📄 বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড পিকআপ-ড্রপ
২০১৩ সালের কথা। ধানমন্ডি স্টার কাবাবে গিয়েছি পরের দিনের একটি প্রোগ্রামের বিরিয়ানির অর্ডার দেয়ার জন্য। যেতে যেতে একটু রাত হয়ে গিয়েছিল, আনুমানিক রাত ১১। আশ্চর্যের বিষয় হলো এতো রাতে গিয়েও দেখি স্টার কাবাব এর ৫-৬ তলা পুরো রেস্টুরেন্টটি কাস্টমারে পরিপূর্ণ। প্রতিটি টেবিলেই রয়েছে জোড়ায় জোড়ায় ইয়ং কাপল। অধিকাংশরাই বিশেষ সাজে সজ্জিত। তাদের সাজ সজ্জা, মেলামেশার ঢং দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তারা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আছে অর্থাৎ বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড। তখন মনে প্রশ্ন জাগল এতো রাতে এতো কাপল কেন? পরে জানতে পেরেছি আজ ভ্যালেন্টাইস ডে।
যা হোক এখন বাবামায়েদের নিকট প্রশ্ন, আমার যুবতী মেয়ে অথবা আমার যুবক ছেলে এতো রাতে কোথায় গেছে? কী করছে? আমার কী একটিবারও চিন্তা হয় না! হয়তো রাতে এক সময় বয়ফ্রেন্ড মেয়েকে বাসায় ড্রপ করে দিয়ে যাবে। আমি বাবা-মা হিসেবে এই বিষয়টি কতো সহজভাবে নিচ্ছি! ওয়াষ্টার্ন দেশগুলোতে যেমন একজন মা খুবই চিন্তামুক্ত থাকে যদি তার মেয়ের একটি বয়ফ্রেন্ড থাকে। আজ আমাদের দেশের বাবামায়েদেরও হয়তো এই ধরনের মনমানসিকতা গড়ে উঠছে, যে আমার মেয়েতো তার বয়ফ্রেন্ডের সাথেই আছে, নিরাপদেই আছে। আমরা বাবা-মায়েরা কি এখনও বুঝতে পারছি না যে, আমাদের উদাসীনতার কারণেও আমাদের ছেলেমেয়েরা ইসলাম হতে দূরে সরে যাচ্ছে?
📄 বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচারের প্রভাব
একজন অভিভাবকের প্রশ্ন: বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচুর মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট এবং সাইবার ক্যাফে গড়ে উঠেছে কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও ভয়ের কারণ হলো যে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবসার নামে চলে চরম বেহায়াপনা। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্ররা প্রেমের নামে প্রতারণা করে ছাত্রী মেয়ে বান্ধবীদেরকে নিয়ে এ সমস্ত চাইনিজ ও সাইবার ক্যাফেতে সারাদিন আড্ডা দেয় এবং মেয়েদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে। আমাদের কোমলমতি মেয়েদেরকে ব্ল্যাক মেইলিং করে তাদের পর্নো সিডি/ডিভিডি বাজারে ছেড়ে অশ্লীলতার এ মহোৎসব শুরু করেছে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া বোনেরা এর শিকার হয়ে জীবনের মহামূল্যবান সম্পদ হারাচ্ছে। এ সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী?
উত্তর: এ সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য পরিষ্কার। ইসলাম অন্যায়কে কখনোই মেনে নেয় না। অসৎ কর্মকে কখনোই সমর্থন করে না। পাপ ও ঘৃণাজনক কাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগায় না। পৃথিবীর বুকে একমাত্র ইসলামই সর্বক্ষেত্রে মানবতার কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সদা সচেষ্ট। তাই উল্লিখিত পরিস্থিতিতে যারা অন্যায় বৃদ্ধি করার মতো পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরী করে দিচ্ছে (সরকার এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ) আর যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত হচ্ছে (ছাত্র-ছাত্রী বা যুবক-যুবতীরা), সবার জন্যই ইসলামী বিধান অনুযায়ী শাস্তি অবধারিত।
অবশ্য এ প্রশ্নে অভিভাবক ছাত্রী বা মেয়েদের অবলা বা সরলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমন ক্ষেত্রে ছাত্রী বা মেয়েদের প্রতি লক্ষ্য করে জবাব হচ্ছে: এগুলো আরও বাড়বে যদি মেয়েরা তাদের সম্মান সম্পর্কে সতর্ক না হয়। এখন প্রশ্ন: মেয়েরা ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করতে যাবে কেন? এবং তাদের দাওয়াতে কোন রেষ্টুরেন্টে অথবা কোন সাইবার ক্যাফেতে তারা যাবে কেন? আর যখন প্রশ্নকর্তা বলছেন 'মেয়েদের সরলতা নিয়ে' ছেলেরা এমনটি করছে। এক্ষেত্রেও দায়ী মেয়েরা কারণ এমন সরলতার কোন দাম নেই। সরলতার কারণে কি কেউ বিষ খায়? সরলতার কারণে কি কেউ গলায় দড়ি দিয়েছে বা পানিতে ডুবে মরেছে! এরকমতো হয় না। এটা কি ধরনের সরলতা?
• যুবতী মেয়ের ভাবা উচিত তার জীবনের মূল্যবান সম্পদ তার সতীত্ব। যার সাথেই টেলিফোনে কথা হোক আর ক্লাসমেট হোক বা অন্যকেউ হোক, যে কারো সাথে বন্ধুত্ব বানিয়ে কোন জায়গায় বেড়াতে যাবার অর্থ সরলতা নয় বরং এটা চরম বোকামি ও জেনে শুনে নিজের ঘাড়ে ভয়ংকর বিপদের বোঝা চাপানো। একবার নির্জনে এসব তথাকথিত ছেলেবন্ধুর সাথে ঘনিষ্টতা করলে নিজের দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই নষ্ট হবে। তার পরবর্তী জীবন আর সহজ থাকে না। খুব কঠিন হয়ে যায়। অনেকে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যাও করে। এসব ঘটনা দেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও খুব দেখা যাচ্ছে।
এসব বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ছাত্রী জীবনে কোন ছেলেদের সাথে অবৈধ মেলামেশা বা প্রেমে লিপ্ত না হওয়া। বিয়ের আগে প্রেম অর্থাৎ বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম ইসলাম হারাম করেছে। ইসলামে এটা জায়েয নেই। এতে নিজের সর্বনাশ করা ছাড়া আর কোন লাভ নেই। কাজেই এটাকে সরলতা বা কোমলতা কোনভাবেই বলা যায় না। এটা যেন ইচ্ছে করেই সাপের কামড় খাওয়া বা ইচ্ছে করে গর্তে পড়ে আত্মহত্যা করার শামিল।
সুতরাং কোন (তথাকথিত) পুরুষ বন্ধুর সাথে কোন মেয়ে ঘরের বাইরে যাওয়া মোটেই উচিৎ নয়। ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে পিতা-মাতাদেরকে আরো বেশী সতর্ক হওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের সন্তানদেরকে হিফাযত করুন।
📄 'লিভ টুগেদার' ও “এন.আর.” সাধারণ বিষয়
• 'লিভ টুগেদার' ও "এম.আর." অতি সাধারণ বিষয়
• ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে বিয়ে না করে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করা ইসলামী শরীআত অনুসারে হারাম, শক্ত গুনাহের কাজ। অথচ এই বিষয়টি এখন বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কাজে পরিণত হয়েছে।
• শুধু এম.আর. (M.R.) অর্থাৎ গর্ভপাত (Abortion) করার জন্য ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরগুলোর আনাচেকানাচে শতশত ক্লিনিক হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় এদের কমিশনভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ করা রয়েছে। এই ক্লিনিকগুলোর মূল ব্যবসাই হচ্ছে অবৈধ গর্ভপাত করানো। একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে একজন মহিলা ডাক্তার দুঃখ করে বলেছেন যে এই কাজের জন্য তারা সবচেয়ে বেশী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিবাহিতা মেয়েদেরকে পেয়ে থাকেন।
• অবৈধ গর্ভপাত করানো খুব সহজলভ্য হওয়াতে ছেলেমেয়েদের মধ্যে অবৈধ মেলামেশাও বেড়ে গেছে। তারা এখন আর অনৈতিক কাজ করতে মোটেও চিন্তা করে না।
• কনডম (condom)-এর অপব্যবহার: 'কনডম' আমাদের দেশে আনা হয়েছিল বিবাহিত দম্পতিদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ করে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বর্তমানে অবিবাহিত যুবক-যুবতীরা এর সাহায্য নিয়ে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ (unwanted pregnancy) এড়িয়ে অবাধে বিবাহ-বহির্ভূত যৌনকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যারা ফেঁসে যাচ্ছে তারাই ক্লিনিকে দৌড়াচ্ছে M.R. করার জন্যে।
📄 'ভ্যালেন্টাইন'স ডে'-র প্রভাব
• বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে 'ভ্যালেন্টাইন'স ডে' বা 'ভালবাসা দিবস' নামে এই নতুন দিবসটি খুব উৎসাহ সহকারে উদযাপন করা হচ্ছে। আগে শুধু এ দেশেই নয়, বেশির ভাগ মুসলিম দেশেই এটা পালিত হতো না। 'ভালবাসা দিবসে'র ইতিহাস ও ভিত্তি কী তা বেশির ভাগই জানে না।
• খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে রোমানরা এটা শুরু করেছিল পৌত্তলিক পার্বণ হিসেবে। 'উর্বরতা ও জনসমষ্টির দেবতা' লুপারকাসের সম্মানেই এটা করা হতো। এর প্রধান আকর্ষণ ছিল লটারি। 'বিনোদন ও আনন্দে'র জন্য যুবকদের মাঝে যুবতীদের বণ্টন করে দেয়াই ছিল এ লটারির লক্ষ্য। পরবর্তী বছর আবার লটারি না হওয়া পর্যন্ত যুবকেরা এ 'সুযোগ' পেত।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। মূলতঃ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী 'ভালবাসা দিবস' বলতে কিছু নেই। প্রতিটি মুসলিমের জন্য প্রতিটি দিবসই ভালবাসার দিবস। আসলে Islam শব্দের উৎপত্তিই হচ্ছে peace থেকে। তাই ইসলাম বছরের ৩৬৫ দিনই শান্তির কথা বলে, ভালবাসার কথা বলে। ইসলামে ভালবাসাবিহীন কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম বলে প্রতিটি মানুষ প্রতিটি মানুষকে বৈধভাবে ভালবাসবে, একজন আরেকজনের মঙ্গল কামনা করবে। এর মধ্যে থাকবে না কোন কৃত্রিমতা, থাকবে না কোন লৌকিকতা, থাকবে শুধু পবিত্রতা।
অভিভাবকগণ এতক্ষণ আমরা ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা হতে শুরু করে বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড, লিভটুগেদার, এম.আর ইত্যাদি নিয়ে আলোকপাত করলাম। আজ হতে অনেক বছর আগে হয়তো আমরা পারিবারিক পর্যায়ে আমাদের সন্তানদের অবাধ মেলামেশা মেনে নিয়েছি। সেটাই ক্রমে এখন জাতীয় পর্যায়ে পালিত হয় নির্দিষ্ট একটা দিনে। একবার ভেবে দেখি, অন্যায় কাজটা এতোটাই সহনশীল হয়ে গেছে যে, আজ ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্দিষ্ট দিনে সকলে মিলে একসাথে অন্যায় সম্পর্কের চর্চা করে যাচ্ছে। ভয়াবহতাটা কি উপলব্ধী করতে পারছি? এভাবে হয়তো ভবিষ্যতে একটা সময় সীমালঙ্ঘন করে ফেলবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম。