📄 সংস্কৃতিমনাদের প্রভাব
বছরের পর বছর ধরে দেখা গেছে সাধারণত যারা সংস্কৃতিমনা, নাটক, সিনেমা, গান-বাজনা, নৃত্য, কবিতা, আর্ট-কালচার ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়েন তাদের মনের মধ্যে একটা ধারণা জেঁকে বসে যে ইসলামের বিরোধীতা করতে হবে। ইসলাম থেকে দূরে সরে থাকতে হবে, ইসলাম পালন করলে সংস্কৃতিমনা হওয়া যাবে না। এই ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভুল।
অথচ তাদের কেউ মারা গেলে তখন মৃত সংস্কৃতিমনার জন্য বিরাট জানাযা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভাবটা এমন যেন মৃত্যুর পরেই শুধু ইসলামের দরকার আছে, জীবিত অবস্থায় ইসলামের কোন প্রয়োজন নেই। যদিও ইসলাম এসেছে জীবিত মানুষের কল্যাণের জন্য।
কোন কোন সংস্কৃতিমনার লাশ আবার ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী লাশ দাফন না করে কোন প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেয়া হয় ও মৃতের স্মরণে সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
📄 প্রগতিশীলতার প্রভাব
আমরা অনেকেই নিজেকে প্রগতিশীল মনে করি। বাস্তবে দেখা গেছে যে প্রগতিশীল হলে সর্বপ্রথমে জীবন থেকে ইসলামকে বাদ দিতে হবে। আর সুযোগ পেলেই ইসলামকে নানা ভাষায় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে হবে। অনেক প্রগতিশীলরাই মুসলিম পরিবারের সন্তান। এই প্রগতিশীলদের অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সানন্দে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় কিন্তু তাদেরকে একমাত্র ইসলামী কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে সাধারণত দেখা যায় না।
📄 ছেলে মেয়েদের অবৈধ মেলামেশার প্রভাব
আল্লাহর রসূল বলেছেন, "তোমরা (গায়রে মুহাররাম) মহিলাদের নিকট গমন করা থেকে দূরে থাক।" (সহীহ বুখারী)
আমর ইবনুল আস (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, "নাবী স্বামীদের অনুমতি ব্যতিরেকে মহিলাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।" (তাবারানী)
আল্লাহর রসূল আরো বলেছেন, "যেই পুরুষ স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন মহিলার শয্যায় বসবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার জন্য একটি বিষধর অজগর সাপ নিযুক্ত করে দেবেন।” (মুসনাদে আহমাদ)
রসূলুল্লাহ বলেছেন, "কোন মুহাররাম সংগী ছাড়া কোন মহিলা সফর করবে না এবং কোন মুহাররামকে সংগে না নিয়ে কোন পুরুষ কোন মহিলার কাছে যাবে না।" (সহীহ বুখারী)
রসূলুল্লাহ বলেছেন, "যেই ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী সেই ব্যক্তি কখনো একাকীত্বে কোন মহিলার নিকট বসবে না যদি সেই মহিলার কোন মুহাররাম পুরুষ উপস্থিত না থাকে। কেন না তা করা হলে তৃতীয় পুরুষ হিসেবে উপস্থিত থাকে শয়তান।” (আহমাদ)
আমর ইবনুল আস (রাদিআল্লাহু আনহু) কোন প্রয়োজনে আলী ইবনু আবী তালিবের (রাদিআল্লাহু আনহু)-র বাড়িতে যান। তিনি আলী (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে পেলেন না। তিনি ফিরে গিয়ে আবার এলেন। এবারও আলী (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে পেলেন না। ফিরে গিয়ে তৃতীয়বার এসে তিনি আলী (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে পেলেন। আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) বললেন, "আপনার প্রয়োজন যখন ফাতিমার সাথে সম্পর্কিত ছিলো আপনি ফিরে না গিয়ে তার কাছে গেলেন না কেন?” জবাবে তিনি বললেন, "মহিলাদের স্বামীদের অনুপস্থিতিতে তাদের কাছে যেতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।” (সহীহ বুখারী)
উপরের হাদীসগুলো থেকে আমরা অনায়াসেই বুঝতে পারছি যে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা কীভাবে তাদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমরা হাদীসগুলি জানি না বলে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশার বিষয়টিকে খারাপ চোখে দেখছি না। বরং হয়তো বাবা-মায়েরাই অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দিচ্ছি এবং এভাবে আমরাই আমাদের সন্তানদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরতে সাহায্য করছি।
📄 বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড পিকআপ-ড্রপ
২০১৩ সালের কথা। ধানমন্ডি স্টার কাবাবে গিয়েছি পরের দিনের একটি প্রোগ্রামের বিরিয়ানির অর্ডার দেয়ার জন্য। যেতে যেতে একটু রাত হয়ে গিয়েছিল, আনুমানিক রাত ১১। আশ্চর্যের বিষয় হলো এতো রাতে গিয়েও দেখি স্টার কাবাব এর ৫-৬ তলা পুরো রেস্টুরেন্টটি কাস্টমারে পরিপূর্ণ। প্রতিটি টেবিলেই রয়েছে জোড়ায় জোড়ায় ইয়ং কাপল। অধিকাংশরাই বিশেষ সাজে সজ্জিত। তাদের সাজ সজ্জা, মেলামেশার ঢং দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তারা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আছে অর্থাৎ বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড। তখন মনে প্রশ্ন জাগল এতো রাতে এতো কাপল কেন? পরে জানতে পেরেছি আজ ভ্যালেন্টাইস ডে।
যা হোক এখন বাবামায়েদের নিকট প্রশ্ন, আমার যুবতী মেয়ে অথবা আমার যুবক ছেলে এতো রাতে কোথায় গেছে? কী করছে? আমার কী একটিবারও চিন্তা হয় না! হয়তো রাতে এক সময় বয়ফ্রেন্ড মেয়েকে বাসায় ড্রপ করে দিয়ে যাবে। আমি বাবা-মা হিসেবে এই বিষয়টি কতো সহজভাবে নিচ্ছি! ওয়াষ্টার্ন দেশগুলোতে যেমন একজন মা খুবই চিন্তামুক্ত থাকে যদি তার মেয়ের একটি বয়ফ্রেন্ড থাকে। আজ আমাদের দেশের বাবামায়েদেরও হয়তো এই ধরনের মনমানসিকতা গড়ে উঠছে, যে আমার মেয়েতো তার বয়ফ্রেন্ডের সাথেই আছে, নিরাপদেই আছে। আমরা বাবা-মায়েরা কি এখনও বুঝতে পারছি না যে, আমাদের উদাসীনতার কারণেও আমাদের ছেলেমেয়েরা ইসলাম হতে দূরে সরে যাচ্ছে?