হবে।
তাছাড়া চিন্তা করা উচিত যে ছেলেমেয়েদেরকে দুটো ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মেজাজে, ভিন্ন চাহিদা ও শারীরিক গঠনে, ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন বস্ত্র পরিধান করার আদেশ দিয়ে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন। তাহলে কিভাবে তাদের মধ্যে স্রষ্টার আদেশ ব্যতিরেকে মিল বা বন্ধুত্ব হতে পারে? (বিয়ে ছাড়া কি সম্ভব!) তবে যেহেতু এদের সাথে ক্লাস করতেই হচ্ছে কাজেই তাদের উভয় পক্ষেরই আচরণ অত্যন্ত ফর্মাল হওয়া উচিত, ঘনিষ্ট নয়, যাতে ক্ষতিকর কিছু ঘটার সুযোগ না থাকে।
ইসলাম ছেলেমেয়েদেরকে অবাধে চলাফেরা করা, বিনা প্রয়োজনে পাশাপাশি বসে কথা বলা, রাস্তা দিয়ে যাওয়া, শপিং মলে একসাথে কেনাকাটা করতে যাওয়া ইত্যাদি নিরুৎসাহিত করেছে। অফিসে বা কর্মস্থলে পুরুষ ও মহিলা একটা নিরাপদ দূরত্ব ব্যতিরেকে পাশাপাশি কাজ করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ছেলে ও মেয়ে উভয়েই মানুষ; কিন্তু তাদের মাঝে ভিন্নতাও আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মেয়েদের দেহকে কোমলরূপে সৃষ্টি করেছেন। নম্রতা, বিনয়, মায়া মমতার আধিক্য এবং প্রখর সৌন্দর্যানুভূতি তাঁদের চরিত্রের ভূষণ। ফলে তারা সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন।
আমরা যতক্ষণ আল্লাহর হুকুম বা বিধান মেনে চলবো, ততক্ষণ আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি আমাদের পক্ষ হয়ে আমাদের সাহায্য করবে। যেমন আগুন সাহায্য করেছিল ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে। পানি সাহায্য করেছিল মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে, ছুরি সাহায্য করেছিল ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে। আর যদি আল্লাহর বিধান অমান্য করে নিজের খুশিমতো খামখেয়ালীভাবে চলাফেরা করি, তবে আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। যেমন লোহিত সাগরের (Red Sea) পানি ফিরাউনের বিরুদ্ধে লড়েছিল, আল্লাহর সৃষ্টি মশা যেমন নমরূদের বিরুদ্ধে লড়েছিল, আবাবিল পাখি যেমন লড়েছিল বাদশা আবরাহা ও তার বিরাট হাতী ও সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে ইত্যাদি।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 উচ্চ শিক্ষিতদের চিন্তাধারা

📄 উচ্চ শিক্ষিতদের চিন্তাধারা


একটি ইউনিভার্সিটি চত্তরে রাতভর নাচ-গান-আলোচনা সভাতে শতশত ছেলেমেয়ে একসাথে অনুষ্ঠান উপভোগ করছে। যুবতী মেয়েরা সারা রাত সেখানে কাটাচ্ছে, অনেক অভিভাবকরাই সেটা ভাল চোখে দেখছেন না। এই বিষয়ে কিছু টিভি চ্যানেলে সামান্য কিছু আলাপ আলোচনা হচ্ছে।
এরকম একটি টকশোতে ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসরও এসেছিলেন বক্তা হিসেবে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে “এই যে যুবতী মেয়েরা রাতভর সেখানে কাটাচ্ছে আপনি এ বিষয়ে কী মনে করেন বা আপনার অভিমত কী?” তিনি উত্তরে বলেছিলেন যে “এতে অবাক হওয়ার কী আছে, আমি তো এতে খারাপ কিছু দেখছি না, আমিওতো আমার ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া মেয়েকে গতরাত থেকে সেখানে নিজে দিয়ে এসেছি।”

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 অবৈধ বা হারাম উপার্জনের প্রভাব

📄 অবৈধ বা হারাম উপার্জনের প্রভাব


প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর জন্য হালাল রুজির সন্ধান করা অবশ্যকর্তব্য। কেননা হালাল সম্পদ বা খাদ্যই হলো ইবাদত কবুলের শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত। হালাল উপায়ে অর্জিত ও শরীয়ত অনুমোদিত অর্থ- সম্পদ বা খাদ্যগ্রহণ ছাড়া আল্লাহর দরবারে কোন ইবাদতই কবুল হয় না। জীবিকা নির্বাহের জন্য উপার্জনের গুরুত্ব ইসলামে যেমনি রয়েছে, ঠিক তেমনি হালাল উপার্জনের গুরুত্বও অত্যধিক। ইসলাম অর্থসম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের পার্থক্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর যাবতীয় ব্যবস্থাকে ইসলাম হালাল করেছে।
* পাঠক, আমি/আপনি যদি এক বা একাধিক সন্তানের অভিভাবক হয়ে থাকি, নিজেকে প্রশ্ন করে দেখি তো আমার সন্তানকে কখনো হালাল/হারাম উপার্জন নিয়ে সুপরামর্শ দিয়েছি কিনা বা এ বিষয়ে আল্লাহর কি হুকুম তা জানিয়েছি কিনা?
* ইসলাম মানুষের জন্য হালাল ও হারামের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করেই থেমে থাকেনি, বরং হালাল উপার্জনের দিয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। (রেফারেন্স সূরা জুমা ৬২: ৯-১০) ফরয ইবাদত সমূহের আদায়ের পর এ মহতি কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও বৈধ উপায় অবলম্বন করা ব্যবসায়ীসহ সকল মানুষের উপর ইসলামের একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান। যারা উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও হারামের প্রশ্নে সতর্কতা অবলম্বন করে না তাদের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন : মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে যখন সেই ব্যক্তি কোন উৎস থেকে সম্পদ আহরণ করছে, তা হালাল না হারাম, সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ করবে না। (সহীহ বুখারী)
* হালাল উপার্জন (ইনকাম) ইবাদত কবুল হবার পূর্বশর্ত। হারাম খেয়ে আমরা যতই সিজদা দেই না কেন, কোন লাভ নেই। হারাম উপার্জনে পালিত সন্তান ইসলামী তরীকা মানুষ হবারও কোন সম্ভাবনাই নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00