📄 বিভিন্ন রকম ড্রাগ এবং মদ পানের প্রভাব
ইউনিভার্সিটি-কলেজের ছেলেমেয়েরা অনেকেই নিজেদের অজান্তে ড্রাগ এডিকটেড হয়ে পড়ছে। তারা হয়তো কোন বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথমে টেস্ট করতে গিয়েছিল। তারপর থেকে একটু একটু করে একসময় পুরোদমে এডিকটেড হয়ে পড়েছে। বাব-মায়েরা শুরুতে বুঝতে পারেন না কিন্তু যখন জানেন তখন আর তেমন কিছু করার থাকে না। অধিকাংশ বাবা-মায়েরাও সন্তানদেরকে ড্রাগের ক্ষতিকর বিষয়গুলি নিয়ে পূর্ব থেকে ধারণা দেয় না।
মদ একসময় আমাদের দেশে খুব একটা সহজলভ্য ছিল না। বড় বড় হোটেলগুলোতে বিদেশী এবং হাই অফিসিয়ালদের জন্য রাখা হতো। কিন্তু এখন সিনারিও পাল্টে গেছে। মদ ও বিয়ার এখন চাইলেই পাওয়া যায়। ইউনিভার্সিটি-কলেজের ছেলেরা কোন না কোনভাবে এই পানীয়টার সাথে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে, তারপর বন্ধু-বান্ধব মিলে নিয়মিত আড্ডাতে মদ/বিয়ার পান করা হয় ও ড্রাগ ব্যবহার করা হয়। এই খবর অনেক বাবা- মারাই জানেনই না, কারণ বাবা-মায়ের জন্য বিষয়টি ধরা খুবই কঠিন।
কিছুদিন আগে (২০১৩) এক পুলিশ অফিসারের মাদকাসক্ত তরুণী কণ্যা নেশার টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে খুন করিয়েছে- এটাই হলো আজ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থা।
📄 জুয়া খেলা ও সিগারেট খাওয়ার প্রভাব
শুনলে অবাক হতে হয় যে কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া অনেক ছেলেরাই একত্রে বসে নিয়মিত টাকা দিয়ে জুয়া খেলে। বাবা-মা হয়তো এই ধরণের কথা কল্পনাও করতে পারেন না। কিন্তু এটা এতো বেশী বিস্তার লাভ করেছে যে আমাদের সন্তানদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইউনিভার্সিটি- কলেজে পড়ুয়া ছেলেদের নিজস্ব রুম থাকে, সেখানে তার প্রাইভেসি থাকে। বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে যখন তারা আড্ডা দেয় তার কোন কন্ট্রোল বাবা-মার কাছ থাকে না। আর এই সুযোগ অনেকেই নেয় এবং দরজা বন্ধ করে জুয়া খেলে আর পর্নগ্র্যাফী দেখে।
বিশেষ করে ছেলেরা কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে উঠে নিজেকে বড় ভাবতে থাকে, mature মনে করতে থাকে। আর এই ভাব প্রকাশের অংশ হিসেবে তারা বন্ধু-বান্ধবদের পাল্লায় পরে এক টান দুই টান দিতে দিতে সিগারেট পানে অভ্যস্ত হয়ে যায়। একটি গ্রুপে যে ছেলেটি সিগারেট খায় না, মদ খায় না, জুয়া খেলে না তাকে immature মনে করা হয়।
📄 ছেলেমেয়েদের আপত্তিকর অথচ ফূর্তি (Fun)
কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া অনেক ছেলেমেয়েরাই একত্রে বসে যখন আড্ডা দেয় তখন তারা নানা রকম আনন্দ ফুর্তি করে থাকে। ফুর্তিরও একটি মাত্রা আছে, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে ফুর্তির নামে তারা মাত্রা ছাড়িয়ে আপত্তিকর কাজকর্ম করতে থাকে। যেমন: আল্লাহ-রসূলকে নিয়ে নানা রকম কটূক্তি করা। কুরআনকে নিয়ে কটূক্তি করা। রসূল ﷺ-এর স্ত্রীদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলা। নামায-রোযা-হাজ্জ নিয়ে বাজে মন্তব্য করা।
এখানেই শেষ নয়। তারা একে অপরের বাবা-মাকে নিয়েও ফান করে, মুরুব্বীদের নিয়ে ফان করে, মসজিদের ঈমাম-মুয়াজ্জিনকে নিয়ে ফান করে, আলেম-ওলামাদের স্ত্রীদের নিয়ে ফান করে, বোরকা পরিহিতা মহিলাদের নিয়ে ফান করে, নিকাব করা মহিলাদের নিয়ে ফান করে, দাড়ি-টুপি নিয়ে ফান করে।
• এখানে তাদের তেমন একটা দোষ দেয়া যাবে না। কারণ তারা এর জন্য কোন সঠিক শিক্ষা নিজ ঘর বা স্কুল বা সমাজ থেকে কোন দিন পায়নি। সব কিছুর একটা সীমা আছে, আমরা ভুলেই যাই যে সীমা লংঘনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না。
📄 বুদ্ধিজীবীদের প্রভাব
অনেক মুসলিম নামধারী বুদ্ধিজীবী আছে তারা আল্লাহর দেয়া ঐ বুদ্ধিকে আল্লাহরই বিরুদ্ধে কাজ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন রকম গবেষণা করে বের করার চেষ্টা করছেন যে কুরআনে কী কী ভুলভ্রান্তি আছে, ইসলামে কী কী shortcomings আছে বা ইসলামের কোন কোন বিষয়গুলো ঠিক নয় বা ইসলামের কোন কোন দিকগুলো backdated। রসূল তাঁর জীবনে কী কী ভুল (?) কাজ করেছেন ও তাঁর কোন হাদীসগুলো ঠিক নয় (?) ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ কুরআনে যে বিষয়গুলোকে হারাম করেছেন তারা তার থেকে কিছু কিছু বিষয় যুক্তি দিয়ে হালাল করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার কুরআনকে revise করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছেন। তারা তাদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে কুরআন-হাদীসের বাইরে তাদের চোখে দেখা ইসলামের ভুল-ভ্রান্তির সমাধান পেশ করছেন, ইসলামকে আধুনিক করার চেষ্টা করছেন। নাউযুবিল্লাহ। তাদের এই অক্লান্ত প্রচেষ্টাও এক প্রকারের জিহাদ আর তা হচ্ছে শয়তানের পথে জিহাদ এবং আল্লাহ ও রসূল -এর বিরুদ্ধে জিহাদ。