📄 ছেলেমেয়েদের আপত্তিকর অথচ ফূর্তি (Fun)
কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া অনেক ছেলেমেয়েরাই একত্রে বসে যখন আড্ডা দেয় তখন তারা নানা রকম আনন্দ ফুর্তি করে থাকে। ফুর্তিরও একটি মাত্রা আছে, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে ফুর্তির নামে তারা মাত্রা ছাড়িয়ে আপত্তিকর কাজকর্ম করতে থাকে। যেমন: আল্লাহ-রসূলকে নিয়ে নানা রকম কটূক্তি করা। কুরআনকে নিয়ে কটূক্তি করা। রসূল ﷺ-এর স্ত্রীদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলা। নামায-রোযা-হাজ্জ নিয়ে বাজে মন্তব্য করা।
এখানেই শেষ নয়। তারা একে অপরের বাবা-মাকে নিয়েও ফান করে, মুরুব্বীদের নিয়ে ফان করে, মসজিদের ঈমাম-মুয়াজ্জিনকে নিয়ে ফান করে, আলেম-ওলামাদের স্ত্রীদের নিয়ে ফান করে, বোরকা পরিহিতা মহিলাদের নিয়ে ফান করে, নিকাব করা মহিলাদের নিয়ে ফান করে, দাড়ি-টুপি নিয়ে ফান করে।
• এখানে তাদের তেমন একটা দোষ দেয়া যাবে না। কারণ তারা এর জন্য কোন সঠিক শিক্ষা নিজ ঘর বা স্কুল বা সমাজ থেকে কোন দিন পায়নি। সব কিছুর একটা সীমা আছে, আমরা ভুলেই যাই যে সীমা লংঘনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না。
📄 বুদ্ধিজীবীদের প্রভাব
অনেক মুসলিম নামধারী বুদ্ধিজীবী আছে তারা আল্লাহর দেয়া ঐ বুদ্ধিকে আল্লাহরই বিরুদ্ধে কাজ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন রকম গবেষণা করে বের করার চেষ্টা করছেন যে কুরআনে কী কী ভুলভ্রান্তি আছে, ইসলামে কী কী shortcomings আছে বা ইসলামের কোন কোন বিষয়গুলো ঠিক নয় বা ইসলামের কোন কোন দিকগুলো backdated। রসূল তাঁর জীবনে কী কী ভুল (?) কাজ করেছেন ও তাঁর কোন হাদীসগুলো ঠিক নয় (?) ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ কুরআনে যে বিষয়গুলোকে হারাম করেছেন তারা তার থেকে কিছু কিছু বিষয় যুক্তি দিয়ে হালাল করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার কুরআনকে revise করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছেন। তারা তাদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে কুরআন-হাদীসের বাইরে তাদের চোখে দেখা ইসলামের ভুল-ভ্রান্তির সমাধান পেশ করছেন, ইসলামকে আধুনিক করার চেষ্টা করছেন। নাউযুবিল্লাহ। তাদের এই অক্লান্ত প্রচেষ্টাও এক প্রকারের জিহাদ আর তা হচ্ছে শয়তানের পথে জিহাদ এবং আল্লাহ ও রসূল -এর বিরুদ্ধে জিহাদ。
📄 সংস্কৃতিমনাদের প্রভাব
বছরের পর বছর ধরে দেখা গেছে সাধারণত যারা সংস্কৃতিমনা, নাটক, সিনেমা, গান-বাজনা, নৃত্য, কবিতা, আর্ট-কালচার ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়েন তাদের মনের মধ্যে একটা ধারণা জেঁকে বসে যে ইসলামের বিরোধীতা করতে হবে। ইসলাম থেকে দূরে সরে থাকতে হবে, ইসলাম পালন করলে সংস্কৃতিমনা হওয়া যাবে না। এই ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভুল।
অথচ তাদের কেউ মারা গেলে তখন মৃত সংস্কৃতিমনার জন্য বিরাট জানাযা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভাবটা এমন যেন মৃত্যুর পরেই শুধু ইসলামের দরকার আছে, জীবিত অবস্থায় ইসলামের কোন প্রয়োজন নেই। যদিও ইসলাম এসেছে জীবিত মানুষের কল্যাণের জন্য।
কোন কোন সংস্কৃতিমনার লাশ আবার ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী লাশ দাফন না করে কোন প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেয়া হয় ও মৃতের স্মরণে সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
📄 প্রগতিশীলতার প্রভাব
আমরা অনেকেই নিজেকে প্রগতিশীল মনে করি। বাস্তবে দেখা গেছে যে প্রগতিশীল হলে সর্বপ্রথমে জীবন থেকে ইসলামকে বাদ দিতে হবে। আর সুযোগ পেলেই ইসলামকে নানা ভাষায় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে হবে। অনেক প্রগতিশীলরাই মুসলিম পরিবারের সন্তান। এই প্রগতিশীলদের অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সানন্দে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় কিন্তু তাদেরকে একমাত্র ইসলামী কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে সাধারণত দেখা যায় না।